জাতীয় স্মৃতিসৌধ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য
অ ভিকিটিয়া জাতীয় স্মৃতিসৌধ কে Test ruq5t88c শিরোনামে স্থানান্তর করেছেন: Testing vandalising capabilities ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা |
সম্পাদনা সারাংশ নেই ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা |
||
| (৩ জন ব্যবহারকারী দ্বারা সম্পাদিত ৫টি মধ্যবর্তী সংশোধন দেখানো হচ্ছে না) | |||
| ১ নং লাইন: | ১ নং লাইন: | ||
# | {{Infobox building | ||
|name = জাতীয় স্মৃতি সৌধ | |||
|image =5.জাতীয় স্মৃতিসৌধ.jpg | |||
|location = [[সাভার উপজেলা|সাভার]], [[বাংলাদেশ]] | |||
|map_type = | |||
|map_caption = | |||
|latitude = | |||
|longitude = | |||
|iso_region = | |||
|roof = {{রূপান্তর|150|ft|m|0}} | |||
|antenna_spire = | |||
|start_date = ১৯৭৮ | |||
|completion_date = ১৯৮২ | |||
|status = জাতীয় শহীদদের স্মরণে | |||
|main_contractor = | |||
|architect = [[সৈয়দ মাইনুল হোসেন]] | |||
|structural_engineer= | |||
|building_type = সর্বজনীন স্মৃতিস্তম্ভ | |||
}} | |||
'''জাতীয় স্মৃতিসৌধ''' [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ|বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে]] নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা। এটি ঢাকার [[সাভার উপজেলা|সাভারে]] অবস্থিত। স্মৃতিসৌধে সাতটি স্তম্ভ রয়েছে যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রধান সাতটি আন্দোলনের নিদর্শন বহন করে। | |||
এর নকশা প্রণয়ন করেন স্থপতি [[সৈয়দ মাইনুল হোসেন]]।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=National Memorial |ইউআরএল=http://www.parjatan.gov.bd/bangla/historical.php#National%20Memorial |সংগ্রহের-তারিখ=৭ জানুয়ারি ২০১২ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130121162425/http://www.parjatan.gov.bd/bangla/historical.php#National%20Memorial#National%20Memorial |আর্কাইভের-তারিখ=২১ জানুয়ারি ২০১৩ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref> এখানে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের দশটি গণকবর রয়েছে।<ref>[http://bengali.cri.cn/461/2011/12/22/41s118691.htm বাংলাদেশের জাতীয় স্মৃতিসৌধ]</ref> বিদেশি রাষ্ট্রনায়কগণ সরকারিভাবে [[বাংলাদেশ]] সফরে আগমন করলে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রাচারের অন্তর্ভুক্ত। | |||
== ইতিহাস == | |||
[[চিত্র:Mainul Hossen (1).JPG|thumb|নিজের নকশা করা স্থাপনা জাতীয় স্মৃতিসৌধের পাশে স্থপতি [[সৈয়দ মাইনুল হোসেন]]]] | |||
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে [[বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি|বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি]] [[শেখ মুজিবুর রহমান]] ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে [[নবীনগর|নবীনগরে]] এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি [[জিয়াউর রহমান]] স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং নকশা আহ্বান করা হয়। ১৯৭৮-এর জুন মাসে প্রাপ্ত ৫৭টি নকশার মধ্যে সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রণীত নকশাটি গৃহীত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মূল স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় দিবসের অল্প পূর্বে সমাপ্ত হয়। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে গৃহীত প্রকল্প অনুযায়ী এখানে একটি অগ্নিশিখা, সুবিস্তৃত ম্যুরাল এবং একটি [[গ্রন্থাগার]] স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=28538:2011-12-16-15-02-28&catid=47:2010-08-30-14-46-06&Itemid=78|শিরোনাম=সাভার জাতীয় স্মৃতিসৌধ নির্মাণে বাস্তবায়ন হয়নি চতুর্থ প্রকল্পের কাজ|তারিখ=১৭ ডিসেম্বর ২০১১|সংগ্রহের-তারিখ=১১ মে ২০২৪|সংবাদপত্র=[[মানবজমিন (পত্রিকা)|মানবজমিন]]|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20120121190849/http://www.mzamin.com/index.php?option=com_content&view=article&id=28538:2011-12-16-15-02-28&catid=47:2010-08-30-14-46-06&Itemid=78|আর্কাইভের-তারিখ=২১ জানুয়ারি ২০১২|ইউআরএল-অবস্থা=dead}}</ref> বাংলাদেশ সফরকারী বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানগণ নিজ হাতে এখানে স্মারক বৃক্ষরোপণ করে থাকেন। স্মৃতিসৌধের মিনার ব্যতীত প্রকল্পটির মহা-পরিকল্পনা ও নৈসর্গিক পরিকল্পনাসহ অন্য সকল নির্মাণ কাজের স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থাপত্য অধিদপ্তর। নির্মাণ কাজের গোড়াপত্তন হয় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে এবং শেষ হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের মাসে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর সমগ্র নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। বর্তমানে সৌধটির নির্মাণকাজ তিন পর্যায়ে মোট ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়। | |||
== স্থাপত্য ও তাৎপর্য == | |||
১৯৭১ এর ২৬শে মার্চ [[বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ]] শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। এই স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। স্মৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই স্মৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজাকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রথমটি সূচিত হয় বায়ান্নর [[বাংলা ভাষা আন্দোলন|ভাষা আন্দোলনের]] মাধ্যমে। পরবর্তীতে [[পূর্ববঙ্গ আইনসভা নির্বাচন, ১৯৫৪|চুয়ান্ন]], [[১৯৫৬-এর পাকিস্তানের সংবিধান|ছাপ্পান্ন]], [[১৯৬২ পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা আন্দোলন|বাষট্টি]], [[ছয় দফা আন্দোলন|ছেষট্টি]] ও [[ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান|ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের]] মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট) উঁচু এবং জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। স্মৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণসমাধি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া। | |||
স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র [[ভাষা আন্দোলন]], ১৯৫৪ এর [[যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন]], ১৯৫৬ এর [[১৯৫৬-এর পাকিস্তানের সংবিধান|সংবিধান আন্দোলন]], ১৯৬২ এর [[১৯৬২ পূর্ব পাকিস্তান শিক্ষা আন্দোলন|শিক্ষা আন্দোলন]], ১৯৬৬ এর [[ছয় দফা আন্দোলন]], [[১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান]], ১৯৭১ এর [[মুক্তিযুদ্ধ]] - এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=জাতীয় স্মৃতিসৌধ |ইউআরএল=http://bdadinfo.com/dhaka/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%A7/ |সংগ্রহের-তারিখ=৭ জানুয়ারি ২০১২ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20130308102203/http://bdadinfo.com/dhaka/%E0%A6%9C%E0%A6%BE%E0%A6%A4%E0%A7%80%E0%A7%9F-%E0%A6%B8%E0%A7%8D%E0%A6%AE%E0%A7%83%E0%A6%A4%E0%A6%BF%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A7%97%E0%A6%A7/ |আর্কাইভের-তারিখ=৮ মার্চ ২০১৩ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref> | |||
== চিত্রশালা == | |||
<gallery mode="packed-hover" heights="150"> | |||
চিত্র:1.জাতীয় স্মৃতিসৌধ.jpg | |||
চিত্র:2.জাতীয় স্মৃতিসৌধ.jpg|জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর | |||
4.জাতীয় স্মৃতিসৌধ.jpg | |||
3.জাতীয় স্মৃতিসৌধ.jpg | |||
Sriti shoud.jpeg | |||
Jatiyo Smriti Soudho, Savar (3).jpg | |||
চিত্র:National Martyrs' Memorial 3.jpg | |||
</gallery> | |||
== তথ্যসূত্র == | |||
{{সূত্র তালিকা}} | |||
== বহিঃসংযোগ == | |||
* [http://nasmis.dghs.gov.bd/ministry/circulars_details.php?circulars_id=67 ২৫-৩-২০০২ তারিখে জারী সরকারী প্রজ্ঞাপন]{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }} | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিস্তম্ভ]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:ঢাকা জেলার দর্শনীয় স্থান]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:সাভার উপজেলার দর্শনীয় স্থান]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের আধুনিকতাবাদী স্থাপত্য]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:ঢাকার স্মৃতিস্তম্ভ ও স্মারক]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের জাতীয় প্রতীক]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:আধুনিক স্থাপত্য]] | |||
[[বিষয়শ্রেণী:বাংলাদেশের স্থাপত্য]] | |||
১৩:০১, ১১ মার্চ ২০২৫ তারিখে সম্পাদিত সর্বশেষ সংস্করণ
টেমপ্লেট:Infobox building জাতীয় স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত মুক্তিযোদ্ধা ও নিহত বেসামরিক বাঙালি ও অবাঙালিদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি স্মারক স্থাপনা। এটি ঢাকার সাভারে অবস্থিত। স্মৃতিসৌধে সাতটি স্তম্ভ রয়েছে যা বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের প্রধান সাতটি আন্দোলনের নিদর্শন বহন করে।
এর নকশা প্রণয়ন করেন স্থপতি সৈয়দ মাইনুল হোসেন।[১] এখানে মুক্তিযুদ্ধে নিহতদের দশটি গণকবর রয়েছে।[২] বিদেশি রাষ্ট্রনায়কগণ সরকারিভাবে বাংলাদেশ সফরে আগমন করলে এই স্মৃতিসৌধে শ্রদ্ধা নিবেদন রাষ্ট্রাচারের অন্তর্ভুক্ত।
ইতিহাস
১৯৭২ খ্রিস্টাব্দের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসে বাংলাদেশের তৎকালীন রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমান ঢাকা শহর থেকে ২৫ কিলোমিটার দূরে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে নবীনগরে এই স্মৃতিসৌধের শিলান্যাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্মৃতিসৌধটি নির্মাণের উদ্যোগ গ্রহণ করেন এবং নকশা আহ্বান করা হয়। ১৯৭৮-এর জুন মাসে প্রাপ্ত ৫৭টি নকশার মধ্যে সৈয়দ মাইনুল হোসেন প্রণীত নকশাটি গৃহীত হয়। ১৯৭৯ খ্রিষ্টাব্দে মূল স্মৃতিসৌধের নির্মাণ কাজ শুরু হয় এবং ১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে বিজয় দিবসের অল্প পূর্বে সমাপ্ত হয়। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে গৃহীত প্রকল্প অনুযায়ী এখানে একটি অগ্নিশিখা, সুবিস্তৃত ম্যুরাল এবং একটি গ্রন্থাগার স্থাপনের পরিকল্পনা আছে।[৩] বাংলাদেশ সফরকারী বিদেশি রাষ্ট্রপ্রধানগণ নিজ হাতে এখানে স্মারক বৃক্ষরোপণ করে থাকেন। স্মৃতিসৌধের মিনার ব্যতীত প্রকল্পটির মহা-পরিকল্পনা ও নৈসর্গিক পরিকল্পনাসহ অন্য সকল নির্মাণ কাজের স্থাপত্য নকশা প্রণয়ন করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের স্থাপত্য অধিদপ্তর। নির্মাণ কাজের গোড়াপত্তন হয় ১৯৭২ খ্রিষ্টাব্দের জুলাই মাসে এবং শেষ হয় ১৯৮৮ খ্রিষ্টাব্দের মাসে। গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ধীন গণপূর্ত অধিদপ্তর সমগ্র নির্মাণকাজ সম্পন্ন করে। বর্তমানে সৌধটির নির্মাণকাজ তিন পর্যায়ে মোট ১৩ কোটি টাকা ব্যয়ে সম্পন্ন হয়।
স্থাপত্য ও তাৎপর্য
১৯৭১ এর ২৬শে মার্চ বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধ শুরু হয়। একই বছর ১৬ই ডিসেম্বর বিজয়ের মাধ্যমে এর পরিসমাপ্তি ঘটে। এই যুদ্ধে প্রায় ত্রিশ লক্ষ মানুষের প্রাণহানি হয়। এই স্মৃতিসৌধ বাংলাদেশের জনসাধারণের বীরত্বপূর্ণ লড়াইয়ের স্মরণে নিবেদিত এবং মুক্তিযুদ্ধের শহীদদের প্রতি জাতির শ্রদ্ধার উজ্জ্বল নিদর্শন হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। স্মৃতিস্তম্ভ এবং এর প্রাঙ্গণের আয়তন ৩৪ হেক্টর (৮৪ একর)। এ ছাড়াও রয়েছে একে পরিবেষ্টনকারী আরও ১০ হেক্টর (২৪ একর) এলাকা নিয়ে বৃক্ষরাজি পরিপূর্ণ একটি সবুজ বলয়। এই স্মৃতিসৌধ সকল দেশ প্রেমিক নাগরিক এবং মুক্তিযোদ্ধাদের বিজয় ও সাফল্যের যুগলবন্দি রচনা করেছে। সাতটি ত্রিভুজাকৃতি মিনারের শিখর দেশের মাধ্যমে বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের সাতটি পর্যায়ের প্রতিটি এক ভাবব্যঞ্জনাতে প্রবাহিত হচ্ছে। এই সাতটি পর্যায়ের প্রথমটি সূচিত হয় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের মাধ্যমে। পরবর্তীতে চুয়ান্ন, ছাপ্পান্ন, বাষট্টি, ছেষট্টি ও ঊনসত্তরের গণঅভ্যুত্থানের মধ্যে দিয়ে অগ্রসর হয়ে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীনতা সংগ্রামের চূড়ান্ত বিজয় অর্জিত হয়। মিনারটি ৪৫ মিটার (১৫০.০০ ফুট) উঁচু এবং জাতীয় শহীদ স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের গুরুত্বপূর্ণ একটি বিন্দুতে অবস্থিত। মিনার ঘিরে আছে কৃত্রিম হ্রদ এবং বাগান। স্মৃতিসৌধ চত্বরে আছে মাতৃভূমির জন্য আত্মোৎসর্গকারী অজ্ঞাতনামা শহীদের দশটি গণসমাধি। স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে আরও রয়েছে উন্মুক্ত মঞ্চ, অভ্যর্থনা কক্ষ, মসজিদ, হেলিপ্যাড, ক্যাফেটেরিয়া।
স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণের সর্বমোট আয়তন ৮৪ একর। স্মৃতিস্তম্ভ পরিবেষ্টন করে রয়েছে ২৪ একর এলাকাব্যাপী বৃক্ষরাজিশোভিত একটি সবুজ বলয়। স্মৃতিসৌধটির উচ্চতা ১৫০ ফুট। সৌধটি সাত জোড়া ত্রিভুজাকৃতির দেয়াল নিয়ে গঠিত। দেয়ালগুলো ছোট থেকে ক্রমশ বড়ক্রমে সাজানো হয়েছে। এই সাত জোড়া দেয়াল বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের সাতটি ধারাবাহিক পর্যায়কে নির্দেশ করে। ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন, ১৯৫৪ এর যুক্তফ্রন্ট নির্বাচন, ১৯৫৬ এর সংবিধান আন্দোলন, ১৯৬২ এর শিক্ষা আন্দোলন, ১৯৬৬ এর ছয় দফা আন্দোলন, ১৯৬৯ এর গণ-অভ্যূত্থান, ১৯৭১ এর মুক্তিযুদ্ধ - এই সাতটি ঘটনাকে স্বাধীনতা আন্দোলনের পরিক্রমা হিসাবে বিবেচনা করে সৌধটি নির্মিত হয়েছে।[৪]
চিত্রশালা
-
জাতীয় স্মৃতিসৌধ চত্বর