বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
অ ParvejBOT Parvej is a special child 43xqvn14 পাতাটিকে বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শিরোনামে পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন: Jony এর খারাপ স্থানান্তর ঠিক করা হয়েছে... |
Parvej is a special child 4d36qamc-এ করা পুনর্নির্দেশ সরানো হয়েছে ট্যাগ: পুনর্নির্দেশ সরানো হয়েছে মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা |
||
| ১ নং লাইন: | ১ নং লাইন: | ||
# | {{জন্য|যুদ্ধকালীন ভারতীয় হস্তক্ষেপের|ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১}} | ||
{{তথ্যছক সামরিক সংঘর্ষ | |||
| conflict = বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ<br />মুক্তিযুদ্ধ | |||
| partof = [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ|ভারত-পাকিস্তান আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব]] ও [[স্নায়ুযুদ্ধ]] | |||
| image = BangladeshLiberationWarMontage.jpg | |||
| image_size = 280px | |||
| caption = '''প্রথম সারি:''' [[শহীদ বুদ্ধিজীবী স্মৃতিসৌধ]] ও [[মুক্তিবাহিনী]] ব্যবহৃত কামান<br />'''দ্বিতীয় সারি:''' ডুবোজাহাজ {{জাহাজ|পিএনএস|গাজী||6}} এবং [[লেফটেন্যান্ট জেনারেল (ভারত)|লে. জেনারেল]] [[জগজিত সিং অরোরা|জগজিৎ সিং অরোরার]] উপস্থিতিতে<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.mea.gov.in/bilateral-documents.htm?dtl/5312/Instrument+of+Surrender+of+Pakistan+forces+in+Dacca|শিরোনাম=ইনস্ট্রুমেন্ট অব সারেন্ডার অব পাকিস্তান ফোর্সেস ইন ডাক্কা(ঢাকা)|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=www.mea.gov.in|প্রকাশক=বিদেশ মন্ত্রক (ভারত)|উক্তি=পাকিস্তানের পূর্ব কমান্ড ভারতীয় ও বাংলাদেশ বাহিনীর জেনারেল অফিসার কমান্ডিং-ইন-চিফ লেফটেন্যান্ট জেনারেল জগজিৎ সিং অরোরার নিকট পূর্ব রণাঙ্গন বাংলাদেশে পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সকল সদস্যের আত্মসমর্পণে সম্মত হয়েছেন।}}</ref> ভারত ও বাংলাদেশের কাছে [[পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল|আত্মসমর্পণের দলিলে]] স্বাক্ষর করছেন [[লেফটেন্যান্ট জেনারেল (পাকিস্তান)|লে. জেনারেল]] [[আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী|নিয়াজী]] | |||
| place = [[পূর্ব পাকিস্তান]] {{ছোট|([[স্বাধীনতা উত্তর বাংলাদেশের ইতিহাস|বর্তমানে]] [[বাংলাদেশ]])}} | |||
* [[বাংলাদেশ-ভারত সীমান্ত|পূর্ব পাকিস্তান–ভারত সীমান্ত]] | |||
* [[বাংলাদেশ-ভারত ছিটমহল|পূর্ব পাকিস্তান–ভারত ছিটমহল]] | |||
* [[পূর্ব ভারত|পূর্ব]] ও [[উত্তর-পূর্ব ভারত|উত্তর-পূর্ব ভারতের]] অংশবিশেষ | |||
''[[ভারত মহাসাগর]]:'' | |||
* [[বঙ্গোপসাগর]] | |||
| coordinates = | |||
| map_type = | |||
| map_relief = | |||
| latitude = | |||
| longitude = | |||
| map_size = | |||
| map_marksize = | |||
| map_caption = | |||
| map_label = | |||
| date = ২৫ মার্চ-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১ | |||
| territory = [[পাকিস্তান]] থেকে পূর্ব পাকিস্তান স্বতন্ত্র বা আলাদা হয়ে যায় এবং স্বাধীন-সার্বভৌম [[বাংলাদেশ|গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ]] রাষ্ট্রে পরিণত হয়। | |||
| result = [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] স্বাধীনতা অর্জন<ref name="Shamshad2017">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=রিজওয়ানা শামসাদ|শিরোনাম=বাংলাদেশি মাইগ্রেন্টস ইন ইন্ডিয়া: ফরেনার্স, রিফিউজিস, অর ইনফিলট্রেটর্স?|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=9789DwAAQBAJ&pg=PT119|তারিখ=৩ অক্টোবর ২০১৭|প্রকাশক=ওইউপি ইন্ডিয়া|আইএসবিএন=978-0-19-909159-1|পৃষ্ঠা=১১৯–}}</ref><ref name="Lu2018">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=জিং লু|শিরোনাম=অন স্টেট সেকেশন ফ্রম ইন্টারন্যাশনাল ল পার্স্পেক্টিভস|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=4MJ1DwAAQBAJ&pg=PA211|তারিখ=৩০ অক্টোবর ২০১৮|প্রকাশক=স্প্রিঙ্গার|আইএসবিএন=978-3-319-97448-4|পৃষ্ঠা=২১১–}}</ref><ref name="KaulJha2018">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক১=জে এল কৌল|লেখক২=অনুপম ঝা|শিরোনাম=শিফটিং হরাইজনস অব পাবলিক ইন্টারন্যাশনাল ল: অ্যা সাউথ এশিয়ান পার্স্পেক্টিভ|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=2e5FDwAAQBAJ&pg=PA241|তারিখ=৮ জানুয়ারি ২০১৮|প্রকাশক=স্প্রিঙ্গার|আইএসবিএন=978-81-322-3724-2|পৃষ্ঠা=২৪১–}}</ref> | |||
| combatant1 = {{flagdeco|বাংলাদেশ|১৯৭১}} [[মুজিবনগর সরকার]] | |||
* {{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মুক্তিবাহিনী]]<br />{{ছোট|(২৫ মার্চ-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)}} | |||
* {{flagicon image|বাংলাদেশ সামরিক বাহিনীর প্রতীক.svg}} [[বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনী]]<br />{{ছোট|(২১ নভেম্বর-১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)}} | |||
{{পতাকা|ভারত}} | |||
* {{flagicon image|Flag of the Ministry of Defence of India.svg}} [[ভারতের সামরিক বাহিনী|ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী]]<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://articles.latimes.com/2002/mar/30/local/me-passings30.1|কর্ম=দ্য লস অ্যাঞ্জেলেস টাইমস|শিরোনাম=Gen. Tikka Khan, 87; 'Butcher of Bengal' Led Pakistani Army|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=জেন. টিক্কা খান: পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরিচালনা করেছিলেন ‘বাংলাদেশের কসাই’|তারিখ=৩০ মার্চ ২০০২}}</ref><br />{{ছোট|(৩ – ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১)}} | |||
; সমর্থনকারী দেশ | |||
{{পতাকা|সোভিয়েত ইউনিয়ন}}<br />এবং [[পূর্ব ব্লক|পূর্ব ব্লকভুক্ত রাষ্ট্রসমূহ]]<ref name=RIR>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|লেখক১=রাকেশ কৃষ্ণন সিংহ|শিরোনাম=1971 War: How Russia sank Nixon's gunboat diplomacy|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=যেভাবে রাশিয়া নিক্সনের গানবোট কূটনীতিতে জল ঢেলেছিল|ইউআরএল=http://in.rbth.com/articles/2011/12/20/1971_war_how_russia_sank_nixons_gunboat_diplomacy_14041.html|কর্ম=In.rbth.com|প্রকাশক=রাশিয়া অ্যান্ড ইন্ডিয়া রিপোর্টস|সংগ্রহের-তারিখ=২ মার্চ ২০১৫|তারিখ=২০ ডিসেম্বর ২০১১}}</ref> | |||
| combatant2 = {{flagicon image|Flag of Pakistan.svg}} [[পশ্চিম পাকিস্তান|পাকিস্তান]]<br />{{ছোট|([[পূর্ব পাকিস্তান|পূর্ব পাকিস্তান সরকার]])}} | |||
* {{flagicon image|Flag of the Chairman Joint Chiefs of Staff Committee.svg}} [[পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী|পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী]] | |||
{{hr}} | |||
[[পাকিস্তানের আধা-সামরিক বাহিনী|আধা-সামরিক বাহিনী / মিলিশিয়া]]: | |||
* {{ছোট|[[বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী|জামায়াতে ইসলামী]]}} | |||
* {{ছোট|[[পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি|নাগরিক শান্তি কমিটি]]}} | |||
* {{ছোট|[[রাজাকার (পাকিস্তান)|রাজাকার]]}} | |||
* {{ছোট|[[আল বদর]]}} | |||
* {{ছোট|[[আল শামস]]}} | |||
; সমর্থনকারী দেশ''' | |||
{{পতাকা|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র}}<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://2001-2009.state.gov/r/pa/ho/frus/nixon/e7/48542.htm|শিরোনাম=ডকুমেন্ট ১৭২|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=2001-2009.state.gov|তারিখ=১০ ডিসেম্বর ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=৩১ মার্চ ২০১৫}}</ref><br />{{পতাকা|যুক্তরাজ্য}}<ref name="theworldreporter.com">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.theworldreporter.com/2011/10/1971-india-pakistan-war-role-of-russia.html|শিরোনাম=1971 India Pakistan War: Role of Russia, China, America and Britain|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=১৯৭১ ভারত পাকিস্তান যুদ্ধ: রাশিয়া, চীন, আমেরিকা ও ব্রিটেনের ভূমিকা|কর্ম=দ্য ওয়ার্ল্ড রিপোর্টার|সংগ্রহের-তারিখ=৩০ অক্টোবর ২০১১|আর্কাইভের-তারিখ=১ নভেম্বর ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20111101184319/http://www.theworldreporter.com/2011/10/1971-india-pakistan-war-role-of-russia.html|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.frontierindia.net/british-aircraft-carrier-hms-eagle-tried-to-intervene-in-1971-india-pakistan-war|শিরোনাম=British aircraft carrier 'HMS Eagle' tried to intervene in 1971 India – Pakistan war – Frontier India – News, Analysis, Opinion – Frontier India – News, Analysis, Opinion|প্রকাশক=ফ্রন্টিয়ার ইন্ডিয়া|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=ব্রিটিশ এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার 'এইচএমএস ইগল' ১৯৭১ সালে ভারতে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করেছিল|তারিখ=১৮ ডিসেম্বর ২০১০|সংগ্রহের-তারিখ=২৭ জুলাই ২০১২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20160110154941/http://frontierindia.net/british-aircraft-carrier-hms-eagle-tried-to-intervene-in-1971-india-pakistan-war/|আর্কাইভের-তারিখ=১০ জানুয়ারি ২০১৬|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref><br />{{পতাকা|মিয়ানমার}}<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম= ১৯৭১ এবং বার্মা–শ্রীলঙ্কা|ইউআরএল= https://samakal.com/todays-print-edition/tp-editorial-comments/article/18035171/%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A7-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE|প্রকাশক= দৈনিক সমকাল|তারিখ= ২৬ মার্চ ২০১৮|সংগ্রহের-তারিখ= ২৫ ডিসেম্বর ২০২১|আর্কাইভের-তারিখ= ২৫ ডিসেম্বর ২০২১|আর্কাইভের-ইউআরএল= https://web.archive.org/web/20211225051821/https://samakal.com/todays-print-edition/tp-editorial-comments/article/18035171/%E0%A7%A7%E0%A7%AF%E0%A7%AD%E0%A7%A7-%E0%A6%8F%E0%A6%AC%E0%A6%82-%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%B6%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%B2%E0%A6%82%E0%A6%95%E0%A6%BE|ইউআরএল-অবস্থা= অকার্যকর}}</ref><br />{{পতাকা|শ্রীলঙ্কা}}{{সূত্র প্রয়োজন}}{{পতাকা|চীন}}<ref name="Manohar, Singh">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=সিং|প্রথমাংশ১=স্বরণ সিং|শিরোনাম=China-Pakistan strategic cooperation : Indian perspectives|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=চীন-পাকিস্তানের কৌশলগত সহযোগিতা: ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি|তারিখ=২০০৭|প্রকাশক=মনোহর|অবস্থান=নয়াদিল্লি|আইএসবিএন=8173047618}}</ref><ref name="Columbia University Press, Jaffrelot">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=জাফ্রেলট|প্রথমাংশ১=ক্রিস্টোফ|শিরোনাম=পাকিস্তান এট দ্য ক্রসরোডস: ডোমেস্টিক ডায়নামিক্স অ্যান্ড এক্সটার্নাল প্রেশার্স|প্রকাশক=কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=9780231540254|ইউআরএল=https://books.google.com/?id=A791CwAAQBAJ&pg=PA285&dq=china+1971+indo+pak+war+general#v=onepage&q=china%201971%20indo%20pak%20war%20general&f=false|সংগ্রহের-তারিখ=২৫ ডিসেম্বর ২০১৬|ভাষা=ইংরেজি}}</ref><br />{{পতাকা|সৌদি আরব}}<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=সংরক্ষণাগারভুক্ত অনুলিপি|ইউআরএল=http://orbat.com/site/cimh/iaf/IAF_1971_kills.pdf|সংগ্রহের-তারিখ=১৭ মার্চ ২০১৭|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130511153500/http://orbat.com/site/cimh/iaf/IAF_1971_kills.pdf |আর্কাইভের-তারিখ=১১ মে ২০১৩|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.acig.org/artman/publish/article_326.shtml|শিরোনাম=India – Pakistan War, 1971; Introduction|প্রকাশক=Acig.org|সংগ্রহের-তারিখ=১ জুলাই ২০১৩|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110606195040/http://www.acig.org/artman/publish/article_326.shtml|আর্কাইভের-তারিখ=৬ জুন ২০১১|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ইন্ডিয়া'স ফরেন পলিসি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=Y32u4JMroQgC&pg=PA317|সংগ্রহের-তারিখ=১ জুলাই ২০১৩|বছর=২০০৯|প্রকাশক=পিয়ার্সন এডুকেশন ইন্ডিয়া|আইএসবিএন=978-81-317-1025-8|পাতাসমূহ=৩১৭–|ভাষা=ইংরেজি}}</ref><ref name="Ward1992">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=রিচার্ড এডমুন্ড ওয়ার্ড|শিরোনাম=ইন্ডিয়া'স প্রো-আরব পলিসি: অ্যা স্টাডি ইন কন্টিনিউয়িটি|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=5n359Tp2FRMC&pg=PA85|সংগ্রহের-তারিখ=১ জুলাই ২০১৩|তারিখ=১ জানুয়ারি ১৯৯২|প্রকাশক=গ্রিনউড পাবলিশিং গ্রুপ|আইএসবিএন=978-0-275-94086-7|পাতাসমূহ=৮৫–}}</ref><br />{{পতাকা|তুরস্ক}}<ref name=RIR /> | |||
| commander1 = {{flagdeco|বাংলাদেশ|১৯৭১}} '''[[শেখ মুজিবুর রহমান]]'''<br />{{ছোট|([[বাংলাদেশের রাষ্ট্রপ্রধান ও সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক|রাষ্ট্রপতি]] (অনুপস্থিত), [[মুজিবনগর সরকার]])}}<br />{{flagdeco|বাংলাদেশ|১৯৭১}} '''[[সৈয়দ নজরুল ইসলাম]]'''<br />{{ছোট|([[বাংলাদেশের উপরাষ্ট্রপ্রধান|উপরাষ্ট্রপতি এবং অস্থায়ী রাষ্ট্রপ্রধান ও অস্থায়ী সশস্ত্র বাহিনীসমূহের সর্বাধিনায়ক]], [[মুজিবনগর সরকার]])}}<br />{{flagdeco|বাংলাদেশ|১৯৭১}} '''[[তাজউদ্দীন আহমদ]]'''<br />{{ছোট|([[বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী]], [[মুজিবনগর সরকার]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী|এম. এ. জি. ওসমানী]]<br />{{ছোট|([[মুক্তিবাহিনীর প্রধান সেনাপতি]], [[মুক্তিবাহিনী]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মোহাম্মদ আবদুর রব]]<br />{{ছোট|(চিফ অফ স্টাফ, [[মুক্তিবাহিনী]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[গ্রুপ ক্যাপ্টেন]] [[আবদুল করিম খন্দকার|এ. কে. খন্দকার]]<br />{{ছোট|(ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ, [[মুক্তিবাহিনী]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মেজর]] [[কাজী মুহাম্মদ শফিউল্লাহ|কে. এম. শফিউল্লাহ]]<br />{{ছোট|(কমান্ডার, [[এস ফোর্স (বাংলাদেশ)|এস ফোর্স]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মেজর]] [[জিয়াউর রহমান]]<br />{{ছোট|(কমান্ডার, [[জেড ফোর্স (বাংলাদেশ)|জেড ফোর্স]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} [[মেজর]] [[খালেদ মোশাররফ]]<br />{{ছোট|(কমান্ডার, [[কে ফোর্স (বাংলাদেশ)|কে ফোর্স]])}} | |||
{{flagdeco|ভারত}} '''[[বরাহগিরি ভেঙ্কট গিরি|ভি. ভি. গিরি]]'''<br />{{ছোট|([[ভারতের রাষ্ট্রপতি|রাষ্ট্রপতি, ভারত]])}}<br />{{flagdeco|ভারত}} '''[[ইন্দিরা গান্ধী]]'''<br />{{ছোট|([[ভারতের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী, ভারত]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[জেনারেল অফিসার|জেনারেল]] [[শ্যাম মানেকশ’|স্যাম মানেকশ]]<br />{{ছোট|([[সেনাবাহিনী প্রধান (ভারত)|সেনাবাহিনী প্রধান]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[লেফট্যানেন্ট জেনারেল|লে. জেনারেল]] [[জগজিত সিং অরোরা|জগজিৎ সিং অরোরা]]<br />{{ছোট|([[জেনারেল অফিসার কমান্ডিং|জিওসি-ইন-সি]], [[পূর্ব কমান্ড (ভারত)|পূর্ব কমান্ড]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[লেফট্যানেন্ট জেনারেল|লে. জেনারেল]] [[সগত সিং]]<br />{{ছোট|(জিওসি-ইন-সি, [[৪র্থ কোর (ভারত)|৪র্থ কোর]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[ইন্দ্রজিৎ সিং গিল]]<br />{{ছোট|(পরিচালক, [[ভারতের সেনা অভিযানের তালিকা|সেনা অভিযান]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[ওম প্রকাশ মালহোত্রা]]<br />{{ছোট|([[সেনাপ্রধান|প্রধান]], [[৪র্থ কোর (ভারত)|৪র্থ কোর]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[জে এফ আর জ্যাকব|জে. এফ. আর. জ্যাকব]]<br />{{ছোট|(প্রধান, পূর্ব কমান্ড)}}<br />{{flagdeco|ভারত|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[সাবেগ সিং]]<br />{{ছোট|(প্রশিক্ষণ কমান্ডার, [[মুক্তিবাহিনী]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|naval}} [[ভাইস অ্যাডমিরাল]] [[নীলকান্ত কৃষ্ণন]]<br />{{ছোট|([[ফ্ল্যাগ অফিসার|এফওসি-ইন-সি]], [[পূর্ব নৌসেনা কম্যান্ড|পূর্ব নৌসেনা কমান্ড]])}}<br />{{flagdeco|ভারত|air force}} [[এয়ার মার্শাল]] [[হরি চাঁদ দেওয়ান]]<br />{{ছোট|([[সর্বাধিনায়ক|এওসি-ইন-সি]], [[পূর্ব বায়ুসেনা কমান্ড]])}} | |||
| commander2 = {{flagicon image|Flag of the President of Pakistan.svg}} '''[[ইয়াহিয়া খান]]'''<br />{{ছোট|([[পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি|রাষ্ট্রপতি, পাকিস্তান]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Prime Minister of Pakistan.svg}} '''[[নুরুল আমিন|নূরুল আমিন]]'''<br />{{ছোট|([[পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী|প্রধানমন্ত্রী, পাকিস্তান]])}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান}} [[আবদুল মুতালিব মালেক]]<br />{{ছোট|(গভর্নর (আগস্ট–ডিসেম্বর), [[পূর্ব পাকিস্তান]])}}<br />{{flagicon image|Flag of the Chief of the Army Staff (Pakistan).svg}} [[জেনারেল অফিসার|জেনারেল]] [[আব্দুল হামিদ খান (জেনারেল)|আব্দুল হামিদ খান]]<br />{{ছোট|([[সেনাবাহিনী প্রধান (পাকিস্তান)|সেনাবাহিনী প্রধান]], [[সাধারণ সদরদপ্তর (পাকিস্তান সেনাবাহিনী)|সেনা সদরদপ্তর]])}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান|army}} [[লেফট্যানেন্ট জেনারেল|লে. জেনারেল]] [[টিক্কা খান]]<br />{{ছোট|(গভর্নর (এপ্রিল–আগস্ট), পূর্ব পাকিস্তান এবং কমান্ডার, [[পাকিস্তান পূর্ব কমান্ড পরিকল্পনার বিবর্তন|পূর্ব কমান্ড]])}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান|army}} [[লেফট্যানেন্ট জেনারেল|লে. জেনারেল]] [[আমির আবদুল্লাহ খান নিয়াজী|এ. এ. কে. নিয়াজী]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|(কমান্ডার, [[পাকিস্তান পূর্ব কমান্ড পরিকল্পনার বিবর্তন|পূর্ব কমান্ড]])}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[রাও ফরমান আলি]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|([[সামরিক উপদেষ্টা]], [[পূর্ব পাকিস্তান|পূর্ব পাকিস্তান সরকার]])}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান|army}} [[মেজর জেনারেল]] [[খাদিম হুসেন রাজা|খাদিম হোসেন রাজা]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|([[জেনারেল অফিসার কমান্ডিং]], [[পাকিস্তান সেনাবাহিনীর কাঠামো|১৪শ পদাতিক ডিভিশন]])}}<br />[[মেজর জেনারেল]] মোহাম্মদ জামশেদ {{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|(কমান্ডার, ইস্ট পাকিস্তান সিভিল আর্মড ফোর্সেস (ইপিসিএফ) <br /> এবং [[রাজাকার (পাকিস্তান)|রাজাকার বাহিনীর]] দায়িত্বপ্রাপ্ত)}}<br />{{flagicon image|Pakistan Navy Rear Admiral.svg}} [[রিয়ার এডমিরাল]] [[মোহাম্মদ শরীফ (এডমিরাল)|মোহাম্মদ শরীফ]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|([[ফ্ল্যাগ অফিসার|এফওসি]], পূর্ব নৌ কমান্ড)}}<br />{{flagicon image|Naval Jack of Pakistan.svg}} [[ক্যাপ্টেন (নৌবাহিনী)|ক্যাপ্টেন]] [[আহমদ জামির]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|([[কমান্ডিং অফিসার]], [[পাকিস্তান মেরিনস|পাকিস্তান মেরিন কর্পস, পূর্ব]]}})<br />{{flagicon image|Naval Jack of Pakistan.svg}} [[কমান্ডার]] [[জাফর মুহাম্মদ খান|জাফর মুহাম্মদ]] {{KIA}}<br />{{ছোট|([[কমান্ডিং অফিসার]], {{জাহাজ|পিএনএস|গাজী||6}})}}<br />{{flagicon image|Flag of Air Marshal (Pakistan).svg|border=}} [[এয়ার কমোডর]] [[ইনামুল হক খান]]{{আত্মসমর্পণকারী}}<br />{{ছোট|([[এয়ার অফিসার কমান্ডিং]], পূর্ব বিমানবাহিনী কমান্ড)}}<br />{{flagdeco|পাকিস্তান|air force}} [[এয়ার কমোডর]] [[জাফর মাসুদ]]<br />{{ছোট|(এয়ার অফিসার কমান্ডিং, পূর্ব বিমানবাহিনী কমান্ড (১৯৬৯–৭১))}} | |||
{{hr}} | |||
[[সৈয়দ খাজা খায়েরউদ্দিন]]<br />{{ছোট|([[চেয়ারম্যান]], [[পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় শান্তি কমিটি|নাগরিক শান্তি কমিটি]])}}<br />[[গোলাম আযম]]<br />{{ছোট|([[আমির]], [[বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী|জামায়াতে ইসলামী]])}}<br />[[মতিউর রহমান নিজামী]]<br />{{ছোট|(নেতা, [[আল বদর]])}}<br />[[ফজলুল কাদের চৌধুরী]]<br />{{ছোট|(নেতা, [[আল শামস]])}} | |||
| units1 = | |||
| units2 = | |||
| strength1 = {{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} ১,৭৫,০০০ জন<ref name=ACIG /><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=পাকিস্তান অ্যান্ড দ্য কারাকোরাম হাইওয়ে|লেখক১=ওয়েন বেনেট-জোন্স|লেখক২=লিন্ডসে ব্রাউন|লেখক৩=জন মক|লেখক৪=সারিনা সিং|পৃষ্ঠা=৩০}}</ref><br />{{flagicon image|Flag of the Ministry of Defence of India.svg}} ২,৫০,০০০<ref name=ACIG /> | |||
| strength2 = {{flagicon image|Flag of the Chairman Joint Chiefs of Staff Committee.svg}} ~৩,৬৫,০০০ জন নিয়মিত সৈন্য (পূর্ব পাকিস্তানে ~৯৭,০০০+ জন)<ref name=ACIG /><br />~২৫,০০০ জন আধা-সামরিক ব্যক্তি<ref>{{বই উদ্ধৃতি|পৃষ্ঠা=৪৪২|শিরোনাম=ইন্ডিয়ান আর্মি আফটার ইন্ডিপেন্ডেনস|ইউআরএল=https://archive.org/details/indianarmyafteri0000prav|লেখক=কেসি প্রাভেল|প্রকাশক=লেন্সার|বছর=১৯৮৭|আইএসবিএন=81-7062-014-7}}</ref> | |||
| casualties1 = {{flagicon image|Flag of the Mukti Bahini-DeFacto.svg}} ~৩০,০০০ জন নিহত<ref>{{বই উদ্ধৃতি|সম্পাদক-শেষাংশ১=তিরঙ্গম|সম্পাদক-প্রথমাংশ১=শারিকা|সম্পাদক-শেষাংশ২=কেলি|সম্পাদক-প্রথমাংশ২=টোবিয়াস|বছর=২০১২|শিরোনাম=ট্রেইটরস : সাসপিশন, ইন্টিমেসি, অ্যান্ড দি এথিকস অব স্টেট-বিল্ডিং|প্রকাশক=ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভানিয়া প্রেস|অবস্থান=ফিলাডেলফিয়া, পেনসিলভেনিয়া|আইএসবিএন=978-0812222371}}</ref><ref name="autogenerated1">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.bbc.co.uk/news/world-asia-18049515|শিরোনাম=Bangladesh Islamist leader Ghulam Azam charged|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=বাংলাদেশি ইসলামি নেতা গোলাম আযম অভিযুক্ত|প্রকাশক=বিবিসি|তারিখ=১৩ মে ২০১২|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ মে ২০১২}}</ref><br />{{flagicon image|Flag of the Ministry of Defence of India.svg}} ১,৪২৬–১,৫২৫ জন নিহত<ref name="FallOfDacca">১৯৭৩ খ্রিষ্টাব্দের ২৩ ডিসেম্বর [[জগজিত সিং অরোরা|জগজিৎ সিং অরোরা]] কর্তৃক ''দ্য ইলাস্ট্রেটেড উইকলি ইন্ডিয়া''য় প্রকাশিত “দ্য ফল অব ডাক্কা”য় প্রদত্ত সংখ্যা। কেসি প্রাভেল কর্তৃক ''ইন্ডিয়ান আর্মি আফটার ইন্ডিপেন্ডেনস'' বইয়ে উদ্ধৃত; প্রকাশক: লেন্সার, ১৯৮৭। ({{আইএসবিএন|81-7062-014-7}})</ref><br />৩,৬১১–৪,০৬১ জন আহত<ref name="FallOfDacca" /> | |||
| casualties2 = {{flagdeco|পাকিস্তান}} ~৮,০০০ জন নিহত<br />~১০,০০০ জন আহত<br />৯০,০০০—৯৩,০০০ জন যুদ্ধবন্দী<ref name="dailytimes1912005">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ=খান|প্রথমাংশ=শাহনওয়াজ|তারিখ=১৯ জানুয়ারি ২০০৫|শিরোনাম=54 Indian PoWs of 1971 war still in Pakistan|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://archives.dailytimes.com.pk/national/19-Jan-2005/54-indian-pows-of-1971-war-still-in-pakistan|অবস্থান=লাহোর|সংবাদপত্র=ডেইলি টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১১ অক্টোবর ২০১১}}</ref> (৭৯,৬৭৬ জন সৈন্য ও ১০,৩২৪–১২,১৯২ জন স্থানীয় আধা-সামরিক ব্যক্তিসহ)<ref name="FallOfDacca" /><ref>কর্নেল এস পি সালুংকে কর্তৃক “পাকিস্তানি প্রিজনার্স অব দ্য ওয়ার ইন ইন্ডিয়া”য় প্রদত্ত সংখ্যা। কেসি প্রাভেল কর্তৃক ''ইন্ডিয়ান আর্মি আফটার ইন্ডিপেন্ডেনস'' বইয়ে উদ্ধৃত; প্রকাশক: লেন্সার, ১৯৮৭। ({{আইএসবিএন|81-7062-014-7}})</ref><ref name="India's Borderland Disputes: China, Pakistan, Bangladesh, and Nepal">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=0RBOnS8KsgcC&pg=PA117|শিরোনাম=ইন্ডিয়া'স বর্ডারল্যান্ড ডিসপুটস: চায়না, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, অ্যান্ড নেপাল|শেষাংশ=অরটন|প্রথমাংশ=অ্যানা|প্রকাশক=এপিটোম বুকস|বছর=২০১০|আইএসবিএন=9789380297156|পৃষ্ঠা=১১৭}}</ref> | |||
| casualties3 = [[১৯৭১ বাংলাদেশে পরিকল্পিত গণহত্যা|বেসামরিক প্রাণহানি]]:<ref name="autogenerated1" /> আনুমানিক ৩,০০,০০০ থেকে ৩০,০০,০০০ জন{{better source needed}} | |||
| notes = | |||
| campaignbox = {{সমরাভিযানবাক্স বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ}} | |||
}} | |||
{{বাংলাদেশের ইতিহাস}} | |||
'''বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ''' হলো ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে [[পূর্ব পাকিস্তান|পূর্ব পাকিস্তানে]] সংঘটিত একটি [[বিপ্লব]] ও [[যুদ্ধ|সশস্ত্র সংগ্রাম]]। পূর্ব পাকিস্তানে [[বাঙালি জাতীয়তাবাদ|বাঙালি জাতীয়তাবাদের]] উত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং [[১৯৭১ বাংলাদেশে গণহত্যা|বাঙালি গণহত্যার]] প্রেক্ষিতে এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়।<ref name="genwatch">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.gendercide.org/case_bangladesh.html|শিরোনাম=Genocide in Bangladesh, 1971|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=জেন্ডারসাইড ওয়াচ}}</ref> যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম [[বাংলাদেশ|গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ]] রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। [[পশ্চিম পাকিস্তান]]-কেন্দ্রিক [[সামরিক একনায়কতন্ত্র|সামরিক জান্তা সরকার]] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে [[অপারেশন সার্চলাইট]] পরিচালনা করে এবং নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা শুরু করে। এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, [[বুদ্ধিজীবী]], ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পুলিশ ও ইপিআর কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। সামরিক জান্তা সরকার [[পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচন, ১৯৭০|১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের]] ফলাফলকে অস্বীকার করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা [[শেখ মুজিবুর রহমান]]কে গ্রেফতার করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। | |||
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে [[আইন অমান্য|গণবিদ্রোহ]] দমনে পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান ও বিমানযুদ্ধ সংঘটিত হয়। [[পাকিস্তান সেনাবাহিনী]] অধিকাংশ ইসলামি দলগুলোর সমর্থন লাভ করে। সেনাবাহিনীর অভিযানে সহায়তার জন্য তারা বিভিন্ন দলের লোকজন বিশেষ করে পাকিস্তান সমর্থনকারী ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নিয়ে আধা-সামরিক বাহিনী— [[রাজাকার (পাকিস্তান)|রাজাকার]], [[আল বদর]] ও [[আল শামস]] বাহিনী গঠন করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=LQHIAAAAQBAJ&pg=PA57|শিরোনাম=দ্য ওয়ার্ল্ড'স মোস্ট থ্রেটেনিং টেরোরিস্ট নেটওয়ার্কস অ্যান্ড ক্রিমিনাল গ্যাংস|শেষাংশ১=শ্নাইডার|প্রথমাংশ১=বি.|শেষাংশ২=পোস্ট|প্রথমাংশ২=জে.|শেষাংশ৩=কিন্ডট|প্রথমাংশ৩=এম.|বছর=২০০৯|প্রকাশক=স্প্রিঙ্গার|আইএসবিএন=9780230623293|পৃষ্ঠা=৫৭|ভাষা=ইংরেজি}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=NsrfCgAAQBAJ&pg=PA168|শিরোনাম=পাকিস্তান: ফ্রম দ্য রিটোরিক অব ডেমোক্রেসি টু দ্য রাইজ অব মিলিট্যান্সি|শেষাংশ=কালিয়া|প্রথমাংশ=রবি|বছর=২০১২|প্রকাশক=রুটলেজ|আইএসবিএন=9781136516412|পৃষ্ঠা=১৬৮|ভাষা=ইংরেজি}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|পৃষ্ঠা=৬০০|শেষাংশ=শ্মিড|প্রথমাংশ=অ্যালেক্স|বছর=২০১১|শিরোনাম=দ্য রুটলেজ হ্যান্ডবুক অব টেরোরিজম রিসার্চ|ইউআরএল=https://archive.org/details/routledgehandboo0000unse_h7u2|প্রকাশক=রুটলেজ|ভাষা=ইংরেজি|আইএসবিএন=978-0-415-41157-8}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|পৃষ্ঠা=২৪০|প্রথমাংশ=পিটার|শেষাংশ=টমসেন|বছর=২০১১|শিরোনাম=দ্য ওয়ার্স অব আফগানিস্তান: মেসিয়ানিক টেরোরিজম, ট্রাইবাল কনফ্লিক্টস, অ্যান্ড দ্য ফেইলিউর্স অব গ্রেট পাওয়ার্স|ইউআরএল=https://archive.org/details/warsofafghanista0000toms|প্রকাশক=পাবলিক অ্যাফেয়ার্স|আইএসবিএন=978-1-58648-763-8}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=PdrcAgAAQBAJ|শিরোনাম=আনকনভেনশনাল ওয়ারফেয়ার ইন সাউথ এশিয়া: শ্যাডো ওয়ারিয়র্স অ্যান্ড কাউন্টারইনসার্জেন্সি|শেষাংশ১=রায়|প্রথমাংশ১=ড. কৌশিক|শেষাংশ২=গেটস|প্রথমাংশ২=প্রফেসর স্কট|বছর=২০১৪|প্রকাশক=অ্যাশগেট পাবলিশিং লিমিটেড|আইএসবিএন=9781472405791|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> পূর্ব পাকিস্তানের উর্দু-ভাষী [[বাংলাদেশে পাকিস্তানি উদ্বাস্তু|বিহারিরাও]] সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে।{{cn}} পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহায়তাকারী আধা-সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা, উচ্ছেদ ও [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ|ধর্ষণের]] ঘটনা ঘটে। রাজধানী [[ঢাকা]]য় [[অপারেশন সার্চলাইট]] ও [[১৯৭১ ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় গণহত্যা|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাসহ]] একাধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রায় এক কোটি বাঙালি [[পূর্ব বাংলার শরণার্থী#১৯৭০-এর দশক|শরণার্থী]] হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয় এবং আরও তিন কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=rgGA91skoP4C&pg=PA34|শিরোনাম=ডিকশনারি অব জেনোসাইড: এ-এল|শেষাংশ১=টোটেন|প্রথমাংশ১=সামুয়েল|শেষাংশ২=বার্ট্রপ|প্রথমাংশ২=পল রবার্ট|বছর=২০০৮|প্রকাশক=এবিসি-সিএলআইও|আইএসবিএন=9780313346422|পৃষ্ঠা=৩৪|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> বাঙালি ও [[বাংলাদেশে বিহারী নিপীড়ন|উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গার]] সূত্রপাত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতাকে বুদ্ধিজীবীরা [[গণহত্যা]] হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন। | |||
বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত [[মুক্তিবাহিনী]] [[চট্টগ্রাম]] থেকে [[বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র]] প্রচার করে।<ref group="টীকা">শেখ মুজিবুর রহমান ২৫শে দিবাগত রাতে ধানমন্ডি ৩২ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন এবং ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম শহরের অদূরে [[স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র]] থেকে ঘোষণাটি প্রচার করা হয়।</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=স্বাধীনতার ৫০ বছর: ২৫শে মার্চের হত্যাযজ্ঞের পর যেভাবে এল স্বাধীনতার ঘোষণা|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-55791069|প্রকাশক=বিবিসি বাংলা|তারিখ=২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=১১ মার্চ ২০২১|অবস্থান=লন্ডন|প্রথমাংশ=মানসী|শেষাংশ=বড়ুয়া}}</ref> [[ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট]] ও [[বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ|ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস]] প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেনারেল [[মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী|এম. এ. জি. ওসমানী]] ও [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টরসমূহের তালিকা|১১ জন সেক্টর কমান্ডারের]] নেতৃত্বে [[মুক্তিবাহিনী]] পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে [[গেরিলা যুদ্ধ তৎপরতা|গেরিলা যুদ্ধ]] পরিচালনা করে। তাদের তৎপরতায় যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই বেশকিছু শহর ও অঞ্চল মুক্তি লাভ করে। [[বর্ষা|বর্ষাকালের]] শুরু থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও তৎপর হয়ে উঠতে থাকে। বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা নৌবাহিনীর ওপর [[অপারেশন জ্যাকপট]] সহ ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। নবগঠিত [[বাংলাদেশ বিমান বাহিনী]] পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর উপর বিমান হামলা চালাতে থাকে। নভেম্বরের মধ্যে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে রাতের বেলায় ব্যারাকে আবদ্ধ করে ফেলে। একই সময়ের মধ্যে তারা শহরের বাইরে দেশের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতেও সক্ষম হয়।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=জামাল|প্রথমাংশ=আহমেদ|তারিখ=৫–১৭ অক্টোবর ২০০৮|শিরোনাম=Mukti Bahini and the liberation war of Bangladesh: A review of conflicting views|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: দ্বন্দ্ব্যমান পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি|ইউআরএল=http://www.cdrb.org/journal/2008/4/1.pdf|সাময়িকী=এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স|খণ্ড=৩০|সংগ্রহের-তারিখ=২৯ এপ্রিল ২০১৫|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150103014904/http://www.cdrb.org/journal/2008/4/1.pdf|আর্কাইভের-তারিখ=৩ জানুয়ারি ২০১৫|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref> | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল [[মুজিবনগর|মুজিবনগরে]] [[মুজিবনগর সরকার|অস্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার]] শপথ গ্রহণ করে এবং [[কলকাতা]] থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে থাকে। তাই একে প্রবাসী সরকারও বলা হয়। বাঙালি সামরিক, বেসামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মুজিবনগর সরকারের পক্ষ অবলম্বন করে। পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসরত হাজার হাজার বাঙালি পরিবার [[আফগানিস্তান|আফগানিস্তানে]] পালিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ গোপনে [[স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র]] চালু করে। যুদ্ধে বাঙালি উদ্বাস্তুদের দুর্দশা বিশ্ববাসীকে চিন্তিত ও আতঙ্কিত করে। [[ভারত|ভারতের]] প্রধানমন্ত্রী [[ইন্দিরা গান্ধী]] বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=রায়|প্রথমাংশ১=অঞ্জন|শিরোনাম=শুরু হল মুজিববর্ষ: একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি|ইউআরএল=https://www.anandabazar.com/international/mujib-borsho-started-at-bangladesh-on-the-birth-centenary-of-sheikh-mujibur-rahman-dgtl-1.1123567|সংবাদপত্র=আনন্দবাজার পত্রিকা|সংগ্রহের-তারিখ=৭ জুলাই ২০২০}}</ref> ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কয়েকজন সঙ্গীতজ্ঞ বাংলাদেশিদের সহায়তার জন্য [[নিউ ইয়র্ক শহর|নিউ ইয়র্কে]] [[দ্য কনসার্ট ফর বাংলাদেশ|তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশ্বের প্রথম কনসার্ট]] আয়োজন করেন। মার্কিন সিনেটর [[টেড কেনেডি]] পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেস|মার্কিন কংগ্রেসে]] ক্যাম্পেইন শুরু করেন। অন্যদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত [[আর্চার ব্লাড]] পাকিস্তানি স্বৈরশাসক [[ইয়াহিয়া খান|ইয়াহিয়া খানের]] সাথে মার্কিন রাষ্ট্রপতি [[রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সনের]] সুসম্পর্কের বিরোধিতা করেন। | |||
উত্তর ভারতে পাকিস্তানের [[অপারেশন চেঙ্গিস খান|বিমান হামলার পর]] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগদান করে। ফলশ্রুতিতে পূর্ব ও পশ্চিম— দুই ফ্রন্টে [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১|আরেকটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের]] সূচনা ঘটে। উপর্যুপরি বিমান হামলা ও বাংলাদেশ-ভারত [[মিত্র বাহিনী|যৌথ বাহিনীর]] তৎপরতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর [[পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল|আত্মসমর্পণের]] মাধ্যমে দীর্ঘ নয় মাসের এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। | |||
যুদ্ধের ফলে বিশ্বের সপ্তম-জনবহুল দেশ হিসেবে [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশের]] উত্থান ঘটে, যা [[দক্ষিণ এশিয়া|দক্ষিণ এশিয়ার]] ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেয়। জটিল আঞ্চলিক সম্পর্কের কারণে যুদ্ধটি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র]], [[সোভিয়েত ইউনিয়ন]] এবং [[চীন|গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের]] মধ্যে চলমান [[স্নায়ুযুদ্ধ|স্নায়ুযুদ্ধের]] অন্যতম প্রধান পর্ব ছিল। [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। | |||
== প্রেক্ষাপট == | |||
[[চিত্র:India religion map 1909 en.jpg|থাম্ব|upright=1.3|১৯০৯ খ্রিষ্টাব্দের [[ব্রিটিশ ভারত|ব্রিটিশ ভারতের]] একটি মানচিত্র— [[মুসলিম]]-প্রধান অঞ্চল সবুজ রঙে দেখানো হয়েছে। পূর্ব অংশটির অধিকাংশ এলাকা নিয়ে বাংলাদেশ ও পশ্চিম অংশটির অধিকাংশ এলাকা নিয়ে পাকিস্তান প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।]] | |||
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে [[ভারত বিভাজন|ভারত বিভাজনের]] আগে পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের [[মুসলিম]]-প্রধান অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য [[লাহোর প্রস্তাব|প্রস্তাব]] আনা হয়। বাংলার প্রধানমন্ত্রী [[হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী]] [[অবিভক্ত স্বাধীন বাংলা|যুক্তবঙ্গ]] গঠনের প্রস্তাব দিলেও ঔপনিবেশিক শাসকেরা তা নাকচ করে দেয়। [[পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি]] পূর্ব ভারতে আলাদা [[সার্বভৌম রাষ্ট্র|সার্বভৌম রাষ্ট্রের]] প্রস্তাব করে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বহু রাজনৈতিক আলোচনার পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ব্রিটিশরা ভারতের শাসনভার ত্যাগ করে এবং হিন্দু ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে যথাক্রমে [[ভারত]] ও [[পাকিস্তান]] নামে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=78xTAAAAIBAJ&pg=1738,3655&dq=india+partition|শিরোনাম=Britain Proposes Indian Partition|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=ভারত বিভক্তির প্রস্তাব করল ব্রিটেন|কর্ম=দ্য লিডার-পোস্ট|তারিখ=২ জুন ১৯৪৭|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> ভারত প্রজাতন্ত্র দ্বারা বিভক্ত নবগঠিত [[পাকিস্তান অধিরাজ্য|পাকিস্তান অধিরাজ্যের]] পূর্ব ও পশ্চিম দুইটি অংশের ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল দুই হাজার মাইলের অধিক।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=VbYqAAAAIBAJ&pg=1342,6305096&dq=india+partition|শিরোনাম=ইন্ডিয়া পার্টিশন উইথ প্রেজেন্ট মেনি প্রবলেমস|কর্ম=সারাসোটা হেরাল্ড-ট্রিবিউন|তারিখ=৮ জুন ১৯৪৭|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> দুই অংশের মানুষের মধ্যে কেবল ধর্মে মিল থাকলেও, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে প্রচুর অমিল ছিল। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে (পরে আনুষ্ঠানিকভাবে) “পশ্চিম পাকিস্তান” এবং পূর্ব অংশ প্রথম দিকে “[[পূর্ববঙ্গ প্রদেশ (পাকিস্তান)|পূর্ব বাংলা]]” ও পরবর্তীতে “পূর্ব পাকিস্তান” হিসেবে অভিহিত হতে থাকে। পাকিস্তানের দুই অংশের জনসংখ্যা প্রায় সমান হওয়া সত্ত্বেও, রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মাতে থাকে যে, অর্থনৈতিকভাবে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এরকম বিভিন্ন কারণে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুইটি অঞ্চলের প্রশাসন নিয়েও মতানৈক্য দেখা দেয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=WPdUAAAAIBAJ&pg=7167,1795176&dq=india+partition|শিরোনাম=Problems of Partition|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=বিভাজনের সমস্যা|কর্ম=দ্য সিডনি মর্নিং হেরাল্ড|তারিখ=১৪ জুন ১৯৪৭|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল [[বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ|আওয়ামী লীগ]] জয়ী হলেও, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তা মেনে নেয়নি। এর ফলস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট রাজনৈতিক অসন্তোষ ও [[জাতীয়তাবাদ|সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ]] অবদমনে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে নৃশংস গণহত্যা<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.gendercide.org/case_bangladesh.html|শিরোনাম=Gendercide Watch: Genocide in Bangladesh, 1971|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=জেন্ডারসাইড ওয়াচ: বাংলাদেশে গণহত্যা, ১৯৭১|ওয়েবসাইট=জেন্ডারসাইড.অর্গ|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20120721230201/http://www.gendercide.org/case_bangladesh.html|আর্কাইভের-তারিখ=২১ জুলাই ২০১২|ইউআরএল-অবস্থা=dead|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://countrystudies.us/bangladesh/21.htm|শিরোনাম=Bangladesh – The Zia Regime and Its Aftermath, 1977–82|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=বাংলাদেশ – জিয়া শাসনামল ও এর ফলাফল, ১৯৭৭–৮২|ওয়েবসাইট=কান্ট্রিস্টাডিজ.ইউএস|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20161113093702/http://countrystudies.us/bangladesh/21.htm|আর্কাইভের-তারিখ=১৩ নভেম্বর ২০১৬|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> আরম্ভ করে, যা [[অপারেশন সার্চলাইট]] নামে পরিচিত।<ref name="epw">{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=বসু|প্রথমাংশ=শর্মিলা|তারিখ=৮ অক্টোবর ২০০৫|শিরোনাম=Anatomy of Violence, Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://www.epw.org.in/showArticles.php?root=2005&leaf=10&filename=9223&filetype=html|সাময়িকী=ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি|খণ্ড=৪০|সংখ্যা নং=৪১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070301084941/http://www.epw.org.in/showArticles.php?root=2005&leaf=10&filename=9223&filetype=html|আর্কাইভের-তারিখ=১ মার্চ ২০০৭|সংগ্রহের-তারিখ=২৭ জুলাই ২০১৫}}</ref> পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম আক্রমণের পর<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.nytimes.com/2013/09/30/opinion/nixon-and-kissingers-forgotten-shame.html|শিরোনাম=Nixon and Kissinger's Forgotten Shame|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=নিক্সন ও কিসিঞ্জারের বিস্মৃত লজ্জা|শেষাংশ=ব্যাস|প্রথমাংশ=গ্যারি জে.|তারিখ=২৯ সেপ্টেম্বর ২০১৩|কর্ম=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭|issn=0362-4331}}</ref> ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে আওয়ামী লীগ নেতা [[শেখ মুজিবুর রহমান]] পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।<ref name=":1">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=Rk4fAAAAIBAJ&pg=2676,6420028&dq=east+pakistan+independence|শিরোনাম=Civil War Rocks East Pakistan|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=পূর্ব পাকিস্তানে গৃহযুদ্ধের শুরু|কর্ম=ডেটোনা বিচ মর্নিং জার্নাল|তারিখ=২৭ মার্চ ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> অধিকাংশ বাঙালি স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন করলেও, কিছু [[ইসলামবাদ|ইসলামপন্থী]] ব্যক্তিবর্গ ও পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসরত বিহারিরা এর বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করে।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=বসু|প্রথমাংশ=শর্মিলা|তারিখ=৮ অক্টোবর ২০০৫|শিরোনাম=Anatomy of Violence: Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://www.politics.ox.ac.uk/materials/profile_materials/sbose-anatomy_of_violence-epw_v_40_no_41_2005.pdf|বিন্যাস=পিডিএফ|সাময়িকী=ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি|পৃষ্ঠা=৪৪৬৩|সংগ্রহের-তারিখ=১২ মার্চ ২০২১|আর্কাইভের-তারিখ=২৮ ডিসেম্বর ২০২০|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20201228012627/https://www.politics.ox.ac.uk/materials/profile_materials/sbose-anatomy_of_violence-epw_v_40_no_41_2005.pdf|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি [[ইয়াহিয়া খান|আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান]] সেনাবাহিনীকে দেশের পূর্ব অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনর্প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন, যার ফলে কার্যত গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটে।<ref name=":1" /> যুদ্ধের ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://indianexpress.com/article/research/refugees-in-india-partition-bangladesh-war-tibet-occupation-sri-lankan-tamils-rohingyas-mynamar-world-refugee-day-five-human-influxes-that-have-shaped-india-2864449/|শিরোনাম=World Refugee Day: Five human influxes that have shaped India|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=বিশ্ব শরণার্থী দিবস: শরণার্থীর পাঁচটি প্রবাহ, যা ভারতকে রূপ দিয়েছে|তারিখ=২০ জুন ২০১৬|কর্ম=দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://content.time.com/time/magazine/article/0,9171,910155-2,00.html|শিরোনাম=The World: India and Pakistan: Over the Edge|ভাষা=ইংরেজি|তারিখ=১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১|কর্ম=টাইম|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110523003701/http://www.time.com/time/magazine/article/0%2C9171%2C910155-2%2C00.html|আর্কাইভের-তারিখ=২৩ মে ২০১১|issn=0040-781X}}</ref> ভারতের [[পূর্ব ভারত|পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে]] শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।<ref name="report">''ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া – এ রিপোর্ট'', শরণার্থীদের সমস্যা ও তাদের পুনর্বাসনে তদন্তকারী দলের প্রতি সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির প্রতিবেদন; সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির নিকট দাখিলকৃত, ১ নভেম্বর ১৯৭১, ইউএস গভর্নমেন্ট প্রেস, পৃষ্ঠা ৬–৭।</ref> ক্রমবর্ধমান মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ভারত [[মুক্তিবাহিনী|মুক্তিবাহিনীর]] সহযোগিতায় ও এর গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকে। | |||
=== দেশভাগ === | |||
{{মূল নিবন্ধ|ভারত বিভাজন}} | |||
[[চিত্র:Partition of India 1947-bn.svg|থাম্ব|220px|১৯৪৭ এর দেশভাগ ও পরবর্তীকালে দুই রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অন্তর্ভুক্তিকরণ]] | |||
=== রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক === | |||
{{মূল নিবন্ধ|বাংলা ভাষা আন্দোলন}} | |||
[[চিত্র:1952 Bengali Language movement.jpg|থাম্ব|220px|১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি রাষ্ট্রভাষার প্রশ্নে ঢাকায় আয়োজিত মিছিল]] | |||
১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে [[পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল]] [[মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ]] ঘোষণা করেন যে: | |||
{{উক্তি ২ | |||
|“....প্রদেশের ভাষা (দাপ্তরিক ভাষা) কী হবে তা সম্পূর্ণভাবে তোমাদের, প্রদেশের মানুষের সিদ্ধান্ত। কিন্তু আমি পরিষ্কারভাবে বলে দিতে চাই যে, উর্দুই হতে যাচ্ছে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা, অন্য কোন ভাষা নয়।”<ref>{{বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি|অধ্যায়=ভাষা আন্দোলন|লেখক=বশীর আল হেলাল|সংগ্রহের তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> <br /><br />{{ছোট|— জাতীয় সংহতি: ঢাকায় তিন লক্ষের বেশি মানুষের উপস্থিতিতে জনসভায় কায়েদ-এ-আযমের ভাষণ <br /><br /> ২১শে মার্চ, ১৯৪৮}} | |||
| | |||
|“....But ultimately it is for you, the people of this province, to decide what shall be the language of your province. But let me make it very clear to you that the State Language of Pakistan is going to be Urdu and no other language.”<ref>{{বই উদ্ধৃতি |শেষাংশ=রহমান |প্রথমাংশ=হাসান হাফিজুর |বছর= নভেম্বর ১৯৮২ |শিরোনাম=বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ : দলিলপত্র (প্রথম খন্ড) |প্রকাশক= তথ্য মন্ত্রণালয় |পাতা= ৭৯-৮৫ |আইএসবিএন= |লেখক-সংযোগ= হাসান হাফিজুর রহমান }}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=2BKzbHnFTfEC&pg=PA158|শিরোনাম=সোশিওলিঙ্গুইস্টিকস অ্যান্ড ল্যাঙ্গুয়েজ এডুকেশন|শেষাংশ১=হর্নবার্জার|প্রথমাংশ১=ন্যান্সি এইচ.|শেষাংশ২=ম্যাককে|প্রথমাংশ২=সান্দ্রা লি|বছর=২০১০|প্রকাশক=মাল্টিলিঙ্গুয়াল ম্যাটার্স|আইএসবিএন=9781847694010|পৃষ্ঠা=১৫৮|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> | |||
<br /><br />{{ছোট|— National Consolidation: Speech of Quaid-e-Azam at a public meeting attended by over three lakhs of people at Dacca on March 21, 1948}} | |||
|ভাষা= en|ভাষা২= bn}} | |||
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাঙালিরা এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানায়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দু শুধুমাত্র [[ভারতীয় উপমহাদেশ|ভারতীয় উপমহাদেশের]] উত্তর, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত ছিল। অন্যদিকে উপমহাদেশের পূর্ব অংশের মানুষের প্রধান ভাষা ছিল [[বাংলা ভাষা|বাংলা]]।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.soas.ac.uk/languagecentre/languages/bengali/|শিরোনাম=SOAS Language Centre – Bengali Language Courses|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=সোয়াস.এসি.ইউকে}}</ref> পাকিস্তানের ৫৬% জনসংখ্যার মাতৃভাষা ছিল বাংলা।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Language Movement paved way for independence: Hasina|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=ভাষা আন্দোলনের পথ বেয়েই এসেছে স্বাধীনতা: হাসিনা|ইউআরএল=https://m.bdnews24.com/en/detail/bangladesh/1861277|সংবাদপত্র=[[বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম]]|তারিখ=২০ ফেব্রুয়ারি ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=১২ মার্চ ২০২১|আর্কাইভের-তারিখ=২১ মার্চ ২০২১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20210321044430/https://m.bdnews24.com/en/detail/bangladesh/1861277|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=From Dhaka to fall of Dhaka|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=ঢাকা থেকে ঢাকার পতন|ইউআরএল=https://www.thenews.com.pk/amp/405968-from-dhaka-to-fall-of-dhaka|সংগ্রহের-তারিখ=১২ মার্চ ২০২১|তারিখ=১৫ ডিসেম্বর ২০১৮|সংবাদপত্র=দ্য নিউজ (পাকিস্তান)|প্রথমাংশ=ওয়াজিদ শামসুল|শেষাংশ=হাসান}}</ref> পাকিস্তান সরকারের এই পদক্ষেপ পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি বৈষম্য হিসেবে দেখা হতে থাকে। পূর্ব বাংলার মানুষ উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানাতে থাকে। ব্রিটিশ ভারতের সময় থেকে মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা লেখা থাকলেও, পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা লেখা না থাকায় বাঙালিরা এর প্রতিবাদ জানায়। এর মাধ্যমে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দেই [[বাংলা ভাষা আন্দোলন|বাংলা ভাষা আন্দোলনের]] সূচনা ঘটে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন তীব্র রূপ লাভ করে। এদিন বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ কয়েকজন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। তীব্র আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি [[ভাষা আন্দোলন দিবস|শহীদ দিবস]] হিসেবে পালিত হয়। পরবর্তীতে, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের [[জাতিসংঘ শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা|শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা]] (ইউনেস্কো) ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারির শহিদদের স্মরণে দিনটিকে [[আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস]] হিসেবে ঘোষণা করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=International Mother Language Day|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.un.org/en/events/motherlanguageday/|ওয়েবসাইট=জাতিসংঘ|সংগ্রহের-তারিখ=১৯ ফেব্রুয়ারি ২০১৬}}</ref> | |||
=== বৈষম্য === | |||
পাকিস্তানের পূর্ব অংশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থাকলেও, দ্বিধাবিভক্ত দেশটিতে পশ্চিম অংশ রাজনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছিল; এমনকি পাকিস্তানের মোট অর্থবরাদ্দ থেকেও পশ্চিম অংশ বেশি অর্থ পাচ্ছিল। | |||
{| class="wikitable" style="margin:0 auto; width:550px;text-align:center;" | |||
!width=16%| বছর | |||
!width=28%| পশ্চিম পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (মিলিয়ন [[পাকিস্তানি রুপি|রুপিতে]]) | |||
!width=28%| পূর্ব পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (মিলিয়ন রুপিতে) | |||
!width=28%| পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (শতকরা হিসাবে) | |||
|- | |||
| ১৯৫০–৫৫ || style="text-align:right;"| ১১,২৯০ || style="text-align:right;"| ৫,২৪০ || style="text-align:right;"| ৪৬.৪ | |||
|- | |||
| ১৯৫৫–৬০ || style="text-align:right;"| ১৬,৫৫০ || style="text-align:right;"| ৫,২৪০ || style="text-align:right;"| ৩১.৭ | |||
|- | |||
| ১৯৬০–৬৫ || style="text-align:right;"| ৩৩,৫৫০ ||align="right"| ১৪,০৪০ || style="text-align:right;"| ৪১.৮ | |||
|- | |||
| ১৯৬৫–৭০ ||align="right"| ৫১,৯৫০ ||align="right"| ২১,৪১০ || style="text-align:right;"| ৪১.২ | |||
|- | |||
| '''মোট''' ||align="right"| '''১,১৩,৩৪০''' ||align="right"| '''৪৫,৯৩০''' || style="text-align:right;"| '''৪০.৫''' | |||
|- | |||
| colspan="4" | {{ছোট|''উৎস: ১৯৭০-৭৫ অর্থবছরের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য উপদেষ্টা প্যানেলসমূহের প্রতিবেদনমালা, প্রথম খণ্ড,<br />পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত।''}} | |||
|} | |||
[[পাকিস্তান আন্দোলন|পাকিস্তান সৃষ্টির]] আগে থেকেই পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ছিল। পাকিস্তান শাসনামলে এই অনগ্রসরতা আরও বৃদ্ধি পায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাকৃত রাষ্ট্রীয় বৈষম্যই কেবলমাত্র এর পেছনে দায়ী ছিল না। পশ্চিম অংশে দেশের রাজধানী, দেশভাগের ফলে সেখানে অভিবাসী ব্যবসায়ীদের সংখ্যাধিক্য প্রভৃতিও পশ্চিম পাকিস্তানে সরকারের অধিক বরাদ্দকে প্রভাবিত করেছিল। বিনিয়োগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভাব, শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভৃতি কারণেও পূর্ব পাকিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নগর শিল্পের দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল, যা পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।<ref name="Willem van Schendel 136">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=ভিলেম ভ্যান শেনডেল|শিরোনাম=অ্যা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=7Y2bBQAAQBAJ|বছর=২০০৯|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=978-0-511-99741-9|পৃষ্ঠা=১৩৬}}</ref> ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের ৭০% এসেছিল পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি থেকে; তাসত্ত্বেও, পূর্ব পাকিস্তান উক্ত অর্থের মাত্র ২৫% বরাদ্দ পেয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প প্রতিষ্ঠান কমতে থাকে, অথবা পশ্চিমে স্থানান্তরিত হতে থাকে। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তানে ১১টি পোশাক কারখানা ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল নয়টি। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিম অংশে পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০টিতে, যেখানে পূর্ব অংশের কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ২৬টিতে। পাশাপাশি, এই সময়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার মূল্যমানের সম্পদ পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়ে যায়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রাজ্জাক রহমান|প্রথমাংশ=আলবুরুজ|শিরোনাম=Bangladesh Liberation War, 1971|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://www.astronomy.ohio-state.edu/~nahar/cv/bdliberation-essay8.pdf|সংগ্রহের-তারিখ=২ নভেম্বর ২০২০|অবস্থান=মেট্রো হাই স্কুল, কলম্বাস, ওহাইয়ো}}</ref> | |||
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা সংখ্যালঘু ছিল। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় বাঙালি বংশোদ্ভূত অফিসার ছিলেন মাত্র ৫%। এর মধ্যেও কয়েকজনমাত্র কমান্ডে ছিলেন; বাকিরা ছিলেন কারিগরি কিংবা প্রশাসনিক পদে।<ref name="Library">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://memory.loc.gov/cgi-bin/query/r?frd/cstdy:@field(DOCID+bd0139)|শিরোনাম=Library of Congress studies|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=মেমোরি.এলওসি.জিওভি|তারিখ=১ জুলাই ১৯৪৭|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১}}</ref> পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের “দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক” মনে করত।<ref name="বিবিসি৫০-বৈষম্য">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=স্বাধীনতার ৫০ বছর: যে বৈষম্যের কারণে বাঙালিরা পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-55803132|প্রকাশক=বিবিসি বাংলা|তারিখ=১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ মার্চ ২০২১|প্রথমাংশ=শাকিল|শেষাংশ=আনোয়ার}}</ref> তারা ভাবত, [[পাঞ্জাবি জাতি|পাঞ্জাবি]] ও [[পশতুন জাতি|পাঠানদের]] মতো বাঙালিদের লড়াই করার ক্ষমতা নেই।<ref name="বিবিসি৫০-বৈষম্য" /> “[[যোদ্ধা জাতি]]” বা “মার্শাল রেস”-এর জাতিগত যোগ্যতার বিষয়টি বাঙালিরা হাস্যকর ও অপমানজনক বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।<ref name="Library" /> তদুপরি, বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তান ক্রয়, চুক্তি ও সামরিক সহায়তামূলক চাকরির মতো কোনও সুবিধা পাচ্ছিল না। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে [[কাশ্মীর]] নিয়ে সংঘটিত [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৬৫|পাক-ভারত যুদ্ধে]] পূর্ব পাকিস্তানিরা সামরিকভাবে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে। যুদ্ধের সময় ভারতীয় আক্রমণ ঠেকানোর জন্য একমাত্র নিম্নশক্তিসম্পন্ন [[পদাতিক]] বিভাগ বিদ্যমান ছিল। এছাড়া ১৫টি [[যুদ্ধবিমান|কমব্যাট যুদ্ধবিমান]] কোন ট্যাঙ্কের সমর্থন ছাড়াই অনিরাপদভাবে পূর্ব পাকিস্তানে রাখা ছিল।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.defencejournal.com/2002/dec/demons.htm|শিরোনাম=Demons of December – Road from East Pakistan to Bangladesh|ওয়েবসাইট=ডিফেন্সজার্নাল.কম|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110609122558/http://www.defencejournal.com/2002/dec/demons.htm|আর্কাইভের-তারিখ=৯ জুন ২০১১|ইউআরএল-অবস্থা=live}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=রওনক|শেষাংশ=জাহান|লেখক-সংযোগ=রওনক জাহান|শিরোনাম=পাকিস্তান: ফেইলিউর ইন ন্যাশনাল ইন্টিগ্রেশন|ইউআরএল=https://archive.org/details/pakistanfailurei0000jaha|প্রকাশক=কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি প্রেস|বছর=১৯৭২|পৃষ্ঠা=১৬৬–১৬৭|আইএসবিএন=978-0-231-03625-2}}</ref> ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত এতটাই অরক্ষিত ছিল যে, ভারত চাইলে খুব সহজেই, প্রায় বিনা বাধায় পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতে পারতো। এ ঘটনায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ধরে নিয়েছিল যে, পাকিস্তানিরা শাসকেরা দেশের পূর্ব অংশের চেয়ে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেয়; এমনকি কাশ্মীরকে পাওয়ার জন্য তারা পূর্ব পাকিস্তানকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে কিংবা হাতছাড়া করতেও রাজি আছে।{{সূত্র প্রয়োজন}} | |||
=== আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য === | |||
[[চিত্র:Shaheed minar Roehl.jpg|থাম্ব|220px|কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার]] | |||
১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতভাগের সময় পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগণ পাকিস্তানের ইসলামি ভাবমূর্তির সাথে একাত্মতা অনুভব করে। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর, পূর্ব বাংলার জনগণ ক্রমে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের মূলনীতিগুলোকে পূর্ব বাংলার সার্বজনীন নাগরিক তথা রাজনৈতিক অধিকার এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক বলে অনুভব করতে থাকে{{তথ্যসূত্র প্রয়োজন|date=মে ২০২৩}} এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পূর্ব পাকিস্তানিরা তাদের মুসলমান পরিচয়ের চেয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বার পরিচয়কে অধিক গুরুত্ব দিতে থাকে।{{তথ্যসূত্র প্রয়োজন|date=মে ২০২৩}} তারা পাকিস্তানের ধর্মীয় ভাবধারার বিপরীতে [[ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ|ধর্মনিরপেক্ষতা]], [[গণতন্ত্র]] ও [[সমাজতন্ত্র]] প্রভৃতি পাশ্চাত্য মূলনীতির সমন্বয়ে একটি সমাজ কামনা করতে থাকে।<ref name="Willem van Schendel 183">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=উইলেম ভ্যান শেনডেল|শিরোনাম=অ্যা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=7Y2bBQAAQBAJ|বছর=২০০৯|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=978-0-511-99741-9|পৃষ্ঠা=১৮৩}}</ref> অনেক বাঙালি মুসলমান পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া ইসলামি ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানায়।<ref name="Haqqani2010">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=nYppZ_dEjdIC&pg=PA19|শিরোনাম=পাকিস্তান: বিটুইন মস্ক অ্যান্ড মিলিটারি|বছর=২০১০|প্রকাশক=কার্নেগী এন্ডোমেন্ট|আইএসবিএন=978-0-87003-285-1|পৃষ্ঠা=১৯–|লেখক=হুসেইন হাক্কানি|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> পাকিস্তানের অভিজাত শাসকশ্রেণির অধিকাংশও উদারপন্থী সমাজব্যবস্থার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্ম ও বহুমাত্রিক আঞ্চলিক পরিচয়কে একক জাতীয় পরিচয়ে রূপান্তরের জন্য সাধারণ মুসলমান পরিচয়কে তারা প্রধান নিয়ামক বলে মনে করতেন।<ref name="Haqqani2010" /> পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসীরা পূর্ব পাকিস্তানিদের তুলনায় পাকিস্তানের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অধিক আস্থাশীল ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের পরও তাদের সেই আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।<ref name="Baxter 1997 70">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=বাক্সটার|প্রথমাংশ=ক্রেইগ|বছর=১৯৯৭|শিরোনাম=বাংলাদেশ: ফ্রম অ্যা ন্যাশন টু অ্যা স্টেট|ইউআরএল=https://archive.org/details/bangladeshfromna0000unse|প্রকাশক=ওয়েস্টভিউ প্রেস|পৃষ্ঠা=৭০|আইএসবিএন=978-0-813-33632-9}}</ref> | |||
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্য পাকিস্তানের ধর্মীয় ঐক্যের গুরুত্বকে ছাপিয়ে যায়। বাঙালিরা তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, [[বাংলা লিপি|বর্ণমালা]] ও [[বাংলা শব্দভাণ্ডার|শব্দসম্ভার]] নিয়ে গর্ববোধ করত। পাকিস্তানের অভিজাত শ্রেণির ধারণা ছিল, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে হিন্দুয়ানির প্রভাব লক্ষণীয়। এই কারণে তাদের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা ছিল না।<ref name="Willem van Schendel 183" /><ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=gK3d627xESAC&pg=PA24|শিরোনাম=মিলিটারি ইন্টারভেনশন অ্যান্ড সেকেশন ইন সাউথ এশিয়া: দ্য কেইসেস অব বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, কাশ্মীর, অ্যান্ড পাঞ্জাব|ভাষা=ইংরেজি|লেখক=অ্যান নরোনহা দোস সান্তোস|বছর=২০০৭|আইএসবিএন=9780275999490|পৃষ্ঠা=২৪}}</ref> পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের ইসলামিকীকরণের উদ্যোগ হিসেবে চাইছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরাও উর্দুকে তাদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করুক।<ref name="Willem van Schendel 183" /> কিন্তু ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির সপক্ষে একটি আবেগের জন্ম দেয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=উইলেম ভ্যান শেনডেল|শিরোনাম=অ্যা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=7Y2bBQAAQBAJ|বছর=২০০৯|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=978-0-511-99741-9|পৃষ্ঠা=১১৪}}</ref> এরই মাঝে আওয়ামী লীগ নিজস্ব প্রচারপত্রের মাধ্যমে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে সংগঠনটির [[ধর্মনিরপেক্ষতাবাদ|ধর্মনিরপেক্ষতার]] বার্তা প্রচার করতে শুরু করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=উইলেম ভ্যান শেনডেল|শিরোনাম=অ্যা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=7Y2bBQAAQBAJ|বছর=২০০৯|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=978-0-511-99741-9|পৃষ্ঠা=১১৭}}</ref> | |||
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি গুরুত্বারোপ আওয়ামী লীগকে মুসলিম লীগ থেকে পৃথক করে দেয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=ক্রেইগ বাক্সটার|শিরোনাম=বাংলাদেশ: ফ্রম অ্যা ন্যাশন টু অ্যা স্টেট|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=FJdNDwAAQBAJ&pg=PT97|বছর=২০১৮|প্রকাশক=টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস|আইএসবিএন=978-0-813-33632-9|পৃষ্ঠা=৮৮–}}</ref> ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মনিরপেক্ষ নেতারাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে পরিচালনা করেন।<ref name=":0">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=NsrfCgAAQBAJ&pg=PA168|শিরোনাম=পাকিস্তান: ফ্রম দ্য রিটোরিক অব ডেমোক্রেসি টু দ্য রাইজ অব মিলিটেন্সি|প্রকাশক=রুটলেক|বছর=২০১২|ভাষা=ইংরেজি|আইএসবিএন=9781136516412|পৃষ্ঠা=১৯৬৮}}</ref> ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা বাংলাদেশের বিজয়কে ধর্মকেন্দ্রিক পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।<ref name="RiazRahman2016">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=nC9-CwAAQBAJ&pg=PA46|শিরোনাম=রুটলেজ হ্যান্ডবুক অব কনটেম্পোরারি বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|বছর=২০১৬|প্রকাশক=রুটলেজ|আইএসবিএন=978-1-317-30877-5|পৃষ্ঠা=৪৬–|লেখক১=আলী রিয়াজ|লেখক২=মোহাম্মদ সাজ্জাদুর রহমান}}</ref> একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, যেখানে পাকিস্তান সরকার তখনও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় হিমশিম খাচ্ছিল।<ref name="Baxter 1997 70" /> স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে<ref name="Baxter2018">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=ক্রেইগ বাক্সটার|শিরোনাম=বাংলাদেশ: ফ্রম অ্যা ন্যাশন টু অ্যা স্টেট|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=FJdNDwAAQBAJ&pg=PT10|বছর=২০১৮|প্রকাশক=টেইলর অ্যান্ড ফ্রান্সিস|আইএসবিএন=978-0-813-33632-9|পৃষ্ঠা=xiii}}</ref> এবং পাকিস্তানপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=উইলেম ভ্যান শেনডেল|শিরোনাম=অ্যা হিস্ট্রি অব বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=7Y2bBQAAQBAJ|বছর=২০০৯|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|আইএসবিএন=978-0-511-99741-9|পৃষ্ঠা=১৭৫}}</ref> পূর্ব পাকিস্তানের [[ওলামা|উলামাবৃন্দ]] পাকিস্তানের ভাঙনকে ইসলামের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে দেখতেন। তাই স্বাধীনতার প্রশ্নে হয় তারা নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেছেন, অন্যথায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন।<ref name="Ahmed1998">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=ইশতিয়াক আহমেদ|শিরোনাম=স্টেট, নেশন অ্যান্ড এথনিসিটি ইন কনটেম্পোরারি সাউথ এশিয়া|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=czSm7cmhgA0C&pg=PA223|বছর=১৯৯৮|প্রকাশক=এঅ্যান্ডসি ব্ল্যাক|আইএসবিএন=978-1-85567-578-0|পৃষ্ঠা=২২৩–}}</ref> | |||
=== রাজনৈতিক পার্থক্য === | |||
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও<ref name="pop">{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=দ্য পলিটিকাল সিস্টেম অব পাকিস্তান|প্রথমাংশ=খালিদ বি.|শেষাংশ=সায়িদ|প্রকাশক=হাফটন মাফলিন|বছর=১৯৬৭|ভাষা=ইংরেজি|পৃষ্ঠা=৬১}}</ref> দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তান কুক্ষিগত করে রাখে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষমতার বণ্টন পূর্ব পাকিস্তানের অনুকূলে যাওয়ায় “[[এক ইউনিট ব্যবস্থা|এক ইউনিট]]” নামে একটি অভিনব ধারণার সূত্রপাত করে, যেখানে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তান একটিমাত্র প্রশাসনিক একক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের ভোটের ভারসাম্য আনা। | |||
১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী [[লিয়াকত আলি খান|লিয়াকত আলি খানের]] হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষমতা [[পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল|গভর্নর জেনারেল]], [[পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি|রাষ্ট্রপতি]] ও পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর হাতে স্থানান্তরিত হয়। রাষ্ট্রপতি চালিত কেন্দ্রীয় সরকার নামেমাত্র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের প্রধান নির্বাহীদের পদচ্যুত করতে থাকে। | |||
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রত্যক্ষ করে যে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন সময়ে [[খাজা নাজিমুদ্দিন]], [[মোহাম্মদ আলী বগুড়া]], [[হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী]] প্রমুখ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও, পশ্চিম পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের বিভিন্ন অজুহাতে পদচ্যুত করতে থাকে।{{তথ্যসূত্র প্রয়োজন|date=মে ২০২৩}} পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসনের নামে ষড়যন্ত্র শুরু হয়; আর এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সামরিক বাহিনী। নানা টালবাহানার পর ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানি দুই স্বৈরশাসক [[আইয়ুব খান]] (২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ – ২৫ মার্চ ১৯৬৯) ও [[ইয়াহিয়া খান|ইয়াহিয়া খানের]] আমলে (২৫ মার্চ ১৯৬৯ – ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১) সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের এই অনৈতিক ক্ষমতা দখল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েই চলে। | |||
=== ১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিক্রিয়া === | |||
{{মূল নিবন্ধ|১৯৭০ ভোলা ঘূর্ণিঝড়}} | |||
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই নভেম্বর বিকেলে একটি প্রলয়ঙ্করী [[১৯৭০ ভোলা ঘূর্ণিঝড়|ঘূর্ণিঝড়]] পূর্ব পাকিস্তানের [[ভোলা দ্বীপ|ভোলা উপকূলে]] আঘাত হানে। স্থানীয় জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হানার সময় যুগপৎ হওয়ায়<ref name="IMD">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://docs.lib.noaa.gov/rescue/cd024_pdf/005ED281.pdf#page=10|শিরোনাম=Annual Summary – Storms & Depressions – India Weather Review|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=ভারতীয় আবহাওয়া বিভাগ|বছর=১৯৭০|সংগ্রহের-তারিখ=১৫ এপ্রিল ২০০৭|বিন্যাস=পিডিএফ|পৃষ্ঠা=১০–১১|আর্কাইভের-তারিখ=৬ অক্টোবর ২০১৭|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20171006111905/https://docs.lib.noaa.gov/rescue/cd024_pdf/005ED281.pdf#page=10|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ঘূর্ণিঝড়ে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা জানা না গেলেও, এই ঘূর্ণিঝড়কে ইতিহাসের ভয়াবহতম [[ক্রান্তীয় ঘূর্ণিঝড়|ঘূর্ণিঝড়]] হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.fao.org/docrep/010/ag127e/ag127e07.htm|শিরোনাম=Thematic paper: Role of forests and trees in protecting coastal areas against cyclones|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ১=ফ্রিৎজ|প্রথমাংশ১=হারম্যান এম.|শেষাংশ২=ব্লাউন্ট|প্রথমাংশ২=ক্রিস|কর্ম=Coastal protection in the aftermath of the Indian Ocean tsunami: What role for forests and trees?|প্রকাশক=বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়|ইউআরএল-অবস্থা=live|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20141129050856/http://www.fao.org/docrep/010/ag127e/AG127E07.htm|আর্কাইভের-তারিখ=২৯ নভেম্বর ২০১৪|সংগ্রহের-তারিখ=২৭ জুলাই ২০১৫}}</ref> ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণকার্যে গড়িমসি করতে থাকে। এতে খাবার ও পানির অভাবে অনেক মানুষ মারা যায়। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান স্বীকার করেন যে, সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে না পারার কারণেই ত্রাণকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।<ref name="NYT-6">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Yahya Condedes 'Slips' In Relief|ভাষা=ইংরেজি|প্রথমাংশ=সিডনি|শেষাংশ=শ্যানবার্গ|লেখক-সংযোগ=সিডনি শ্যানবার্গ|কর্ম=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|তারিখ=২২ নভেম্বর ১৯৭০}}</ref> | |||
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার দশ দিন পর পূর্ব পাকিস্তানের এগারো নেতার বিবৃতিতে প্রাণহানির জন্য সরকারের প্রতি “অপরাধমূলক অবহেলা ও বৈষম্য এবং সচেতনভাবে মানুষ মারার” অভিযোগ করা হয়। তারা সংবাদে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা প্রচার না করার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করেন।<ref name="NYT-10">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=East Pakistani Leaders Assail Yahya on Cyclone Relief|ভাষা=ইংরেজি|এজেন্সি=রয়টার্স|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|তারিখ=২৩ নভেম্বর ১৯৭০}}</ref> সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ ছাত্ররা ১৯শে নভেম্বর ঢাকায় মিছিল করেন।<ref name="NYT-13">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Copter Shortage Balks Cyclone Aid|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|তারিখ=১৮ নভেম্বর ১৯৭০}}</ref> ২৪শে নভেম্বর [[আবদুল হামিদ খান ভাসানী]] প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং রাষ্ট্রপতির অক্ষমতার অভিযোগ তোলেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান। | |||
মার্চ থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় ত্রাণকার্যে জড়িত ঢাকার দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠান অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ছিল। প্রথমবার [[হরতাল]] ডাকায় সাময়িক বন্ধ থাকার পর, আওয়ামী লীগের ডাকা অসহযোগে ত্রাণকার্য আরও বিলম্বিত হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ক্রমান্বয়ে ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত স্থান থেকে বিদেশি কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে ত্রাণকার্য সচল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে তা সীমিত হয়ে পড়ে।<ref name="NYT-12">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ডার্ডিন|প্রথমাংশ=টিলম্যান|তারিখ=১১ মার্চ ১৯৭১|শিরোনাম=Pakistanis Crisis Virtually Halts Rehabilitation Work in Cyclone Region|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|পৃষ্ঠা=২}}</ref> এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ভোলা ঘূর্ণিঝড়কে “পাকিস্তানের প্রতি বাঙালিদের বিশ্বাসে কফিনে শেষ পেরেক” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।<ref name="USAID">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.usaid.gov/our_work/humanitarian_assistance/disaster_assistance/publications/ofda_cjanalysis_02_21-2005.pdf|সংগ্রহের-তারিখ=১৫ এপ্রিল ২০০৭|তারিখ=২১ ফেব্রুয়ারি ২০০৫|শিরোনাম=A Critical Juncture Analysis, 1964–2003|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ=ওলসন|প্রথমাংশ=রিচার্ড|প্রকাশক=ইউএসএআইডি|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070414002649/http://www.usaid.gov/our_work/humanitarian_assistance/disaster_assistance/publications/ofda_cjanalysis_02_21-2005.pdf|বিন্যাস=পিডিএফ|আর্কাইভের-তারিখ=১৪ এপ্রিল ২০০৭|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref> | |||
=== ১৯৭০-এর নির্বাচন === | |||
[[চিত্র:Sheikh Mujibur Rahman in 1950.jpg|থাম্ব|upright|[[শেখ মুজিবুর রহমান]], পূর্ব পাকিস্তান ও পরবর্তীকালে বাংলাদেশের নেতা]] | |||
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে [[শেখ মুজিবুর রহমান|শেখ মুজিবুর রহমানের]] নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল [[বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ|আওয়ামী লীগ]] নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত নাটকীয়তা লাভ করে। দলটি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনেই বিজয়ী হয়। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো আসন না পেয়েও আওয়ামী লীগ ৩১৩ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার লাভ করে। কিন্তু নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল [[পাকিস্তান পিপলস্ পার্টি|পাকিস্তান পিপলস পার্টির]] নেতা [[জুলফিকার আলী ভুট্টো]] (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) শেখ মুজিবের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা করেন।<ref name="Hassan 2000 p. 393">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হাসান|প্রথমাংশ=মুবাশির হাসান|লেখক-সংযোগ=মুবাশির হাসান|শিরোনাম=দ্য মিরেজ অব পাওয়ার|অবস্থান=অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়|প্রকাশক=অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস|বছর=২০০০|অধ্যায়=§জুলফিকার আলী ভুট্টো: অল পাওয়ার টু পিপল! ডেমোক্রেসি অ্যান্ড সোশালিজম টু পিপল!|পৃষ্ঠা=৫০–৯০|আইএসবিএন=978-0-19-579300-0}}</ref> এর পরিবর্তে তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের জন্য দুইজন প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব করেন। “এক ইউনিট কাঠামো” নিয়ে ক্ষুব্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে এরূপ অভিনব প্রস্তাব নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করে। ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানের [[ছয় দফা আন্দোলন|ছয় দফা]] প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। ৩রা মার্চ রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খানসহ দুই প্রদেশের দুই নেতা দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনায় কোনো সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় শেখ মুজিবুর রহমান দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেন এবং [[অসহযোগ আন্দোলন (১৯৭১)|অসহযোগ আন্দোলনের]] ডাক দেন। ভুট্টো গৃহযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, ফলস্বরূপ তিনি তার বিশ্বস্ত সঙ্গী [[মুবাশির হাসান]]কে পাঠান।<ref name="Hassan 2000 p. 393" /> ভুট্টোর পক্ষ থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান ভুট্টোর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।<ref name="Hassan 2000 p. 393" /> ভুট্টোর ঢাকায় আগমনের পর শেখ মুজিবুর রহমান তার সাথে দেখা করেন। এই সময়ে শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী ও ভুট্টোকে রাষ্ট্রপতি করে সম্মিলিত সরকার গঠনে দুজনেই সম্মত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।<ref name="Hassan 2000 p. 393" /> কিন্তু ৫ই মার্চ প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে শেখ মুজিব তা অস্বীকার করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/muktijuddho-50/diary-1971/%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%8B%E0%A6%AD|শিরোনাম=টানা আন্দোলনের চতুর্থ দিন, মৃত্যু ছাপিয়ে ক্ষোভ|শেষাংশ=রহমান|প্রথমাংশ=রাশেদুর|সংবাদপত্র=প্রথম আলো|তারিখ=৫ মার্চ ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ মার্চ ২০২১|আর্কাইভের-তারিখ=২১ মার্চ ২০২১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20210321044405/https://www.prothomalo.com/muktijuddho-50/diary-1971/%E0%A6%9F%E0%A6%BE%E0%A6%A8%E0%A6%BE-%E0%A6%86%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%BE%E0%A6%B2%E0%A6%A8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%9A%E0%A6%A4%E0%A7%81%E0%A6%B0%E0%A7%8D%E0%A6%A5-%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A7%81-%E0%A6%9B%E0%A6%BE%E0%A6%AA%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A7%87-%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%8B%E0%A6%AD|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> তবে সেনাবাহিনী এসব ব্যাপারে অজ্ঞাত ছিল এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য ভুট্টো রহমানের উপর চাপ বৃদ্ধি করেন।<ref name="Hassan 2000 p. 393" /> | |||
[[চিত্র:৭ই মার্চে রেসকোর্সে ময়দানে ঐতিহাসিক ভাষণ দিচ্ছেন শেখ মুজিবুর রহমান.jpg|থাম্ব|220px|৭ই মার্চ রেসকোর্স ময়দানে শেখ মুজিবুর রহমানের ভাষণ]] | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে [[সোহরাওয়ার্দী উদ্যান|সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান]]) এক [[সাতই মার্চের ভাষণ|ঐতিহাসিক ভাষণ]] প্রদান করেন। ভাষণে তিনি ২৫ মার্চের অধিবেশনের পূর্বেই বাস্তবায়নের জন্য আরও চার দফা দাবি পেশ করেন: | |||
* অবিলম্বে [[সামরিক শাসন|সামরিক আইন]] প্রত্যাহার করতে হবে; | |||
* অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে; | |||
* গণহত্যার তদন্ত করতে হবে; | |||
* নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। | |||
শেখ মুজিব তার ভাষণে বাংলার “ঘরে ঘরে দুর্গ” গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ভাষণের শেষে শেখ মুজিব বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই ভাষণটিই মূলত বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে। | |||
=== মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক === | |||
[[ইয়াহিয়া খান]] ঢাকায় এসে শেখ মুজিবের সঙ্গে সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেন। কিন্তু একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে সশস্ত্র অভিযান চালানোর পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ১০ থেকে ১৩ তারিখ [[পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স]] পূর্ব পাকিস্তানে “সরকারি যাত্রী” বহনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাদের সমস্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এই “সরকারি যাত্রী”রা ছিলেন মূলত সাদা পোশাকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠানের জন্য জেনারেল [[টিক্কা খান|টিক্কা খানকে]] ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বিচারপতি সিদ্দিকসহ পূর্ব পাকিস্তানের কোনো বিচারপতি তার শপথ পাঠ করাতে রাজি হননি। পাকিস্তান নৌবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ বোঝাই জাহাজ এমভি ''সোয়াত'' [[চট্টগ্রাম বন্দর|চট্টগ্রাম বন্দরে]] পৌঁছায়। কিন্তু বন্দরের বাঙালি কর্মী ও নাবিকেরা জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করতে অস্বীকার করে। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের এক দল বাঙালি সৈন্য বিদ্রোহ শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করে। অনেক আশা সত্ত্বেও মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক সফল হয়নি। সুখরঞ্জন দাসগুপ্তের মতে, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের প্রধান চার নেতা পরিকল্পনা করেছিলেন যে, ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরপরই সংসদে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে বৈধ আইনগত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত করবেন। কিন্তু [[খন্দকার মোশতাক আহমেদ]] তা গোপনে ভুট্টোকে জানিয়ে দেন, যার কারণে ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তর না করে অপারেশন সার্চলাইটের গোপন পরিকল্পনা করতে থাকেন।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=দাসগুপ্ত|প্রথমাংশ১=সুখরঞ্জন|শিরোনাম=মুজিব হত্যার ষড়যন্ত্র|তারিখ=জুলাই ২০১৯|অবস্থান=ঢাকা|আইএসবিএন=978-984-91335-2-0|পাতা=৫৫|সংস্করণ=পরিমার্জিত দ্বিতীয়|ইউআরএল=https://ia800805.us.archive.org/22/items/Mujib-Killing-Conspiracy/মুজিব%20হত্যার%20ষড়যন্ত্র%20-%20সুখরঞ্জন%20দাশগুপ্ত.pdf|বিন্যাস=পিডিএফ}}</ref> ২৫শে মার্চ ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সশস্ত্র অপারেশনের গোপন সংকেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করেন। | |||
=== অপারেশন সার্চলাইট === | |||
{{মূল নিবন্ধ|অপারেশন সার্চলাইট}} | |||
{{multiple image | |||
| align = right | |||
| direction = vertical | |||
| image1 = March71.PNG | |||
| width1 = 220 | |||
| alt1 = অপারেশন সার্চলাইট - মানচিত্র ১ | |||
| caption1 = অপারেশন সার্চলাইটের সময় পূর্ব পাকিস্তানে বিভিন্ন সামরিক ইউনিটের অবস্থান | |||
| image2 = Operation Searchlight in Dhaka bn.svg | |||
| width2 = 220 | |||
| alt2 = অপারেশন সার্চলাইট - মানচিত্র ২ | |||
| caption2 = ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ ঢাকায় পাকিস্তানি বাহিনীর প্রধান প্রধান লক্ষ্যবস্তু | |||
}} | |||
[[বাঙালি জাতীয়তাবাদ|বাঙালি জাতীয়তাবাদী]] স্বাধিকার আন্দোলনকে অবদমিত করতে [[পাকিস্তান সেনাবাহিনী]] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে, যা ''[[অপারেশন সার্চলাইট]]'' নামে পরিচিত।<ref name="epw" /> অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ২৬শে মার্চের মধ্যে প্রধান প্রধান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিপক্ষদের নিশ্চিহ্ন করা।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সালিক|প্রথমাংশ=সিদ্দিক|শিরোনাম=উইটনেস টু সারেন্ডার|ভাষা=ইংরেজি|পৃষ্ঠা=৬৩, ২২৮–২২৯|আইএসবিএন=984-05-1373-7}}</ref> পাকিস্তান সরকার মার্চের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলমান [[বাংলাদেশে বিহারী নিপীড়ন|বিহারী-বিরোধী দাঙ্গা]] প্রশমনে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেছিল বলে দাবি করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=নেশনবিল্ডিং, জেন্ডার অ্যান্ড ওয়ার ক্রাইমস ইন সাউথ এশিয়া|শেষাংশ=ডি কস্তা|প্রথমাংশ=বীণা|প্রকাশক=রুটলেজ|ভাষা=ইংরেজি|বছর=২০১১|আইএসবিএন=9780415565660|পৃষ্ঠা=১০৩}}</ref> | |||
মে মাসের মাঝামাঝি বাঙালিদের হাত থেকে অধিকাংশ শহর দখল করার মাধ্যমে অপারেশন সার্চলাইটের প্রধান অংশের সমাপ্তি ঘটে। এই অপারেশনকে [[১৯৭১ বাংলাদেশে গণহত্যা|১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের গণহত্যার]] প্রারম্ভ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। এই নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা বাঙালিদের আরও ক্ষুব্ধ করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও প্রকাশিত গ্রন্থাবলিতে ঢাকায় গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ এবং সারাদেশে নিহতের সংখ্যা ২,০০,০০০ থেকে ৩০,০০,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://necrometrics.com/20c1m.htm#Bangladesh|শিরোনাম=Twentieth Century Atlas – Death Tolls|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=নেক্রোমেট্রিক্স.কম|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> তবে, ''[[ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল]]'' ও কয়েকজন স্বাধীনতা-গবেষক গণহত্যায় ১,২৫,০০০ থেকে ৫,০৫,০০০ জন নিহত হন বলে উল্লেখ করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ=বার্গম্যান|প্রথমাংশ=ডেভিড|শিরোনাম=Questioning an iconic number|ইউআরএল=http://www.thehindu.com/opinion/lead/questioning-an-iconic-number/article5940833.ece|সংগ্রহের-তারিখ=২৮ সেপ্টেম্বর ২০১৬|সংবাদপত্র=[[দ্য হিন্দু]]|তারিখ=২৪ এপ্রিল ২০১৪}}</ref> অন্যদিকে, মার্কিন [[রাষ্ট্রবিজ্ঞান|রাষ্ট্রবিজ্ঞানী]] [[রুডল্ফ রুমেল]] মোট মৃতের সংখ্যা ১৫ লক্ষ বলে উল্লেখ করেন।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রুমেল|প্রথমাংশ=রুডল্ফ|শিরোনাম=স্ট্যাটিস্টিক্স অব ডেমোসাইড: জেনোসাইড অ্যান্ড ম্যাস মার্ডার সিন্স ১৯০০|ইউআরএল=https://archive.org/details/statisticsofdemo0000rumm|অধ্যায়=অধ্যায় ৮: স্ট্যাটিস্টিক্স অব পাকিস্তান'স ডেমোসাইড এস্টিমেটস, ক্যালকুলেশনস, অ্যান্ড সোর্সেস|ভাষা=ইংরেজি|পৃষ্ঠা=৫৪৪|আইএসবিএন=978-3-8258-4010-5|উক্তি="...They also planned to indiscriminately murder hundreds of thousands of its Hindus and drive the rest into India. … This despicable and cutthroat plan was outright genocide'.|বছর=১৯৯৮}}</ref> পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে ব্যাপকভাবে “[[পরিকল্পিত গণহত্যা]]” বা “[[গণহত্যা]]” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। | |||
[[এশিয়া টাইমস|''এশিয়া টাইমসে''র]] ভাষ্য অনুযায়ী,<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.atimes.com/atimes/South_Asia/GF23Df04.html|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20050624014444/http://atimes.com/atimes/South_Asia/GF23Df04.html|ইউআরএল-অবস্থা=unfit|আর্কাইভের-তারিখ=২৪ জুন ২০০৫|সংবাদপত্র=এশিয়া টাইমস|শিরোনাম=Indians are bastards anyway|ভাষা=ইংরেজি|প্রথমাংশ=দেবাশীষ রায়|শেষাংশ=চৌধুরী|তারিখ=২৩ জুন ২০০৫}}</ref> | |||
{{উক্তি|সামরিক বাহিনীর বড় বড় কর্মকর্তাদের নিয়ে বৈঠকে ইয়াহিয়া খান ঘোষণা করেন, “ত্রিশ লক্ষ বাঙালিকে হত্যা করো, তখন দেখবে বাকিরা আমাদের হাত চেটে খাবে।” সেই পরিকল্পনা মতোই ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ''অপারেশন সার্চলাইট'' আরম্ভ করে, যার উদ্দেশ্য ছিল বাঙালিদের প্রতিরোধ গুঁড়িয়ে দেয়া। এর অংশ হিসেবেই সামরিক বাহিনীর বাঙালি সদস্যদের নিরস্ত্র করে হত্যা করা হয়, ছাত্র ও বুদ্ধিজীবীদের নিধন করা হয় এবং সমগ্র বাংলাদেশে সমর্থ পুরুষদের তুলে নিয়ে যাওয়া হয় ও গুলি করে হত্যা করা হয়।}} | |||
২৫শে মার্চের নৃশংসতার মূল কেন্দ্র ছিল প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা। বিশেষ করে [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] আবাসিক হলগুলোতে আক্রমণ চালানো হয়। সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল [[জগন্নাথ হল]] সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং হলের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ছাত্রকে হত্যা করে। সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করলেও, যুদ্ধপরবর্তীতে [[হামুদুর রহমান কমিশন]] সাব্যস্ত করে যে, সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। তৎকালীন [[বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়|পূর্ব পাকিস্তান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের]] (ইপুয়েট, বর্তমানে [[বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়|বুয়েট]]) অধ্যাপক নূরুল উলা জগন্নাথ হল ও এর আশেপাশের হলগুলোতে হত্যাযজ্ঞের চিত্র গোপনে ভিডিয়োটেপে ধারণ করেন।<ref name="nurullah">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মালিক|প্রথমাংশ=অমিতা|লেখক-সংযোগ=অমিতা মালিক|শিরোনাম=দ্য ইয়ার অব দ্য ভালচার|প্রকাশক=অরিয়েন্ট লংম্যান্স|অবস্থান=নয়াদিল্লি|বছর=১৯৭২|আইএসবিএন=978-0-8046-8817-8|পৃষ্ঠা=৭৯–৮৩}}</ref> এছাড়া ঢাকার বাইরেও গণহত্যা শুরু হয় এবং সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠীরা আতঙ্কে ভারতে শরণার্থী হতে থাকে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২রা আগস্ট ''টাইম'' সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, “হিন্দুরা ছিল মোট শরণার্থীদের তিন-চতুর্থাংশ; তারা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল।”{{cn}} | |||
অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পূর্বেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে সকল বিদেশি সাংবাদিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সিদ্দিকি|প্রথমাংশ=আসিফ|তারিখ=ডিসেম্বর ১৯৯৭|শিরোনাম=From Deterrence and Coercive Diplomacy to War: The 1971 Crisis in South Asia|ভাষা=ইংরেজি|সাময়িকী=জার্নাল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড এরিয়া স্টাডিজ|খণ্ড=৪|সংখ্যা নং=১|পৃষ্ঠা=৭৩–৯২|JSTOR=43106996}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=WHEN TANKS TOOK OVER THE TALKING: Troops Battle Rag-Tag Battle|ইউআরএল=http://www.docstrangelove.com/uploads/1971/foreign/19710329_theage_when_tanks_took_over_the_talking.pdf|সংগ্রহের-তারিখ=১ মার্চ ২০১৫|প্রথমাংশ=হাওয়ার্ড|শেষাংশ=হুইটেন|সংবাদপত্র=দ্য এইজ|তারিখ=২৯ মার্চ ১৯৭১|অবস্থান=মেলবোর্ন}}</ref> তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক [[সাইমন ড্রিং]] ঢাকায় অবস্থান করেন এবং [[দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট|ওয়াশিংটন পোস্টের]] মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে ২৫শে মার্চের গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন। এরপর<!-- কোন মাসে --> পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা তাদের পক্ষে সংবাদ পরিবেশনের জন্য আটজন সাংবাদিককে পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করে। তাদের অন্যতম [[অ্যান্থনি মাসকারেনহাস]] পূর্ব পাকিস্তান থেকে ফিরেই, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুন লন্ডনে পালিয়ে যান এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে সর্বপ্রথম গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র ''[[দ্য সানডে টাইমস|দ্য সানডে টাইমসে]]'' পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যা বিষয়ে সর্বপ্রথম সংবাদ ছাপা হয়। প্রতিবেদন সম্পর্কে [[ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন|বিবিসি]] লিখে: “এ বিষয়ে মোটামুটি নিঃসন্দেহ যে মাসকারেনহাসের প্রতিবেদনটি যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখে। এই প্রতিবেদন সারা বিশ্বকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্ষুব্ধ আর ভারতকে শক্ত ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছিল।” এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ''দ্য সানডে টাইমসে''র সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্সকে বলেছিলেন যে, লেখাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং “ভারতের সশস্ত্র হস্তক্ষেপের” সিদ্ধান্ত নেন।<ref name="BBC">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.bbc.com/news/world-asia-16207201|শিরোনাম=Bangladesh war: The article that changed history – Asia|প্রকাশক=বিবিসি|ভাষা=ইংরেজি|তারিখ=১৬ ডিসেম্বর ২০১১}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: যে নিবন্ধ পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাস|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-43539979|প্রকাশক=বিবিসি বাংলা|তারিখ=২৬ মার্চ ২০১৮|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ মার্চ ২০১৮}}</ref> | |||
২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পরপরই পাঁচজন বিশ্বস্ত সহযোগীসহ<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=CIVIL WAR FLARE E.PAKISTAN: Sheikh 'a traitor' says president|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.thedailystar.net/sites/default/files/upload-2014/gallery/image/arts/civil-war-flares-in-east-pakistan-daily-telegraph-march-27-1971.pdf|তারিখ=২৭ মার্চ ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=১ মার্চ ২০১৫|প্রথমাংশ=ডেভিড|শেষাংশ=লোশাক|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি টেলিগ্রাফ|অবস্থান=নয়াদিল্লি}}</ref> শেখ মুজিবুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়।<ref name="NYT-01">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=LEADER OF REBELS IN EAST PAKISTAN REPORTED SEIZED|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.nytimes.com/1971/03/27/archives/leader-of-rebels-in-east-pakistan-reported-seized-sheik-mijib.html#|তারিখ=২৭ মার্চ ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|অবস্থান=নয়াদিল্লি}}</ref> গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।<ref name="NYT-01" /> ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের বিচারের জন্য ব্রিগেডিয়ার [[রহিমুদ্দিন খান|রহিমুদ্দিন খানকে]] প্রধান করে একটি সামরিক ট্রাইবুনাল গঠন করেন। রহিমুদ্দিন খানের ট্রাইবুনালের রায় কখনোই প্রকাশ করা হয়নি; তবে ইয়াহিয়া খান যেকোনো মূল্যে শেখ মুজিবের ফাঁসি চাইছিলেন। এছাড়া অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়। কয়েকজন গ্রেফতার হওয়া ঠেকাতে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।<ref>{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.britannica.com/EBchecked/topic/651231/Agha-Mohammad-Yahya-Khan|শিরোনাম=Encyclopædia Britannica Agha Mohammad Yahya Khan|বিশ্বকোষ=এনসাইক্লোপিডিয়া ব্রিটানিকা|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110604051235/http://www.britannica.com/EBchecked/topic/651231/Agha-Mohammad-Yahya-Khan|আর্কাইভের-তারিখ=৪ জুন ২০১১|ইউআরএল-অবস্থা=live}}</ref> | |||
=== স্বাধীনতার ঘোষণা === | |||
{{আরও দেখুন|বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র|বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক}} | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে সমস্যা নিষ্পত্তির সর্বশেষ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যায়। সেই রাতে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে প্রচারিত এক বেতার ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।<ref name="বিবিসি বাংলা১">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১: বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কতটা এসেছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা?|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-47704274|প্রকাশক=বিবিসি বাংলা|তারিখ=২৬ মার্চ ২০১৯|সংগ্রহের-তারিখ=১৪ জানুয়ারি ২০২২|প্রথমাংশ=রাকিব|শেষাংশ=হাসনাত|অবস্থান=ঢাকা}}</ref><ref name="বিডিনিউজ১">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=সে রাতে যেভাবে মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠান|ইউআরএল=https://bangla.bdnews24.com/mujib100/mujib100-sobisesh/article1738926.bdnews|তারিখ=২৫ মার্চ ২০২০|সংগ্রহের-তারিখ=১৪ জানুয়ারি ২০২২|প্রথমাংশ=মমতাজুল ফেরদৌস|শেষাংশ=জোয়ার্দার|প্রকাশক=বিডিনিউজ২৪.কম|আর্কাইভের-তারিখ=৪ জানুয়ারি ২০২২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20220104182958/https://bangla.bdnews24.com/mujib100/mujib100-sobisesh/article1738926.bdnews|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=দ্য শেখ মুজিব ডিক্লেরেশন অব ইন্ডিপেনডেন্স অব বাংলাদেশ: ইউ.এস. গভর্নমেন্ট রেকর্ডস অ্যান্ড মিডিয়া ডকুমেন্টেশন|প্রকাশক=Cbgr1971.org|পৃষ্ঠা=২|ইউআরএল=http://cbgr1971.org/files/Mar261971DecOfIndep/FinalDeclarationBSMR.pdf|ভাষা=ইংরেজি|বিন্যাস=পিডিএফ|সংগ্রহের-তারিখ=২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৫}}</ref> | |||
{{উক্তি ২ | |||
| “ইহাই হয়তো আমার শেষ বার্তা, আজ হইতে বাংলাদেশ স্বাধীন। আমি বাংলাদেশের জনগণকে আহ্বান জানাইতেছি, যে যেখানে আছ, যাহার যা কিছু আছে, তাই নিয়ে রুখে দাঁড়াও, সর্বশক্তি দিয়ে হানাদার বাহিনীকে প্রতিরোধ করো। পাকিস্তানী বাহিনীর শেষ সৈন্যটিকে বাংলার মাটি হইতে বিতাড়িত না করা পর্যন্ত এবং চূড়ান্ত বিজয় অর্জন না করা পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাও।”<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ষষ্ঠ তফসিল [১৫০ (২) অনুচ্ছেদ, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের সংবিধান|অধ্যায়=জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক প্রদত্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা (অনূদিত)|পৃষ্ঠা=৭৭|প্রকাশক=লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার|সংস্করণ=এপ্রিল ২০১৬|বিন্যাস=পিডিএফ|ইউআরএল=http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2020-10-14-17-13-51-957___Schedule.pdf}}</ref><br /><br />{{ছোট|— শেখ মুজিবুর রহমান<br />২৬ মার্চ, ১৯৭১}} | |||
| | |||
| “This may be my last message, from today Bangladesh is independent. I call upon the people of Bangladesh wherever you might be and with whatever you have, to resist the army of occupation to the last. Your fight must go on until the last soldier of the Pakistan occupation army is expelled from the soil of Bangladesh and final victory is achieved.”<ref group="টীকা">শেখ মুজিবুর রহমান প্রদত্ত স্বাধীনতার ঘোষণাটি ছিল ইংরেজি ভাষায়। ঘোষণাটি ও এর অনূদিত সংস্করণ ২০১১ খ্রিষ্টাব্দে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী অনুযায়ী ষষ্ঠ তফসিল হিসেবে অন্তর্ভুক্ত হয়।</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Sixth Schedule [Article 150(2)], The Constitution of The People’s Republic of Bangladesh|অধ্যায়=Declaration of Independence by The Father of The Nation, Bangabandhu Sheikh Mujibur Rahman Shortly After Midnight of 25th March, i.e. Early Hours of 26th March, 1971|ভাষা=ইংরেজি|বিন্যাস=পিডিএফ|পৃষ্ঠা=৭৭|প্রকাশক=লেজিসলেটিভ ও সংসদ বিষয়ক বিভাগ, আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার|সংস্করণ=এপ্রিল ২০১৬|ইউআরএল=http://bdlaws.minlaw.gov.bd/upload/act/2020-10-14-17-13-51-957___Schedule.pdf}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=History, as the Zias see it|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.thedailystar.net/history-as-the-zias-see-it-17748|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ জানুয়ারি ২০২১|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি স্টার|তারিখ=২৯ মার্চ ২০১৪}}</ref> <br /><br />{{ছোট|— Sheikh Mujibur Rahman<br />26 March, 1971}} | |||
|ভাষা=en|ভাষা২=bn}} | |||
শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই বেতার ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে জনগণকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআরের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।<ref group="টীকা">২৫শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাদের অন্যতম ব্রিটিশ দৈনিক ''ডেইলি টেলিগ্রাফ''-এর ভারত প্রতিনিধি ডেভিড লোশাক তার ''পাকিস্তান ক্রাইসিস'' বইয়ে ক্ষীণকণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাষণের উল্লেখ করেছেন, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বেতারের কাছাকাছি তরঙ্গদৈর্ঘ্য থেকে আসছিল। তাতে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করার উল্লেখ ছিল। ডেভিড লোশাক শেখ মুজিবের বার্তাটি পূর্ব থেকে ধারণকৃত মনে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।</ref><ref name="বিবিসি বাংলা১" /> পাকিস্তান রেডিওতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে মার্চ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৫-২৬শে মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টায় গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়। | |||
শেখ মুজিবুর রহমানের বার্তা দিয়ে পাঠানো টেলিগ্রাম চট্টগ্রামে কিছু ছাত্রের কাছে পৌঁছায়। [[মঞ্জুলা আনোয়ার]] সেই বার্তাটিকে বাংলায় অনুবাদ করেন। ছাত্ররা [[রেডিও পাকিস্তান|পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের]] নিকটবর্তী আগ্রাবাদ স্টেশন থেকে বার্তাটি প্রচারের অনুমতি চাইলেও সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের কয়েকজন বাঙালি কর্মচারী “[[স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র]]” চালু করলে বার্তাটি বেশ কয়েকবার প্রচারিত হয়।<ref group="টীকা">পাকিস্তানিরা ঢাকা দখলের পর ২৬শে মার্চ ঢাকা বেতার কেন্দ্র দখল করে “রেডিও পাকিস্তান ঢাকা” হিসেবে নামকরণ করে। পাকিস্তান সরকার রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘোষণা প্রচার করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের [[কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র]] থেকে গোপনে “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” যাত্রা শুরু করে এবং মূল ঘটনা সম্প্রচার করতে থাকে।</ref> ২৬শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। তবে বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচারক্ষমতা কম হওয়ায় খুব কম সংখ্যক মানুষই সেই ঘোষণাটি শুনেছিলেন।<ref name="টিডিএস_ফোরাম">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh's Declaration of Independence|ভাষা=ইংরজি|ইউআরএল=http://archive.thedailystar.net/forum/2008/march/declaration.htm|সংগ্রহের-তারিখ=১৫ জানুয়ারি ২০২২|সংবাদপত্র=ফোরাম|প্রথমাংশ১=মাসহুকুর|শেষাংশ১=রহমান|প্রথমাংশ২=মাহবুবুর রহমান|শেষাংশ২=জালাল|এজেন্সি=দ্য ডেইলি স্টার|তারিখ=১ মার্চ ২০০৮|আর্কাইভের-তারিখ=২২ জুন ২০১৪|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20140622064057/http://archive.thedailystar.net/forum/2008/march/declaration.htm|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> চট্টগ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা [[এম. এ. হান্নান]] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথম পাঠ করেন বলে মনে করা হয়।<ref name="টিডিএস_ফোরাম" /> ৮ [[ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট|ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের]] উপ-প্রধান মেজর [[জিয়াউর রহমান]] বেতারকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ মার্চ তিনিও স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।<ref group="টীকা">১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর “বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক” নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শেখ মুজিবুর রহমানের স্থলে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার করে। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্রের মুদ্রিত সংকলন প্রকাশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে ১৫ খণ্ডের ''[[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র]]'' গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যা ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পুনর্মুদ্রিত হয়। উভয় মুদ্রণের তৃতীয় খণ্ডে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চ প্রথম এবং জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে [[খালেদা জিয়া]] মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে ১৫ খণ্ডের বই সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যাতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক এবং তার দ্বিতীয় ঘোষণার তারিখ ২৮শে মার্চ বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জুন বাংলাদেশের উচ্চ আদালত শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক বলে রায় দেন এবং ''বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র'' গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের তৃতীয় খণ্ডটি বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা করেন।</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=It's Bangabandhu, not Zia|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.thedailystar.net/news-detail-93650|প্রথমাংশ১=জুলফিকার আলী|শেষাংশ১=মানিক|প্রথমাংশ২=আশুতোষ|শেষাংশ২=সরকার|তারিখ=২১ জুন ২০০৯|সংগ্রহের-তারিখ=১৪ জানুয়ারি ২০২২|প্রকাশক=দ্য ডেইলি স্টার}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://arts.bdnews24.com/?p=2769|শিরোনাম=সংযোজন {{!}} স্বাধীনতার ঘোষণা: বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার|ওয়েবসাইট=বিডিনিউজ২৪.কম|সংগ্রহের-তারিখ=১ ডিসেম্বর ২০২১|আর্কাইভের-তারিখ=২৯ মার্চ ২০১০|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20100329134219/http://arts.bdnews24.com/?p=2769|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারে তিনি বলেন: | |||
{{উক্তি ২ | |||
| “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে আমি, মেজর জিয়াউর রহমান, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নির্দেশে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করছি। তাঁর নির্দেশানুযায়ী, আমি অস্থায়ী প্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেছি। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে আমি সকল বাঙালিকে পশ্চিম পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে গর্জে উঠার ডাক দিচ্ছি। মাতৃভূমিকে শত্রুর কবল থেকে মুক্ত করার জন্য শেষ পর্যন্ত লড়াই করে যাবো। মহান আল্লাহর অশেষ কৃপায় জয় আমাদের হবেই। জয় বাংলা।” | |||
| | |||
| “This is Swadhin Bangla Betar Kendra. I, Major Ziaur Rahman, at the direction of Bangobondhu Mujibur Rahman, hereby declare that Independent People's Republic of Bangladesh has been established. At his direction, I have taken the command as the temporary Head of the Republic. In the name of Sheikh Mujibur Rahman, I call upon all Bengalees to rise against the attack by the West Pakistani Army. We shall fight to the last to free our motherland. Victory is, by the Grace of Allah, ours. Joy Bangla.”<ref group="টীকা">২৭ মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের অনুষ্ঠানে জিয়াউর রহমান দুইবার স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। প্রথমবার তিনি নিজেকে “রাষ্ট্রপ্রধান” পরিচয় দিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। পরে দ্বিতীয়বার শেখ মুজিবুর রহমানের নামে স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন। জিয়াউর রহমানের প্রথম ঘোষণাটি “নিরাপত্তার কারণে” নষ্ট করে ফেলা হয়েছিল। শেখ মুজিবুর রহমানের নামে দ্বিতীয় ঘোষণাটি ''বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র''-এর তৃতীয় খণ্ডে সংরক্ষণ করা হয়েছে।</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=২৭ মার্চ ১৯৭১: বঙ্গবন্ধুর পক্ষে জিয়ার স্বাধীনতা ঘোষণা পাঠ|ইউআরএল=https://1971.prothomalo.com/diary-1971/%E0%A6%AC%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%AC%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A7%E0%A7%81%E0%A6%B0-%E0%A6%AA%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B7%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%BF%E0%A7%9F%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AC%E0%A6%BE%E0%A6%A7%E0%A7%80%E0%A6%A8%E0%A6%A4%E0%A6%BE-%E0%A6%98%E0%A7%8B%E0%A6%B7%E0%A6%A3%E0%A6%BE-%E0%A6%AA%E0%A6%BE%E0%A6%A0|প্রকাশক=প্রথম আলো|তারিখ=২৭ মার্চ ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=১ ডিসেম্বর ২০২১}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র, তৃতীয় খণ্ড|ইউআরএল=https://doc.liberationwarbangladesh.net/books/igzm/#p=34|পৃষ্ঠা=২|সংস্করণ=জুন ২০১৯|প্রকাশক=তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ|সম্পাদক=হাসান হাফিজুর রহমান}}</ref><ref name=Gupta>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সেন গুপ্ত|প্রথমাংশ=জ্যোতি|তারিখ=১৯৭৪|শিরোনাম=হিস্ট্রি অব ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন বাংলাদেশ, ১৯৪৩–১৯৭৩: সাম ইনভলভমেন্ট|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=DedtAAAAMAAJ|অবস্থান=কলকাতা|প্রকাশক=নয়া প্রকাশ|পৃষ্ঠা=৩২৫–৩২৬|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩}}</ref> | |||
|ভাষা=en|ভাষা২=bn}} | |||
জিয়াউর রহমানের ২৭শে মার্চের ঘোষণা বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।<ref name="টিডিএস_ফোরাম" /> বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি জাপানি জাহাজ বার্তাটি ধারণ করে। সেখান থেকে [[রেডিও অস্ট্রেলিয়া]]<ref>{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=DedtAAAAMAAJ|শিরোনাম=হিস্ট্রি অব ফ্রিডম মুভমেন্ট ইন বাংলাদেশ, ১৯৪৩–১৯৭৩: সাম ইনভলভমেন্ট|শেষাংশ=গুপ্তা|প্রথমাংশ=জ্যোতি সেন|বছর=১৯৭৪|প্রকাশক=নয়া প্রকাশ|পৃষ্ঠা=৩২৫–৩২৬|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> এবং পরবর্তীতে [[ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশন|বিবিসি]] বার্তাটি পুনঃপ্রচার করে। ২৬শে মার্চের সকালে কলকাতায় পৌঁছানো শেখ মুজিবুর রহমানের বার্তা এবং বিকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঘোষণার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।<ref name="টিডিএস_ফোরাম" /> | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবস|স্বাধীনতা দিবস]] হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এই দিন থেকেই রাষ্ট্রের নাম হিসেবে “বাংলাদেশ” কার্যকর হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে<!-- তিনি কি প্রথম রাষ্ট্রনেতা? -- কত তারিখে? প্রথম আলোর আর্কাইভে আছে --> ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী [[ইন্দিরা গান্ধী]] সাবেক পূর্ব পাকিস্তানকে সরাসরি বাংলাদেশ নামে অভিহিত করা শুরু করেন।<ref>[https://books.google.com/books?vid=ISBN0876091990&id=srCLD-PXl-gC&pg=PA143&lpg=PA143&dq=pakistan+army#PPA37, M1 India, Pakistan, and the United States: Breaking with the Past By Shirin R. Tahir-Kheli] {{ISBN|0-87609-199-0}}, ১৯৯৭, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস, পৃষ্ঠা ৩৭</ref> তবে পাকিস্তানিরা এবং কিছু ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত “পূর্ব পাকিস্তান” ব্যবহার করেন। | |||
== স্বাধীনতা যুদ্ধ == | |||
{{মূল নিবন্ধ|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের কালপঞ্জি}} | |||
=== মার্চ থেকে জুন === | |||
[[চিত্র:Provisional Government of BD (2).jpg|থাম্ব|300px|১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মুজিবনগর সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যবৃন্দের ভাস্কর্য]] | |||
ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশ নিজেদের আয়ত্তে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকে। যুদ্ধের প্রথম দিকে বাঙালিদের প্রতিরোধ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, কিন্তু অসংগঠিত। এই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।<ref>''পাকিস্তান ডিফেন্স জার্নাল'', ১৯৭৭, বালাম ২, পৃষ্ঠা ২–৩</ref> তবে, পাকিস্তানি বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর আক্রমণ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় এবং প্রতিরোধ তীব্রতর হয়ে উঠে। ক্রমশ [[মুক্তিবাহিনী|মুক্তিবাহিনীর]] তৎপরতা বাড়তে থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালি সৈনিক পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে “গুপ্ত সেনাবাহিনী”তে যোগদান করে। সেনাবাহিনী ও ইপিআর সদস্যরা বিদ্রোহ করে চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ পেতে পাকিস্তানি বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করতে হয় এবং বিমানে আক্রমণ চালাতে হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস|পৃষ্ঠা=৯|প্রথমাংশ=মুহম্মদ|শেষাংশ=জাফর ইকবাল|লেখক-সংযোগ=মুহম্মদ জাফর ইকবাল|তারিখ=ডিসেম্বর ২০০৮|প্রকাশক=প্রতীতি}}</ref> বিদ্রোহী সেনারা কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর ইত্যাদি জেলারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাঙালি সেনারা একসময় মুক্তিবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে। পাশাপাশি ভারত থেকেও অস্ত্রের চালান আসতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ দুই ডিভিশন সেনা পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়। বিপুল সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মে মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মুক্তাঞ্চলের দখল নিয়ে নেয়। এই সময়ে [[রাজাকার (পাকিস্তান)|রাজাকার]], [[আল বদর]], [[আল শামস]] প্রভৃতি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়। মূলত মুসলিম লীগ ও অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বাঙালি এবং [[ভারত বিভাজন|দেশভাগের]] সময় আসা [[বাংলাদেশে পাকিস্তানি উদ্বাস্তু|বিহারি মুসলিমদের]] নিয়ে এই দলগুলো গঠিত হয়। | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে [[মেহেরপুর জেলা|জেলা]]) বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়ায় (বর্তমানে [[মুজিবনগর]]) [[মুজিবনগর সরকার]] গঠিত হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, তার অনুপস্থিতিতে [[সৈয়দ নজরুল ইসলাম]]কে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, [[তাজউদ্দীন আহমদ]]কে প্রধানমন্ত্রী এবং [[মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী|এম. এ. জি. ওসমানীকে]] মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস|পৃষ্ঠা=১০–১১|প্রথমাংশ=মুহম্মদ|শেষাংশ=জাফর ইকবাল|লেখক-সংযোগ=মুহম্মদ জাফর ইকবাল|তারিখ=ডিসেম্বর ২০০৮|প্রকাশক=প্রতীতি}}</ref> মার্চের শেষদিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা বিশেষভাবে তাদের রোষের শিকার হয়। আক্রমণ থেকে বাঁচতে দলে দলে মানুষ ভারতের সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শরণার্থীদের এই স্রোত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সময়ে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে আশ্রয় নেয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://2009-2017.state.gov/r/pa/ei/bgn/3452.htm|শিরোনাম=Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=স্টেট.জিওভি|তারিখ=২৪ মে ২০১০|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১}}</ref> পাকিস্তানি সেনাদের ওপর মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ অব্যাহত থাকে। কিন্তু অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের অভাবে যুদ্ধ পরিকল্পিত রূপ লাভ করতে করতে জুন মাস পার হয়ে যায়। | |||
=== জুন থেকে সেপ্টেম্বর === | |||
{{আরও দেখুন|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টরসমূহের তালিকা|বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সামরিক পরিকল্পনা}} | |||
[[চিত্র:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সেক্টরসমূহ.svg|থাম্ব|যুদ্ধকালীন বাংলাদেশকে [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টরসমূহের তালিকা|এগারোটি সেক্টরে]] ভাগ করা হয়।]] | |||
[[চিত্র:George Harrison - Bangla Desh.png|থাম্ব|বাংলাদেশি শরণার্থীদের জন্য আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের দৃষ্টি আকর্ষণ ও তহবিল সংগ্রহে [[দ্য বিটল্স|বিটলস]] দলের সদস্য [[জর্জ হ্যারিসন|জর্জ হ্যারিসনের]] একক “[[বাংলা দেশ (গান)|বাংলা দেশ]]” গানের প্রচারপত্র, জুলাই ১৯৭১]] | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের সামরিক কমান্ড গঠিত হয়। [[মহম্মদ আতাউল গণি ওসমানী|এম এ জি ওসমানীকে]] মন্ত্রীপদমর্যাদায় মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুর রবকে চিফ অফ স্টাফ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং মেজর এ আর চৌধুরীকে সহকারী চিফ অফ স্টাফ ঘোষণা করা হয়। | |||
যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় সেনানায়কদের সাথে জেনারেল ওসমানীর মতভেদ ছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা ছিল [[ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট|ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের]] সেনাদের নেতৃত্বে ৮,০০০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত গেরিলা দল গঠন করা, যারা ছোট ছোট দলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হামলা চালাবে এবং যুদ্ধে ভারতের হস্তক্ষেপের পথকে সুগম করবে।<ref name="জ্যাকব ৪২, ৯০">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=জ্যাকব|প্রথমাংশ=লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর|শিরোনাম=সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা|পাতাসমূহ=৪২–৪৪, ৯০–৯১|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনে জেনারেল ওসমানী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন:<ref name="জ্যাকব ৪২, ৯০" /><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হাসান|প্রথমাংশ=মঈদুল|শিরোনাম=মূলধারা ’৭১|পাতাসমূহ=৪৫–৪৬}}</ref> | |||
* বাঙালি সেনারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছু এলাকা দখল করে নেবে এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে [[কূটনৈতিক স্বীকৃতি]] এবং হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাবে। প্রাথমিকভাবে অভিযান শুরু করার জন্য [[ময়মনসিংহ]]কে নির্বাচিত করা হলেও পরবর্তীকালে জেনারেল ওসমানী [[সিলেট]]কে নির্বাচন করেন। | |||
* যত বেশি সম্ভব গেরিলা যোদ্ধাদের বাংলাদেশের ভেতরে পাঠানো, যারা কিছু নির্ধারিত কাজ করবে:<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ইসলাম|প্রথমাংশ=মেজর রফিকুল|শিরোনাম=অ্যা টেইল অব মিলিয়নস|পাতাসমূহ=২২৭, ২৩৫|ভাষা=ইংরেজি}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=শফিউল্লাহ|প্রথমাংশ=মেজর জেনারেল কে এম|শিরোনাম=বাংলাদেশ অ্যাট ওয়ার|পাতাসমূহ=১৬১–১৬৩|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> | |||
** গেরিলা অভিযান ও আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত করা। | |||
** শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র, রেল ও সড়কপথ, পণ্য সংরক্ষণাগার প্রভৃতিতে আক্রমণ চালিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা। | |||
** ব্রিজ/কালভার্ট, জ্বালানি তেলের গুদাম, ট্রেন ও জলযান উড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করা। | |||
** এই ধরনের কৌশলগত আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীকে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা এবং বিচ্ছিন্ন সেনাবাহিনীর ওপর আরও কার্যকরভাবে আক্রমণ চালানো। | |||
জুলাই মাসেই বাংলাদেশকে [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে সেক্টরসমূহের তালিকা|এগারোটি সেক্টরে]] ভাগ করা হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=ইসলাম|প্রথমাংশ১=মেজর রফিকুল|শিরোনাম=অ্যা টেইল অব মিলিয়নস|পাতাসমূহ=২২৬–২৩১|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> পাকিস্তানি বাহিনী ছেড়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে গেরিলা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি সেক্টরে কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের জন্য মুক্তিবাহিনীর বাঙালি সৈন্যদের দুই থেকে পাঁচ সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=দৌলাহ|প্রথমাংশ=চাফ|শিরোনাম=দ্য বাংলাদেশ লিবারেশন ওয়ার, দ্য শেখ মুজিব রেজিম, অ্যান্ড কন্টেম্পোরারি কন্ট্রোভার্সিস|প্রকাশক=লেক্সিংটন বুকস|বছর=২০১৬|আইএসবিএন=978-1-4985-3418-5|অবস্থান=নিউ ইয়র্ক|পাতা=৭৪|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> অধিকাংশ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল সীমান্তের নিকটবর্তী। এগুলো পরিচালনায় ভারত প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে। জেনারেল ওসমানীর অধীনে নৌ-কমান্ডো এবং বিশেষ বাহিনী নিয়ে ১০ নং সেক্টর গঠন করা হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.liberationwarmuseumbd.org/history/#blaf|শিরোনাম=Bangladesh Liberation Armed Force|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর|সংগ্রহের-তারিখ=২ জানুয়ারি ২০২২|আর্কাইভের-তারিখ=৬ সেপ্টেম্বর ২০১৫|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150906143409/http://www.liberationwarmuseumbd.org/history/#blaf|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> যুদ্ধের জন্য তিনটি ব্রিগেড, এগারোটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয় এবং প্রায় এক লক্ষ বাঙালিকে গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রাজা|প্রথমাংশ=দেওয়ান মোহাম্মদ তাসাওয়ার|শিরোনাম=ও জেনারেল মাই জেনারেল (লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্কস অব এম. এ. জি. ওসমানী)|ভাষা=ইংরেজি|পাতাসমূহ=৩৫–১০৯|আইএসবিএন=978-984-8866-18-4}}</ref> | |||
জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাসে তিন ব্রিগেড (আট ব্যাটালিয়ন পদাতিক সৈন্য এবং তিন ব্যাটারি গোলন্দাজ বাহিনী) সৈন্য যুদ্ধে পাঠানো হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=জ্যাকব|প্রথমাংশ=লেফটেন্যান্ট জেনারেল জেএফআর|শিরোনাম=সারেন্ডার অ্যাট ঢাকা|পাতা=৪৪|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> জুন–জুলাই মাসে [[অপারেশন জ্যাকপট|অপারেশন জ্যাকপটের]] উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে মুক্তিবাহিনীকে পুনর্গঠন করা হয় এবং ভারতের সহায়তায় ২০০০–৫০০০ জন গেরিলাযোদ্ধা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হাসান|প্রথমাংশ=মঈদুল|শিরোনাম=মূলধারা ’৭১|পাতা=৪৪}}</ref> কিন্তু “তথাকথিত” অতিবর্ষণ এবং অন্যান্য কারণে (যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব, সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের অসুবিধা প্রভৃতি) মুক্তিবাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ করতে পারছিল না।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=আলি|প্রথমাংশ=মেজর জেনারেল রাও ফরমান|শিরোনাম=হাউ পাকিস্তান গট ডিভাইডেড|পৃষ্ঠা=১০০}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হাসান|প্রথমাংশ=মঈদুল|শিরোনাম=মূলধারা ’৭১|পৃষ্ঠা=৬৪–৬৫}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=খান|প্রথমাংশ=মেজর জেনারেল ফজল মুকিম|শিরোনাম=পাকিস্তান’স ক্রাইসিস ইন লিডারশিপ|পৃষ্ঠা=১২৫}}</ref> বাঙালি নিয়মিত সেনারা [[ময়মনসিংহ]], [[কুমিল্লা]] ও [[সিলেট|সিলেটের]] [[সীমান্ত ফাঁড়িগুলো]]তে আক্রমণ করতে থাকে। কোনো কোনো অভিযান সফল হলেও অনেকগুলো ব্যর্থও হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দাবি করতে থাকে যে তারা “মুনসুন অফেনসিভ” বা বর্ষাকালকে ঘিরে মুক্তিবাহিনীর পরিকল্পনা সফলভাবে অবদমন করতে পেরেছে। কর্তৃপক্ষের এই দাবি প্রায় সঠিক বলেই প্রতীয়মান হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=আলী|প্রথমাংশ=রাও ফরমান|শিরোনাম=হোয়েন পাকিস্তান গট ডিভাইডেড|পৃষ্ঠা=১০০}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=নিয়াজি|শেষাংশ=লেফট্যানেন্ট জেনারেল এ.এ.কে|শিরোনাম=স্য বিট্রেয়াল অব ইস্ট পাকিস্তান|পৃষ্ঠা=৯৬}}</ref> | |||
গেরিলা যোদ্ধারা প্রশিক্ষণকালে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও আগস্টের পর থেকে আবার সক্রিয় হতে শুরু করে। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ঢাকার অভ্যন্তরে [[ক্র্যাক প্লাটুন]] কয়েকটি দুঃসাহসী অভিযান চালায়। এরপর ১৫ই আগস্ট [[অপারেশন জ্যাকপট|অপারেশন জ্যাকপটের]] মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে। নৌ-কমান্ডোরা এইদিন চট্টগ্রাম, [[মোংলা বন্দর|মোংলা]], [[নারায়ণগঞ্জ]] ও [[চাঁদপুর জেলা|চাঁদপুর]] বন্দরে নোঙর করা জাহাজে মাইন পেতে উড়িয়ে দেয়।<ref name="Untold heroism of Muktibahini Frogmen">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রায়|প্রথমাংশ=মিহির, কে|শিরোনাম=ওয়ার ইন দি ইন্ডিয়ান ওশিয়ান|ভাষা=ইংরেজি|বছর=১৯৯৫|প্রকাশক=ল্যান্সার পাবলিশার অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউটর|অবস্থান=নয়াদিল্লি|আইএসবিএন=978-1-897829-11-0|পাতা=১৫৪}}</ref><ref name="On the water front spectacular achievement">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রবি|প্রথমাংশ=মীর মুস্তাক আহমেদ|শিরোনাম=চেতনায় একাত্তর|বছর=২০০৮|প্রকাশক=জোনাকী প্রকাশনী|অবস্থান=ঢাকা|ইউআরএল=http://opac.iub.edu.bd/cgi-bin/koha/opac-detail.pl?biblionumber=15244&query_desc=%28su%3A{Bangladesh}%29|পৃষ্ঠা=৬৯}}</ref> | |||
=== অক্টোবর–ডিসেম্বর === | |||
{{আরও দেখুন|মিত্র বাহিনী|পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সামরিক পরিকল্পনা, ডিসেম্বর ১৯৭১|পাকিস্তান পূর্ব কমান্ড পরিকল্পনার বিবর্তন}} | |||
{| style="float:right; font-size:80%; border:1px solid #ddd; background:#fefefe; padding:3px; margin:1em;" | |||
| | |||
<span style="font-size:110%;">'''প্রধান যুদ্ধসমূহ'''</span> | |||
* [[বয়রার যুদ্ধ]] | |||
* [[গরিবপুরের যুদ্ধ]] | |||
* [[ধলাইয়ের যুদ্ধ]] | |||
* [[হিলির যুদ্ধ]] | |||
* [[কুষ্টিয়ার যুদ্ধ]] | |||
|} | |||
এই সময়ে মুক্তিবাহিনী সীমান্তঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করে দখল করে নিতে থাকে। [[কামালপুরের যুদ্ধ|কামালপুর]], [[বিলোনিয়ার যুদ্ধ|বিলোনিয়া]] ও [[বয়রার যুদ্ধ]] এগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাকিস্তানি বাহিনীর ৩৭০টি সীমান্তঘাঁটির মধ্যে ৯০টিই মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। পাশাপাশি গেরিলা বাহিনীর আক্রমণও আরও তীব্র হয়। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনীও সাধারণ মানুষদের ওপর নির্যাতন করতে থাকে। এ অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আট ব্যাটালিয়ন সৈন্য পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। মুক্তিবাহিনী কিছুদিনের জন্য [[লালমনিরহাট বিমানবন্দর|লালমনিরহাট]] ও সিলেটের [[ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর|শালুটিকর বিমানঘাঁটিও]] দখলে নিয়ে নেয়।<ref name=ACIG>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.acig.org/artman/publish/article_326.shtml|শিরোনাম=India – Pakistan War, 1971; Introduction By Tom Cooper, with Khan Syed Shaiz Ali|প্রকাশক=এসিআইজি.অর্গ|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110606195040/http://www.acig.org/artman/publish/article_326.shtml|আর্কাইভের-তারিখ=৬ জুন ২০১১|ইউআরএলের-অবস্থা=dead}}</ref> মুক্তিবাহিনী দুইটি বিমানঘাঁটিই ভারত থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র আনায় ব্যবহার করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরও পাঁচ ব্যাটালিয়ন সৈন্য নিয়ে আসা হয়। | |||
=== সেক্টরসমূহ === | |||
বাংলাদেশকে সর্বমোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রতিটি সেক্টরের জন্যে একজন করে অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়। | |||
''[[১নং সেক্টর]]'' <br/> [[চট্টগ্রাম]], [[পার্বত্য চট্টগ্রাম]] ও নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশ পর্যন্ত<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.dw.com/bn/মুক্তিযুদ্ধের-সেক্টর-সম্পর্কে-তথ্যে-ভুল-আছে-মেজর-রফিক/a-6307714|শিরোনাম=মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সম্পর্কে তথ্যে ভুল আছে : মেজর রফিক {{!}} DW {{!}} 08.12.2010|তারিখ=৮ ডিসেম্বর ২০১০|কর্ম=[[ডয়চে ভেলে]] বাংলা|সংগ্রহের-তারিখ=৫ জানুয়ারি ২০২১|শেষাংশ1=ইসলাম|প্রথমাংশ1=আরাফাতুল}}</ref> <br/><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.banglanews24.com/feature/news/bd/471329.details|শিরোনাম=সেক্টর পরিচিতিঃ মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর|তারিখ=৬ মার্চ ২০১৬|কর্ম=[[banglanews24.com]]|সংগ্রহের-তারিখ=৫ জানুয়ারি ২০২১|ভাষা=bn}}</ref> মেজর [[জিয়াউর রহমান]] (এপ্রিল - জুন) <br/> মেজর [[রফিকুল ইসলাম]] (জুন-ফেব্ৰুয়ারি) | |||
<br/> | |||
''[[২নং সেক্টর]]'' <br/> [[চাঁদপুর জেলা]], [[নোয়াখালী জেলা]], [[কুমিল্লা জেলা|কুমিল্লা জেলার]] আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং [[ফরিদপুর]] ও ঢাকার অংশবিশেষ <br/> [[খালেদ মোশাররফ|মেজর খালেদ মোশাররফ]] (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) <br/> [[এ.টি.এম. হায়দার|মেজর এ.টি.এম. হায়দার]] (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি) | |||
<br/> | |||
''[[৩নং সেক্টর]]'' <br/> [[সিলেট]] জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ <br/> [[কে এম শফিউল্লাহ|মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ]] (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর) <br/> [[এ.এন.এম. নূরুজ্জামান|মেজর এ.এন.এম. নুরুজ্জামান]] (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি) | |||
<br/> | |||
''[[৪নং সেক্টর]]'' <br/> সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত <br/> [[সি.আর. দত্ত|মেজর সি.আর. দত্ত]] | |||
<br/> | |||
''[[৫নং সেক্টর]]'' <br/> সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল <br/> [[মীর শওকত আলী]] | |||
<br/> | |||
''[[৬নং সেক্টর]]'' <br/> সমগ্র [[রংপুর জেলা]] এবং [[দিনাজপুর জেলা]]র ঠাকুরগাঁও মহকুমা <br/> [[মোহাম্মদ খাদেমুল বাশার|উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার]] | |||
<br/> | |||
''[[৭নং সেক্টর]]'' <br/> দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, [[বগুড়া]], [[রাজশাহী]] এবং [[পাবনা]] জেলা <br/> মেজর [[কাজী নুরুজ্জামান]] | |||
<br/> | |||
''[[৮নং সেক্টর]]'' <br/> সমগ্র কুষ্টিয়া ও [[যশোর জেলা]], ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ <br/> [[আবু ওসমান চৌধুরী|মেজর আবু ওসমান চৌধুরী]] (এপ্রিল- আগস্ট) <br/> [[এম.এ. মনজুর|মেজর এম.এ. মনজুর]] (আগস্ট-ফেব্ৰুয়ারি) | |||
<br/> | |||
''[[৯নং সেক্টর]]'' <br/> দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা <br/> [[এম এ জলিল|মেজর এম.এ. জলিল]] (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ) <br/> [[মেজর জয়নুল আবেদীন]] (ডিসেম্বরের অবশিষ্ট দিন) | |||
<br/> | |||
''[[১০নং সেক্টর]]'' <br/> কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত | |||
<br/> | |||
''[[১১নং সেক্টর]]'' <br/> কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল <br/> মেজর [[জিয়াউর রহমান]] (জুন - অক্টোবর)<ref>[http://www.bengalrenaissance.com/war.html List of Sectors in Bangladesh Liberation War]</ref> <br/> মেজর [[আবু তাহের]] (অক্টোবর-নভেম্বর) <br/> [[এম হামিদুল্লাহ খান|স্কোয়ড্ৰণ লীডাৱ এম হামিদুল্লাহ খান]] (নভেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি) | |||
* ১০ নং সেক্টরটি ছিল [[কমান্ডার-ইন-চিফ|কমান্ডার-ইন-চিফের]] (সি-ইন-সি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে, যার মধ্যে নৌ-বাহিনী ও সি-ইন-সির বিশেষ বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত ছিল।<ref>[http://www.liberationmuseum.org.bd/bangladesh_liberation_armed_forces.htm Bangladesh Liberation Armed Force] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20080317014224/http://www.liberationmuseum.org.bd/bangladesh_liberation_armed_forces.htm|তারিখ=১৭ মার্চ ২০০৮}}, Liberation War Museum, Bangladesh.</ref> তবে উপযুক্ত কোনো কর্মকর্তা ছিলেননা বলে ১০ নম্বর সেক্টরের (নৌ সেক্টর) কোনো সেক্টর অধিনায়ক ছিলনা; এ সেক্টরের গেরিলারা যখন যে সেক্টরে অভিযান চালাতেন, তখন সে সেক্টরের সেক্টর অধিনায়কের অধীনে থাকতেন।<ref>গেরিলাদেৱ ইতিহাস (পৃষ্ঠা ১০) - মুহম্মদ জাফর ইকবাল</ref> গেরিলাদেৱ বেশির ভাগ প্রশিক্ষণ শিবির ছিল সীমান্ত এলাকায় এবং ভারতের সহায়তায় গেরিলা প্রশিক্ষণ লাভ করত। সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করার জন্যে তিনটি ব্রিগেড (১১ ব্যাটালিয়ন) তৈরি করা হয়। এছাড়াও প্রায় ১,০০০ [[গেরিলা যুদ্ধ তৎপরতা|গেরিলা]] প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ভেতরে নিয়মিত বিভিন্ন অভিযানে পাঠানো হতো। | |||
== ভারতের অংশগ্রহণ == | |||
{{আরও দেখুন|ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১}} | |||
[[চিত্র:Bangladesh 1971 Liberation.jpg|থাম্ব|upright 1.2|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সামরিক বাহিনীর গমনপথ]] | |||
{{উক্তি|text=“... সকল নিরপেক্ষ ব্যক্তি, যারা বস্তুনিষ্ঠভাবে বাংলাদেশে ২৫ মার্চ ১৯৭১-এর পর যে নির্মম ঘটনা ঘটেছে তা পর্যবেক্ষণ করেছেন, তারা সে দেশের ৭৫ মিলিয়ন মানুষের বিদ্রোহের স্বীকৃতি দিয়েছেন। বাংলাদেশের মানুষের কাছে তাদের জীবন রক্ষার জন্য এ ছাড়া অন্য কোনো পথই খোলা ছিল না। সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য অর্জনের প্রশ্ন তো উঠছেই না।”<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ইন্দিরা, নিক্সন ও কিসিঞ্জার|ওয়েবসাইট=চিরন্তন ১৯৭১ মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস|ইউআরএল=https://1971.prothomalo.com/supplements/independence-day/%E0%A6%87%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A6%E0%A6%BF%E0%A6%B0%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BF%E0%A6%95%E0%A7%8D%E0%A6%B8%E0%A6%A8-%E0%A6%93-%E0%A6%95%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%9E%E0%A7%8D%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%B0|প্রকাশক=প্রথম আলো|প্রথমাংশ=হাসান|শেষাংশ=ফেরদৌস|তারিখ=৫ অক্টোবর ২০২১|সংগ্রহের-তারিখ=২ জানুয়ারি ২০২২}}</ref>|source=[[রিচার্ড নিক্সন|রিচার্ড নিক্সনের]] প্রতি চিঠিতে [[ইন্দিরা গান্ধী]], ১৫ ডিসেম্বর ১৯৭১}} | |||
[[চিত্র:Indira2.jpg|থাম্ব|upright|বাম|[[ইন্দিরা গান্ধী]]]] | |||
ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন যে,<!-- কবে? --> অর্থনৈতিকভাবে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর ভার কাঁধে নেওয়ার চেয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়াই বরং ভারতের জন্য অধিক উত্তম।<ref name="MSN Encarta" /> ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে এপ্রিল ভারতীয় মন্ত্রীসভা [[সেনাসভাধ্যক্ষ]] জেনারেল [[শ্যাম মানেকশ’]]কে “পূর্ব পাকিস্তানের গভীরে” যেতে বলে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=1971: Making Bangladesh a reality – I|ইউআরএল=http://www.indiandefencereview.com/news/1971-making-bangladesh-a-reality-i/|ওয়েবসাইট=ইন্ডিয়ান ডিফেন্স রিভিউ|সংগ্রহের-তারিখ=২১ জুন ২০১৫}}</ref> ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক “পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধে” ভারতের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করে।<ref name="MSN Encarta" /> ফলস্বরূপ ভারত সরকার [[মুক্তিবাহিনী]]কে সমর্থন করে জাতিগতভাবে বাঙালিদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনে সমর্থন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের [[রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং]] (র) পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহী বাঙালিদের সংগঠিত করে, প্রশিক্ষণ দেয় এবং অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করে। এই প্রশিক্ষিত গেরিলারা দেশের ভেতরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।<ref name="MSN Encarta">{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://encarta.msn.com/encyclopedia_761588350_3/Indo-Pakistani_Wars.html#|শিরোনাম=Indo-Pakistani Wars|ভাষা=ইংরেজি|কর্ম=এমএসএন এনকার্টা|সংগ্রহের-তারিখ=২০ অক্টোবর ২০০৯|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://www.webcitation.org/5kwrHv6ph?url=http://encarta.msn.com/encyclopedia_761588350_3/Indo-Pakistani_Wars.html|আর্কাইভের-তারিখ=১ নভেম্বর ২০০৯|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref> | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর [[পাকিস্তান বিমানবাহিনী]] ভারতের সীমান্তবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোতে [[অপারেশন চেঙ্গিজ খান|অতর্কিত হামলা চালায়]]। বিমানঘাঁটিতে থাকা [[বিমানবাহিনী|ভারতীয় বিমানবাহিনীর]] যুদ্ধবিমানগুলোকে ধ্বংস উদ্দেশ্য নিয়ে এই আক্রমণ চালায়। [[ছয় দিনের যুদ্ধ|ছয় দিনের যুদ্ধে]] [[ইসরায়েলি বিমানবাহিন|ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর]] [[অপারেশন ফোকাস|অপারেশন ফোকাসের]] আদলে এই হামলা চালানো হয়। ভারত এই হামলাকে স্পষ্টত তাদের দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে দেখে এবং পাল্টা হামলা চালায়। এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে উভয় দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং [[ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধ ১৯৭১|পাক-ভারত যুদ্ধের]] সূচনা ঘটে, যদিও কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে [[যুদ্ধ ঘোষণা]] করেনি।<ref name="time-edge">{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://content.time.com/time/magazine/article/0,9171,910155,00.html|শিরোনাম=India and Pakistan: Over the Edge|ভাষা=ইংরেজি|ম্যাগাজিন=টাইম|তারিখ=১৩ ডিসেম্বর ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ মে ২০২০}}</ref> | |||
[[চিত্র:Tank - 55.jpg|থাম্ব|ডান|180px|মিত্রবাহিনী কর্তৃক ব্যবহৃত একটি [[টি-৫৪/টি-৫৫|টি-৫৫]] ট্যাঙ্ক]] | |||
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিন [[কোর]] ভারতীয় সৈন্য অংশগ্রহণ করে। মুক্তিবাহিনীর আরও প্রায় তিন [[ব্রিগেড]] সৈন্য এবং আরও অসংখ্য অনিয়মিত সেনা তাদের সহায়তা করে। এই সেনারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন [[ডিভিশন]] সৈন্যের তুলনায় অনেক গুণ বড় ছিল।<ref>{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,878969-4,00.html|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20071103235823/http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,878969-4,00.html|ইউআরএলের-অবস্থা=dead|আর্কাইভের-তারিখ=৩ নভেম্বর ২০০৭|শিরোনাম=Bangladesh: Out of War, a Nation Is Born|ম্যাগাজিন=টাইম|তারিখ=২০ ডিসেম্বর ১৯৭১|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১}}</ref> যৌথবাহিনী দ্রুত বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়তে থাকে। পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখল করে যৌথবাহিনী দ্রুত রাজধানী ঢাকার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তের দিকে ছড়িয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনারা এত দ্রুত আক্রমণ সামাল দিতে পারেনি।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ইন্ডিয়ান আর্মি আফটার ইন্ডিপেনডেন্স|প্রথমাংশ=মেজর কেসি|শেষাংশ=প্রবাল|বছর=১৯৯৩|প্রকাশক=ল্যান্সার|পৃষ্ঠা=৩১৭|আইএসবিএন=1-897829-45-0}}</ref> যৌথবাহিনীর হাতে শীঘ্রই ঢাকার পতন ঘটে এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে। | |||
=== বিমান ও নৌযুদ্ধ === | |||
ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে আধিপত্য বিস্তার করে। ভারত ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানে তেজগাঁও, কুর্মিটোলা, লালমনিরহাট ও শমসেরনগরে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ১৪ নং স্কোয়াড্রনের সমস্ত যুদ্ধবিমান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রথম সপ্তাহান্তে বাংলাদেশের আকাশসীমার প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে [[পূর্ব পাকিস্তান বিমান অভিযান, ১৯৭১|নিতে সক্ষম হয়]]। [[আইএনএস বিক্রান্ত (আর১১)|আইএনএস ''বিক্রান্ত'']] থেকে [[হকার সি হক|সি হক]] চট্টগ্রাম, [[বরিশাল]] ও [[কক্সবাজার|কক্সবাজারে]] আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর পূর্ব শাখাকে ধ্বংস করে দেয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র সমুদ্রবন্দর দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান নৌবাহিনীর বিদ্রোহী কর্মকর্তা ও নৌসেনাদের নিয়ে নবগঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে আক্রমণ চালাতে ভারতকে সহায়তা করে; বিশেষ করে [[অপারেশন জ্যাকপট]] বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.thedailystar.net/supplements/independence-day-special-2015/submariners-heroism-and-the-first-military-response-france|শিরোনাম=Naval Commandos in Operation Jackpot|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=অপারেশন জ্যাকপটের নৌকমান্ডোরা|কর্ম=দ্য ডেইলি স্টার|তারিখ=২৬ মার্চ ২০১৫}}</ref> | |||
== আত্মসমর্পণ এবং ফলাফল == | |||
{{আরও দেখুন|পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল|দিল্লি চুক্তি}} | |||
[[চিত্র:Pakistani Instrument of Surrender 1971.jpg|থাম্ব|পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল]] | |||
[[চিত্র:1971 Instrument of Surrender.jpg|থাম্ব|আত্মসর্পণের দলিলে পাকিস্তানের পক্ষে লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী এবং ভারত ও বাংলাদেশের পক্ষে জগজিৎ সিং অরোরা স্বাক্ষর করছেন, ঢাকা, ১৬ ডিসেম্বর ১৯৭১]] | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের [[প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক]] ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল [[আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী]] [[পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের দলিল|আত্মসমর্পণের দলিলে]] স্বাক্ষর করেন। আত্মসমর্পণের সময়ে কেবলমাত্র কয়েকটি দেশই বাংলাদেশকে [[বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি|স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি]] দিয়েছিল। প্রায় ৯৩,০০০ [[যুদ্ধবন্দি]] যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা [[দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ|দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের]] পর সর্বোচ্চ।<ref name="dailytimes1912005" /><ref name="BBC1971">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The 1971 war|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://news.bbc.co.uk/hi/english/static/in_depth/south_asia/2002/india_pakistan/timeline/1971.stm|সংগ্রহের-তারিখ=১১ অক্টোবর ২০১১|কর্ম=বিবিসি নিউজ}}</ref> | |||
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন করে। অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন সত্ত্বেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন বাংলাদেশের আবেদনে ভেটো প্রদান করে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.mofa.go.jp/policy/other/bluebook/1972/1972-1-9.htm|শিরোনাম=Situation in the Indian Subcontinent|কর্ম=পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, জাপান}}</ref> পাকিস্তানের অপর মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এর অনেক পরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।<ref>{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.newint.org/issue332/guess.htm|শিরোনাম=Guess who's coming to dinner|ভাষা=ইংরেজি|ম্যাগাজিন=নিউ ইন্টারন্যাশনালিস্ট|তারিখ=মার্চ ২০০১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070224195916/http://www.newint.org/issue332/guess.htm|আর্কাইভের-তারিখ=২৪ ফেব্রুয়ারি ২০০৭|প্রথমাংশ=নাঈম|শেষাংশ=বাঙালি}}</ref> যুদ্ধবন্দিদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে ভারত ও পাকিস্তান ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে [[সিমলা চুক্তি ১৯৭২|সিমলা চুক্তি]] স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি যুদ্ধবন্দিদের ফেরত পাওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিশ্চিত করে।<ref name="sacw524">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.sacw.net/article524.html|শিরোনাম=Bangladesh: Unfinished Justice for the crimes of 1971|ওয়েবসাইট=সাউথ এশিয়ান সিটিজেনস ওয়েব|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110722041729/http://www.sacw.net/article524.html|আর্কাইভের-তারিখ=২২ জুলাই ২০১১|ইউআরএলের-অবস্থা=live}}</ref> | |||
ভারত যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে জেনেভা কনভেনশনের ১৯২৫ নম্বর নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে।<ref name="sacw524" /> মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ভারত ৯৩,০০০-এরও বেশি যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেয়।<ref name="dailytimes1912005" /> এছাড়াও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে ভারত বাঙালিদের প্রতি [[যুদ্ধাপরাধ|যুদ্ধাপরাধের]] দায়ে বন্দি ২০০ জনের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.efsas.org/publications/study-papers/bangladesh%E2%80%99s-genocide-debate;-a-conscientious-research/|শিরোনাম=Bangladesh's genocide debate; A conscientious research|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ|সংগ্রহের-তারিখ=৩ আগস্ট ২০২০}}</ref> এর পাশাপাশি ভারত যুদ্ধে দখল করে নেওয়া পশ্চিম পাকিস্তানের {{রূপান্তর|13000|km²|0|abbr=on}} ভূমি পাকিস্তানকে ফেরত দেয়। তবে [[কার্গিল জেলা|কার্গিলের]] মতো কৌশলগত ভূমি ভারত নিজের আয়ত্ত্বে রাখে,<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.storyofpakistan.com/articletext.asp?artid=A109&Pg=6|শিরোনাম=The Simla Agreement 1972|ওয়েবসাইট=স্টোরি অব পাকিস্তান|তারিখ=১ জুন ২০০৩|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110614014904/http://www.storyofpakistan.com/articletext.asp?artid=A109&Pg=6|আর্কাইভের-তারিখ=১৪ জুন ২০১১|সংগ্রহের-তারিখ=২৩ জুন ২০১১}}</ref> যা পরবর্তীতে, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে, দুই দেশের মধ্যে [[কার্গিল যুদ্ধ|আরেকটি যুদ্ধের]] কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয় এবং অনেকের মতে, এই চুক্তিটি ভারতের কূটনৈতিক ধীশক্তির পরিচয় বহন করে। আবার, ভারতের মধ্যেই কেউ কেউ মনে করেন,<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=India's Strategic Blunders in the 1971 War|ইউআরএল=http://www.rediff.com/news/slide-show/slide-show-1-three-indian-blunders-in-the-1971-war/20111212.htm|ওয়েবসাইট=রেডিফ.কম|সংগ্রহের-তারিখ=৩ আগস্ট ২০১৪}}</ref> চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রতি ভারতের অত্যধিক উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের জন্য ভুট্টো চুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রতি উদার হতে আহ্বান জানায়; এর অন্যথায় চুক্তিতে ভারত কঠিন শর্ত দিলে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারতো। | |||
=== পশ্চিম পাকিস্তানে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া === | |||
যুদ্ধে পরাজয় ও দেশের অর্ধেক অংশের বিচ্ছেদে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উভয় মহলই মর্মাহত হয়ে পড়ে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পরাজয় পাকিস্তানিদের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের অর্থও তাদের কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল না। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে [[ইয়াহিয়া খান|ইয়াহিয়া খানের]] একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ভুট্টো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসীন হন।<ref name="Defencejournal">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.defencejournal.com/2000/oct/yaqub.htm|শিরোনাম=ডিফেন্স জার্নাল|প্রকাশক=ডিফেন্স জার্নাল|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩|ইউআরএলের-অবস্থা=dead|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20121018222302/http://www.defencejournal.com/2000/oct/yaqub.htm|আর্কাইভের-তারিখ=১৮ অক্টোবর ২০১২}}</ref><ref name="ghazali.net">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.ghazali.net/book8/Chapter_5/body_chapter_5.html|শিরোনাম=General Niazi's Failure in High Command|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=হাই কমান্ডে জেনারেল নিয়াজির ব্যর্থতা|ওয়েবসাইট=গাজালি.নেট|তারিখ=২১ আগস্ট ২০০০|সংগ্রহের-তারিখ=১৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৩}}</ref> | |||
৯৩,০০০ যুদ্ধবন্দির সাথে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে ফিরে আসা জেনারেল নিয়াজীকে পাকিস্তানিরা সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখতে থাকেন। তাকে একঘরে করে ফেলা হয় এবং [[রাষ্ট্রদ্রোহিতা|দেশদ্রোহীর]] তকমা দেওয়া হয়। এই যুদ্ধের পরিণামে পাকিস্তানের স্বীকৃত সামরিক কৌশলগত মতবাদ, “পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা”-এর অসারতা প্রমাণিত হয়।<ref name="Defencejournal" /> | |||
== নৃশংসতা == | |||
{{মূল নিবন্ধ|১৯৭১ বাংলাদেশে গণহত্যা|১৯৭১ বাংলাদেশী বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ}} | |||
[[চিত্র:একাত্তরের বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ.jpg|থাম্ব|যুদ্ধের ঠিক পরে রায়েরবাজার বধ্যভূমিতে দৃশ্যমান বুদ্ধিজীবীদের মৃতদেহ (সৌজন্যে: [[রশীদ তালুকদার]], ১৯৭১)]] | |||
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতা চালানো হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বহু বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং যুদ্ধের পুরোটা সময় সেনাবাহিনীর হাতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে [[পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী|সামরিক বাহিনী]] ও তাদের সহায়তাকারী আধা-সামরিক বাহিনী প্রায় ৩,০০,০০০<ref name="BBC" /> থেকে ৩০,০০,০০০<ref name="MathewWhite">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হোয়াইট|প্রথমাংশ=ম্যাথিউ|ইউআরএল=http://necrometrics.com/20c1m.htm#Bangladesh|শিরোনাম=ডেথ টোলস ফর দ্য মেজর ওয়ার্স অ্যান্ড অ্যাট্রোসিটিজ অব দ্য টুয়েন্টিন্থ সেঞ্চুরি|সংগ্রহের-তারিখ=৬ জানুয়ারি ২০২২|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> মানুষকে হত্যা করে এবং প্রায় ২,০০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০ নারীকে ধর্ষণ করা হয়।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=শারলাখ|প্রথমাংশ=লিসা|শিরোনাম=রেইপ অ্যাজ জেনোসাইড: বাংলাদেশ, দ্য ফরমার যুগোস্লাভিয়া, অ্যান্ড রুয়ান্ডা|সাময়িকী=নিউ পলিটিক্যাল সায়েন্স|বছর=২০০০|খণ্ড=১|সংখ্যা নং=২২|ডিওআই=10.1080/713687893|পৃষ্ঠা=৯২–৯৩|s2cid=144966485}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সাজ্জাদ|প্রথমাংশ=তাজরিনা|শিরোনাম=প্লাইট অ্যান্ড ফেট অব উইমেন ডিউরিং অ্যান্ড ফলোয়িং জেনোসাইড|বছর=২০১২|প্রকাশক=ট্রানসেকশন|আইএসবিএন=978-1412847599|পৃষ্ঠা=২২৫|সংস্করণ=পুনর্মূদ্রণ|সম্পাদক=স্যামুয়েল টটেন|অধ্যায়=দ্য পোস্ট-জেনোসাইডাল পিরিয়ড অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন উইমেন|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা সংঘটিত অপরাধকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের “হিন্দু” বলে ফতোয়া জারি করে এবং তাদের সম্পদ ও বাঙালি নারীদের “গনিমতের মাল” বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সিদ্দিকি|প্রথমাংশ=দিনা এম|বছর=১৯৯৮|অধ্যায়=তসলিমা নাসরীন অ্যান্ড আদারস: দ্য কনটেস্ট ওভার জেন্ডারিন বাংলাদেশ|সম্পাদক-শেষাংশ১=বোডম্যান|সম্পাদক-প্রথমাংশ১=হার্বার্ট এল|সম্পাদক-শেষাংশ২=তৌহিদি|সম্পাদক-প্রথমাংশ২=নায়িরাহ এসফাহলানি|শিরোনাম=উইমেন ইন মুসলিম সোসাইটিজ: ডাইভার্সিটি উইথইন ইউনিটি|প্রকাশক=লাইন রাইনার|পৃষ্ঠা=২০৮–২০৯|আইএসবিএন=978-1-55587-578-7|উক্তি=Sometime during the war, a fatwa originating in West Pakistan labeled Bengali freedom fighters 'Hindus' and declared that 'the wealth and women' to be secured by warfare with them could be treated as the booty of war. [Footnote, on p. 225:] S. A. Hossain, "Fatwa in Islam: Bangladesh Perspective," ''Daily Star'' (Dhaka), 28 December 1994, 7.}}</ref> কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের শতকরা ৮০ ভাগই ছিল মুসলিম।<ref>{{বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি|অধ্যায়=জনসংখ্যা|লেখক=ইসলাম, এম. আতাহারুল; কর্মকার, শ্যামল চন্দ্র|সংগ্রহের-তারিখ=৬ জানুয়ারি ২০২২}}</ref> | |||
যুদ্ধের চলাকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় [[আল শামস]] ও [[আল বদর]] বাহিনী<ref group="টীকা">প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যাওয়া “আল বদর” বাহিনী নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছিল। রায়েরবাজার হত্যকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী দেলওয়ার হোসেন বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে হত্যাকারীদের বাঙালি বলে বর্ণনা করেছেন।</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=একাত্তরের ঘাতক ও দালালরা কে কোথায়|সম্পাদক-প্রথমাংশ১=আহমদ|সম্পাদক-শেষাংশ১=শরীফ|সম্পাদক-প্রথমাংশ২=কাজী|সম্পাদক-শেষাংশ২=নূর-উজ্জামান|সম্পাদক-প্রথমাংশ৩=শাহরিয়ার|সম্পাদক-শেষাংশ৩=কবির|প্রকাশক=মুক্তিযুদ্ধ চেতনা বিকাশ কেন্দ্র|অবস্থান=ঢাকা|পৃষ্ঠা=৫৭|বছর=১৯৮৭|সংস্করণ=ফেব্রুয়ারি ১৯৯২|সংগ্রহের-তারিখ=৭ জানুয়ারি ২০২২|ইউআরএল=https://doc.liberationwarbangladesh.net/books/mgqs/#p=29}}</ref> এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://archive.thedailystar.net/2005/12/14/d512141501115.htm|শিরোনাম=The loss continues to haunt us|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ=খান|প্রথমাংশ=মো. আসাদুল্লাহ|তারিখ=১৪ ডিসেম্বর ২০০৫|ধরন=সম্পাদকীয়|কর্ম=দ্য ডেইলি স্টার|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭|আর্কাইভের-তারিখ=৫ মার্চ ২০১৩|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130305011706/http://www.thedailystar.net/2005/12/14/d512141501115.htm|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> আত্মসমর্পণের ঠিক দুই দিন পূর্বে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা থেকে অন্তত ১০০ জন চিকিৎসক, অধ্যাপক, লেখক ও প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে হত্যা করে এবং তাদের মৃতদেহ একটি বধ্যভূমিতে ফেলে রাখে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.nytimes.com/1971/12/19/archives/125-slain-in-dacca-area-believed-elite-of-bengal-125-found-slain.html|শিরোনাম=125 Slain in Dacca Area Believed Elite of Bengal|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ=টাইমস|প্রথমাংশ=স্পেসাল টু দ্য নিউ ইয়র্ক|তারিখ=১৯ ডিসেম্বর ১৯৭১|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|সংরহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭|আইএসএসএন=0362-4331|উক্তি=At least 125 persons, believed to be physicians, professors, writers and teachers, were found murdered today in a field outside Dacca. All the victims' hands were tied behind their backs and they had been bayoneted, garroted or shot. They were among an estimated 300 Bengali intellectuals who had been seized by West Pakistani soldiers and locally recruited supporters.}}</ref> | |||
[[চিত্র:Sriti shoud.jpeg|থাম্ব|বাম|জাতীয় স্মৃতিসৌধ]] | |||
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বহু বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়েছে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.tribuneindia.com/1999/99aug08/world.htm#7|শিরোনাম=Mass grave found in Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|কর্ম=দ্য ট্রিবিউন|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> যুদ্ধের প্রথম রাতেই [[ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়|ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের]] শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে সেই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো টেলিগ্রামে তার উল্লেখ পাওয়া যায়।<ref name=":2">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://nsarchive.gwu.edu/NSAEBB/NSAEBB79/|শিরোনাম=The Tilt: The U.S. and the South Asian Crisis of 1971|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ=ইভান্স|প্রথমাংশ=মাইকেল|ওয়েবসাইট=দ্য ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭}}</ref> পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য নারীর ওপর নিপীড়ন চালায়, হত্যা ও ধর্ষণ করে; এর প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা এবং এটি বহুল বিতর্কিত একটি বিষয়। যুদ্ধের সময়ে এবং পরে ধর্ষিতা নারীদের গর্ভে হাজারো [[যুদ্ধশিশু|যুদ্ধশিশুর]] জন্ম নেয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Bengali Wives Raped in War Are Said to Face Ostracism|ভাষা=ইংরেজি|তারিখ=৮ জানুয়ারি ১৯৭২|ইউআরএল=http://www.docstrangelove.com/uploads/1971/foreign/19720118_nyt_bengali_wives_raped_in_war_are_said_to_face_ostracism.pdf|কর্ম=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১০ নভেম্বর ২০১১}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=অব্রে|শেষাংশ=মেনেন|লেখক-সংযোগ=অব্রে মেনেন|শিরোনাম=The Rapes of Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|তারিখ=২৩ জুলাই ১৯৭২|ইউআরএল=http://www.docstrangelove.com/uploads/1971/foreign/19720723_nyt_the_rapes_of_bangladesh.pdf|সংবাদপত্র=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১০ নভেম্বর}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=অ্যান্থনি|শেষাংশ=অস্ট্রাখান|শিরোনাম=U.N. Asked to Aid Bengali Abortions|তারিখ=২২ মার্চ ১৯৭২|ইউআরএল=http://www.docstrangelove.com/uploads/1971/foreign/19720322_wp_un_asked_to_aid_bengali_abortions.pdf|সংবাদপত্র=দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট|সংগ্রহের-তারিখ=১০ নভেম্বর ২০১১}}</ref> | |||
ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে পাকিস্তান সেনারা অনেক বাঙালি নারীকে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি করে রাখে। তাদের অধিকাংশই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথবা সাধারণ পরিবারের মেয়ে।<ref name="time.oct25-1971">{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|শিরোনাম=East Pakistan: Even the Skies Weep|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,877316,00.html|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20071104001659/http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,877316,00.html|ইউআরএলের-অবস্থা=dead|আর্কাইভের-তারিখ=৪ নভেম্বর ২০০৭|url-access=subscription|ম্যাগাজিন=[[টাইম (পত্রিকা)|টাইম]]|তারিখ=২৫ অক্টোবর ১৯৭১|পৃষ্ঠা=৪৩|উক্তি=Refugees are still trekking into India … telling of villages burned, residents shot, and prominent figures carried off and never heard from again. One of the more horrible revelations concerns 563 young Bengali women, some only 18, who have been held captive inside Dacca's dingy military cantonment since the first days of the fighting. Seized from Dacca University and private homes and forced into military brothels, the girls are all three to five months pregnant. The army is reported to have enlisted Bengali gynecologists to abort girls held at military installations. But for those at the Dacca cantonment it is too late for abortion.}}</ref> তবে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের উৎসাহে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা<ref name="usconsulate_cable_march31">মার্কিন কনস্যুলেট (ঢাকা) ক্যাবল, সিট্রেপ: [http://www.gwu.edu/~nsarchiv/NSAEBB/NSAEBB79/BEBB6.pdf Army Terror Campaign Continues in Dacca; Evidence Military Faces Some Difficulties Elsewhere], ৩১ মার্চ ১৯৭১, গোপনীয়, পৃষ্ঠা ৩</ref> ছাড়াও বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের হাতে সংখ্যালঘু অবাঙালিরাও, বিশেষ করে [[আটকে পড়া পাকিস্তানি|বিহারিরা]], নিপীড়িত হন।<ref name="Bihari Refugees">{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সেন|প্রথমাংশ=সুমিত|বছর=১৯৯৯|শিরোনাম=Stateless Refugees and the Right to Return: the Bihari Refugees of South Asia, Part 1|সাময়িকী=[[ইন্টারন্যাশনাল জার্নাল অব রিফুজি ল]]|খণ্ড=১১|সংখ্যা নং=৪|পৃষ্ঠা=৬২৫–৬৪৫|ডিওআই=10.1093/ijrl/11.4.625}}</ref> ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে একজন বিহারি প্রতিনিধির ভাষ্যমতে, বাঙালিদের হাতে প্রায় ৫,০০,০০০ বিহারি প্রাণ হারায়।<ref name="Gerlach2010">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=48N-XbOltMEC&pg=PA148|শিরোনাম=Extremely Violent Societies: Mass Violence in the Twentieth-Century World|শেষাংশ=গার্লাখ|প্রথমাংশ=ক্রিশ্চিয়ান|প্রকাশক=ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটি প্রেস|বছর=২০১০|আইএসবিএন=9781139493512|পৃষ্ঠা=১৪৮}}</ref> রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর জে রুমেলের মতে যুদ্ধকালীন সহিংসতায় প্রায় ১,৫০,০০০ হাজার বিহারি প্রাণ হারিয়েছেন।<ref name=":12">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=aYBrAgAAQBAJ&pg=PA334|শিরোনাম=Death by Government|শেষাংশ=রুমেল|প্রথমাংশ=আর জে|প্রকাশক=ট্রানসেকশন পাবলিশার্স|বছর=১৯৯৭|আইএসবিএন=9781560009276|পৃষ্ঠা=৩৩৪}}</ref> | |||
২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর [[জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়|জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের]] [[ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ]] কিছু গোপন নথি প্রকাশ করে, যার অধিকাংশই ছিল ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তাদের সাথে ঢাকা ও ভারতের মার্কিন দূতাবাস এবং [[ইউনাইটেড স্টেটস ইনফরমেশন অ্যাজেন্সি|মার্কিন তথ্যসেবা কেন্দ্রের]] কর্মকর্তাদের মধ্যে আদানপ্রদানকৃত খবরের নথি।<ref name=":2" /> এসব প্রকাশিত নথিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা বর্ণনায় “নির্বাচনমূলক গণহত্যা” ({{lang|en|selective genocide}})<ref name="SelectiveGenocide">মার্কিন কনস্যুলেট, ঢাকা, ২৭ মার্চ ১৯৭১, ''[http://www.gwu.edu/~nsarchiv/NSAEBB/NSAEBB79/BEBB1.pdf Selective genocide]'', ক্যাবল (পিডিএফ)</ref> “গণহত্যা” ({{lang|en|genocide}})<ref group="টীকা">[[আর্চার ব্লাড#ব্লাড টেলিগ্রাম]] দ্রষ্টব্য।</ref> শব্দগুলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকাশনা ও গণমাধ্যমে এখনও “[[পরিকল্পিত গণহত্যা|গণহত্যা]]” শব্দটি ব্যবহৃত হয়।<ref name="bangladeshobserver">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=The Jamaat Talks Back|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=http://www.bangladeshobserveronline.com/new/2005/12/30/editorial.htm|সংবাদপত্র=[[দ্য বাংলাদেশ অবজার্ভার]]|ধরন=সম্পাদকীয়|তারিখ=৩০ ডিসেম্বর ২০০৫|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20070123033307/http://www.bangladeshobserveronline.com/new/2005/12/30/editorial.htm|আর্কাইভের-তারিখ=২৩ জানুয়ারি ২০০৭}}</ref><ref>{{ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://archive.thedailystar.net/magazine/2005/12/03/remembrance.htm|শিরোনাম=Remembering a Martyr|ভাষা=ইংরেজি|ম্যাগাজিন=স্টার উইকেন্ড ম্যাগাজিন|প্রকাশক=দ্য ডেইলি স্টার|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জুন ২০১৭|আর্কাইভের-তারিখ=২৭ অক্টোবর ২০১৩|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20131027095320/http://archive.thedailystar.net/magazine/2005/12/03/remembrance.htm|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> তবে বাংলাদেশের গণহত্যায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি পাকিস্তানে এখনও বিতর্কিত হিসেবে গণ্য। | |||
== আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া == | |||
[[চিত্র:André Malraux, Pic, 22.jpg|থাম্ব|ফরাসি মন্ত্রী [[অঁদ্রে মাল্রো]] মুক্তিবাহিনীর সাথে যুদ্ধে যোগদানের আগ্রহ ব্যক্ত করেছিলেন। বহির্বিশ্বের সামনে তিনি বাংলাদেশের পক্ষে কথা বলেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.thedailybeast.com/articles/2014/04/28/bernard-henri-levy-andre-malraux-s-bangladesh-before-the-radicals.html|শিরোনাম=Bernard-Henri Levy: Andre Malraux's Bangladesh, Before the Radicals|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি বিস্ট|তারিখ=২৮ এপ্রিল ২০১৪|শেষাংশ=লেভি|প্রথমাংশ=বের্নার্ড-হেনরি}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.theindependentbd.com/index.php?option=com_content&view=article&id=212838:andre-malraux-a-true-friend-of-bangladesh&catid=182:city-life&Itemid=220|শিরোনাম=André Malraux: A true friend of Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|কর্ম=দি ইনডিপেন্ডেন্ট|অবস্থান=ঢাকা|তারিখ=২৫ এপ্রিল ২০১৪|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150411040048/http://www.theindependentbd.com/index.php?option=com_content&view=article&id=212838:andre-malraux-a-true-friend-of-bangladesh&catid=182:city-life&Itemid=220|আর্কাইভের-তারিখ=১১ এপ্রিল ২০১৫}}</ref>]] | |||
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে এপ্রিল মাসে [[মুজিবনগর সরকার]] গঠিত হয়। অস্থায়ী সরকার বাংলাদেশের স্বীকৃতি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন এবং মানবিক সাহায্যের জন্য বহির্বিশ্বে প্রচারণা শুরু করে। | |||
ভারতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেন। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের নৃশংসতা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি সে সময় বিভিন্ন দেশে সফর করেন। তার এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হস্তক্ষেপের পক্ষে সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়।<ref name="recog-story">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.bdsdf.org/forum/index.php?showtopic=3072|শিরোনাম=The Recognition Story|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম|সংগ্রহের-তারিখ=১৭ আগস্ট ২০১১|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110725050939/http://www.bdsdf.org/forum/index.php?showtopic=3072|আর্কাইভের-তারিখ=২৫ জুলাই ২০১১|ইউআরএলের-অবস্থা}}</ref> পাশাপাশি পাকিস্তানে পরাজয়ের পর স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দ্রুত স্বীকৃতি লাভে তার এই প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। | |||
=== জাতিসংঘ === | |||
পূর্ব পাকিস্তান সংকটে জাতিসংঘের নিরবতা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। জাতিসংঘ পূর্ব পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও যুদ্ধ শুরুর আগেই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়। | |||
যুদ্ধে ভারতের জড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তান নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয় এবং ভারতের সাথে [[যুদ্ধবিরতি]] নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য [[জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ|জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ]] ৪ঠা ডিসেম্বর অধিবেশন আহ্বান করে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৭ই ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উভয় দেশের সৈন্যদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরিষদের অধিকাংশের সমর্থন সত্ত্বেও সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই প্রস্তাবে দুইবার ভেটো দেয়। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা বিবেচনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ভোটদানে বিরত থাকে।<ref name="time-edge" /><ref name=":3">{{বই উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://en.wikisource.org/wiki/Zulfiqar_Ali_Bhutto's_farewell_speech_to_the_United_Nations_Security_Council|শিরোনাম=Zulfiqar Ali Bhutto's farewell speech to the United Nations Security Council|ভাষা=ইংরেজি|শেষাংশ=ভুট্টো|প্রথমাংশ=জুলফিকার আলী}}</ref> | |||
১২ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের আসন্ন পরাজয় বুঝতে পেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানায়। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করতে নিউ ইয়র্কে যান। পরিষদে চার দিন আলোচনার পর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাব পাশের আগেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ব্যর্থ হয়ে এবং জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ হয়ে ভুট্টো তার ভাষণ ছিঁড়ে ফেলে নিরাপত্তা পরিষদ ত্যাগ করেন।<ref name=":3" /> | |||
স্বাধীনতা লাভের কয়েক মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।<ref name="recog-story" /> | |||
=== ভুটান === | |||
পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলে হিমালয়ের দেশ ভুটান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.dhakatribune.com/bangladesh/2014/dec/08/bhutan-recognised-bangladesh-first|শিরোনাম=Bhutan recognised Bangladesh first|ভাষা=ইংরেজি|কর্ম=ঢাকা ট্রিবিউন|তারিখ=৮ ডিসেম্বর ২০১৪|সংগ্রহের-তারিখ=১০ জানুয়ারি ২০২২|আর্কাইভের-তারিখ=৮ জানুয়ারি ২০২২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20220108132617/https://www.dhakatribune.com/bangladesh/2014/dec/08/bhutan-recognised-bangladesh-first|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে ভুটানের চতুর্থ রাজা [[জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুক|জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুকের]] অভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান অংশ নেন। | |||
=== মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন === | |||
{{মূল নিবন্ধ|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কূটনীতি}} | |||
[[চিত্র:Ted Kennedy, 1967 (cropped).jpg|থাম্ব|upright|বাম|মার্কিন সিনেটর [[টেড কেনেডি]] কংগ্রেসে বাংলাদেশের স্বাধীনতার পক্ষে সমর্থন আদায়ে ভূমিকা রাখেন।]] | |||
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মার্কিন সরকার পাকিস্তানকে সবধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|লেখক=জ্যারোড হায়েস|বছর=২০১২|শিরোনাম=Securitization, social identity, and democratic security: Nixon, India, and the ties that bind|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.researchgate.net/publication/241754960|সাময়িকী=ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন|খণ্ড=৬৬|সংখ্যা নং=১|পৃষ্ঠা=৬৩–৯৩|ডিওআই=10.1017/S0020818311000324|jstor=41428946|s2cid=145504278 }}</ref> মার্কিন রাষ্ট্রপতি [[রিচার্ড নিক্সন]] ও তার জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক [[হেনরি কিসিঞ্জার]] দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করেন। পাকিস্তান চীনের আঞ্চলিক ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চীনের সাথে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের কথা ছিল। নিক্সনের আশঙ্কা ছিল ভারত পশ্চিম পাকিস্তান দখল করে নেবে এবং এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত আধিপত্য বিস্তৃত হবে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান এবং তার নতুন মিত্র চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য খর্বিত হবে।<ref name="Shalom">শ্যালম, স্টিফেন আর, [http://coat.ncf.ca/our_magazine/links/issue47/articles/a07.htm The Men Behind Yahya in the Indo-Pak War of 1971] (ইংরেজি ভাষায়)</ref><ref name="thedailystar.net">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.thedailystar.net/perspective/the-triumvirate-the-diplomat-the-journalist-and-the-artist-1330978|শিরোনাম=The triumvirate of the Diplomat, the Journalist and the Artist|ভাষা=ইংরজি|তারিখ=১৭ ডিসেম্বর ২০১৬|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি স্টার|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জানুয়ারি ২০১৭}}</ref> চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ততা দেখানোর জন্য নিক্সন মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট বরাদ্দ লঙ্ঘন করে পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেন, যা জর্ডান ও ইরান হয়ে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছায়।<ref name="Shalom" /> নিক্সন চীনকেও পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেন। নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিষয়ে পাঠানো বার্তাগুলো উপেক্ষা করে। এই বার্তাগুলোর মধ্যে [[আর্চার ব্লাড#ব্লাড টেলিগ্রাম|ব্লাড টেলিগ্রাম]] ছিল উল্লেখযোগ্য।<ref name="thedailystar.net" /> | |||
[[চিত্র:Yahya and Nixon.jpg|থাম্ব|ইয়াহিয়া খানের নেতৃত্বাধীন সামরিক জান্তা সরকারের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রাখার জন্য [[রিচার্ড নিক্সনের রাষ্ট্রপতিত্ব|নিক্সন প্রশাসন]] ব্যাপক সমালোচিত হয়। পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত মার্কিন কূটনীতিকগণ একে “গভীর দুঃখজনক” বলে বর্ণনা করেন।]] | |||
নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করে এতে সম্পৃক্ত হতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু পাকিস্তানের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলে তিনি সপ্তম নৌবহরকে রণতরী [[ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ (সিভিএন-৬৫)|ইউএসএস ''এন্টারপ্রাইজ'']]-এর সাথে বঙ্গোপসাগরে যেতে নির্দেশ দেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=পল|শেষাংশ=স্কট|শিরোনাম=Naval 'Show of Force' By Nixon Meant as Blunt Warning to India|কর্ম=ব্যাঙ্গোর ডেইলি নিউজ|তারিখ=২১ ডিসেম্বর ১৯৭১|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=HUU0AAAAIBAJ&pg=5099,2016461&dq=nixon+pakistan+military|ভাষা=ইংরেজি}}</ref> ভারতীয়রা একে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে। ''এন্টারপ্রাইজ'' ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে। ৬ ও ১৩ই ডিসেম্বর [[সোভিয়েত নৌবাহিনী]] [[ভ্লাদিভস্টক]] থেকে দুই ধাপে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই জাহাজ প্রেরণ করে। তারা ১৮ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহরের [[টাস্ক ফোর্স ৭৪]]-কে অনুসরণ করে।<ref name="Orton2010">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=আনা অরটন|শিরোনাম=ইন্ডিয়া’জ বর্ডারল্যান্ড ডিসপুটস: চায়না, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, অ্যান্ড নেপাল|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=0RBOnS8KsgcC&pg=PA116|বছর=২০১০|প্রকাশক=এপিটোম বুকস|আইএসবিএন=978-93-80297-15-6|পৃষ্ঠা=১১৬}}</ref><ref name="White2011">{{বই উদ্ধৃতি|লেখক=ম্যাথিউ হোয়াইট|শিরোনাম=অ্যাট্রোসাইটোলজি: হিউম্যানিটি’স ১০০ ডেডলিয়েস্ট অ্যাচিভেন্টস|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=Q5w9qmd1UeMC&q=pakistani+dictator+yahya+khan&pg=PR45|বছর=২০১১|প্রকাশক=ক্যাননগেইট বুকস|আইএসবিএন=978-0-85786-125-2|পৃষ্ঠা=৪৫}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.nytimes.com/2013/09/29/books/review/the-blood-telegram-by-gary-j-bass.html|শিরোনাম=Collateral Damage:'The Blood Telegram,' by Gary J. Bass|লেখক=ডেক্সটার ফিলকিনস|তারিখ=২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৩|কর্ম=দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১৬ ডিসেম্বর ২০১৫}}</ref> | |||
সোভিয়েত ইউনিয়ন শুরু থেকেই যুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ নেয়। তারা মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বুঝতে পেরেছিল স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবকে খর্বিত করবে। তারা ভারতকে আশ্বাস দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই আগস্ট [[ভারত–সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি]] স্বাক্ষরিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত মহাসাগরে ইউএসএস ''এন্টারপ্রাইজ''-কে নিবৃত্ত করার জন্য একটি নিউক্লিয়ার ডুবোজাহাজও প্রেরণ করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.telegraphindia.com/1161217/jsp/frontpage/story_125276.jsp|শিরোনাম=That same fleet but new face|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=দ্য টেলিগ্রাফ|সংগ্রহের-তারিখ=১১ জানুয়ারি ২০১৭}}</ref> | |||
যুদ্ধের শেষে [[ওয়ারশ চুক্তি|ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত]] দেশগুলো খুব দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=USSR, Czechoslovakia Recognize Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|অ্যাজেন্সি=অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস|অবস্থান=সামটার, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|তারিখ=২৫ জানুয়ারি ১৯৭২|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=0dIoAAAAIBAJ&pg=2219,2272476&dq=bangladesh+ussr+recognize}}</ref> কয়েক মাস পর ৮ই এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Nixon Hopes for Subcontinent Peace|ভাষা=ইংরেজি|অ্যাজেন্সি=অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস|অবস্থান=স্পার্টানবার্গ, দক্ষিণ ক্যারোলাইনা, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|তারিখ=৯ এপ্রিল ১৯৭২|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=5TMsAAAAIBAJ&pg=3505,1398456&dq=usa+recognize+bangladesh}}</ref> | |||
=== চীন === | |||
পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চীন পূর্ব পাকিস্তানের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং পশ্চিম পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত [[কাশ্মীর|কাশ্মীরে]] ভারতের আগ্রাসনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই ডিসেম্বর নিক্সন ভারত-সীমান্তের দিকে সেনা মোতায়েনের জন্য চীনকে রাজি করাতে কিসিঞ্জারকে নির্দেশ দেন। কিসিঞ্জার সেদিনই জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি [[হুয়াং হুয়া|হুয়াং হুয়ার]] সাথে সাক্ষাৎ করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://2001-2009.state.gov/r/pa/ho/frus/nixon/xi/45650.htm|শিরোনাম=Foreign Relations, 1969–1976, Volume XI, South Asia Crisis, 1971|ভাষা=ইংরেজি|সংগ্রহের-তারিখ=১৯ মে ২০২০|ওয়েবসাইট=[[মার্কিন পররাষ্ট্র দফতর]]}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=১৯৭১|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=2S-wAQAAQBAJ|প্রকাশক=হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়|পৃষ্ঠা=১০১–১০৫|লেখক=শ্রীনাথ রাঘবন|তারিখ=১২ নভেম্বর ২০১৩|আইএসবিএন=9780674731295}}</ref><ref>{{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ইস্ট পাকিস্তান|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=1IRmDwAAQBAJ|পৃষ্ঠা=৫২–৫৩|লেখক=নোয়াহ বারলাৎস্কি|তারিখ=২৬ অক্টোবর ২০১২|প্রকাশক=গ্রিনহ্যাভেন পাবলিশিং|আইএসবিএন=9780737762563}}</ref> | |||
তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় সাড়া না দিয়ে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভারত পূর্বেই চীনের সীমান্ত বরাবর আটটি মাউন্টেন ডিভিশন মোতায়েন করে যেকোনো আক্রমণ প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকায় চীন বুঝতে পেরেছিল [[চীন-ভারত যুদ্ধ|১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের চীন–ভারত যুদ্ধের]] মতো হঠাৎ আক্রমণ করে সুবিধা করা যাবে না।<ref name="time-edge" /> | |||
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার আবেদন জানালে চীন তাতে ভেটো দেয়।<ref name="oxnard">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=China Recognizes Bangladesh|ভাষা=ইংরেজি|অ্যাজেন্সি=অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস|অবস্থান=অক্সনার্ড, ক্যালিফোর্নিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|তারিখ=১ সেপ্টেম্বর ১৯৭৫|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=rnVKAAAAIBAJ&pg=4237,20391&dq=china+recognize+bangladesh}}</ref> বাংলাদেশে যুদ্ধবন্দি হিসেবে থাকা সেনাসদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের দুইটি প্রস্তাব তখনও কার্যকর না হওয়ায় চীন ভেটো প্রদান করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=China Veto Downs Bangladesh UN Entry|ভাষা=ইংরেজি|অ্যাজেন্সি=ইউনাইটেড প্রেস ইন্টারন্যাশনাল|তারিখ=২৬ আগস্ট ১৯৭২|অবস্থান=মন্ট্রিল, কুইবেক, কানাডা|ইউআরএল=https://news.google.com/newspapers?id=GQsyAAAAIBAJ&pg=4712,6055847&dq=bangladesh+united-nations+china}}</ref> বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী সর্বশেষ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।<ref name="recog-story" /><ref name="oxnard" /> | |||
=== শ্রীলঙ্কা === | |||
শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের বিভাজনকে তাদের দেশের ঐক্যের জন্য ভীতিজনক বলে মনে করে আসছিল। তাদের ধারণা ছিল, ভারত ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার ওপরও তার বর্ধিত শক্তি প্রয়োগ করতে চাইবে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.cia.gov/library/readingroom/docs/CIA-RDP83S00854R000200130001-0.pdf|শিরোনাম=India and Its Neighbors: Cooperation of Confrontation?|লেখক=নিকটপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষণ দফতর|তারিখ=১৯ জানুয়ারি ২০১১|ওয়েবসাইট=[[সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স এজেন্সি]]|সংগ্রহের-তারিখ=১২ জানুয়ারি ২০১২|উক্তি=“Nepal and Sri Lanka saw the partition of Pakistan as an example for themselves and feared that India might use its enhanced power against them at some future date.”|quote-page=7|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20201115114828/https://www.cia.gov/library/readingroom/docs/CIA-RDP83S00854R000200130001-0.pdf|আর্কাইভের-তারিখ=১৫ নভেম্বর ২০২০|ইউআরএলের-অবস্থা=dead}}</ref> [[সিরিমাভো বন্দরনায়েকে|সিরিমাভো বন্দরনায়েকের]] নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার বামপন্থী সরকার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করলেও যুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.island.lk/index.php?page_cat=article-details&page=article-details&code_title=13217|শিরোনাম=The Foreign Policy of Sirimavo Bandaranaike|কর্ম=দি আইল্যান্ড|তারিখ=১১ ডিসেম্বর ২০১০|ভাষা=ইংরেজি|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20101213125733/http://www.island.lk/index.php?page_cat=article-details&page=article-details&code_title=13217|আর্কাইভের-তারিখ=১৩ ডিসেম্বর ২০১০}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.mfa.gov.lk/brief-overview-of-sri-lankas-foreign-relations-to-post-independence/|শিরোনাম=Brief Overview of Sri Lanka's Foreign Relations to Post-Independence|ভাষা=ইংরেজি|ওয়েবসাইট=mfa.gov.lk}}</ref> ভারতের সীমানায় পাকিস্তানি বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ হওয়ায় সেগুলোকে ভারতের চারপাশে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে হতো এবং শ্রীলঙ্কার [[বন্দরনায়েকে আন্তর্জাতিক বিমান বন্দর|বন্দরনায়েকে বিমানবন্দরে]] যাত্রাবিরতি দিয়ে জ্বালানি পূর্ণ করে সেগুলো পূর্ব পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|তারিখ=১১ জুন ২০১১|শিরোনাম=Pak thanks Lanka for help in 1971 war|ইউআরএল=https://www.hindustantimes.com/world/pak-thanks-lanka-for-help-in-1971-war/story-UpZWXd0fFX5eDPac0KMIYL.html|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=হিন্দুস্তান টাইমস|সংগ্রহের-তারিখ=১৪ ফেব্রুয়ারি ২০১৯}}</ref> | |||
=== আরব বিশ্ব === | |||
অধিকাংশ [[আরব বিশ্ব|আরব দেশের]] সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মৈত্রী সম্পর্ক থাকায় কিসিঞ্জারের পক্ষে তাদের যুদ্ধে যোগদানে আমন্ত্রণ জানানো সহজ ছিল। কিসিঞ্জার জর্ডানের রাজা [[হুসাইন, জর্ডানের রাজা|হুসাইন]] ও সৌদি আরবের বাদশাহ [[ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ]] উভয়ের কাছেই পত্র পাঠান। মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন জর্ডানকে দশটি [[লকহিড এফ-১০৪ স্টারফাইটার|এফ-১০৪]] যুদ্ধবিমান পাকিস্তানে পাঠানোর অনুমতি দেন এবং সেগুলো পূরণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।<ref name="Shalom" /> লেখক মার্টিন ব্যোম্যানের মতে, “পাকিস্তানি পাইলটদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সম্ভবত লিবিয়া থেকে আনা [[নর্থ্রপ এফ-৫|এফ-৫]] বিমান [[পাকিস্তান বিমান বাহিনী ঘাঁটি মুশাফ|সারগোদা বিমানঘাঁটিতে]] মোতায়েন করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুসারে সৌদি আরব থেকে আরও এফ-৫ নিয়ে আসা হয়।”<ref name="Pen and Sword, Bowman">{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ব্যোম্যান|প্রথমাংশ=মার্টিন|বছর=২০১৬|শিরোনাম=কোল্ড ওয়ার জেট কমব্যাট: এয়ার-টু-এয়ার জেট অপারেশনস ১৯৫০–১৯৭২|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=QleqCwAAQBAJ&pg=PA112|প্রকাশক=পেন অ্যান্ড সোর্ড|পৃষ্ঠা=১১২|আইএসবিএন=978-1-4738-7463-3}}</ref> | |||
লিবিয়ার স্বৈরশাসক [[মুয়াম্মর গাদ্দাফি|মুয়াম্মার গাদ্দাফি]] ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধের আগ্রাসনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে কঠিন ভাষায় একটি পত্র লেখেন। এই কারণে গাদ্দাফি সেই সময় পাকিস্তানিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।<ref name="THe News International">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|লেখক=নজর আব্বাস|শিরোনাম=Gaddafi is gone, long live Libya|ভাষা=ইংরেজি|ইউআরএল=https://www.thenews.com/Todays-News-2-64753-Gaddafi-is-gone-long-live-Libya|সংবাদপত্র=দ্য নিউজ ইন্টারন্যাশনাল|তারিখ=২৬ আগস্ট ২০১১|ইউআরএলের-অবস্থা=dead|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130809005813/http://www.thenews.com.pk/Todays-News-2-64753-Gaddafi-is-gone-long-live-Libya|আর্কাইভের-তারিখ=৯ আগস্ট ২০১৩|সংগ্রহের-তারিখ=৯ আগস্ট ২০১৩}}</ref> এই তিন দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য আরেকটি মিত্রদেশ পাকিস্তানকে [[ডসল্ট মিরেজ ৩|মিরেজ ৩]] যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে। তবে সিরিয়া, তিউনিসিয়া প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের ঘটনাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ওয়ার্ড|প্রথমাংশ=রিচার্ড এডমুন্ড|বছর=১৯৯২|শিরোনাম=ইন্ডিয়া’জ প্রো-আরব পলিসি: অ্যা স্টাডি ইন কনটিনুইটি|প্রকাশক=গ্রিনউড পাবলিশিং গ্রুপ|আইএসবিএন=9780275940867|পৃষ্ঠা=৮০|ভাষা=ইংরজি|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=5n359Tp2FRMC&q=%22Bangladesh+Syria%22&pg=PA80|সংগ্রহের-তারিখ=৪ মে ২০১৭}}</ref> | |||
=== ইরান === | |||
যুদ্ধের সময় ইরান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ায়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মুডিয়াম|প্রথমাংশ=পৃথ্বী রাম|বছর=১৯৯৪|শিরোনাম=ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=jiDYjw4gCzEC&pg=PA79|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ব্রিটিশ অ্যাকাডেমিক প্রেস|আইএসবিএন=978-1-85043-703-1|পৃষ্ঠা=৭৮–৭৯}}</ref> দেশটি পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে চিন্তিত ছিল। তাদের ভয় ছিল, যুদ্ধের ফলে পাকিস্তান [[বলকানীকরণ|খণ্ড খণ্ড হয়ে ভেঙে যাবে]] এবং ইরান চারদিক থেকে শত্রু বেষ্টিত হয়ে পড়বে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান পাকিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা অটুট রাখার জন্য পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফাইটার জেটগুলোকে তাদের দেশের ভেতরে আশ্রয় দেয় ও বিনামূল্যের জ্বালানি সরবরাহ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণের উপযোগী করে রাখে।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মুডিয়াম|প্রথমাংশ=পৃথ্বী রাম|বছর=১৯৯৪|শিরোনাম=ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=jiDYjw4gCzEC&pg=PA79|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ব্রিটিশ অ্যাকাডেমিক প্রেস|আইএসবিএন=978-1-85043-703-1|পৃষ্ঠা=৮০}}</ref> কিন্তু পাকিস্তান একতরফা যুদ্ধবিরতি ও আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলে ইরানের শাহ [[মোহাম্মদ রেজা পাহলভি]] [[ইসলামি প্রজাতন্ত্রী ইরানের সশস্ত্র বাহিনী|ইরানের সেনাবাহিনীকে]] প্রস্তুত করেন, যাতে অন্য কোনো দেশ পাকিস্তানের [[বেলুচিস্তান (পাকিস্তান)|বেলুচিস্তান প্রদেশ]] দখল করে নেওয়ার আগেই জোরপূর্বক পাকিস্তান আক্রমণ করে যেকোনো মূল্যে প্রদেশটিকে ইরানের [[সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশ|বেলুচিস্তান]] অংশের সাথে একীভূত করে নেওয়া যায়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মুডিয়াম|প্রথমাংশ=পৃথ্বী রাম|বছর=১৯৯৪|শিরোনাম=ইন্ডিয়া অ্যান্ড দ্য মিডল ইস্ট|ইউআরএল=https://books.google.com/books?id=jiDYjw4gCzEC&pg=PA79|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ব্রিটিশ অ্যাকাডেমিক প্রেস|আইএসবিএন=978-1-85043-703-1|পৃষ্ঠা=৭৯}}</ref> | |||
== জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে == | |||
{{মূল নিবন্ধ|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের শৈল্পিক চিত্রায়ন}} | |||
[[চিত্র:Jatiyo Smriti Soudho, concrete modernist monument and memorial gardens, at Savar near Dakar in central Bangladesh.jpg|থাম্ব|ডান|250px|ঢাকার সাভারে অবস্থিত [[জাতীয় স্মৃতিসৌধ]]। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও বেসামরিক ব্যক্তিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর জন্য এটি নির্মিত হয়।]] | |||
বাংলাদেশে এবং বিদেশে যুদ্ধের সময় থেকে [[বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ]] চিত্রিত অসংখ্য শিল্পকর্ম রয়েছে। [[কনসার্ট ফর বাংলাদেশ]] বিটলসের সদস্যদের দ্বারা সংগঠিত কনসার্টটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিবাদ সঙ্গীতের জন্য একটি বড় ঘটনা ছিল। [[স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র]] এর জন্য রেকর্ড করা এবং সম্প্রচারিত গানগুলিকে এখনও বাংলাদেশী প্রতিবাদ গানগুলির মধ্যে সেরা বলে মনে করা হয়। | |||
যুদ্ধের সময় নির্মিত চারটি তথ্যচিত্র হচ্ছে [[জহির রায়হান]] এর 'স্টপ জেনোসাইড' এবং 'এ স্টেট ইজ বোর্ন', [[বাবুল চৌধুরী|বাবুল চৌধুরীর]] 'ইনোসেন্ট মিলিয়নস', [[আলমগীর কবির|আলমগীর কবিরের]] 'মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত চলচ্চিত্র [[মুক্তিযোদ্ধা]] '- [[বাংলাদেশ]] এ তৈরি প্রথম চলচ্চিত্র, যেমনটি পূর্ব পাকিস্তানে বা ভারতে তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশের বড় বড় সংস্থাগুলিও ছিল। ''[[মুক্তির গান]]'' হল যুদ্ধের সময় লেয়ার লেভিনের ফুটেজ শটের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সবচেয়ে প্রশংসিত বাংলাদেশী ডকুমেন্টারি, এর নির্মাতা [[তারেক মাসুদ]] এবং [[ক্যাথরিন মাসুদ]]। পরিচালকরা দুটি ধারাবাহিকে চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন- ''স্বাধীনতার গল্প'' এবং 'নারীর কথা'। একই বিষয়ের উপর তাদের আরেকটি চলচ্চিত্র, '' [[মাটির ময়না]] '', কান চলচ্চিত্র উৎসবে FIPRESCII পুরস্কার জিতেছে। | |||
মুক্তিযুদ্ধে লিখিত বহু কবিতা ও উপন্যাস রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধের সময় শামসুর রহমানের বিখ্যাত কবিতা রয়েছে। এটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলাদেশী সাহিত্যের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত বিষয়। যুদ্ধ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিগুলি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্মৃতিস্তম্ভ। | |||
== আরও দেখুন == | |||
* [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ইসলাম]] | |||
* [[ভাগ করো ও শাসন করো]] | |||
* [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরত্বসূচক পদক]] | |||
* [[মুজিব বাহিনী]] | |||
* [[মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর]] | |||
* [[যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনসমূহ]] | |||
== টীকা == | |||
{{সূত্র তালিকা|group=টীকা}} | |||
== তথ্যসূত্র == | |||
{{সূত্র তালিকা|30em}} | |||
=== উৎস === | |||
{{সূত্র শুরু}} | |||
* {{loc}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সাজ্জাদ|প্রথমাংশ=তাজরিনা|শিরোনাম=প্লাইট অ্যান্ড ফেইট অব উইমেন ডিউরিং অ্যন্ড ফলোয়িং জেনোসাইড|ভাষা=ইংরেজি|বছর=২০১২|প্রকাশক=ট্রানসেকশন|আইএসবিএন=978-1412847599|পৃষ্ঠা=২১৯–২৪৮|সংস্করণ=পুনঃমূদ্রণ|সম্পাদক=স্যামুয়েল টটেন|অধ্যায়=দ্য পোস্ট-জেনোসাইডাল পিরিয়ড অ্যান্ড ইটস ইমপ্যাক্ট অন উইমেন}} | |||
* {{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=শারলাখ|প্রথমাংশ=লিসা|শিরোনাম=Rape as Genocide: Bangladesh, the Former Yugoslavia, and Rwanda|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=গণহত্যা হিসেবে ধর্ষণ: বাংলাদেশ, সাবেক যুগোস্লাভিয়া এবং রুয়ান্ডা|সাময়িকী=নিউ পলিটিক্যাল সায়েন্স|বছর=২০০০|খণ্ড=১|সংখ্যা নং=২২|ডিওআই=10.1080/713687893|পৃষ্ঠা=৮৯–১০২|s2cid=144966485}} | |||
{{সূত্র শেষ}} | |||
== আরও পড়ুন == | |||
<!-- গ্রন্থ ও প্রতিবেদনের শিরোনাম অনুযায়ী বিন্যাসকৃত --> | |||
=== গ্রন্থপঞ্জি === | |||
{{মূল তালিকা|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ বিষয়ক বইয়ের তালিকা}} | |||
{{সূত্র শুরু|3|indent=yes}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=রাঘবন|শেষাংশ=শ্রীনাথ|শিরোনাম=১৯৭১: অ্যা গ্লোবাল হিস্ট্রি অব দ্য ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস|বছর=২০১৩}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=জনসন|প্রথমাংশ=রব|শিরোনাম=অ্যা রিজিয়ন ইন টারময়েল|অবস্থান=নিউ ইয়র্ক ও লন্ডন|বছর=২০০৫}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ=সুস্যান|শেষাংশ=ব্রাউনমিলার|লেখক-সংযোগ=সুস্যান ব্রাউনমিলার|শিরোনাম=অ্যাগেইনস্ট আওয়ার উইল: মেন, উইমেন, অ্যান্ড রেইপ|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ব্যালেন্টাইন বুকস|বছর=১৯৯৩}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=সালিক|প্রথমাংশ=সিদ্দিক|শিরোনাম=উইটনেস টু সারেন্ডার|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস|অবস্থান=করাচি, পাকিস্তান|বছর=১৯৭৭}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শিরোনাম=ও জেনারেল মাই জেনারেল (লাইফ অ্যান্ড ওয়ার্কস অব জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী)|ভাষা=ইংরেজি|বছর=২০১০|শেষাংশ=রাজা|প্রথমাংশ=দেওয়ান মোহাম্মদ তাসাওয়ার|প্রকাশক=দি ওসমানী মেমোরিয়াল ট্রাস্ট|অবস্থান=ঢাকা, বাংলাদেশ|আইএসবিএন=978-984-8866-18-4}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=সিসন|প্রথমাংশ১=রিচার্ড|শেষাংশ২=রোজ|প্রথমাংশ২=লিও|শিরোনাম=ওয়ার অ্যান্ড সেকেশন: পাকিস্তান, ইন্ডিয়া, অ্যান্ড দ্য ক্রিয়েশন অব বাংলাদেশ|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া প্রেস|অবস্থান=বার্কেলি|বছর=১৯৯০}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ভার্গভ|প্রথমাংশ=জি. এস.|শিরোনাম=ক্রাশ ইন্ডিয়া অর পাকিস্তান’স ডেথ উইশ|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=আইএসএসডি|অবস্থান=নয়াদিল্লি|বছর=১৯৭২}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ভট্টাচার্য|প্রথমাংশ=এস. কে.|শিরোনাম=জেনোসাইড ইন ইস্ট পাকিস্তান/বাংলাদেশ: অ্যা হরর স্টোরি|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=এ. ঘোষ পাবলিশার্স|বছর=১৯৮৮}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মতিনউদ্দিন|প্রথমাংশ=জেনারেল কামাল|শিরোনাম=ট্র্যাজেডি অব এররস: ইস্ট পাকিস্তান ক্রাইসিস, ১৯৬৮–১৯৭১|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ওয়াজিদআলীস|অবস্থান=লাহোর, পাকিস্তান|বছর=১৯৯৪}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=রুমেল|প্রথমাংশ=আর জে|শিরোনাম=ডেথ বাই গভর্নমেন্ট|প্রকাশক=ট্রানসেকশন পাবলিশার্স|বছর=১৯৯৭}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=কুরেশী|প্রথমাংশ=মেজর জেনারেল হাকিম এরশাদ|শিরোনাম=দ্য ১৯৭১ ইন্দো-পাক ওয়ার, অ্যা সোলজার্স ন্যারেটিভ|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস|বছর=২০০২}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=মালিক|প্রথমাংশ=অমিতা|শিরোনাম=দ্য ইয়ার অব দ্য ভালচার|প্রকাশক=অরিয়েন্ট লংম্যানস|অবস্থান=নয়াদিল্লি|বছর=১৯৭২}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ব্লাড|প্রথমাংশ=আর্চার কে.|বছর=২০০৫|শিরোনাম=দ্য ক্রুয়েল বার্থ অব বাংলাদেশ: মেমোয়ের্স অব অ্যান আমেরিকান ডিপ্লোমেট|অবস্থান=ঢাকা|প্রকাশক=ইউনিভার্সিটি প্রেস}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=হিচেনস|প্রথমাংশ=ক্রিস্টোফার|শিরোনাম=দ্য ট্রায়ালস অব হেনরি কিসিঞ্জার|প্রকাশক=ভার্সো|ভাষা=ইংরেজি|বছর=২০০১|আইএসবিএন=1-85984-631-9}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=কাঞ্জিলাল|প্রথমাংশ=কালিদাস|শিরোনাম=দ্য পেরিশিং হিউম্যানিটি|প্রকাশক=সাহিত্য লোক|অবস্থান=কলকাতা|বছর=১৯৭৬}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=ব্যাস|প্রথমাংশ=গ্যারি জে|শিরোনাম=দ্য ব্লাড টেলিগ্রাম: নিক্সন, কিসিঞ্জার, অ্যান্ড অ্যা ফরগটেন জেনোসাইড|ইউআরএল=https://archive.org/details/bloodtelegramnix0000bass_u7p6|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ভিনটেজ|বছর=২০১৪|আইএসবিএন=0307744620}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=চৌধুরী|প্রথমাংশ=গোলাম ওয়াহেদ|বছর=১৯৯৪|প্রকৃত-বছর=প্রথম প্রকাশ ১৯৭৪|শিরোনাম=দ্য লাস্ট ডেইজ অব ইউনাইটেড পাকিস্তান|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ইউনিভার্সিটি প্রেস|অবস্থান=ঢাকা|আইএসবিএন=978-984-05-1242-3}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|প্রথমাংশ১=মোহাম্মদ|শেষাংশ১=আয়ুব|প্রথমাংশ২=কে.|শেষাংশ২=সুব্রহ্মণ্যম|লেখক-সংযোগ২=কে. সুব্রাহ্মণ্যম|শিরোনাম=দ্য লিবারেশন ওয়ার|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=এস. চাঁদ অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড|অবস্থান=নয়াদিল্লি|বছর=১৯৭২}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ=জহির|প্রথমাংশ=হাসান|শিরোনাম=দ্য সেপারেশন অব ইস্ট পাকিস্তান: দ্য রাইজ অ্যান্ড রিয়েলাইজেশন অব বেঙ্গলি মুসলিম ন্যাশনালিজম|প্রকাশক=অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটি প্রেস|ভাষা=ইংরেজি|বছর=১৯৯৪}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|প্রকাশক=তথ্য মন্ত্রণালয়, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার|শিরোনাম=বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র|খণ্ড=১–১৬}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=স্টিফেন|প্রথমাংশ১=পিয়েরে|শেষাংশ২=পেইন|প্রথমাংশ২=রবার্ট|শিরোনাম=ম্যাসাকর|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=ম্যাকমিলান|অবস্থান=নিউ ইয়র্ক|বছর=১৯৭৩|আইএসবিএন=0-02-595240-4}} | |||
* {{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=টটেন|প্রথমাংশ১=স্যামুয়েল|শেষাংশ২=অন্যান্য|শিরোনাম=সেঞ্চুরি অব জেনোসাইড: আইউইটনেস অ্যাকাউন্টস অ্যান্ড ক্রিটিক্যাল ভিউজ|প্রকাশক=গারল্যান্ড রেফারেন্স লাইব্রেরি|বছর=১৯৯৭}} | |||
{{সূত্র শেষ}} | |||
=== প্রতিবেদন === | |||
{{সূত্র শুরু|35em}} | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-43539979|শিরোনাম=বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: যে নিবন্ধ পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাস|সংবাদপত্র=বিবিসি বাংলা|তারিখ=২৬ মার্চ ২০১৮}} | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.rbth.com/articles/2011/12/20/1971_war_how_russia_sank_nixons_gunboat_diplomacy_14041|শিরোনাম=1971 War: How Russia sank Nixon's gunboat diplomacy|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=১৯৭১ যুদ্ধ: রাশিয়া যেভাবে নিক্সনের গানবোট কূটনীতি ডুবিয়ে দিয়েছিল|তারিখ=২০ ডিসেম্বর ২০১১|প্রথমাংশ=রাকেশ কৃষ্ণণ|শেষাংশ=সিংহ|সংবাদপত্র=রাশিয়া বেয়ন্ড}} | |||
* মুখার্জি, নয়নিকা, ''A Lot of History: Sexual Violence, Public Memories and the Bangladesh Liberation War of 1971'', (ইংরেজি ভাষায়) সামাজিক নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ডক্টর অব ফিলোসফির অভিসন্দর্ভ, স্কুল অব অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (এসওএএস), লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০২। | |||
* {{সাময়িকী উদ্ধৃতি|শেষাংশ=চৌধুরী|প্রথমাংশ=গোলাম ওয়াহেদ|লেখক-সংযোগ=গোলাম ওয়াহেদ চৌধুরী|তারিখ=এপ্রিল ১৯৭২|শিরোনাম=Bangladesh: Why It Happened|ভাষা=ইংরজি|অনূদিত-শিরোনাম=বাংলাদেশ: কেন এমন হলো|সাময়িকী=ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স|প্রকাশক=রয়েল ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্স|খণ্ড=৪৮|সংখ্যা নং=২|পৃষ্ঠা=২৪২–২৪৯|ডিওআই=10.2307/2613440|আইএসএসএন=0020-5850|jstor=2613440}} | |||
* মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, অফিস অব দ্য হিস্টোরিয়ান, [https://history.state.gov/historicaldocuments/frus1969-76v11 ''Foreign Relations of the United States, 1969–1976, Volume XI, South Asia Crisis, 1971''] (ইংরেজি ভাষায়) | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.observerbd.com/details.php?id=63378|শিরোনাম=Genocide Day: As it was in March 1971|ভাষা=ইংরেজি|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি অবজারভার|প্রথমাংশ=সৈয়দ বদরুল|শেষাংশ=আহসান|তারিখ=১৪ মার্চ ২০১৭|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ জানুয়ারি ২০২২}} | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.dawn.com/news/146732/sheikh-mujib-wanted-a-confederation-us-papers|শিরোনাম=Sheikh Mujib wanted a confederation: US papers|ভাষা=ইংরেজি|অনূদিত-শিরোনাম=শেখ মুজিব যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা চেয়েছিলেন: মার্কিন নথি|লেখক=আনোয়ার ইকবাল|প্রকাশক=ডন|তারিখ=৭ জুলাই ২০০৫}} | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://thefinancialexpress.com.bd/views/the-case-for-un-recognition-of-bangladesh-genocide|শিরোনাম=The case for UN recognition of Bangladesh genocide|ভাষা=ইংরেজি|প্রকাশক=দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস|প্রথমাংশ=শিহাব|শেষাংশ=সরকার|তারিখ=১৬ মার্চ ২০১৭|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ জানুয়ারি ২০২২}} | |||
* ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ, [http://www.gwu.edu/~nsarchiv/NSAEBB/NSAEBB79 The Tilt: the U.S. and the South Asian Crisis of 1971] (ইংরেজি ভাষায়) | |||
* {{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://archive.thedailystar.net/suppliments/2010/12/victory_day/facts.html|প্রথমাংশ=রশীদ|শেষাংশ=আস্কারি|শিরোনাম=Victory Day Special: Liberation War facts|ভাষা=ইংরেজি|তারিখ=১৬ ডিসেম্বর ২০১০|সংবাদপত্র=দ্য ডেইলি স্টার}} | |||
{{সূত্র শেষ}} | |||
== বহিঃসংযোগ == | |||
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী|Bangladesh Liberation War}} | |||
{{উইকিউক্তি}} | |||
{{প্রবেশদ্বার|বাংলাদেশ|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ}} | |||
* {{বাংলাপিডিয়া|মুক্তিযুদ্ধ}} | |||
* {{ইউটিউব|J0ahEuVbPpU|গীতা মেহতার ''ডেটলাইন বাংলাদেশ}} | |||
* [https://1971.prothomalo.com/ চিরন্তন ১৯৭১], প্রথম আলো | |||
* [https://www.thedailystar.net/freedom-in-the-air ফ্রিডম ইন দি এয়ার], দ্য ডেইলি স্টার | |||
* [https://www.genocidebangladesh.org/ বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ] | |||
* [http://www.gendercide.org/case_bangladesh.html বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তানের) গণহত্যা নিয়ে গবেষণা], জেন্ডারসাইড | |||
* {{ওয়েবসাইট|https://molwa.gov.bd/|মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়}}, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার | |||
* [https://www.liberationwarbangladesh.org/ মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ] | |||
* [http://www.liberationwarmuseumbd.org/ মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর] | |||
* [https://songramernotebook.com/ সংগ্রামের নোটবুক] | |||
{{-}} | |||
{{বাংলাদেশের স্বাধীনতা}} | |||
{{বাংলাদেশ বিষয়াবলী}} | |||
{{বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক}} | |||
{{বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক}} | |||
{{বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী}} | |||
{{পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী}} | |||
{{শেখ মুজিবুর রহমান}} | |||
{{স্নায়ুযুদ্ধ}} | |||
{{কর্তৃপক্ষ নিয়ন্ত্রণ}} | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ| ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:পাকিস্তান–বাংলাদেশ সম্পর্ক|যুদ্ধ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:পাকিস্তান জড়িত যুদ্ধ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:পাকিস্তানের ইতিহাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশ জড়িত যুদ্ধ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের ইতিহাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলার ইতিহাস]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:স্বাধীনতা যুদ্ধ]] | |||
০০:৫৬, ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
টেমপ্লেট:জন্য টেমপ্লেট:তথ্যছক সামরিক সংঘর্ষ টেমপ্লেট:বাংলাদেশের ইতিহাস
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ হলো ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে তৎকালীন পশ্চিম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানে সংঘটিত একটি বিপ্লব ও সশস্ত্র সংগ্রাম। পূর্ব পাকিস্তানে বাঙালি জাতীয়তাবাদের উত্থান ও স্বাধিকার আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় এবং বাঙালি গণহত্যার প্রেক্ষিতে এই জনযুদ্ধ সংঘটিত হয়।[১] যুদ্ধের ফলে স্বাধীন ও সার্বভৌম গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ রাষ্ট্রের অভ্যুদয় ঘটে। পশ্চিম পাকিস্তান-কেন্দ্রিক সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে পূর্ব পাকিস্তানের জনগণের বিরুদ্ধে অপারেশন সার্চলাইট পরিচালনা করে এবং নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা শুরু করে। এর মাধ্যমে জাতীয়তাবাদী সাধারণ বাঙালি নাগরিক, ছাত্র, শিক্ষক, বুদ্ধিজীবী, ধর্মীয় সংখ্যালঘু, পুলিশ ও ইপিআর কর্মকর্তাদের হত্যা করা হয়। সামরিক জান্তা সরকার ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের সাধারণ নির্বাচনের ফলাফলকে অস্বীকার করে এবং সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের নেতা শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পশ্চিম পাকিস্তানের আত্মসমর্পণের মাধ্যমে যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনের পর অচলাবস্থার প্রেক্ষিতে গণবিদ্রোহ দমনে পূর্ব পাকিস্তানব্যাপী শহর ও গ্রামাঞ্চলে ব্যাপক সামরিক অভিযান ও বিমানযুদ্ধ সংঘটিত হয়। পাকিস্তান সেনাবাহিনী অধিকাংশ ইসলামি দলগুলোর সমর্থন লাভ করে। সেনাবাহিনীর অভিযানে সহায়তার জন্য তারা বিভিন্ন দলের লোকজন বিশেষ করে পাকিস্তান সমর্থনকারী ইসলামী রাজনৈতিক দলের নেতা-কর্মী নিয়ে আধা-সামরিক বাহিনী— রাজাকার, আল বদর ও আল শামস বাহিনী গঠন করে।[২][৩][৪][৫][৬] পূর্ব পাকিস্তানের উর্দু-ভাষী বিহারিরাও সেনাবাহিনীকে সমর্থন করে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন পাকিস্তানি সৈন্য ও তাদের সহায়তাকারী আধা-সামরিক বাহিনী কর্তৃক গণহত্যা, উচ্ছেদ ও ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাজধানী ঢাকায় অপারেশন সার্চলাইট ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গণহত্যাসহ একাধিক গণহত্যা সংঘটিত হয়। প্রায় এক কোটি বাঙালি শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নেয় এবং আরও তিন কোটি মানুষ দেশের অভ্যন্তরে উদ্বাস্তু হয়।[৭] বাঙালি ও উর্দুভাষী জনগোষ্ঠীর মধ্যে দাঙ্গার সূত্রপাত হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানি বাহিনীর নৃশংসতাকে বুদ্ধিজীবীরা গণহত্যা হিসেবে আখ্যায়িত করে থাকেন।
বাঙালি সামরিক, আধা-সামরিক ও বেসামরিক নাগরিকদের সমন্বয়ে গঠিত মুক্তিবাহিনী চট্টগ্রাম থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাপত্র প্রচার করে।[টীকা ১][৮] ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্ট ও ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলস প্রাথমিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জেনারেল এম. এ. জি. ওসমানী ও ১১ জন সেক্টর কমান্ডারের নেতৃত্বে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি সেনাদের বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ পরিচালনা করে। তাদের তৎপরতায় যুদ্ধের প্রথম কয়েক মাসেই বেশকিছু শহর ও অঞ্চল মুক্তি লাভ করে। বর্ষাকালের শুরু থেকেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী আরও তৎপর হয়ে উঠতে থাকে। বাঙালি গেরিলা যোদ্ধারা নৌবাহিনীর ওপর অপারেশন জ্যাকপট সহ ব্যাপক আক্রমণ চালাতে থাকে। নবগঠিত বাংলাদেশ বিমান বাহিনী পাকিস্তানি ঘাঁটিগুলোর উপর বিমান হামলা চালাতে থাকে। নভেম্বরের মধ্যে মুক্তিবাহিনী পাকিস্তানি বাহিনীকে রাতের বেলায় ব্যারাকে আবদ্ধ করে ফেলে। একই সময়ের মধ্যে তারা শহরের বাইরে দেশের অধিকাংশ এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতেও সক্ষম হয়।[৯]
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে অস্থায়ী প্রবাসী বাংলাদেশ সরকার শপথ গ্রহণ করে এবং কলকাতা থেকে মুক্তিযুদ্ধ পরিচালনা করতে থাকে। তাই একে প্রবাসী সরকারও বলা হয়। বাঙালি সামরিক, বেসামরিক ও কূটনৈতিক ব্যক্তিবর্গ মুজিবনগর সরকারের পক্ষ অবলম্বন করে। পশ্চিম পাকিস্তানে বসবাসরত হাজার হাজার বাঙালি পরিবার আফগানিস্তানে পালিয়ে যায়। সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ গোপনে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র চালু করে। যুদ্ধে বাঙালি উদ্বাস্তুদের দুর্দশা বিশ্ববাসীকে চিন্তিত ও আতঙ্কিত করে। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশি নাগরিকদের প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করেন।[১০] ব্রিটেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের কয়েকজন সঙ্গীতজ্ঞ বাংলাদেশিদের সহায়তার জন্য নিউ ইয়র্কে তহবিল সংগ্রহের উদ্দেশ্যে বিশ্বের প্রথম কনসার্ট আয়োজন করেন। মার্কিন সিনেটর টেড কেনেডি পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কর্তৃক হত্যাযজ্ঞের বিরুদ্ধে মার্কিন কংগ্রেসে ক্যাম্পেইন শুরু করেন। অন্যদিকে ঢাকায় নিযুক্ত মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত আর্চার ব্লাড পাকিস্তানি স্বৈরশাসক ইয়াহিয়া খানের সাথে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের সুসম্পর্কের বিরোধিতা করেন।
উত্তর ভারতে পাকিস্তানের বিমান হামলার পর ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর ভারত আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধে যোগদান করে। ফলশ্রুতিতে পূর্ব ও পশ্চিম— দুই ফ্রন্টে আরেকটি ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের সূচনা ঘটে। উপর্যুপরি বিমান হামলা ও বাংলাদেশ-ভারত যৌথ বাহিনীর তৎপরতায় পাকিস্তানি সেনাবাহিনী কোণঠাসা হয়ে পড়ে। অবশেষে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর ঢাকায় পাকিস্তান সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের মাধ্যমে দীর্ঘ নয় মাসের এই যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে।
যুদ্ধের ফলে বিশ্বের সপ্তম-জনবহুল দেশ হিসেবে বাংলাদেশের উত্থান ঘটে, যা দক্ষিণ এশিয়ার ভূ-রাজনৈতিক দৃশ্যপট বদলে দেয়। জটিল আঞ্চলিক সম্পর্কের কারণে যুদ্ধটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন এবং গণপ্রজাতন্ত্রী চীনের মধ্যে চলমান স্নায়ুযুদ্ধের অন্যতম প্রধান পর্ব ছিল। জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্যরাষ্ট্র ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যেই বাংলাদেশকে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেয়।
প্রেক্ষাপট

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারত বিভাজনের আগে পূর্ব ও উত্তর-পশ্চিম ভারতের মুসলিম-প্রধান অঞ্চল নিয়ে আলাদা রাষ্ট্র গঠনের জন্য প্রস্তাব আনা হয়। বাংলার প্রধানমন্ত্রী হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী যুক্তবঙ্গ গঠনের প্রস্তাব দিলেও ঔপনিবেশিক শাসকেরা তা নাকচ করে দেয়। পূর্ব পাকিস্তান রেনেসাঁ সোসাইটি পূর্ব ভারতে আলাদা সার্বভৌম রাষ্ট্রের প্রস্তাব করে। সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ও বহু রাজনৈতিক আলোচনার পর ১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে ব্রিটিশরা ভারতের শাসনভার ত্যাগ করে এবং হিন্দু ও মুসলমান সংখ্যাগরিষ্ঠ রাষ্ট্র হিসেবে যথাক্রমে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুইটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। মুসলিম অধ্যুষিত বাংলার পূর্ব অংশ পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্ত হয়।[১১] ভারত প্রজাতন্ত্র দ্বারা বিভক্ত নবগঠিত পাকিস্তান অধিরাজ্যের পূর্ব ও পশ্চিম দুইটি অংশের ভৌগোলিক দূরত্ব ছিল দুই হাজার মাইলের অধিক।[১২] দুই অংশের মানুষের মধ্যে কেবল ধর্মে মিল থাকলেও, জীবনযাত্রা ও সংস্কৃতিতে প্রচুর অমিল ছিল। পাকিস্তানের পশ্চিম অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে (পরে আনুষ্ঠানিকভাবে) “পশ্চিম পাকিস্তান” এবং পূর্ব অংশ প্রথম দিকে “পূর্ব বাংলা” ও পরবর্তীতে “পূর্ব পাকিস্তান” হিসেবে অভিহিত হতে থাকে। পাকিস্তানের দুই অংশের জনসংখ্যা প্রায় সমান হওয়া সত্ত্বেও, রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তানে কেন্দ্রীভূত হতে থাকে। পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে ধারণা জন্মাতে থাকে যে, অর্থনৈতিকভাবে তাদের বঞ্চিত করা হচ্ছে, এবং এরকম বিভিন্ন কারণে অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। ভৌগোলিকভাবে বিচ্ছিন্ন দুইটি অঞ্চলের প্রশাসন নিয়েও মতানৈক্য দেখা দেয়।[১৩] ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানকেন্দ্রিক রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ জয়ী হলেও, পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী তা মেনে নেয়নি। এর ফলস্বরূপ পূর্ব পাকিস্তানে সৃষ্ট রাজনৈতিক অসন্তোষ ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদ অবদমনে পশ্চিম পাকিস্তানি শাসকেরা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে নৃশংস গণহত্যা[১৪][১৫] আরম্ভ করে, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।[১৬] পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নির্মম আক্রমণের পর[১৭] ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে আওয়ামী লীগ নেতা শেখ মুজিবুর রহমান পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।[১৮] অধিকাংশ বাঙালি স্বাধীনতার ঘোষণাকে সমর্থন করলেও, কিছু ইসলামপন্থী ব্যক্তিবর্গ ও পূর্ব পাকিস্তানে বসবাসরত বিহারিরা এর বিরোধিতা করে এবং পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পক্ষ অবলম্বন করে।[১৯] পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আগা মোহাম্মদ ইয়াহিয়া খান সেনাবাহিনীকে দেশের পূর্ব অংশে পাকিস্তানের নিয়ন্ত্রণ পুনর্প্রতিষ্ঠার নির্দেশ দেন, যার ফলে কার্যত গৃহযুদ্ধের সূচনা ঘটে।[১৮] যুদ্ধের ফলে প্রায় এক কোটি মানুষ[২০][২১] ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যসমূহে শরণার্থী হিসেবে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়।[২২] ক্রমবর্ধমান মানবিক ও অর্থনৈতিক সংকটের মুখে ভারত মুক্তিবাহিনীর সহযোগিতায় ও এর গঠনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করতে থাকে।
দেশভাগ

রাষ্ট্রভাষা বিতর্ক

১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের গভর্নর জেনারেল মুহাম্মদ আলী জিন্নাহ ঘোষণা করেন যে: টেমপ্লেট:উক্তি ২
তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়া হিসেবে বাঙালিরা এই ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষুব্ধ প্রতিবাদ জানায়। ঐতিহাসিকভাবে উর্দু শুধুমাত্র ভারতীয় উপমহাদেশের উত্তর, মধ্য ও পশ্চিমাঞ্চলে প্রচলিত ছিল। অন্যদিকে উপমহাদেশের পূর্ব অংশের মানুষের প্রধান ভাষা ছিল বাংলা।[২৩] পাকিস্তানের ৫৬% জনসংখ্যার মাতৃভাষা ছিল বাংলা।[২৪][২৫] পাকিস্তান সরকারের এই পদক্ষেপ পূর্ব বাংলার সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি বৈষম্য হিসেবে দেখা হতে থাকে। পূর্ব বাংলার মানুষ উর্দু ও ইংরেজির পাশাপাশি বাংলাকেও রাষ্ট্রভাষা করার দাবি জানাতে থাকে। ব্রিটিশ ভারতের সময় থেকে মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা লেখা থাকলেও, পাকিস্তানের মুদ্রা ও ডাকটিকিটে বাংলা লেখা না থাকায় বাঙালিরা এর প্রতিবাদ জানায়। এর মাধ্যমে ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দেই বাংলা ভাষা আন্দোলনের সূচনা ঘটে। চূড়ান্ত পর্যায়ে ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারি আন্দোলন তীব্র রূপ লাভ করে। এদিন বিক্ষোভ মিছিলে পুলিশের গুলিতে সালাম, বরকত, রফিক, জব্বারসহ কয়েকজন ছাত্র ও সাধারণ মানুষ নিহত হন। তীব্র আন্দোলনের ফলে ১৯৫৬ খ্রিষ্টাব্দে সরকার বাংলাকে পাকিস্তানের অন্যতম রাষ্ট্রভাষার স্বীকৃতি দিতে বাধ্য হয়। বাংলাদেশে ২১শে ফেব্রুয়ারি দিনটি শহীদ দিবস হিসেবে পালিত হয়। পরবর্তীতে, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ই নভেম্বর জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) ১৯৫২ খ্রিষ্টাব্দের ২১শে ফেব্রুয়ারির শহিদদের স্মরণে দিনটিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করে।[২৬]
বৈষম্য
পাকিস্তানের পূর্ব অংশে সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠী থাকলেও, দ্বিধাবিভক্ত দেশটিতে পশ্চিম অংশ রাজনৈতিকভাবে আধিপত্য বিস্তার করছিল; এমনকি পাকিস্তানের মোট অর্থবরাদ্দ থেকেও পশ্চিম অংশ বেশি অর্থ পাচ্ছিল।
| বছর | পশ্চিম পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (মিলিয়ন রুপিতে) | পূর্ব পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (মিলিয়ন রুপিতে) | পশ্চিম পাকিস্তানের তুলনায় পূর্ব পাকিস্তানে কৃত ব্যয় (শতকরা হিসাবে) |
|---|---|---|---|
| ১৯৫০–৫৫ | ১১,২৯০ | ৫,২৪০ | ৪৬.৪ |
| ১৯৫৫–৬০ | ১৬,৫৫০ | ৫,২৪০ | ৩১.৭ |
| ১৯৬০–৬৫ | ৩৩,৫৫০ | ১৪,০৪০ | ৪১.৮ |
| ১৯৬৫–৭০ | ৫১,৯৫০ | ২১,৪১০ | ৪১.২ |
| মোট | ১,১৩,৩৪০ | ৪৫,৯৩০ | ৪০.৫ |
| উৎস: ১৯৭০-৭৫ অর্থবছরের চতুর্থ পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার জন্য উপদেষ্টা প্যানেলসমূহের প্রতিবেদনমালা, প্রথম খণ্ড, পাকিস্তান পরিকল্পনা কমিশন কর্তৃক প্রকাশিত। | |||
পাকিস্তান সৃষ্টির আগে থেকেই পূর্ব বাংলা অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর ছিল। পাকিস্তান শাসনামলে এই অনগ্রসরতা আরও বৃদ্ধি পায়। কেন্দ্রীয় সরকারের ইচ্ছাকৃত রাষ্ট্রীয় বৈষম্যই কেবলমাত্র এর পেছনে দায়ী ছিল না। পশ্চিম অংশে দেশের রাজধানী, দেশভাগের ফলে সেখানে অভিবাসী ব্যবসায়ীদের সংখ্যাধিক্য প্রভৃতিও পশ্চিম পাকিস্তানে সরকারের অধিক বরাদ্দকে প্রভাবিত করেছিল। বিনিয়োগের জন্য স্থানীয় ব্যবসায়ীর অভাব, শ্রমিকদের মধ্যে অস্থিরতা, রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা প্রভৃতি কারণেও পূর্ব পাকিস্তানে বিদেশি বিনিয়োগ তুলনামূলক কম ছিল। এছাড়া পাকিস্তান রাষ্ট্রের অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নগর শিল্পের দিকে কেন্দ্রীভূত ছিল, যা পূর্ব পাকিস্তানের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছিল না।[২৭] ১৯৪৮ থেকে ১৯৬০ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে পাকিস্তানের মোট রপ্তানি আয়ের ৭০% এসেছিল পূর্ব পাকিস্তানের রপ্তানি থেকে; তাসত্ত্বেও, পূর্ব পাকিস্তান উক্ত অর্থের মাত্র ২৫% বরাদ্দ পেয়েছিল। এই সময়ের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের শিল্প প্রতিষ্ঠান কমতে থাকে, অথবা পশ্চিমে স্থানান্তরিত হতে থাকে। ১৯৪৮ খ্রিষ্টাব্দে পূর্ব পাকিস্তানে ১১টি পোশাক কারখানা ছিল, পশ্চিম পাকিস্তানের ছিল নয়টি। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে পশ্চিম অংশে পোশাক কারখানার সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ১৫০টিতে, যেখানে পূর্ব অংশের কারখানার সংখ্যা দাঁড়ায় মাত্র ২৬টিতে। পাশাপাশি, এই সময়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার মূল্যমানের সম্পদ পূর্ব পাকিস্তান থেকে পশ্চিম পাকিস্তানে পাচার হয়ে যায়।[২৮]
পাকিস্তানের সেনাবাহিনীতেও পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা সংখ্যালঘু ছিল। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে সশস্ত্র বাহিনীর বিভিন্ন শাখায় বাঙালি বংশোদ্ভূত অফিসার ছিলেন মাত্র ৫%। এর মধ্যেও কয়েকজনমাত্র কমান্ডে ছিলেন; বাকিরা ছিলেন কারিগরি কিংবা প্রশাসনিক পদে।[২৯] পশ্চিম পাকিস্তানিরা বাঙালিদের “দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক” মনে করত।[৩০] তারা ভাবত, পাঞ্জাবি ও পাঠানদের মতো বাঙালিদের লড়াই করার ক্ষমতা নেই।[৩০] “যোদ্ধা জাতি” বা “মার্শাল রেস”-এর জাতিগত যোগ্যতার বিষয়টি বাঙালিরা হাস্যকর ও অপমানজনক বলে উড়িয়ে দিয়েছিল।[২৯] তদুপরি, বিশাল প্রতিরক্ষা ব্যয় সত্ত্বেও পূর্ব পাকিস্তান ক্রয়, চুক্তি ও সামরিক সহায়তামূলক চাকরির মতো কোনও সুবিধা পাচ্ছিল না। ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দে কাশ্মীর নিয়ে সংঘটিত পাক-ভারত যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানিরা সামরিকভাবে নিরাপত্তাহীনতা অনুভব করে। যুদ্ধের সময় ভারতীয় আক্রমণ ঠেকানোর জন্য একমাত্র নিম্নশক্তিসম্পন্ন পদাতিক বিভাগ বিদ্যমান ছিল। এছাড়া ১৫টি কমব্যাট যুদ্ধবিমান কোন ট্যাঙ্কের সমর্থন ছাড়াই অনিরাপদভাবে পূর্ব পাকিস্তানে রাখা ছিল।[৩১][৩২] ১৯৬৫ খ্রিষ্টাব্দের যুদ্ধে পূর্ব পাকিস্তানের সীমান্ত এতটাই অরক্ষিত ছিল যে, ভারত চাইলে খুব সহজেই, প্রায় বিনা বাধায় পূর্ব পাকিস্তান দখল করে নিতে পারতো। এ ঘটনায় পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা ধরে নিয়েছিল যে, পাকিস্তানিরা শাসকেরা দেশের পূর্ব অংশের চেয়ে কাশ্মীরকে নিজেদের অংশ হিসেবে বেশি গুরুত্ব দেয়; এমনকি কাশ্মীরকে পাওয়ার জন্য তারা পূর্ব পাকিস্তানকে হুমকির মুখে ফেলে দিতে কিংবা হাতছাড়া করতেও রাজি আছে।টেমপ্লেট:সূত্র প্রয়োজন
আদর্শিক ও সাংস্কৃতিক পার্থক্য

১৯৪৭ খ্রিষ্টাব্দে ভারতভাগের সময় পূর্ব বাংলার মুসলিম জনগণ পাকিস্তানের ইসলামি ভাবমূর্তির সাথে একাত্মতা অনুভব করে। কিন্তু পাকিস্তান সৃষ্টির পর, পূর্ব বাংলার জনগণ ক্রমে দ্বিজাতিতত্ত্বের ভিত্তিতে পাকিস্তান রাষ্ট্র গঠনের মূলনীতিগুলোকে পূর্ব বাংলার সার্বজনীন নাগরিক তথা রাজনৈতিক অধিকার এবং আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার ক্ষেত্রে সাংঘর্ষিক বলে অনুভব করতে থাকে[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন এবং ১৯৭০ খ্রিস্টাব্দ নাগাদ পূর্ব পাকিস্তানিরা তাদের মুসলমান পরিচয়ের চেয়ে বাঙালি জাতিসত্ত্বার পরিচয়কে অধিক গুরুত্ব দিতে থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন তারা পাকিস্তানের ধর্মীয় ভাবধারার বিপরীতে ধর্মনিরপেক্ষতা, গণতন্ত্র ও সমাজতন্ত্র প্রভৃতি পাশ্চাত্য মূলনীতির সমন্বয়ে একটি সমাজ কামনা করতে থাকে।[৩৩] অনেক বাঙালি মুসলমান পাকিস্তানের চাপিয়ে দেওয়া ইসলামি ভাবমূর্তির বিরুদ্ধে তীব্র আপত্তি জানায়।[৩৪] পাকিস্তানের অভিজাত শাসকশ্রেণির অধিকাংশও উদারপন্থী সমাজব্যবস্থার পক্ষপাতী ছিলেন। কিন্তু পাকিস্তানের জন্ম ও বহুমাত্রিক আঞ্চলিক পরিচয়কে একক জাতীয় পরিচয়ে রূপান্তরের জন্য সাধারণ মুসলমান পরিচয়কে তারা প্রধান নিয়ামক বলে মনে করতেন।[৩৪] পশ্চিম পাকিস্তানের অধিবাসীরা পূর্ব পাকিস্তানিদের তুলনায় পাকিস্তানের ইসলামি রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রতি অধিক আস্থাশীল ছিলেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের পরও তাদের সেই আস্থা অক্ষুণ্ণ থাকে।[৩৫]
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পার্থক্য পাকিস্তানের ধর্মীয় ঐক্যের গুরুত্বকে ছাপিয়ে যায়। বাঙালিরা তাদের সংস্কৃতি, ভাষা, বর্ণমালা ও শব্দসম্ভার নিয়ে গর্ববোধ করত। পাকিস্তানের অভিজাত শ্রেণির ধারণা ছিল, বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতিতে হিন্দুয়ানির প্রভাব লক্ষণীয়। এই কারণে তাদের কাছে বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতির গ্রহণযোগ্যতা ছিল না।[৩৩][৩৬] পশ্চিম পাকিস্তানিরা পূর্ব পাকিস্তানের ইসলামিকীকরণের উদ্যোগ হিসেবে চাইছিল, পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরাও উর্দুকে তাদের ভাষা হিসেবে গ্রহণ করুক।[৩৩] কিন্তু ভাষা আন্দোলন বাঙালিদের মধ্যে পাকিস্তানের সাম্প্রদায়িকতার বিপক্ষে ও ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির সপক্ষে একটি আবেগের জন্ম দেয়।[৩৭] এরই মাঝে আওয়ামী লীগ নিজস্ব প্রচারপত্রের মাধ্যমে বাঙালি পাঠকদের মধ্যে সংগঠনটির ধর্মনিরপেক্ষতার বার্তা প্রচার করতে শুরু করে।[৩৮]
ধর্মনিরপেক্ষতার প্রতি গুরুত্বারোপ আওয়ামী লীগকে মুসলিম লীগ থেকে পৃথক করে দেয়।[৩৯] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে ধর্মনিরপেক্ষ নেতারাই পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামকে পরিচালনা করেন।[৪০] ধর্মনিরপেক্ষতাবাদীরা বাংলাদেশের বিজয়কে ধর্মকেন্দ্রিক পাকিস্তানি জাতীয়তাবাদের বিরুদ্ধে ধর্মনিরপেক্ষ বাঙালি জাতীয়তাবাদের বিজয় হিসেবে অভিহিত করেন।[৪১] একটি ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম হয়, যেখানে পাকিস্তান সরকার তখনও ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় হিমশিম খাচ্ছিল।[৩৫] স্বাধীনতার পর আওয়ামী লীগ সরকার ধর্মনিরপেক্ষতাকে রাষ্ট্র পরিচালনার অন্যতম মূলনীতি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করে[৪২] এবং পাকিস্তানপন্থী ইসলামি রাজনৈতিক দলগুলোকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে।[৪৩] পূর্ব পাকিস্তানের উলামাবৃন্দ পাকিস্তানের ভাঙনকে ইসলামের জন্য ক্ষতিকারক হিসেবে দেখতেন। তাই স্বাধীনতার প্রশ্নে হয় তারা নিরপেক্ষতা অবলম্বন করেছেন, অন্যথায় পাকিস্তানের পক্ষাবলম্বন করেছিলেন।[৪৪]
রাজনৈতিক পার্থক্য
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা পাকিস্তানে সংখ্যাগরিষ্ঠ হওয়া সত্ত্বেও[৪৫] দেশের রাজনৈতিক ক্ষমতা পশ্চিম পাকিস্তান কুক্ষিগত করে রাখে। জনসংখ্যার ভিত্তিতে ক্ষমতার বণ্টন পূর্ব পাকিস্তানের অনুকূলে যাওয়ায় “এক ইউনিট” নামে একটি অভিনব ধারণার সূত্রপাত করে, যেখানে সমগ্র পশ্চিম পাকিস্তান একটিমাত্র প্রশাসনিক একক হিসেবে বিবেচিত হবে। এর একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল পূর্ব পাকিস্তানের ভোটের ভারসাম্য আনা।
১৯৫১ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রথম প্রধানমন্ত্রী লিয়াকত আলি খানের হত্যাকাণ্ডের পর পাকিস্তানের প্রশাসনিক ক্ষমতা গভর্নর জেনারেল, রাষ্ট্রপতি ও পরবর্তীকালে সেনাবাহিনীর হাতে স্থানান্তরিত হয়। রাষ্ট্রপতি চালিত কেন্দ্রীয় সরকার নামেমাত্র নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তথা সরকারের প্রধান নির্বাহীদের পদচ্যুত করতে থাকে।
পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিরা প্রত্যক্ষ করে যে, পূর্ব পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন সময়ে খাজা নাজিমুদ্দিন, মোহাম্মদ আলী বগুড়া, হোসেন শহীদ সোহ্রাওয়ার্দী প্রমুখ পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হলেও, পশ্চিম পাকিস্তানি রাষ্ট্রযন্ত্র তাদের বিভিন্ন অজুহাতে পদচ্যুত করতে থাকে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার পর থেকেই শাসনের নামে ষড়যন্ত্র শুরু হয়; আর এই ষড়যন্ত্রে মূল ভূমিকা পালন করে সামরিক বাহিনী। নানা টালবাহানার পর ১৯৫৮ খ্রিষ্টাব্দে সামরিক শাসন জারি হওয়ার পর পশ্চিম পাকিস্তানি দুই স্বৈরশাসক আইয়ুব খান (২৭ অক্টোবর ১৯৫৮ – ২৫ মার্চ ১৯৬৯) ও ইয়াহিয়া খানের আমলে (২৫ মার্চ ১৯৬৯ – ২০ ডিসেম্বর ১৯৭১) সন্দেহ আরও দানা বাঁধে। পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক শাসকদের এই অনৈতিক ক্ষমতা দখল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যে দূরত্ব বাড়িয়েই চলে।
১৯৭০-এর ঘূর্ণিঝড়ের প্রতিক্রিয়া
১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ১২ই নভেম্বর বিকেলে একটি প্রলয়ঙ্করী ঘূর্ণিঝড় পূর্ব পাকিস্তানের ভোলা উপকূলে আঘাত হানে। স্থানীয় জোয়ার ও ঘূর্ণিঝড়ের আঘাত হানার সময় যুগপৎ হওয়ায়[৪৬] প্রায় ৩ লক্ষ থেকে ৫ লক্ষ মানুষের মৃত্যু হয়। ঘূর্ণিঝড়ে প্রকৃত নিহতের সংখ্যা জানা না গেলেও, এই ঘূর্ণিঝড়কে ইতিহাসের ভয়াবহতম ঘূর্ণিঝড় হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।[৪৭] ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ সত্ত্বেও কেন্দ্রীয় সরকার ত্রাণকার্যে গড়িমসি করতে থাকে। এতে খাবার ও পানির অভাবে অনেক মানুষ মারা যায়। ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার এক সপ্তাহ পর রাষ্ট্রপতি ইয়াহিয়া খান স্বীকার করেন যে, সরকার ঘূর্ণিঝড়ের ভয়াবহতা বুঝতে না পারার কারণেই ত্রাণকার্য সঠিকভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয়নি।[৪৮]
ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার দশ দিন পর পূর্ব পাকিস্তানের এগারো নেতার বিবৃতিতে প্রাণহানির জন্য সরকারের প্রতি “অপরাধমূলক অবহেলা ও বৈষম্য এবং সচেতনভাবে মানুষ মারার” অভিযোগ করা হয়। তারা সংবাদে বিপর্যয়ের ভয়াবহতা প্রচার না করার জন্যও রাষ্ট্রপতিকে অভিযুক্ত করেন।[৪৯] সরকারের ধীরগতির প্রতিক্রিয়ায় ক্ষুব্ধ ছাত্ররা ১৯শে নভেম্বর ঢাকায় মিছিল করেন।[৫০] ২৪শে নভেম্বর আবদুল হামিদ খান ভাসানী প্রায় ৫০,০০০ মানুষ নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন এবং রাষ্ট্রপতির অক্ষমতার অভিযোগ তোলেন এবং অবিলম্বে তার পদত্যাগের দাবি জানান।
মার্চ থেকে পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের মধ্যকার ক্রমবর্ধমান উত্তেজনায় ত্রাণকার্যে জড়িত ঢাকার দুইটি সরকারি প্রতিষ্ঠান অন্তত দুই সপ্তাহের জন্য বন্ধ ছিল। প্রথমবার হরতাল ডাকায় সাময়িক বন্ধ থাকার পর, আওয়ামী লীগের ডাকা অসহযোগে ত্রাণকার্য আরও বিলম্বিত হয়। উত্তেজনা বাড়তে থাকায় ক্রমান্বয়ে ঘূর্ণিঝড় উপদ্রুত স্থান থেকে বিদেশি কর্মকর্তাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। মাঠপর্যায়ে ত্রাণকার্য সচল থাকলেও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার অভাবে তা সীমিত হয়ে পড়ে।[৫১] এই সংঘাত শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার দিকে ধাবিত করে। ১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দের ভোলা ঘূর্ণিঝড়কে “পাকিস্তানের প্রতি বাঙালিদের বিশ্বাসে কফিনে শেষ পেরেক” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয় এবং ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একটি প্রাকৃতিক দুর্যোগ একটি দেশের গৃহযুদ্ধের কারণ হয়ে দাঁড়ায়।[৫২]
১৯৭০-এর নির্বাচন

১৯৭০ খ্রিষ্টাব্দে পাকিস্তানের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে পূর্ব পাকিস্তানের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করলে পাকিস্তানের রাজনৈতিক পরিস্থিতি চূড়ান্ত নাটকীয়তা লাভ করে। দলটি পূর্ব পাকিস্তানের জন্য বরাদ্দকৃত ১৬৯টি আসনের মধ্যে ১৬৭টি আসনেই বিজয়ী হয়। এর ফলে পশ্চিম পাকিস্তানে কোনো আসন না পেয়েও আওয়ামী লীগ ৩১৩ আসনবিশিষ্ট জাতীয় পরিষদে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে এবং সরকার গঠনের সাংবিধানিক অধিকার লাভ করে। কিন্তু নির্বাচনে দ্বিতীয় সংখ্যাগরিষ্ঠ দল পাকিস্তান পিপলস পার্টির নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টো (সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী) শেখ মুজিবের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার বিরোধিতা করেন।[৫৩] এর পরিবর্তে তিনি পাকিস্তানের দুই অংশের জন্য দুইজন প্রধানমন্ত্রীর প্রস্তাব করেন। “এক ইউনিট কাঠামো” নিয়ে ক্ষুব্ধ পূর্ব পাকিস্তানের মানুষের মধ্যে এরূপ অভিনব প্রস্তাব নতুন করে ক্ষোভের সঞ্চার করে। ভুট্টো শেখ মুজিবুর রহমানের ছয় দফা প্রত্যাখ্যান করেন। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১লা মার্চ রাষ্ট্রীয় ঘোষণায় ইয়াহিয়া খান ৩রা মার্চ অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় পরিষদের অধিবেশন স্থগিত ঘোষণা করেন। ৩রা মার্চ রাষ্ট্রপতি জেনারেল ইয়াহিয়া খানসহ দুই প্রদেশের দুই নেতা দেশটির ভবিষ্যৎ নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে ঢাকায় সাক্ষাৎ করেন। এই আলোচনায় কোনো সন্তোষজনক ফলাফল না আসায় শেখ মুজিবুর রহমান দেশব্যাপী হরতাল আহ্বান করেন এবং অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেন। ভুট্টো গৃহযুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার আশঙ্কা করেন, ফলস্বরূপ তিনি তার বিশ্বস্ত সঙ্গী মুবাশির হাসানকে পাঠান।[৫৩] ভুট্টোর পক্ষ থেকে একটি বার্তা পাঠানো হয় এবং শেখ মুজিবুর রহমান ভুট্টোর সাথে দেখা করার সিদ্ধান্ত নেন।[৫৩] ভুট্টোর ঢাকায় আগমনের পর শেখ মুজিবুর রহমান তার সাথে দেখা করেন। এই সময়ে শেখ মুজিবকে প্রধানমন্ত্রী ও ভুট্টোকে রাষ্ট্রপতি করে সম্মিলিত সরকার গঠনে দুজনেই সম্মত হয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়।[৫৩] কিন্তু ৫ই মার্চ প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে শেখ মুজিব তা অস্বীকার করেন।[৫৪] তবে সেনাবাহিনী এসব ব্যাপারে অজ্ঞাত ছিল এবং সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর জন্য ভুট্টো রহমানের উপর চাপ বৃদ্ধি করেন।[৫৩]
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৭ই মার্চ শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকার রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমানে সোহ্রাওয়ার্দী উদ্যান) এক ঐতিহাসিক ভাষণ প্রদান করেন। ভাষণে তিনি ২৫ মার্চের অধিবেশনের পূর্বেই বাস্তবায়নের জন্য আরও চার দফা দাবি পেশ করেন:
- অবিলম্বে সামরিক আইন প্রত্যাহার করতে হবে;
- অবিলম্বে সেনাবাহিনীকে ব্যারাকে ফিরিয়ে নিতে হবে;
- গণহত্যার তদন্ত করতে হবে;
- নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের কাছে অবিলম্বে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে।
শেখ মুজিব তার ভাষণে বাংলার “ঘরে ঘরে দুর্গ” গড়ে তোলার আহ্বান জানান। ভাষণের শেষে শেখ মুজিব বলেন, “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” এই ভাষণটিই মূলত বাঙালিদের স্বাধীনতার মন্ত্রে উজ্জীবিত করে।
মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক
ইয়াহিয়া খান ঢাকায় এসে শেখ মুজিবের সঙ্গে সরকার গঠন ও ক্ষমতা হস্তান্তরের ব্যাপারে আলোচনা শুরু করেন। কিন্তু একই সঙ্গে সামরিক বাহিনী পূর্ব পাকিস্তানে সশস্ত্র অভিযান চালানোর পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করতে থাকে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসের ১০ থেকে ১৩ তারিখ পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারলাইন্স পূর্ব পাকিস্তানে “সরকারি যাত্রী” বহনের জন্য জরুরি ভিত্তিতে তাদের সমস্ত আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বাতিল করে। এই “সরকারি যাত্রী”রা ছিলেন মূলত সাদা পোশাকে সেনাবাহিনীর সদস্যরা। পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর পদে অধিষ্ঠানের জন্য জেনারেল টিক্কা খানকে ঢাকায় নিয়ে আসা হয়। কিন্তু বিচারপতি সিদ্দিকসহ পূর্ব পাকিস্তানের কোনো বিচারপতি তার শপথ পাঠ করাতে রাজি হননি। পাকিস্তান নৌবাহিনীর অস্ত্র ও গোলাবারুদ বোঝাই জাহাজ এমভি সোয়াত চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছায়। কিন্তু বন্দরের বাঙালি কর্মী ও নাবিকেরা জাহাজ থেকে মালামাল খালাস করতে অস্বীকার করে। ইস্ট পাকিস্তান রাইফেলসের এক দল বাঙালি সৈন্য বিদ্রোহ শুরু করে এবং বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালাতে অস্বীকার করে। অনেক আশা সত্ত্বেও মুজিব-ইয়াহিয়া বৈঠক সফল হয়নি। সুখরঞ্জন দাসগুপ্তের মতে, শেখ মুজিবুর রহমান ও আওয়ামী লীগের প্রধান চার নেতা পরিকল্পনা করেছিলেন যে, ক্ষমতা হাতে পাওয়ার পরপরই সংসদে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রস্তাব পাশের মাধ্যমে বৈধ আইনগত প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশের স্বায়ত্তশাসন প্রতিষ্ঠিত করবেন। কিন্তু খন্দকার মোশতাক আহমেদ তা গোপনে ভুট্টোকে জানিয়ে দেন, যার কারণে ভুট্টো ক্ষমতা হস্তান্তর না করে অপারেশন সার্চলাইটের গোপন পরিকল্পনা করতে থাকেন।[৫৫] ২৫শে মার্চ ইয়াহিয়া খান পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে সশস্ত্র অপারেশনের গোপন সংকেত প্রদান করে সন্ধ্যায় গোপনে পূর্ব পাকিস্তান ত্যাগ করেন।
অপারেশন সার্চলাইট
টেমপ্লেট:মূল নিবন্ধ টেমপ্লেট:Multiple image
বাঙালি জাতীয়তাবাদী স্বাধিকার আন্দোলনকে অবদমিত করতে পাকিস্তান সেনাবাহিনী ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ রাতে ঢাকায় গণহত্যা শুরু করে, যা অপারেশন সার্চলাইট নামে পরিচিত।[১৬] অপারেশনের উদ্দেশ্য ছিল ২৬শে মার্চের মধ্যে প্রধান প্রধান শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেওয়া এবং পরবর্তী এক মাসের মধ্যে রাজনৈতিক ও সামরিক প্রতিপক্ষদের নিশ্চিহ্ন করা।[৫৬] পাকিস্তান সরকার মার্চের শুরু থেকে পূর্ব পাকিস্তানে চলমান বিহারী-বিরোধী দাঙ্গা প্রশমনে অপারেশন সার্চলাইট শুরু করেছিল বলে দাবি করে।[৫৭]
মে মাসের মাঝামাঝি বাঙালিদের হাত থেকে অধিকাংশ শহর দখল করার মাধ্যমে অপারেশন সার্চলাইটের প্রধান অংশের সমাপ্তি ঘটে। এই অপারেশনকে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের গণহত্যার প্রারম্ভ হিসেবেও চিহ্নিত করা হয়। এই নিয়মতান্ত্রিক গণহত্যা বাঙালিদের আরও ক্ষুব্ধ করে এবং শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের স্বাধীনতার পথ প্রশস্ত করে। বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও প্রকাশিত গ্রন্থাবলিতে ঢাকায় গণহত্যায় নিহতের সংখ্যা ৫,০০০ থেকে ৩৫,০০০ এবং সারাদেশে নিহতের সংখ্যা ২,০০,০০০ থেকে ৩০,০০,০০০ বলে উল্লেখ করা হয়।[৫৮] তবে, ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নাল ও কয়েকজন স্বাধীনতা-গবেষক গণহত্যায় ১,২৫,০০০ থেকে ৫,০৫,০০০ জন নিহত হন বলে উল্লেখ করেন।[৫৯] অন্যদিকে, মার্কিন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী রুডল্ফ রুমেল মোট মৃতের সংখ্যা ১৫ লক্ষ বলে উল্লেখ করেন।[৬০] পাকিস্তান সেনাবাহিনীর নৃশংসতাকে ব্যাপকভাবে “পরিকল্পিত গণহত্যা” বা “গণহত্যা” হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
এশিয়া টাইমসের ভাষ্য অনুযায়ী,[৬১]
২৫শে মার্চের নৃশংসতার মূল কেন্দ্র ছিল প্রাদেশিক রাজধানী ঢাকা। বিশেষ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে আক্রমণ চালানো হয়। সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র হিন্দু আবাসিক হল জগন্নাথ হল সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করে দেয় এবং হলের প্রায় ৬০০ থেকে ৭০০ ছাত্রকে হত্যা করে। সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে হত্যাকাণ্ডের কথা অস্বীকার করলেও, যুদ্ধপরবর্তীতে হামুদুর রহমান কমিশন সাব্যস্ত করে যে, সেনাবাহিনী বিশ্ববিদ্যালয়ে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিল। তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (ইপুয়েট, বর্তমানে বুয়েট) অধ্যাপক নূরুল উলা জগন্নাথ হল ও এর আশেপাশের হলগুলোতে হত্যাযজ্ঞের চিত্র গোপনে ভিডিয়োটেপে ধারণ করেন।[৬২] এছাড়া ঢাকার বাইরেও গণহত্যা শুরু হয় এবং সমগ্র পূর্ব পাকিস্তানে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। বিশেষ করে হিন্দু জনগোষ্ঠীরা আতঙ্কে ভারতে শরণার্থী হতে থাকে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২রা আগস্ট টাইম সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, “হিন্দুরা ছিল মোট শরণার্থীদের তিন-চতুর্থাংশ; তারা পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর ক্রোধ ও আক্রোশ বহন করছিল।”[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন
অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পূর্বেই পূর্ব পাকিস্তান থেকে সকল বিদেশি সাংবাদিকদের সরিয়ে নেওয়া হয়।[৬৩][৬৪] তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাংবাদিক সাইমন ড্রিং ঢাকায় অবস্থান করেন এবং ওয়াশিংটন পোস্টের মাধ্যমে সারা পৃথিবীকে ২৫শে মার্চের গণহত্যার খবর জানিয়েছিলেন। এরপর পাকিস্তানি সেনা কর্মকর্তারা তাদের পক্ষে সংবাদ পরিবেশনের জন্য আটজন সাংবাদিককে পূর্ব পাকিস্তানে প্রেরণ করে। তাদের অন্যতম অ্যান্থনি মাসকারেনহাস পূর্ব পাকিস্তান থেকে ফিরেই, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৩ জুন লন্ডনে পালিয়ে যান এবং পশ্চিমা বিশ্বের কাছে সর্বপ্রথম গণহত্যার ভয়াবহতা তুলে ধরেন। লন্ডনভিত্তিক সাপ্তাহিক সংবাদপত্র দ্য সানডে টাইমসে পূর্ব পাকিস্তানের গণহত্যা বিষয়ে সর্বপ্রথম সংবাদ ছাপা হয়। প্রতিবেদন সম্পর্কে বিবিসি লিখে: “এ বিষয়ে মোটামুটি নিঃসন্দেহ যে মাসকারেনহাসের প্রতিবেদনটি যুদ্ধের সমাপ্তিতে ভূমিকা রাখে। এই প্রতিবেদন সারা বিশ্বকে পাকিস্তানের বিপক্ষে ক্ষুব্ধ আর ভারতকে শক্ত ভূমিকা রাখতে উৎসাহিত করেছিল।” এমনকি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী দ্য সানডে টাইমসের সম্পাদক হ্যারল্ড ইভান্সকে বলেছিলেন যে, লেখাটি তাকে গভীরভাবে নাড়া দেয় এবং “ভারতের সশস্ত্র হস্তক্ষেপের” সিদ্ধান্ত নেন।[৬৫][৬৬]
২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইট শুরুর পরপরই পাঁচজন বিশ্বস্ত সহযোগীসহ[৬৭] শেখ মুজিবুর রহমানকে তার বাসভবন থেকে গ্রেফতার করা হয়।[৬৮] গ্রেফতার হওয়ার পূর্বে শেখ মুজিব বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।[৬৮] ইয়াহিয়া খান শেখ মুজিবের বিচারের জন্য ব্রিগেডিয়ার রহিমুদ্দিন খানকে প্রধান করে একটি সামরিক ট্রাইবুনাল গঠন করেন। রহিমুদ্দিন খানের ট্রাইবুনালের রায় কখনোই প্রকাশ করা হয়নি; তবে ইয়াহিয়া খান যেকোনো মূল্যে শেখ মুজিবের ফাঁসি চাইছিলেন। এছাড়া অন্যান্য আওয়ামী লীগ নেতাদেরকেও গ্রেফতার করা হয়। কয়েকজন গ্রেফতার হওয়া ঠেকাতে ঢাকা থেকে পালিয়ে যান। ইয়াহিয়া খান আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করেন।[৬৯]
স্বাধীনতার ঘোষণা
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ সেনাবাহিনীর আক্রমণের পর পাকিস্তানের দুই অংশের মধ্যে সমস্যা নিষ্পত্তির সর্বশেষ প্রচেষ্টাও ব্যর্থ হয়ে যায়। সেই রাতে শুরু হওয়া গণহত্যার প্রেক্ষিতে শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চ প্রথম প্রহরে প্রচারিত এক বেতার ভাষণে আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন।[৭০][৭১][৭২]
শেখ মুজিবুর রহমান গ্রেফতার হওয়ার পূর্বেই বেতার ভাষণের মাধ্যমে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করে জনগণকে প্রতিরোধের আহ্বান জানান। শেখ মুজিবুর রহমানের ঘোষণাটি তৎকালীন ইপিআরের ট্রান্সমিটারের মাধ্যমে সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হয়।[টীকা ২][৭০] পাকিস্তান রেডিওতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৯শে মার্চ প্রকাশিত খবর অনুযায়ী শেখ মুজিবুর রহমানকে ২৫-২৬শে মার্চ রাত আনুমানিক দেড়টায় গ্রেফতার করে ঢাকা সেনানিবাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
শেখ মুজিবুর রহমানের বার্তা দিয়ে পাঠানো টেলিগ্রাম চট্টগ্রামে কিছু ছাত্রের কাছে পৌঁছায়। মঞ্জুলা আনোয়ার সেই বার্তাটিকে বাংলায় অনুবাদ করেন। ছাত্ররা পাকিস্তান ব্রডকাস্টিং কর্পোরেশনের নিকটবর্তী আগ্রাবাদ স্টেশন থেকে বার্তাটি প্রচারের অনুমতি চাইলেও সেটি প্রত্যাখ্যাত হয়। কালুরঘাট বেতারকেন্দ্রের কয়েকজন বাঙালি কর্মচারী “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” চালু করলে বার্তাটি বেশ কয়েকবার প্রচারিত হয়।[টীকা ৩] ২৬শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচার করা হয়। তবে বেতার কেন্দ্রের সম্প্রচারক্ষমতা কম হওয়ায় খুব কম সংখ্যক মানুষই সেই ঘোষণাটি শুনেছিলেন।[৭৩] চট্টগ্রামের স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা এম. এ. হান্নান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চ স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্র থেকে শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীনতার ঘোষণাটি প্রথম পাঠ করেন বলে মনে করা হয়।[৭৩] ৮ ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের উপ-প্রধান মেজর জিয়াউর রহমান বেতারকেন্দ্রে নিরাপত্তা নিশ্চিতের অনুরোধ জানান এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৭ মার্চ তিনিও স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠ করেন।[টীকা ৪][৭৪][৭৫] শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রচারে তিনি বলেন:
জিয়াউর রহমানের ২৭শে মার্চের ঘোষণা বিদেশি গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারিত হয়।[৭৩] বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত একটি জাপানি জাহাজ বার্তাটি ধারণ করে। সেখান থেকে রেডিও অস্ট্রেলিয়া[৭৬] এবং পরবর্তীতে বিবিসি বার্তাটি পুনঃপ্রচার করে। ২৬শে মার্চের সকালে কলকাতায় পৌঁছানো শেখ মুজিবুর রহমানের বার্তা এবং বিকালে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের ঘোষণার পর বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণাটি সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে।[৭৩]
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৬শে মার্চকে বাংলাদেশে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীনতা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয় এবং এই দিন থেকেই রাষ্ট্রের নাম হিসেবে “বাংলাদেশ” কার্যকর হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী সাবেক পূর্ব পাকিস্তানকে সরাসরি বাংলাদেশ নামে অভিহিত করা শুরু করেন।[৭৭] তবে পাকিস্তানিরা এবং কিছু ভারতীয় সরকারি কর্মকর্তা ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত “পূর্ব পাকিস্তান” ব্যবহার করেন।
স্বাধীনতা যুদ্ধ
মার্চ থেকে জুন

ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ১০ই এপ্রিলের মধ্যে সমগ্র বাংলাদেশ নিজেদের আয়ত্তে আনার পরিকল্পনা গ্রহণ করে। কিন্তু বাঙালিরা তাদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে থাকে। যুদ্ধের প্রথম দিকে বাঙালিদের প্রতিরোধ ছিল স্বতঃস্ফূর্ত, কিন্তু অসংগঠিত। এই প্রতিরোধ দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা ছিল না।[৭৮] তবে, পাকিস্তানি বাহিনী সাধারণ নাগরিকদের ওপর আক্রমণ শুরু করলে পরিস্থিতি দ্রুত পাল্টে যায় এবং প্রতিরোধ তীব্রতর হয়ে উঠে। ক্রমশ মুক্তিবাহিনীর তৎপরতা বাড়তে থাকে। পাকিস্তানি সেনাবাহিনী তাদের দমনে সর্বাত্মক চেষ্টা করে। কিন্তু অধিকাংশ বাঙালি সৈনিক পাকিস্তানের পক্ষ ত্যাগ করে বাংলাদেশের পক্ষে “গুপ্ত সেনাবাহিনী”তে যোগদান করে। সেনাবাহিনী ও ইপিআর সদস্যরা বিদ্রোহ করে চট্টগ্রাম শহরের একটি বড় অংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয়। চট্টগ্রাম শহরের নিয়ন্ত্রণ পেতে পাকিস্তানি বাহিনীকে যুদ্ধজাহাজ থেকে গোলাবর্ষণ করতে হয় এবং বিমানে আক্রমণ চালাতে হয়।[৭৯] বিদ্রোহী সেনারা কুষ্টিয়া, পাবনা, বগুড়া, দিনাজপুর ইত্যাদি জেলারও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয়। বাঙালি সেনারা একসময় মুক্তিবাহিনীর সাথে মিলিত হয়ে তাদের অস্ত্র সরবরাহ করে। পাশাপাশি ভারত থেকেও অস্ত্রের চালান আসতে থাকে। পরিস্থিতি সামাল দিতে কর্তৃপক্ষ দুই ডিভিশন সেনা পূর্ব পাকিস্তানে পাঠিয়ে সেনাবাহিনীকে ঢেলে সাজানোর উদ্যোগ নেয়। বিপুল সৈন্য ও অস্ত্রশস্ত্রের মাধ্যমে সেনাবাহিনী মে মাসের শেষ নাগাদ অধিকাংশ মুক্তাঞ্চলের দখল নিয়ে নেয়। এই সময়ে রাজাকার, আল বদর, আল শামস প্রভৃতি আধা-সামরিক বাহিনী গঠন করা হয়। মূলত মুসলিম লীগ ও অন্যান্য ধর্মীয় রাজনৈতিক দলের সদস্য, বাংলাদেশের স্বাধীনতাবিরোধী বাঙালি এবং দেশভাগের সময় আসা বিহারি মুসলিমদের নিয়ে এই দলগুলো গঠিত হয়।
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৭ এপ্রিল তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলার মেহেরপুর মহকুমার (বর্তমানে জেলা) বৈদ্যনাথতলার ভবেরপাড়ায় (বর্তমানে মুজিবনগর) মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। পাকিস্তানের কারাগারে বন্দি শেখ মুজিবুর রহমানকে রাষ্ট্রপতি, তার অনুপস্থিতিতে সৈয়দ নজরুল ইসলামকে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি, তাজউদ্দীন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী এবং এম. এ. জি. ওসমানীকে মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক হিসেবে ঘোষণা করা হয়।[৮০] মার্চের শেষদিক থেকে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বাংলাদেশের গ্রামে-গঞ্জে ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে। আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক ও সংখ্যালঘুরা বিশেষভাবে তাদের রোষের শিকার হয়। আক্রমণ থেকে বাঁচতে দলে দলে মানুষ ভারতের সীমান্তের দিকে এগিয়ে আসতে থাকে। এপ্রিল থেকে শুরু হওয়া শরণার্থীদের এই স্রোত নভেম্বর পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। এই সময়ে প্রায় এক কোটি শরণার্থী ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যে আশ্রয় নেয়।[৮১] পাকিস্তানি সেনাদের ওপর মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ অব্যাহত থাকে। কিন্তু অস্ত্র ও প্রশিক্ষণের অভাবে যুদ্ধ পরিকল্পিত রূপ লাভ করতে করতে জুন মাস পার হয়ে যায়।
জুন থেকে সেপ্টেম্বর


১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই জুলাই বাংলাদেশের সামরিক কমান্ড গঠিত হয়। এম এ জি ওসমানীকে মন্ত্রীপদমর্যাদায় মুক্তিবাহিনীর সর্বাধিনায়ক, লেফটেন্যান্ট কর্নেল আব্দুর রবকে চিফ অফ স্টাফ, গ্রুপ ক্যাপ্টেন এ কে খন্দকারকে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ এবং মেজর এ আর চৌধুরীকে সহকারী চিফ অফ স্টাফ ঘোষণা করা হয়।
যুদ্ধে মুক্তিবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে ভারতীয় সেনানায়কদের সাথে জেনারেল ওসমানীর মতভেদ ছিল। ভারতীয় সেনাবাহিনীর পরিকল্পনা ছিল ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সেনাদের নেতৃত্বে ৮,০০০ সদস্যের একটি প্রশিক্ষিত গেরিলা দল গঠন করা, যারা ছোট ছোট দলে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে হামলা চালাবে এবং যুদ্ধে ভারতের হস্তক্ষেপের পথকে সুগম করবে।[৮২] কিন্তু প্রবাসী বাংলাদেশ সরকারের সমর্থনে জেনারেল ওসমানী ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করেন:[৮২][৮৩]
- বাঙালি সেনারা বাংলাদেশের অভ্যন্তরে কিছু এলাকা দখল করে নেবে এবং সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে কূটনৈতিক স্বীকৃতি এবং হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানাবে। প্রাথমিকভাবে অভিযান শুরু করার জন্য ময়মনসিংহকে নির্বাচিত করা হলেও পরবর্তীকালে জেনারেল ওসমানী সিলেটকে নির্বাচন করেন।
- যত বেশি সম্ভব গেরিলা যোদ্ধাদের বাংলাদেশের ভেতরে পাঠানো, যারা কিছু নির্ধারিত কাজ করবে:[৮৪][৮৫]
- গেরিলা অভিযান ও আক্রমণের মাধ্যমে পাকিস্তানি বাহিনীর ক্ষতিগ্রস্ত করা।
- শক্তি উৎপাদনকেন্দ্র, রেল ও সড়কপথ, পণ্য সংরক্ষণাগার প্রভৃতিতে আক্রমণ চালিয়ে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে বাধাগ্রস্ত করা।
- ব্রিজ/কালভার্ট, জ্বালানি তেলের গুদাম, ট্রেন ও জলযান উড়িয়ে দেওয়ার মাধ্যমে সারাদেশে পাকিস্তানি বাহিনীর চলাচলকে বাধাগ্রস্ত করা।
- এই ধরনের কৌশলগত আক্রমণের উদ্দেশ্য ছিল পাকিস্তানি বাহিনীকে সমগ্র বাংলাদেশে ছড়িয়ে পড়তে বাধ্য করা এবং বিচ্ছিন্ন সেনাবাহিনীর ওপর আরও কার্যকরভাবে আক্রমণ চালানো।
জুলাই মাসেই বাংলাদেশকে এগারোটি সেক্টরে ভাগ করা হয়।[৮৬] পাকিস্তানি বাহিনী ছেড়ে মুক্তিবাহিনীতে যোগ দিয়ে গেরিলা অভিযানে নেতৃত্ব দেওয়া সামরিক কর্মকর্তাদের প্রতি সেক্টরে কমান্ডারের দায়িত্ব দেওয়া হয়। ভারতীয় সেনাবাহিনী গেরিলা যুদ্ধের জন্য মুক্তিবাহিনীর বাঙালি সৈন্যদের দুই থেকে পাঁচ সপ্তাহের বিশেষ প্রশিক্ষণ দেয়।[৮৭] অধিকাংশ প্রশিক্ষণ ক্যাম্প ছিল সীমান্তের নিকটবর্তী। এগুলো পরিচালনায় ভারত প্রত্যক্ষভাবে সহায়তা করে। জেনারেল ওসমানীর অধীনে নৌ-কমান্ডো এবং বিশেষ বাহিনী নিয়ে ১০ নং সেক্টর গঠন করা হয়।[৮৮] যুদ্ধের জন্য তিনটি ব্রিগেড, এগারোটি ব্যাটালিয়ন গঠন করা হয় এবং প্রায় এক লক্ষ বাঙালিকে গেরিলা যুদ্ধের জন্য প্রশিক্ষিত করা হয়।[৮৯]
জুলাই এবং সেপ্টেম্বর মাসে তিন ব্রিগেড (আট ব্যাটালিয়ন পদাতিক সৈন্য এবং তিন ব্যাটারি গোলন্দাজ বাহিনী) সৈন্য যুদ্ধে পাঠানো হয়।[৯০] জুন–জুলাই মাসে অপারেশন জ্যাকপটের উদ্দেশ্যে সীমান্তের দিকে মুক্তিবাহিনীকে পুনর্গঠন করা হয় এবং ভারতের সহায়তায় ২০০০–৫০০০ জন গেরিলাযোদ্ধা সীমান্ত পাড়ি দিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে।[৯১] কিন্তু “তথাকথিত” অতিবর্ষণ এবং অন্যান্য কারণে (যথেষ্ট প্রশিক্ষণের অভাব, সরবরাহব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরে যোগাযোগের অসুবিধা প্রভৃতি) মুক্তিবাহিনী কাঙ্ক্ষিত সাফল্য লাভ করতে পারছিল না।[৯২][৯৩][৯৪] বাঙালি নিয়মিত সেনারা ময়মনসিংহ, কুমিল্লা ও সিলেটের সীমান্ত ফাঁড়িগুলোতে আক্রমণ করতে থাকে। কোনো কোনো অভিযান সফল হলেও অনেকগুলো ব্যর্থও হয়। পাকিস্তানি কর্তৃপক্ষ দাবি করতে থাকে যে তারা “মুনসুন অফেনসিভ” বা বর্ষাকালকে ঘিরে মুক্তিবাহিনীর পরিকল্পনা সফলভাবে অবদমন করতে পেরেছে। কর্তৃপক্ষের এই দাবি প্রায় সঠিক বলেই প্রতীয়মান হয়।[৯৫][৯৬]
গেরিলা যোদ্ধারা প্রশিক্ষণকালে নিষ্ক্রিয় হয়ে গেলেও আগস্টের পর থেকে আবার সক্রিয় হতে শুরু করে। রাজধানী ঢাকার গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক কেন্দ্র ও সামরিক স্থাপনাগুলো মুক্তিযোদ্ধাদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়। ঢাকার অভ্যন্তরে ক্র্যাক প্লাটুন কয়েকটি দুঃসাহসী অভিযান চালায়। এরপর ১৫ই আগস্ট অপারেশন জ্যাকপটের মাধ্যমে মুক্তিবাহিনীর সবচেয়ে বড় সাফল্য আসে। নৌ-কমান্ডোরা এইদিন চট্টগ্রাম, মোংলা, নারায়ণগঞ্জ ও চাঁদপুর বন্দরে নোঙর করা জাহাজে মাইন পেতে উড়িয়ে দেয়।[৯৭][৯৮]
অক্টোবর–ডিসেম্বর
|
প্রধান যুদ্ধসমূহ |
এই সময়ে মুক্তিবাহিনী সীমান্তঘাঁটিগুলোতে আক্রমণ করে দখল করে নিতে থাকে। কামালপুর, বিলোনিয়া ও বয়রার যুদ্ধ এগুলোর মধ্যে অন্যতম। পাকিস্তানি বাহিনীর ৩৭০টি সীমান্তঘাঁটির মধ্যে ৯০টিই মুক্তিযোদ্ধাদের দখলে চলে আসে। পাশাপাশি গেরিলা বাহিনীর আক্রমণও আরও তীব্র হয়। পাকিস্তানি বাহিনী ও তাদের সহযোগী রাজাকার বাহিনীও সাধারণ মানুষদের ওপর নির্যাতন করতে থাকে। এ অবস্থায় পশ্চিম পাকিস্তান থেকে আট ব্যাটালিয়ন সৈন্য পূর্ব পাকিস্তানে নিয়ে আসা হয়। মুক্তিবাহিনী কিছুদিনের জন্য লালমনিরহাট ও সিলেটের শালুটিকর বিমানঘাঁটিও দখলে নিয়ে নেয়।[৯৯] মুক্তিবাহিনী দুইটি বিমানঘাঁটিই ভারত থেকে ত্রাণ ও অস্ত্র আনায় ব্যবহার করে। পশ্চিম পাকিস্তান থেকে জরুরি ভিত্তিতে আরও পাঁচ ব্যাটালিয়ন সৈন্য নিয়ে আসা হয়।
সেক্টরসমূহ
বাংলাদেশকে সর্বমোট ১১টি সেক্টরে ভাগ করা হয় এবং পাকিস্তানি সেনাবাহিনী থেকে পালিয়ে আসা কর্মকর্তাদের মধ্য থেকে প্রতিটি সেক্টরের জন্যে একজন করে অধিনায়ক নির্বাচন করা হয়।
১নং সেক্টর
চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার মুহুরী নদীর পূর্বাংশ পর্যন্ত[১০০]
[১০১] মেজর জিয়াউর রহমান (এপ্রিল - জুন)
মেজর রফিকুল ইসলাম (জুন-ফেব্ৰুয়ারি)
২নং সেক্টর
চাঁদপুর জেলা, নোয়াখালী জেলা, কুমিল্লা জেলার আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন পর্যন্ত এবং ফরিদপুর ও ঢাকার অংশবিশেষ
মেজর খালেদ মোশাররফ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
মেজর এ.টি.এম. হায়দার (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি)
৩নং সেক্টর
সিলেট জেলার হবিগঞ্জ মহকুমা, কিশোরগঞ্জ মহকুমা, আখাউড়া-ভৈরব রেললাইন থেকে উত্তর-পূর্ব দিকে কুমিল্লা ও ঢাকা জেলার অংশবিশেষ
মেজর কে.এম. শফিউল্লাহ (এপ্রিল-সেপ্টেম্বর)
মেজর এ.এন.এম. নুরুজ্জামান (সেপ্টেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি)
৪নং সেক্টর
সিলেট জেলার পূর্বাঞ্চল এবং খোয়াই-শায়েস্তাগঞ্জ রেললাইন বাদে পূর্ব ও উত্তর দিকে সিলেট-ডাউকি সড়ক পর্যন্ত
মেজর সি.আর. দত্ত
৫নং সেক্টর
সিলেট-ডাউকি সড়ক থেকে সিলেট জেলার সমগ্র উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চল
মীর শওকত আলী
৬নং সেক্টর
সমগ্র রংপুর জেলা এবং দিনাজপুর জেলার ঠাকুরগাঁও মহকুমা
উইং কমান্ডার এম.কে. বাশার
৭নং সেক্টর
দিনাজপুর জেলার দক্ষিণাঞ্চল, বগুড়া, রাজশাহী এবং পাবনা জেলা
মেজর কাজী নুরুজ্জামান
৮নং সেক্টর
সমগ্র কুষ্টিয়া ও যশোর জেলা, ফরিদপুরের অধিকাংশ এলাকা এবং দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়কের উত্তরাংশ
মেজর আবু ওসমান চৌধুরী (এপ্রিল- আগস্ট)
মেজর এম.এ. মনজুর (আগস্ট-ফেব্ৰুয়ারি)
৯নং সেক্টর
দৌলতপুর-সাতক্ষীরা সড়ক থেকে খুলনার দক্ষিণাঞ্চল এবং সমগ্র বরিশাল ও পটুয়াখালী জেলা
মেজর এম.এ. জলিল (এপ্রিল-ডিসেম্বর প্রথমার্ধ)
মেজর জয়নুল আবেদীন (ডিসেম্বরের অবশিষ্ট দিন)
১০নং সেক্টর
কোনো আঞ্চলিক সীমানা নেই। নৌবাহিনীর কমান্ডো দ্বারা গঠিত। শত্রুপক্ষের নৌযান ধ্বংসের জন্য বিভিন্ন সেক্টরে পাঠানো হত
১১নং সেক্টর
কিশোরগঞ্জ মহকুমা বাদে সমগ্র ময়মনসিংহ ও টাঙ্গাইল জেলা এবং নগরবাড়ি-আরিচা থকে ফুলছড়ি-বাহাদুরাবাদ পর্যন্ত যমুনা নদী ও তীর অঞ্চল
মেজর জিয়াউর রহমান (জুন - অক্টোবর)[১০২]
মেজর আবু তাহের (অক্টোবর-নভেম্বর)
স্কোয়ড্ৰণ লীডাৱ এম হামিদুল্লাহ খান (নভেম্বর-ফেব্ৰুয়ারি)
- ১০ নং সেক্টরটি ছিল কমান্ডার-ইন-চিফের (সি-ইন-সি) সরাসরি তত্ত্বাবধানে, যার মধ্যে নৌ-বাহিনী ও সি-ইন-সির বিশেষ বাহিনীও অন্তর্ভুক্ত ছিল।[১০৩] তবে উপযুক্ত কোনো কর্মকর্তা ছিলেননা বলে ১০ নম্বর সেক্টরের (নৌ সেক্টর) কোনো সেক্টর অধিনায়ক ছিলনা; এ সেক্টরের গেরিলারা যখন যে সেক্টরে অভিযান চালাতেন, তখন সে সেক্টরের সেক্টর অধিনায়কের অধীনে থাকতেন।[১০৪] গেরিলাদেৱ বেশির ভাগ প্রশিক্ষণ শিবির ছিল সীমান্ত এলাকায় এবং ভারতের সহায়তায় গেরিলা প্রশিক্ষণ লাভ করত। সম্মুখ যুদ্ধে লড়াই করার জন্যে তিনটি ব্রিগেড (১১ ব্যাটালিয়ন) তৈরি করা হয়। এছাড়াও প্রায় ১,০০০ গেরিলা প্রশিক্ষণ দিয়ে দেশের ভেতরে নিয়মিত বিভিন্ন অভিযানে পাঠানো হতো।
ভারতের অংশগ্রহণ

ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বলেন যে, অর্থনৈতিকভাবে লক্ষ লক্ষ শরণার্থীর ভার কাঁধে নেওয়ার চেয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অবতীর্ণ হওয়াই বরং ভারতের জন্য অধিক উত্তম।[১০৫] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৮শে এপ্রিল ভারতীয় মন্ত্রীসভা সেনাসভাধ্যক্ষ জেনারেল শ্যাম মানেকশ’কে “পূর্ব পাকিস্তানের গভীরে” যেতে বলে।[১০৬] ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার বৈরী সম্পর্ক “পাকিস্তানের গৃহযুদ্ধে” ভারতের হস্তক্ষেপের সিদ্ধান্তকে আরও ত্বরান্বিত করে।[১০৫] ফলস্বরূপ ভারত সরকার মুক্তিবাহিনীকে সমর্থন করে জাতিগতভাবে বাঙালিদের জন্য একটি পৃথক রাষ্ট্র গঠনে সমর্থন প্রদানের সিদ্ধান্ত নেয়। ভারতের রিসার্চ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস উইং (র) পূর্ব পাকিস্তানের বিদ্রোহী বাঙালিদের সংগঠিত করে, প্রশিক্ষণ দেয় এবং অস্ত্র সরবরাহের মাধ্যমে সহায়তা করে। এই প্রশিক্ষিত গেরিলারা দেশের ভেতরে পাকিস্তানি সেনাবাহিনীকে নাস্তানাবুদ করে এবং ডিসেম্বরের শুরুর দিকে ভারতের সামরিক হস্তক্ষেপের পক্ষে অনুকূল পরিস্থিতি তৈরি করে।[১০৫]
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৩রা ডিসেম্বর পাকিস্তান বিমানবাহিনী ভারতের সীমান্তবর্তী বিমানঘাঁটিগুলোতে অতর্কিত হামলা চালায়। বিমানঘাঁটিতে থাকা ভারতীয় বিমানবাহিনীর যুদ্ধবিমানগুলোকে ধ্বংস উদ্দেশ্য নিয়ে এই আক্রমণ চালায়। ছয় দিনের যুদ্ধে ইসরায়েলি বিমানবাহিনীর অপারেশন ফোকাসের আদলে এই হামলা চালানো হয়। ভারত এই হামলাকে স্পষ্টত তাদের দেশের ওপর আগ্রাসন হিসেবে দেখে এবং পাল্টা হামলা চালায়। এই হামলা-পাল্টা হামলার মধ্য দিয়ে উভয় দেশ সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়ে এবং পাক-ভারত যুদ্ধের সূচনা ঘটে, যদিও কোনো দেশই আনুষ্ঠানিকভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেনি।[১০৭]
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তিন কোর ভারতীয় সৈন্য অংশগ্রহণ করে। মুক্তিবাহিনীর আরও প্রায় তিন ব্রিগেড সৈন্য এবং আরও অসংখ্য অনিয়মিত সেনা তাদের সহায়তা করে। এই সেনারা পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তিন ডিভিশন সৈন্যের তুলনায় অনেক গুণ বড় ছিল।[১০৮] যৌথবাহিনী দ্রুত বাংলাদেশের ভেতরে ঢুকে পড়তে থাকে। পাকিস্তানি বাহিনীর ঘাঁটিগুলো দখল করে যৌথবাহিনী দ্রুত রাজধানী ঢাকার দিকে এগিয়ে যেতে থাকে। মুক্তিবাহিনীর গেরিলা আক্রমণ ঠেকাতে সীমান্তের দিকে ছড়িয়ে থাকা পাকিস্তানি সেনারা এত দ্রুত আক্রমণ সামাল দিতে পারেনি।[১০৯] যৌথবাহিনীর হাতে শীঘ্রই ঢাকার পতন ঘটে এবং ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনী আত্মসমর্পণ করে।
বিমান ও নৌযুদ্ধ
ভারতীয় বিমানবাহিনী পাকিস্তানের বিপক্ষে একের পর এক আক্রমণ চালায় এবং এক সপ্তাহের মধ্যে পূর্ব পাকিস্তানের আকাশে আধিপত্য বিস্তার করে। ভারত ও বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর যৌথ অভিযানে তেজগাঁও, কুর্মিটোলা, লালমনিরহাট ও শমসেরনগরে পাকিস্তান বিমান বাহিনীর ১৪ নং স্কোয়াড্রনের সমস্ত যুদ্ধবিমান ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। ফলে প্রথম সপ্তাহান্তে বাংলাদেশের আকাশসীমার প্রায় সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিতে সক্ষম হয়। আইএনএস বিক্রান্ত থেকে সি হক চট্টগ্রাম, বরিশাল ও কক্সবাজারে আক্রমণ চালিয়ে পাকিস্তান নৌবাহিনীর পূর্ব শাখাকে ধ্বংস করে দেয় এবং পূর্ব পাকিস্তানের একমাত্র সমুদ্রবন্দর দিয়ে পাকিস্তানি সেনাদের পালানোর পথ বন্ধ করে দেয়। পাকিস্তান নৌবাহিনীর বিদ্রোহী কর্মকর্তা ও নৌসেনাদের নিয়ে নবগঠিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জলপথে আক্রমণ চালাতে ভারতকে সহায়তা করে; বিশেষ করে অপারেশন জ্যাকপট বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।[১১০]
আত্মসমর্পণ এবং ফলাফল
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর পূর্ব পাকিস্তানের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক ও পাকিস্তান সেনাবাহিনীর পূর্ব কমান্ডের কমান্ডার লেফটেন্যান্ট জেনারেল আমির আব্দুল্লাহ খান নিয়াজী আত্মসমর্পণের দলিলে স্বাক্ষর করেন। আত্মসমর্পণের সময়ে কেবলমাত্র কয়েকটি দেশই বাংলাদেশকে স্বাধীন দেশ হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। প্রায় ৯৩,০০০ যুদ্ধবন্দি যৌথবাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে, যা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর সর্বোচ্চ।[১১১][১১২]
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্যপদ লাভের জন্য আবেদন করে। অধিকাংশ সদস্যের সমর্থন সত্ত্বেও পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র চীন বাংলাদেশের আবেদনে ভেটো প্রদান করে।[১১৩] পাকিস্তানের অপর মিত্র মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও এর অনেক পরে বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।[১১৪] যুদ্ধবন্দিদের স্থানান্তরের প্রক্রিয়া সহজ করতে ভারত ও পাকিস্তান ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে সিমলা চুক্তি স্বাক্ষর করে। এই চুক্তি যুদ্ধবন্দিদের ফেরত পাওয়ার বিনিময়ে পাকিস্তানের কাছ থেকে স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের স্বীকৃতি নিশ্চিত করে।[১১৫]
ভারত যুদ্ধবন্দিদের প্রতি আচরণের ক্ষেত্রে জেনেভা কনভেনশনের ১৯২৫ নম্বর নীতি কঠোরভাবে অনুসরণ করে।[১১৫] মাত্র পাঁচ মাসের মধ্যে ভারত ৯৩,০০০-এরও বেশি যুদ্ধবন্দিদের মুক্তি দেয়।[১১১] এছাড়াও সম্প্রীতি স্থাপনের লক্ষ্যে ভারত বাঙালিদের প্রতি যুদ্ধাপরাধের দায়ে বন্দি ২০০ জনের প্রতি ক্ষমা ঘোষণা করেন।[১১৬] এর পাশাপাশি ভারত যুদ্ধে দখল করে নেওয়া পশ্চিম পাকিস্তানের
ভূমি পাকিস্তানকে ফেরত দেয়। তবে কার্গিলের মতো কৌশলগত ভূমি ভারত নিজের আয়ত্ত্বে রাখে,[১১৭] যা পরবর্তীতে, ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে, দুই দেশের মধ্যে আরেকটি যুদ্ধের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। দুই দেশের মধ্যে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে এই চুক্তিটি সম্পাদিত হয় এবং অনেকের মতে, এই চুক্তিটি ভারতের কূটনৈতিক ধীশক্তির পরিচয় বহন করে। আবার, ভারতের মধ্যেই কেউ কেউ মনে করেন,[১১৮] চুক্তিটি পাকিস্তানের প্রতি ভারতের অত্যধিক উদারতার পরিচয় দিয়েছে। তাদের মতে, পাকিস্তানের ভঙ্গুর গণতন্ত্রের জন্য ভুট্টো চুক্তির বিষয়ে ভারতের প্রতি উদার হতে আহ্বান জানায়; এর অন্যথায় চুক্তিতে ভারত কঠিন শর্ত দিলে পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ভেঙে পড়তে পারতো।
পশ্চিম পাকিস্তানে যুদ্ধের প্রতিক্রিয়া
যুদ্ধে পরাজয় ও দেশের অর্ধেক অংশের বিচ্ছেদে পশ্চিম পাকিস্তানের সামরিক ও বেসামরিক উভয় মহলই মর্মাহত হয়ে পড়ে। আনুষ্ঠানিক যুদ্ধ শুরুর মাত্র দুই সপ্তাহের মধ্যে পরাজয় পাকিস্তানিদের কাছে অবিশ্বাস্য ছিল। পূর্ব পাকিস্তানে সেনাবাহিনীর আত্মসমর্পণের অর্থও তাদের কাছে সম্পূর্ণ পরিষ্কার ছিল না। যুদ্ধে পরাজয়ের ফলে ইয়াহিয়া খানের একনায়কতন্ত্রের অবসান ঘটে এবং ভুট্টো এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ক্ষমতায় আসীন হন।[১১৯][১২০]
৯৩,০০০ যুদ্ধবন্দির সাথে আত্মসমর্পণ করে পাকিস্তানে ফিরে আসা জেনারেল নিয়াজীকে পাকিস্তানিরা সন্দেহ ও ঘৃণার চোখে দেখতে থাকেন। তাকে একঘরে করে ফেলা হয় এবং দেশদ্রোহীর তকমা দেওয়া হয়। এই যুদ্ধের পরিণামে পাকিস্তানের স্বীকৃত সামরিক কৌশলগত মতবাদ, “পশ্চিম পাকিস্তানের হাতে পূর্ব পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা”-এর অসারতা প্রমাণিত হয়।[১১৯]
নৃশংসতা
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ব্যাপক হত্যাকাণ্ড ও নৃশংসতা চালানো হয়। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে মার্চ অপারেশন সার্চলাইটের মাধ্যমে ঢাকায় গণহত্যা চালানোর পর যুদ্ধ শুরু হলে বাংলাদেশে (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) বহু বেসামরিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয় এবং যুদ্ধের পুরোটা সময় সেনাবাহিনীর হাতে ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটতে থাকে। স্বাধীনতা যুদ্ধকালে সামরিক বাহিনী ও তাদের সহায়তাকারী আধা-সামরিক বাহিনী প্রায় ৩,০০,০০০[৬৫] থেকে ৩০,০০,০০০[১২১] মানুষকে হত্যা করে এবং প্রায় ২,০০,০০০ থেকে ৪,০০,০০০ নারীকে ধর্ষণ করা হয়।[১২২][১২৩] পাকিস্তানের ধর্মীয় নেতারা সংঘটিত অপরাধকে প্রকাশ্যে সমর্থন জানিয়ে বাঙালি মুক্তিযোদ্ধাদের “হিন্দু” বলে ফতোয়া জারি করে এবং তাদের সম্পদ ও বাঙালি নারীদের “গনিমতের মাল” বা যুদ্ধলব্ধ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করে।[১২৪] কিন্তু প্রকৃতপক্ষে তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের বাঙালিদের শতকরা ৮০ ভাগই ছিল মুসলিম।[১২৫]
যুদ্ধের চলাকালীন বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবী সম্প্রদায়ের একটি বড় অংশকে হত্যা করা হয়। পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নির্দেশনায় আল শামস ও আল বদর বাহিনী[টীকা ৫][১২৬] এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করে।[১২৭] আত্মসমর্পণের ঠিক দুই দিন পূর্বে, ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১৪ই ডিসেম্বর, পাকিস্তান সেনাবাহিনী তাদের স্থানীয় দোসর রাজাকার বাহিনীর সহায়তায় ঢাকা থেকে অন্তত ১০০ জন চিকিৎসক, অধ্যাপক, লেখক ও প্রকৌশলীকে তুলে নিয়ে হত্যা করে এবং তাদের মৃতদেহ একটি বধ্যভূমিতে ফেলে রাখে।[১২৮]
স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে বহু বধ্যভূমি আবিষ্কৃত হয়েছে।[১২৯] যুদ্ধের প্রথম রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও সাধারণ নাগরিকদের ওপর নির্বিচারে হত্যাকাণ্ড চালানো হয়। ঢাকায় অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস থেকে সেই দেশের পররাষ্ট্র দপ্তরে পাঠানো টেলিগ্রামে তার উল্লেখ পাওয়া যায়।[১৩০] পাকিস্তানি সেনারা অসংখ্য নারীর ওপর নিপীড়ন চালায়, হত্যা ও ধর্ষণ করে; এর প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা এবং এটি বহুল বিতর্কিত একটি বিষয়। যুদ্ধের সময়ে এবং পরে ধর্ষিতা নারীদের গর্ভে হাজারো যুদ্ধশিশুর জন্ম নেয়।[১৩১][১৩২][১৩৩]
ঢাকা সেনানিবাসের ভেতরে পাকিস্তান সেনারা অনেক বাঙালি নারীকে যৌনদাসী হিসেবে বন্দি করে রাখে। তাদের অধিকাংশই ছিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী অথবা সাধারণ পরিবারের মেয়ে।[১৩৪] তবে পাকিস্তানি সেনা ও তাদের দোসরদের উৎসাহে সংঘটিত সাম্প্রদায়িক সহিংসতা[১৩৫] ছাড়াও বাঙালি জাতীয়তাবাদীদের হাতে সংখ্যালঘু অবাঙালিরাও, বিশেষ করে বিহারিরা, নিপীড়িত হন।[১৩৬] ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে একজন বিহারি প্রতিনিধির ভাষ্যমতে, বাঙালিদের হাতে প্রায় ৫,০০,০০০ বিহারি প্রাণ হারায়।[১৩৭] রাষ্ট্রবিজ্ঞানী আর জে রুমেলের মতে যুদ্ধকালীন সহিংসতায় প্রায় ১,৫০,০০০ হাজার বিহারি প্রাণ হারিয়েছেন।[১৩৮]
২০০২ খ্রিষ্টাব্দের ১৬ই ডিসেম্বর জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ কিছু গোপন নথি প্রকাশ করে, যার অধিকাংশই ছিল ওয়াশিংটন ডিসির কর্মকর্তাদের সাথে ঢাকা ও ভারতের মার্কিন দূতাবাস এবং মার্কিন তথ্যসেবা কেন্দ্রের কর্মকর্তাদের মধ্যে আদানপ্রদানকৃত খবরের নথি।[১৩০] এসব প্রকাশিত নথিতে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে থাকা মার্কিন কর্মকর্তাদের পূর্ব পাকিস্তানের ঘটনা বর্ণনায় “নির্বাচনমূলক গণহত্যা” (selective genocide)[১৩৯] “গণহত্যা” (genocide)[টীকা ৬] শব্দগুলো ব্যবহার করতে দেখা যায়। বাংলাদেশের অধিকাংশ প্রকাশনা ও গণমাধ্যমে এখনও “গণহত্যা” শব্দটি ব্যবহৃত হয়।[১৪০][১৪১] তবে বাংলাদেশের গণহত্যায় সেনাবাহিনীর ভূমিকার বিষয়টি পাকিস্তানে এখনও বিতর্কিত হিসেবে গণ্য।
আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া
১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে শেখ মুজিবুর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিলে এপ্রিল মাসে মুজিবনগর সরকার গঠিত হয়। অস্থায়ী সরকার বাংলাদেশের স্বীকৃতি, রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন এবং মানবিক সাহায্যের জন্য বহির্বিশ্বে প্রচারণা শুরু করে।
ভারতে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী বাংলাদেশের পক্ষে ব্যাপক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমর্থন প্রদান করেন। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানিদের নৃশংসতা বহির্বিশ্বের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি সে সময় বিভিন্ন দেশে সফর করেন। তার এই প্রচেষ্টা বাংলাদেশের পক্ষে যুদ্ধের যৌক্তিকতা এবং পরবর্তীতে ভারতীয় হস্তক্ষেপের পক্ষে সমর্থন আদায়ে অত্যন্ত কার্যকর বলে প্রতীয়মান হয়।[১৪৪] পাশাপাশি পাকিস্তানে পরাজয়ের পর স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের দ্রুত স্বীকৃতি লাভে তার এই প্রয়াস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জাতিসংঘ
পূর্ব পাকিস্তান সংকটে জাতিসংঘের নিরবতা ব্যাপকভাবে সমালোচিত হয়। জাতিসংঘ পূর্ব পাকিস্তানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের নিন্দা জানালেও যুদ্ধ শুরুর আগেই সমস্যার রাজনৈতিক সমাধানের উদ্যোগ নিতে ব্যর্থ হয়।
যুদ্ধে ভারতের জড়িয়ে পড়ার পর পাকিস্তান নিশ্চিত পরাজয়ের ভয়ে জাতিসংঘের শরণাপন্ন হয় এবং ভারতের সাথে যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করতে জাতিসংঘকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ জানায়। দক্ষিণ এশিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনার জন্য জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ ৪ঠা ডিসেম্বর অধিবেশন আহ্বান করে। দীর্ঘ আলোচনার পর ৭ই ডিসেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র অনতিবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও উভয় দেশের সৈন্যদের পূর্বের অবস্থানে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেয়। পরিষদের অধিকাংশের সমর্থন সত্ত্বেও সোভিয়েত ইউনিয়ন সেই প্রস্তাবে দুইবার ভেটো দেয়। বাঙালিদের প্রতি পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর নৃশংসতা বিবেচনায় যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স ভোটদানে বিরত থাকে।[১০৭][১৪৫]
১২ই ডিসেম্বর পাকিস্তানের আসন্ন পরাজয় বুঝতে পেরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় নিরাপত্তা পরিষদের অধিবেশন আহ্বানের অনুরোধ জানায়। পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী জুলফিকার আলী ভুট্টো যুদ্ধবিরতির ব্যবস্থা করতে নিউ ইয়র্কে যান। পরিষদে চার দিন আলোচনার পর প্রস্তাব চূড়ান্ত করা হয়। প্রস্তাব পাশের আগেই পাকিস্তান সেনাবাহিনী ঢাকায় আত্মসমর্পণ করে এবং যুদ্ধের সমাপ্তি ঘটে। যুদ্ধবিরতি কার্যকরে ব্যর্থ হয়ে এবং জাতিসংঘের নিষ্ক্রিয়তায় হতাশ হয়ে ভুট্টো তার ভাষণ ছিঁড়ে ফেলে নিরাপত্তা পরিষদ ত্যাগ করেন।[১৪৫]
স্বাধীনতা লাভের কয়েক মাসের মধ্যেই জাতিসংঘের অধিকাংশ সদস্য দেশ বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।[১৪৪]
ভুটান
পাকিস্তান সেনাবাহিনী পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে চলে গেলে হিমালয়ের দেশ ভুটান ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৬ই ডিসেম্বর স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে প্রথম স্বীকৃতি দেয়।[১৪৬] ১৯৭৪ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংয়ে ওয়াংচুকের অভিষেক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ মুজিবুর রহমান অংশ নেন।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন
বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকালে মার্কিন সরকার পাকিস্তানকে সবধরনের কূটনৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে।[১৪৭] মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন ও তার জাতীয় নিরাপত্তা পরামর্শক হেনরি কিসিঞ্জার দক্ষিণ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রভাব বিস্তারের আশঙ্কা করেন। পাকিস্তান চীনের আঞ্চলিক ঘনিষ্ঠ মিত্র হওয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় চীনের সাথে সমস্যা মিটিয়ে ফেলার চেষ্টা করছিল। ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সনের চীন সফরের কথা ছিল। নিক্সনের আশঙ্কা ছিল ভারত পশ্চিম পাকিস্তান দখল করে নেবে এবং এর মাধ্যমে দক্ষিণ এশিয়ায় সোভিয়েত আধিপত্য বিস্তৃত হবে। এর ফলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক অবস্থান এবং তার নতুন মিত্র চীনের আঞ্চলিক আধিপত্য খর্বিত হবে।[১৪৮][১৪৯] চীনের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্বস্ততা দেখানোর জন্য নিক্সন মার্কিন কংগ্রেসের বাজেট বরাদ্দ লঙ্ঘন করে পাকিস্তানকে অস্ত্র সরবরাহ করেন, যা জর্ডান ও ইরান হয়ে পাকিস্তানের কাছে পৌঁছায়।[১৪৮] নিক্সন চীনকেও পাকিস্তানে অস্ত্র সরবরাহ বাড়াতে উদ্বুদ্ধ করেন। নিক্সন প্রশাসন পূর্ব পাকিস্তানের মার্কিন দূতাবাস থেকে সেনাবাহিনীর গণহত্যার বিষয়ে পাঠানো বার্তাগুলো উপেক্ষা করে। এই বার্তাগুলোর মধ্যে ব্লাড টেলিগ্রাম ছিল উল্লেখযোগ্য।[১৪৯]
নিক্সন মুক্তিযুদ্ধকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করে এতে সম্পৃক্ত হতে অস্বীকৃতি জানান। কিন্তু পাকিস্তানের পরাজয় প্রায় নিশ্চিত হয়ে গেলে তিনি সপ্তম নৌবহরকে রণতরী ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ-এর সাথে বঙ্গোপসাগরে যেতে নির্দেশ দেন।[১৫০] ভারতীয়রা একে পারমাণবিক যুদ্ধের হুমকি হিসেবে গ্রহণ করে। এন্টারপ্রাইজ ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই ডিসেম্বর বঙ্গোপসাগরে প্রবেশ করে। ৬ ও ১৩ই ডিসেম্বর সোভিয়েত নৌবাহিনী ভ্লাদিভস্টক থেকে দুই ধাপে পারমাণবিক ক্ষেপণাস্ত্র বোঝাই জাহাজ প্রেরণ করে। তারা ১৮ই ডিসেম্বর থেকে ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ৭ জানুয়ারি ভারত মহাসাগরে সপ্তম নৌবহরের টাস্ক ফোর্স ৭৪-কে অনুসরণ করে।[১৫১][১৫২][১৫৩]
সোভিয়েত ইউনিয়ন শুরু থেকেই যুদ্ধে বাংলাদেশ ও ভারতের পক্ষ নেয়। তারা মুক্তিবাহিনী ও ভারতীয় সেনাবাহিনীর প্রতি সমর্থন প্রদান করে। সোভিয়েত ইউনিয়ন বুঝতে পেরেছিল স্বাধীন দেশ হিসেবে বাংলাদেশের জন্ম তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাবকে খর্বিত করবে। তারা ভারতকে আশ্বাস দেয় যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বা চীন যুদ্ধে জড়িয়ে পড়লে তারাও পাল্টা ব্যবস্থা নেবে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ৯ই আগস্ট ভারত–সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ভারত মহাসাগরে ইউএসএস এন্টারপ্রাইজ-কে নিবৃত্ত করার জন্য একটি নিউক্লিয়ার ডুবোজাহাজও প্রেরণ করে।[১৫৪]
যুদ্ধের শেষে ওয়ারশ চুক্তিভুক্ত দেশগুলো খুব দ্রুত বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়। সোভিয়েত ইউনিয়ন ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে জানুয়ারি বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।[১৫৫] কয়েক মাস পর ৮ই এপ্রিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রও বাংলাদেশকে স্বীকৃতি প্রদান করে।[১৫৬]
চীন
পাকিস্তানের ঘনিষ্ঠ মিত্র হিসেবে চীন পূর্ব পাকিস্তানের ক্রমপরিবর্তনশীল পরিস্থিতি এবং পশ্চিম পাকিস্তান ও পাকিস্তান-নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে ভারতের আগ্রাসনের বিষয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে। ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দের ১০ই ডিসেম্বর নিক্সন ভারত-সীমান্তের দিকে সেনা মোতায়েনের জন্য চীনকে রাজি করাতে কিসিঞ্জারকে নির্দেশ দেন। কিসিঞ্জার সেদিনই জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনের স্থায়ী প্রতিনিধি হুয়াং হুয়ার সাথে সাক্ষাৎ করেন।[১৫৭][১৫৮][১৫৯]
তবে চীন যুক্তরাষ্ট্রের প্ররোচনায় সাড়া না দিয়ে তাৎক্ষণিক যুদ্ধবিরতি কার্যকরে চাপ প্রয়োগ করতে থাকে। ভারত পূর্বেই চীনের সীমান্ত বরাবর আটটি মাউন্টেন ডিভিশন মোতায়েন করে যেকোনো আক্রমণ প্রতিরোধে প্রস্তুত থাকায় চীন বুঝতে পেরেছিল ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের চীন–ভারত যুদ্ধের মতো হঠাৎ আক্রমণ করে সুবিধা করা যাবে না।[১০৭]
স্বাধীনতার পর ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ জাতিসংঘের সদস্য হওয়ার আবেদন জানালে চীন তাতে ভেটো দেয়।[১৬০] বাংলাদেশে যুদ্ধবন্দি হিসেবে থাকা সেনাসদস্য ও বেসামরিক ব্যক্তিদের ফেরত পাঠানোর জন্য জাতিসংঘের দুইটি প্রস্তাব তখনও কার্যকর না হওয়ায় চীন ভেটো প্রদান করে।[১৬১] বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী সর্বশেষ দেশগুলোর অন্যতম হিসেবে ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দের ৩১ আগস্ট চীন বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেয়।[১৪৪][১৬০]
শ্রীলঙ্কা
শ্রীলঙ্কা পাকিস্তানের বিভাজনকে তাদের দেশের ঐক্যের জন্য ভীতিজনক বলে মনে করে আসছিল। তাদের ধারণা ছিল, ভারত ভবিষ্যতে শ্রীলঙ্কার ওপরও তার বর্ধিত শক্তি প্রয়োগ করতে চাইবে।[১৬২] সিরিমাভো বন্দরনায়েকের নেতৃত্বাধীন শ্রীলঙ্কার বামপন্থী সরকার নিরপেক্ষ বৈদেশিক নীতি অনুসরণ করলেও যুদ্ধে পাকিস্তানকে সাহায্য করার সিদ্ধান্ত নেয়।[১৬৩][১৬৪] ভারতের সীমানায় পাকিস্তানি বিমান উড্ডয়ন নিষিদ্ধ হওয়ায় সেগুলোকে ভারতের চারপাশে অপেক্ষাকৃত দীর্ঘ পথ ভ্রমণ করতে হতো এবং শ্রীলঙ্কার বন্দরনায়েকে বিমানবন্দরে যাত্রাবিরতি দিয়ে জ্বালানি পূর্ণ করে সেগুলো পূর্ব পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে যাত্রা করত।[১৬৫]
আরব বিশ্ব
অধিকাংশ আরব দেশের সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের মৈত্রী সম্পর্ক থাকায় কিসিঞ্জারের পক্ষে তাদের যুদ্ধে যোগদানে আমন্ত্রণ জানানো সহজ ছিল। কিসিঞ্জার জর্ডানের রাজা হুসাইন ও সৌদি আরবের বাদশাহ ফয়সাল বিন আবদুল আজিজ উভয়ের কাছেই পত্র পাঠান। মার্কিন রাষ্ট্রপতি রিচার্ড নিক্সন জর্ডানকে দশটি এফ-১০৪ যুদ্ধবিমান পাকিস্তানে পাঠানোর অনুমতি দেন এবং সেগুলো পূরণ করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দেন।[১৪৮] লেখক মার্টিন ব্যোম্যানের মতে, “পাকিস্তানি পাইলটদের জন্য মানসম্মত প্রশিক্ষণ ইউনিট হিসেবে গড়ে তোলার জন্য সম্ভবত লিবিয়া থেকে আনা এফ-৫ বিমান সারগোদা বিমানঘাঁটিতে মোতায়েন করা হয়। এরপর প্রয়োজন অনুসারে সৌদি আরব থেকে আরও এফ-৫ নিয়ে আসা হয়।”[১৬৬]
লিবিয়ার স্বৈরশাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফি ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীকে পাকিস্তানের বিরুদ্ধের আগ্রাসনের অভিযোগে অভিযুক্ত করে কঠিন ভাষায় একটি পত্র লেখেন। এই কারণে গাদ্দাফি সেই সময় পাকিস্তানিদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন।[১৬৭] এই তিন দেশের বাইরে মধ্যপ্রাচ্যের অন্য আরেকটি মিত্রদেশ পাকিস্তানকে মিরেজ ৩ যুদ্ধবিমান সরবরাহ করে। তবে সিরিয়া, তিউনিসিয়া প্রভৃতি দেশ বাংলাদেশের ঘটনাকে পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে হস্তক্ষেপে রাজি হয়নি।[১৬৮]
ইরান
যুদ্ধের সময় ইরান রাজনৈতিক ও কূটনৈতিকভাবে পাকিস্তানের পক্ষে দাঁড়ায়।[১৬৯] দেশটি পাকিস্তানের সম্ভাব্য ভাঙন নিয়ে চিন্তিত ছিল। তাদের ভয় ছিল, যুদ্ধের ফলে পাকিস্তান খণ্ড খণ্ড হয়ে ভেঙে যাবে এবং ইরান চারদিক থেকে শত্রু বেষ্টিত হয়ে পড়বে। যুদ্ধের শুরুতে ইরান পাকিস্তানের আঞ্চলিক অখণ্ডতা অটুট রাখার জন্য পাকিস্তান বিমানবাহিনীর ফাইটার জেটগুলোকে তাদের দেশের ভেতরে আশ্রয় দেয় ও বিনামূল্যের জ্বালানি সরবরাহ করে যুদ্ধে অংশগ্রহণের উপযোগী করে রাখে।[১৭০] কিন্তু পাকিস্তান একতরফা যুদ্ধবিরতি ও আত্মসমর্পণের ঘোষণা দিলে ইরানের শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ইরানের সেনাবাহিনীকে প্রস্তুত করেন, যাতে অন্য কোনো দেশ পাকিস্তানের বেলুচিস্তান প্রদেশ দখল করে নেওয়ার আগেই জোরপূর্বক পাকিস্তান আক্রমণ করে যেকোনো মূল্যে প্রদেশটিকে ইরানের বেলুচিস্তান অংশের সাথে একীভূত করে নেওয়া যায়।[১৭১]
জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে
বাংলাদেশে এবং বিদেশে যুদ্ধের সময় থেকে বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধ চিত্রিত অসংখ্য শিল্পকর্ম রয়েছে। কনসার্ট ফর বাংলাদেশ বিটলসের সদস্যদের দ্বারা সংগঠিত কনসার্টটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দে প্রতিবাদ সঙ্গীতের জন্য একটি বড় ঘটনা ছিল। স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র এর জন্য রেকর্ড করা এবং সম্প্রচারিত গানগুলিকে এখনও বাংলাদেশী প্রতিবাদ গানগুলির মধ্যে সেরা বলে মনে করা হয়।
যুদ্ধের সময় নির্মিত চারটি তথ্যচিত্র হচ্ছে জহির রায়হান এর 'স্টপ জেনোসাইড' এবং 'এ স্টেট ইজ বোর্ন', বাবুল চৌধুরীর 'ইনোসেন্ট মিলিয়নস', আলমগীর কবিরের 'মুক্তিযুদ্ধের সময় নির্মিত চলচ্চিত্র মুক্তিযোদ্ধা '- বাংলাদেশ এ তৈরি প্রথম চলচ্চিত্র, যেমনটি পূর্ব পাকিস্তানে বা ভারতে তৈরি হয়েছিল, বাংলাদেশের বড় বড় সংস্থাগুলিও ছিল। মুক্তির গান হল যুদ্ধের সময় লেয়ার লেভিনের ফুটেজ শটের উপর ভিত্তি করে নির্মিত সবচেয়ে প্রশংসিত বাংলাদেশী ডকুমেন্টারি, এর নির্মাতা তারেক মাসুদ এবং ক্যাথরিন মাসুদ। পরিচালকরা দুটি ধারাবাহিকে চলচ্চিত্রটি তৈরি করেছেন- স্বাধীনতার গল্প এবং 'নারীর কথা'। একই বিষয়ের উপর তাদের আরেকটি চলচ্চিত্র, মাটির ময়না , কান চলচ্চিত্র উৎসবে FIPRESCII পুরস্কার জিতেছে।
মুক্তিযুদ্ধে লিখিত বহু কবিতা ও উপন্যাস রয়েছে, যার মধ্যে যুদ্ধের সময় শামসুর রহমানের বিখ্যাত কবিতা রয়েছে। এটি ১৯৭১ খ্রিষ্টাব্দ থেকে বাংলাদেশী সাহিত্যের জন্য সর্বাধিক ব্যবহৃত বিষয়। যুদ্ধ স্মরণে নির্মিত স্মৃতিগুলি বাংলাদেশের সর্বোচ্চ সম্মানিত স্মৃতিস্তম্ভ।
আরও দেখুন
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ ও ইসলাম
- ভাগ করো ও শাসন করো
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের বীরত্বসূচক পদক
- মুজিব বাহিনী
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
- যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনসমূহ
টীকা
- ↑ শেখ মুজিবুর রহমান ২৫শে দিবাগত রাতে ধানমন্ডি ৩২ থেকে স্বাধীনতার ঘোষণা প্রেরণ করেন এবং ২৬শে মার্চ চট্টগ্রাম শহরের অদূরে স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র থেকে ঘোষণাটি প্রচার করা হয়।
- ↑ ২৫শে মার্চ থেকে পূর্ব পাকিস্তানে অবস্থানরত বিদেশি সাংবাদিকদের হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। তাদের অন্যতম ব্রিটিশ দৈনিক ডেইলি টেলিগ্রাফ-এর ভারত প্রতিনিধি ডেভিড লোশাক তার পাকিস্তান ক্রাইসিস বইয়ে ক্ষীণকণ্ঠে শেখ মুজিবুর রহমানের একটি ভাষণের উল্লেখ করেছেন, যা পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় বেতারের কাছাকাছি তরঙ্গদৈর্ঘ্য থেকে আসছিল। তাতে শেখ মুজিবুর রহমান কর্তৃক পূর্ব পাকিস্তানকে স্বাধীন বাংলাদেশ হিসেবে ঘোষণা করার উল্লেখ ছিল। ডেভিড লোশাক শেখ মুজিবের বার্তাটি পূর্ব থেকে ধারণকৃত মনে হয়েছিল বলেও মন্তব্য করেন।
- ↑ পাকিস্তানিরা ঢাকা দখলের পর ২৬শে মার্চ ঢাকা বেতার কেন্দ্র দখল করে “রেডিও পাকিস্তান ঢাকা” হিসেবে নামকরণ করে। পাকিস্তান সরকার রেডিও পাকিস্তান ঢাকা কেন্দ্র থেকে আইন সম্পর্কিত বিভিন্ন ঘোষণা প্রচার করতে থাকে। এরই প্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে গোপনে “স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র” যাত্রা শুরু করে এবং মূল ঘটনা সম্প্রচার করতে থাকে।
- ↑ ১৯৮১ খ্রিষ্টাব্দে জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর “বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক” নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) শেখ মুজিবুর রহমানের স্থলে জিয়াউর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক বলে প্রচার করে। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দের ফেব্রুয়ারি মাসে স্বাধীনতা যুদ্ধের ইতিহাস ও দলিলপত্রের মুদ্রিত সংকলন প্রকাশের জন্য একটি কমিটি গঠন করা হয়। হাসান হাফিজুর রহমানের সম্পাদনায় ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দের নভেম্বর মাসে ১৫ খণ্ডের বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র গ্রন্থটি প্রকাশিত হয়, যা ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে পুনর্মুদ্রিত হয়। উভয় মুদ্রণের তৃতীয় খণ্ডে বলা হয়, শেখ মুজিবুর রহমান ২৬শে মার্চ প্রথম এবং জিয়াউর রহমান ২৭শে মার্চ শেখ মুজিবুর রহমানের পক্ষে আবার স্বাধীনতা ঘোষণা করেন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে খালেদা জিয়া মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করে ১৫ খণ্ডের বই সংশোধনের জন্য একটি কমিটি গঠন করেন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দের জুন মাসে গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণ প্রকাশিত হয়, যাতে জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার প্রথম ঘোষক এবং তার দ্বিতীয় ঘোষণার তারিখ ২৮শে মার্চ বলে উল্লেখ করা হয়। ২০০৯ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে জুন বাংলাদেশের উচ্চ আদালত শেখ মুজিবুর রহমানকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রকৃত ঘোষক বলে রায় দেন এবং বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ: দলিলপত্র গ্রন্থের দ্বিতীয় সংস্করণের তৃতীয় খণ্ডটি বাজেয়াপ্ত করার ঘোষণা করেন।
- ↑ প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে যাওয়া “আল বদর” বাহিনী নিজেদের বাঙালি বলে পরিচয় দিয়েছিল। রায়েরবাজার হত্যকাণ্ড থেকে বেঁচে ফেরা একমাত্র প্রত্যক্ষদর্শী দেলওয়ার হোসেন বাঙালি বুদ্ধিজীবীদের তুলে নিয়ে হত্যাকারীদের বাঙালি বলে বর্ণনা করেছেন।
- ↑ আর্চার ব্লাড#ব্লাড টেলিগ্রাম দ্রষ্টব্য।
তথ্যসূত্র
- ↑ Genocide in Bangladesh, 1971 জেন্ডারসাইড ওয়াচ.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ স্বাধীনতার ৫০ বছর: ২৫শে মার্চের হত্যাযজ্ঞের পর যেভাবে এল স্বাধীনতার ঘোষণা বিবিসি বাংলা.
- ↑ জামাল, আহমেদ (৫–১৭ অক্টোবর ২০০৮)। "Mukti Bahini and the liberation war of Bangladesh: A review of conflicting views" [মুক্তিবাহিনী ও বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: দ্বন্দ্ব্যমান পক্ষের দৃষ্টিভঙ্গি] (পিডিএফ)। এশিয়ান অ্যাফেয়ার্স (ইংরেজি ভাষায়)। ৩০। ৩ জানুয়ারি ২০১৫ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৯ এপ্রিল ২০১৫।
- ↑ শুরু হল মুজিববর্ষ: একটি মুজিবরের থেকে লক্ষ মুজিবরের কন্ঠস্বরের ধ্বনি-প্রতিধ্বনি
- ↑ Britain Proposes Indian Partition
- ↑ '.
- ↑ Problems of Partition
- ↑ Gendercide Watch: Genocide in Bangladesh, 1971
- ↑ Bangladesh – The Zia Regime and Its Aftermath, 1977–82
- ↑ ১৬.০ ১৬.১ বসু, শর্মিলা (৮ অক্টোবর ২০০৫)। "Anatomy of Violence, Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971"। ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি (ইংরেজি ভাষায়)। ৪০ (৪১)। ১ মার্চ ২০০৭ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ২৭ জুলাই ২০১৫।
- ↑ Nixon and Kissinger's Forgotten Shame
- ↑ ১৮.০ ১৮.১ Civil War Rocks East Pakistan
- ↑ বসু, শর্মিলা (৮ অক্টোবর ২০০৫)। "Anatomy of Violence: Analysis of Civil War in East Pakistan in 1971" (পিডিএফ)। ইকোনমিক অ্যান্ড পলিটিকাল উইকলি (ইংরেজি ভাষায়): ৪৪৬৩। ২৮ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে মূল (পিডিএফ) থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১২ মার্চ ২০২১।
- ↑ World Refugee Day: Five human influxes that have shaped India
- ↑ The World: India and Pakistan: Over the Edge
- ↑ ক্রাইসিস ইন সাউথ এশিয়া – এ রিপোর্ট, শরণার্থীদের সমস্যা ও তাদের পুনর্বাসনে তদন্তকারী দলের প্রতি সিনেটর এডওয়ার্ড কেনেডির প্রতিবেদন; সিনেটের জুডিশিয়ারি কমিটির নিকট দাখিলকৃত, ১ নভেম্বর ১৯৭১, ইউএস গভর্নমেন্ট প্রেস, পৃষ্ঠা ৬–৭।
- ↑ SOAS Language Centre – Bengali Language Courses
- ↑ Language Movement paved way for independence: Hasina
- ↑ From Dhaka to fall of Dhaka
- ↑ International Mother Language Day
- ↑ '.
- ↑ Bangladesh Liberation War, 1971
- ↑ ২৯.০ ২৯.১ Library of Congress studies মেমোরি.এলওসি.জিওভি.
- ↑ ৩০.০ ৩০.১ স্বাধীনতার ৫০ বছর: যে বৈষম্যের কারণে বাঙালিরা পাকিস্তান থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয় বিবিসি বাংলা.
- ↑ Demons of December – Road from East Pakistan to Bangladesh
- ↑ '.
- ↑ ৩৩.০ ৩৩.১ ৩৩.২ '.
- ↑ ৩৪.০ ৩৪.১ '.
- ↑ ৩৫.০ ৩৫.১ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Annual Summary – Storms & Depressions – India Weather Review
- ↑ Thematic paper: Role of forests and trees in protecting coastal areas against cyclones বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থা, এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক কার্যালয়.
- ↑
- ↑
- ↑
- ↑
- ↑ A Critical Juncture Analysis, 1964–2003 ইউএসএআইডি.
- ↑ ৫৩.০ ৫৩.১ ৫৩.২ ৫৩.৩ ৫৩.৪ '.
- ↑ টানা আন্দোলনের চতুর্থ দিন, মৃত্যু ছাপিয়ে ক্ষোভ
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Twentieth Century Atlas – Death Tolls
- ↑ Questioning an iconic number
- ↑ '.
- ↑ Indians are bastards anyway
- ↑ '.
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ WHEN TANKS TOOK OVER THE TALKING: Troops Battle Rag-Tag Battle
- ↑ ৬৫.০ ৬৫.১ Bangladesh war: The article that changed history – Asia বিবিসি.
- ↑ বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: যে নিবন্ধ পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাস বিবিসি বাংলা.
- ↑ CIVIL WAR FLARE E.PAKISTAN: Sheikh 'a traitor' says president
- ↑ ৬৮.০ ৬৮.১ LEADER OF REBELS IN EAST PAKISTAN REPORTED SEIZED
- ↑ টেমপ্লেট:বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি
- ↑ ৭০.০ ৭০.১ স্বাধীনতা যুদ্ধ ১৯৭১: বিবিসি ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে কতটা এসেছিলো বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা? বিবিসি বাংলা.
- ↑ সে রাতে যেভাবে মুজিব স্বাধীনতার ঘোষণা পাঠান বিডিনিউজ২৪.কম.
- ↑ '.
- ↑ ৭৩.০ ৭৩.১ ৭৩.২ ৭৩.৩ Swadhin Bangla Betar Kendro and Bangladesh's Declaration of Independence
- ↑ It's Bangabandhu, not Zia দ্য ডেইলি স্টার.
- ↑ সংযোজন | স্বাধীনতার ঘোষণা: বেলাল মোহাম্মদের সাক্ষাৎকার
- ↑ '.
- ↑ M1 India, Pakistan, and the United States: Breaking with the Past By Shirin R. Tahir-Kheli টেমপ্লেট:ISBN, ১৯৯৭, কাউন্সিল অন ফরেন রিলেশনস, পৃষ্ঠা ৩৭
- ↑ পাকিস্তান ডিফেন্স জার্নাল, ১৯৭৭, বালাম ২, পৃষ্ঠা ২–৩
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Bangladesh
- ↑ ৮২.০ ৮২.১ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Bangladesh Liberation Armed Force
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ India – Pakistan War, 1971; Introduction By Tom Cooper, with Khan Syed Shaiz Ali এসিআইজি.অর্গ.
- ↑ মুক্তিযুদ্ধের সেক্টর সম্পর্কে তথ্যে ভুল আছে : মেজর রফিক | DW | 08.12.2010
- ↑ সেক্টর পরিচিতিঃ মুক্তিযুদ্ধের ১ নম্বর সেক্টর
- ↑ List of Sectors in Bangladesh Liberation War
- ↑ Bangladesh Liberation Armed Force ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ মার্চ ২০০৮ তারিখে, Liberation War Museum, Bangladesh.
- ↑ গেরিলাদেৱ ইতিহাস (পৃষ্ঠা ১০) - মুহম্মদ জাফর ইকবাল
- ↑ ১০৫.০ ১০৫.১ ১০৫.২ টেমপ্লেট:বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি
- ↑ 1971: Making Bangladesh a reality – I
- ↑ ১০৭.০ ১০৭.১ ১০৭.২ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ '.
- ↑ Naval Commandos in Operation Jackpot
- ↑ ১১১.০ ১১১.১ উদ্ধৃতি ত্রুটি:
<ref>ট্যাগ বৈধ নয়;dailytimes1912005নামের সূত্রটির জন্য কোন লেখা প্রদান করা হয়নি - ↑ The 1971 war
- ↑ Situation in the Indian Subcontinent
- ↑ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ ১১৫.০ ১১৫.১ Bangladesh: Unfinished Justice for the crimes of 1971
- ↑ Bangladesh's genocide debate; A conscientious research ইউরোপিয়ান ফাউন্ডেশন ফর সাউথ এশিয়ান স্টাডিজ.
- ↑ The Simla Agreement 1972
- ↑ India's Strategic Blunders in the 1971 War
- ↑ ১১৯.০ ১১৯.১ ডিফেন্স জার্নাল ডিফেন্স জার্নাল.
- ↑ General Niazi's Failure in High Command
- ↑ '.
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ টেমপ্লেট:বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি
- ↑ '.
- ↑ The loss continues to haunt us
- ↑ 125 Slain in Dacca Area Believed Elite of Bengal
- ↑ Mass grave found in Bangladesh
- ↑ ১৩০.০ ১৩০.১ The Tilt: The U.S. and the South Asian Crisis of 1971
- ↑ Bengali Wives Raped in War Are Said to Face Ostracism
- ↑ The Rapes of Bangladesh
- ↑ U.N. Asked to Aid Bengali Abortions
- ↑ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ মার্কিন কনস্যুলেট (ঢাকা) ক্যাবল, সিট্রেপ: Army Terror Campaign Continues in Dacca; Evidence Military Faces Some Difficulties Elsewhere, ৩১ মার্চ ১৯৭১, গোপনীয়, পৃষ্ঠা ৩
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ মার্কিন কনস্যুলেট, ঢাকা, ২৭ মার্চ ১৯৭১, Selective genocide, ক্যাবল (পিডিএফ)
- ↑ The Jamaat Talks Back
- ↑ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ Bernard-Henri Levy: Andre Malraux's Bangladesh, Before the Radicals
- ↑ André Malraux: A true friend of Bangladesh
- ↑ ১৪৪.০ ১৪৪.১ ১৪৪.২ The Recognition Story বাংলাদেশ স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ফোরাম.
- ↑ ১৪৫.০ ১৪৫.১ '.
- ↑ Bhutan recognised Bangladesh first
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ ১৪৮.০ ১৪৮.১ ১৪৮.২ শ্যালম, স্টিফেন আর, The Men Behind Yahya in the Indo-Pak War of 1971 (ইংরেজি ভাষায়)
- ↑ ১৪৯.০ ১৪৯.১ The triumvirate of the Diplomat, the Journalist and the Artist
- ↑ Naval 'Show of Force' By Nixon Meant as Blunt Warning to India
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ ডেক্সটার ফিলকিনস Collateral Damage:'The Blood Telegram,' by Gary J. Bass
- ↑ That same fleet but new face
- ↑ USSR, Czechoslovakia Recognize Bangladesh
- ↑ Nixon Hopes for Subcontinent Peace
- ↑ Foreign Relations, 1969–1976, Volume XI, South Asia Crisis, 1971
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ ১৬০.০ ১৬০.১ China Recognizes Bangladesh
- ↑ China Veto Downs Bangladesh UN Entry
- ↑ নিকটপ্রাচ্য-দক্ষিণ এশিয়া বিশ্লেষণ দফতর India and Its Neighbors: Cooperation of Confrontation?
- ↑ The Foreign Policy of Sirimavo Bandaranaike
- ↑ Brief Overview of Sri Lanka's Foreign Relations to Post-Independence
- ↑ Pak thanks Lanka for help in 1971 war
- ↑ '.
- ↑ নজর আব্বাস Gaddafi is gone, long live Libya
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
উৎস
'.
- লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
আরও পড়ুন
গ্রন্থপঞ্জি
টেমপ্লেট:মূল তালিকা টেমপ্লেট:সূত্র শুরু
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
'.
প্রতিবেদন
বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধ: যে নিবন্ধ পাল্টে দিয়েছিল ইতিহাস
1971 War: How Russia sank Nixon's gunboat diplomacy
- মুখার্জি, নয়নিকা, A Lot of History: Sexual Violence, Public Memories and the Bangladesh Liberation War of 1971, (ইংরেজি ভাষায়) সামাজিক নৃবিজ্ঞান বিষয়ে ডক্টর অব ফিলোসফির অভিসন্দর্ভ, স্কুল অব অরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ (এসওএএস), লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয়, ২০০২।
- লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর, অফিস অব দ্য হিস্টোরিয়ান, Foreign Relations of the United States, 1969–1976, Volume XI, South Asia Crisis, 1971 (ইংরেজি ভাষায়)
Genocide Day: As it was in March 1971
আনোয়ার ইকবাল
Sheikh Mujib wanted a confederation: US papers
ডন.
The case for UN recognition of Bangladesh genocide দ্য ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস.
- ন্যাশনাল সিকিউরিটি আর্কাইভ, The Tilt: the U.S. and the South Asian Crisis of 1971 (ইংরেজি ভাষায়)
Victory Day Special: Liberation War facts
বহিঃসংযোগ
টেমপ্লেট:কমন্স বিষয়শ্রেণী টেমপ্লেট:উইকিউক্তি লুয়া ত্রুটি mw.title.lua এর 346 নং লাইনে: bad argument #2 to 'title.new' (unrecognized namespace name 'প্রবেশদ্বার')।
- টেমপ্লেট:বাংলাপিডিয়া
- টেমপ্লেট:ইউটিউব
- চিরন্তন ১৯৭১, প্রথম আলো
- ফ্রিডম ইন দি এয়ার, দ্য ডেইলি স্টার
- বাংলাদেশ জেনোসাইড আর্কাইভ
- বাংলাদেশের (পূর্ব পাকিস্তানের) গণহত্যা নিয়ে গবেষণা, জেন্ডারসাইড
- টেমপ্লেট:ওয়েবসাইট, গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার
- মুক্তিযুদ্ধ ই-আর্কাইভ
- মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘর
- সংগ্রামের নোটবুক
টেমপ্লেট:বাংলাদেশের স্বাধীনতা টেমপ্লেট:বাংলাদেশ বিষয়াবলী টেমপ্লেট:বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক টেমপ্লেট:বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক টেমপ্লেট:বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী টেমপ্লেট:পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনী টেমপ্লেট:শেখ মুজিবুর রহমান টেমপ্লেট:স্নায়ুযুদ্ধ
- তথ্যসূত্র ত্রুটিসহ পাতা
- স্ক্রিপ্ট ত্রুটিসহ পাতা
- উদ্ধৃতি শৈলী রক্ষণাবেক্ষণ: অচেনা ভাষা
- ওয়েব আর্কাইভ টেমপ্লেটে ওয়েব্যাক সংযোগ
- TemplateStyles ত্রুটিসহ পাতা
- উৎসবিহীন তথ্যসহ সকল নিবন্ধ
- বাংলা-নয় ভাষার লেখা থাকা নিবন্ধ
- বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ
- পাকিস্তান–বাংলাদেশ সম্পর্ক
- পাকিস্তান জড়িত যুদ্ধ
- পাকিস্তানে বিচ্ছিন্নতাবাদ
- পাকিস্তানের ইতিহাস
- বাংলাদেশ জড়িত যুদ্ধ
- বাংলাদেশে যুদ্ধাপরাধ
- বাংলাদেশের ইতিহাস
- বাংলাদেশের সামরিক ইতিহাস
- বাংলার ইতিহাস
- স্বাধীনতা যুদ্ধ