আবু সাঈদ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
ব্ন>Duyel সম্পাদনা সারাংশ নেই |
অ ParvejBOT Test gi4mn26c পাতাটিকে আবু সাঈদ শিরোনামে পুনর্নির্দেশনা ছাড়াই স্থানান্তর করেছেন: Reverting abusive move by ভিকিটিয়া |
| (২ জন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ২টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |
(কোনও পার্থক্য নেই)
| |
১৬:৪৩, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
| আবু সাঈদ | |
|---|---|
|
|
|
| জন্ম তারিখ | ২০০১ |
| জন্মস্থান | জাফরপাড়া, পীরগঞ্জ উপজেলা, রংপুর |
| মৃত্যু তারিখ | ১৬ জুলাই ২০২৪ (বয়স ২২–২৩) |
| মৃত্যুর স্থান | রংপুর |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | ছাত্র |
| মাতৃশিক্ষায়তন | বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়, রংপুর |
আবু সাঈদ ছিলেন একজন বাংলাদেশী শিক্ষার্থী ও ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনের সক্রিয়কর্মী এবং রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সমন্বয়ক ছিলেন।[১] ১৬ জুলাই আন্দোলন চলাকালে একজন পুলিশ সদস্যের গুলিতে মৃত্যুবরণ করেন।[২][৩] কোটা আন্দোলনকারীরা তাকে আন্দোলনের প্রথম শহিদ বলে আখ্যায়িত করে।[৪]
ব্যক্তিগত জীবন
আবু সাঈদ ২০০১ সালে রংপুরের জেলার পীরগঞ্জ উপজেলার বাবনপুর গ্রামে মকবুল হোসেন ও মনোয়ারা বেগমের ঘরে জন্মগ্রহণ করেন। আবু সাঈদ ছয় ভাই ও তিন বোনের মধ্যে সে সবার ছোট। তিনি স্থানীয় জাফর পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণিতে ট্যালেন্টপুলে বৃত্তি পেয়ে উত্তীর্ণ হন। এরপরে স্থানীয় খালাশপীর দ্বিমুখী উচ্চ বিদ্যালয় থেকে গোল্ডেন জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাশ করেন। এরপর ২০১৮ সালে রংপুর সরকারি কলেজ থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এইচএসসি পাশ করেন। পরে ২০২০ সালে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগে ভর্তি হন।[৫] তিনি তার বিভাগের ১২তম ব্যাচের শিক্ষার্থী ছিলেন।[৬]
২০২৪-এর কোটা সংস্কার আন্দোলন
তিনি ২০২৪ সালে বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন এর রংপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে ও রংপুর অঞ্চলে কোটা আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা রাখেন। তিনি আন্দোলনকে বেগবান করতে ১৫ই জুলাই ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানে নিহত রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক শামসুজ্জোহাকে উল্লেখ ফেসবুকে একটি পোস্ট দেন:[৭]
১৬ই জুলাই দুপুর ১২টা থেকেই রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় অঞ্চলে কোটা আন্দোলনকর্মীরা বিক্ষোভ করছিলো। আবু সাঈদ এই আন্দোলনের সম্মুখ ভাগেই অবস্থান করছিলো সবসময়।
মৃত্যু
১৬ই জুলাই দুপুর আড়াইটা থেকে তিনটার দিকে রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ টিয়ার গ্যাস নিক্ষেপ ও লাঠিচার্জ করে। ছাত্রদের সবাই সরে গেলেও আবু সাঈদ হাতে একটি লাঠি নিয়ে দুহাত প্রসারিত করে দাঁড়িয়ে যান। এই অবস্থায় পুলিশ আনুমানিক ৫০-৬০ ফুট[৮] দূর থেকে তার উপর ছররা গুলি ছুড়ে।[৯] পুলিশের অবস্থানের জায়গাটি ছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে। তারপরও অবস্থান থেকে সরেননি আবু সাঈদ, দাঁড়িয়েই ছিলেন। একপর্যায়ে কয়েকটি গুলি খেয়ে ক্ষতবিক্ষত হওয়ার পর মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি। অন্যান্য শিক্ষার্থীরা তাকে হাসপাতালে নেয়ার আগেই তিনি মৃত্যুবরণ করেন।[২][৩]
মামলা
আবু সাঈদের মৃত্যুর পর ১৭ই জুলাই তাজহাট থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়। মামলার তথ্য অনুযায়ী, আবু সাঈদের মৃত্যুর দায় বিক্ষোভকারীদের ওপর দিয়ে[১০][১১] উল্লেখ করা হয় যে আন্দোলনকারীদের ছোড়া গোলাগুলি ও ইটপাটকেলের মধ্যে একজন শিক্ষার্থী রাস্তায় পড়ে যায়, পরে হাসপাতালে নিয়ে গেলে তাকে মৃত ঘোষণা করা হয়।[১২]
১৮ জুলাই পুলিশ ১৬ বছর বয়সী এক কিশোরকে গ্রেপ্তার করে এবং পরের দিন তাকে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়,[১৩] যদিও পুলিশ তার বয়স ১৯ বছর উল্লেখ করে। ১ আগস্ট 'প্রথম আলো'তে প্রতিবেদন প্রকাশের পর সমালোচনা শুরু হলে কিশোরের জামিন মঞ্জুর হয়।[১৪] ১৩ আগস্ট আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ডের পর রংপুর পুলিশ কমিশনার এবং রেঞ্জের উপমহাপরিদর্শককে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়।[১৫]
প্রতিক্রিয়া
আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নির্বাহী পরিচালক ফারুখ ফয়সাল আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে কথা বলতে গিয়ে বিবিসি বাংলাকে বলেন, “ছেলেটার কাছে যেহেতু প্রাণঘাতী কোনও অস্ত্র ছিল না, কাজেই পুলিশের সহিংস হওয়ার কোনও দরকার ছিল না, কিন্তু পুলিশ সেটি না করে গুলি ছুড়লো। নিরীহ মানুষের উপর এমন আক্রমণ মোটেও মেনে নেওয়া যায় না।”[১৬]
১৭ই জুলাই ভারতীয় অভিনেত্রী স্বস্তিকা মুখোপাধ্যায় ফেসবুকে আবু সাঈদের একটি ছবি পোস্ট করে লিখেন, “আজ, অস্থির লাগছে। আমিও তো সন্তানের জননী। আশা করবো বাংলাদেশ শান্ত হবে।”[১৭]
২৬শে জুলাই বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান করে।[১৮] ১০ আগস্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা মুহাম্মদ ইউনূস, উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম ও আসিফ মাহমুদ আবু সাঈদের বাড়িতে যান। সেখানে ইউনূস বলেন, “বাংলাদেশে জাতি-ধর্ম নির্বিশেষে সবারই সন্তান আবু সাঈদ। হিন্দু পরিবার হোক, মুসলমান পরিবার হোক, বৌদ্ধ পরিবার হোক—সবার ঘরের সন্তান এই আবু সাঈদ।”[১৯]
কিংবদন্তি
কোটা আন্দোলনকে কবি শহীদুল্লাহ ফরায়জী তার নামে প্রজন্মের বীর আবু সাঈদ নামে একটা কবিতা লিখেন।[২০] আন্দোলন কর্মীরা রংপুর পার্ক মোড়ের নাম পরিবর্তন করে ‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিয়েছেন।[২১] সেই সাথে শিক্ষার্থীরা রংপুর বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের মুলগেটের নাম “শহীদ আবু সাঈদ গেইট’’ নামকরণ করেন।[২২]
তথ্যসূত্র
- ↑ পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, রংপুরে কোটা আন্দোলনের সমন্বয়ক আবু সাঈদ নিহত
- ↑ ২.০ ২.১ রংপুরে যেভাবে গুলিবিদ্ধ হলেন আন্দোলনকারী আবু সাঈদ
- ↑ ৩.০ ৩.১ স্যার! এই মুহূর্তে আপনাকে ভীষণ দরকার, স্যার!
- ↑ ‘যতদিন বেঁচে আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাঁচুন’ মৃত্যুর আগে আবু সাইদের বার্তা
- ↑ আদরের ছোট ছেলে সাঈদের মৃত্যুতে পাগলপ্রায় মা, বারবার মূর্ছা যাচ্ছেন
- ↑ বেরোবি শিক্ষার্থী আবু সাঈদের দাফন সম্পন্ন, জানাজায় মানুষের ঢল
- ↑ ‘যতদিন বেঁচে আছেন মেরুদণ্ড নিয়ে বাঁচুন’ মৃত্যুর আগে আবু সাইদের বার্তা
- ↑ কেন আবু সাঈদকে ঠান্ডা মাথায় গুলি করে হত্যা করা হলো?
- ↑ পুলিশের ছররা গুলিতেই আবু সাঈদের মৃত্যু
- ↑ গুলিতে ঝাঁঝরা সাঈদের বুক, পুলিশ বলছে উল্টো কথা
- ↑ আবু সাঈদ হত্যাকাণ্ড: মানুষ যা দেখছে, মামলার বাদী কি তা দেখেননি
- ↑ কোটা আন্দোলন: আবু সাঈদের মৃত্যু নিয়ে পুলিশের বয়ান ও দেশজুড়ে যেভাবে অভিযান চলছে
- ↑ আবু সাঈদ হত্যা মামলায় কিশোর গ্রেপ্তার, ১২ দিন ধরে কারাগারে
- ↑ রংপুরে আবু সাঈদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার কিশোরের জামিন
- ↑ আবু সাঈদ হত্যা: বাধ্যতামূলক অবসরে পুলিশের ঊর্ধ্বতন দুই কর্মকর্তা
- ↑ রংপুরে শিক্ষার্থী আবু সাঈদকে লক্ষ্য করে পুলিশের গুলি, ঠিক কী ঘটেছিল?
- ↑ আবু সাঈদের ছবি পোস্ট করে ভারতের অভিনেত্রী স্বস্তিকা লিখলেন, ‘অস্থির লাগছে’
- ↑ আবু সাঈদের পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দিল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন
- ↑ হিন্দু , মুসলমান, বৌদ্ধ পরিবার হোক—সবার ঘরের সন্তান এই আবু সাঈদ: রংপুরে ড. ইউনূস
- ↑ প্রজন্মের বীর আবু সাঈদ
- ↑ রংপুর পার্ক মোড়ের নাম ‘আবু সাঈদ চত্বর’ দিলেন শিক্ষার্থীরা
- ↑ বেরোবিতে নিহত আবু সাঈদের নামে চত্বর ও গেট উদ্বোধন