তসলিমা নাসরিন: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ভিকিটিয়া থেকে
ParvejBOT (আলোচনা | অবদান)
"Rewritten content for page তসলিমা নাসরিন due to abusive actions." দিয়ে পাতা তৈরি
 
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা দৃশ্যমান সম্পাদনা
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
Rewritten content for page তসলিমা নাসরিন due to abusive actions.
{{তথ্যছক লেখক
| নাম = তসলিমা নাসরিন
| চিত্র = Taslima_Nasrin_2019.jpg
| শিরোলিপি = তসলিমা নাসরিন (২০১৯)
| স্থানীয়_নাম =
| জন্ম_তারিখ =
| জন্ম_স্থান =
| মৃত্যু_তারিখ =
| পেশা = {{hlist|[[কবি]]|কলামিস্ট|[[ঔপন্যাসিক]]}}
| ভাষা = [[বাংলা ভাষা|বাংলা]]
| বাসস্থান =
| জাতীয়তা =
| নাগরিকত্ব = [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশী]], [[সুইডেন|সুইডিশ]]
| শিক্ষা = [[ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ]]<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.semanticscholar.org/paper/Taslima-Nasreen/0128d246452d5bcf94c312d3a2026bc866e6022b|শিরোনাম=Taslima Nasreen|তারিখ=২০০৪-০৬-১৯|সাময়িকী=The Lancet|খণ্ড=৩৬৩|সংখ্যা নং=৯৪২৬|পাতাসমূহ=২০৯৪|ভাষা=English|ডিওআই=10.1016/S0140-6736(04)16477-5|issn=0140-6736}}</ref>
| সময়কাল = ১৯৭৩ – বর্তমান
| বিষয় = নারীর অধিকার, মানবাধিকার, বাক-স্বাধীনতা, মানববাদ, বিজ্ঞান, সহনশীলতা
| আন্দোলন = নারী অধিকার, মানবাধিকার, ধর্মনিরপেক্ষ আন্দোলন
| পুরস্কার =
| দাম্পত্যসঙ্গী = {{অ-বুলেটকৃত তালিকা
| {{বিবাহ|[[রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ]]|১৯৮২|১৯৮৬|সমাপ্তি=তালাক}}
| {{বিবাহ|[[নাঈমুল ইসলাম খান]]|১৯৯০|১৯৯১|সমাপ্তি=তালাক}}
| {{বিবাহ|[[মিনার মাহমুদ]]|১৯৯১|১৯৯২|সমাপ্তি=তালাক}}
}}
| স্বাক্ষর = Autograph Taslima Nasrin.png
| ওয়েবসাইট = {{ইউআরএল|taslimanasrin.com}}
|birth_date={{জন্ম তারিখ ও বয়স|১৯৬২|০৮|২৫|df=y}}|birth_place=[[ময়মনসিংহ]], [[পূর্ব পাকিস্তান]] (বর্তমানে [[বাংলাদেশ]])|image=Taslima_Nasrin_2019.jpg}}
'''তসলিমা নাসরিন''' বাংলাদেশী-সুইডিশ লেখক, চিকিৎসক, নারীবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী এবং কর্মী। তিনি নারী নিপীড়ন এবং ইসলাম ধর্মের সমালোচনা নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত; তার কিছু বই [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশে]] নিষিদ্ধ ।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=BBC News {{!}} South Asia {{!}} Bangladesh bans new Taslima book|ইউআরএল=http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/419428.stm|সংগ্রহের-তারিখ=2023-06-21|ওয়েবসাইট=news.bbc.co.uk}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/2218972.stm|শিরোনাম=Bangladesh bans third Taslima book|তারিখ=2002-08-27|সংগ্রহের-তারিখ=2023-06-21|ভাষা=en-GB}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ভাষা=en|শিরোনাম=Split printer on strikeback path - Signature drive to protest Taslima book ban, high court suit in mind|ইউআরএল=https://www.telegraphindia.com/west-bengal/split-printer-on-strikeback-path-signature-drive-to-protest-taslima-book-ban-high-court-suit-in-mind/cid/1086798|সংগ্রহের-তারিখ=2023-06-21|ওয়েবসাইট=www.telegraphindia.com}}</ref> তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য উভয় থেকেই বঙ্গীয় অঞ্চল থেকে কালো তালিকাভুক্ত এবং নির্বাসিত হয়েছেন ।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.outlookindia.com/newswire/story/mahasweta-devi-slams-bengal-govt-for-banishing-taslima/702087|শিরোনাম=Mahasweta Devi Slams Bengal Govt for Banishing Taslima|কর্ম=Outlook}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ভাষা=en|শিরোনাম=Facing bans, Taslima Nasreen says no hope of returning to Kolkata|ইউআরএল=https://www.dnaindia.com/india/report-facing-bans-taslima-nasreen-says-no-hope-of-returning-to-kolkata-1959059|সংগ্রহের-তারিখ=2023-06-21|ওয়েবসাইট=DNA India}}</ref>
 
তিনি বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন এবং তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করায় ইসলামপন্থীদের রোষানলে পড়েন ও তাদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে [[বাংলাদেশ]] ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শেষাংশ১=Ghosh|প্রথমাংশ১=Subhajyoti|শিরোনাম=Why Taslima Nasreen wants to return to Bangladesh|ইউআরএল=http://www.bbc.com/news/world-asia-india-28307267|ওয়েবসাইট=www.bbc.com|সংগ্রহের-তারিখ=23 May 2015}}</ref><ref name="Chazan" /> তিনি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকেরও বেশি সময় বসবাস করার পর, তিনি ২০০৪ সালে ভারতে চলে আসেন,<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|তারিখ=2011-06-01|ভাষা=en-GB|শিরোনাম=“I am a Bengali writer, I need to live in Bengal”|ইউআরএল=https://openthemagazine.com/lounge/books/i-am-a-bengali-writer-i-need-to-live-in-bengal/|সংগ্রহের-তারিখ=2023-06-21|ওয়েবসাইট=Open The Magazine}}</ref> কিন্তু ২০০৮ সালে তাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=কেন আমেরিকায় এলাম : তসলিমা নাসরিন|ইউআরএল=http://www.ntvbd.com/world/11729/|ওয়েবসাইট=www.ntvbd.com|সংগ্রহের-তারিখ=29 July 2015|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20160304215539/http://www.ntvbd.com/world/11729/|আর্কাইভের-তারিখ=৪ মার্চ ২০১৬|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref> এরপর তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পান।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A8|শিরোনাম=ভারতে থাকার অনুমতি পেলেন তসলিমা নাসরীন|সংবাদপত্র=প্রিয়.কম|সংগ্রহের-তারিখ=2017-10-03|আর্কাইভের-তারিখ=২০২০-০৫-০২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20200502115337/https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%87-%E0%A6%A5%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A6%BE%E0%A6%B0-%E0%A6%85%E0%A6%A8%E0%A7%81%E0%A6%AE%E0%A6%A4%E0%A6%BF-%E0%A6%AA%E0%A7%87%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A7%80%E0%A6%A8|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> বর্তমানে তিনি [[দিল্লি|দিল্লিতে]] বসবাস করছেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://bengali.indianexpress.com/literature/taslima-nasreen-lajja-sequel-to-be-published-in-2020-97960/|শিরোনাম=তসলিমা নাসরিনের লজ্জা-র পরের অংশ আসছে|ওয়েবসাইট=Indian Express Bangla|ভাষা=bn-IN|সংগ্রহের-তারিখ=2021-04-12}}</ref>
 
==প্রথম জীবন==
তসলিমা নাসরিন ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে [[আগস্ট]] তৎকালীন [[পূর্ব পাকিস্তান|পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের]] [[ময়মনসিংহ]] শহরে একজন বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার মাতা ঈদুল ওয়ারা গৃহিণী এবং পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি [[ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল]] থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি [[আনন্দ মোহন কলেজ]] থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাস করেন। এরপর তিনি [[ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ|ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে]] ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাস করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.english.emory.edu/Bahri/Nasrin.html |শিরোনাম=Taslima Nasrin |প্রকাশক=English.emory.edu |সংগ্রহের-তারিখ=14 December 2010 |আর্কাইভের-তারিখ=৯ এপ্রিল ২০১১ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110409161738/http://english.emory.edu/Bahri/Nasrin.html |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref> ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সরকারী গ্রামীণ হাসপাতালে এবং ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত [[স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ|মিটফোর্ড হাসপাতালে]] স্ত্রীরোগ বিভাগে ও [[ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল|ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে]] (ঢামেকহা) তে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।<ref>[http://books.guardian.co.uk/departments/generalfiction/story/0,,2219223,00.html ''Condemned to life as an outsider''] The Guardian, November 30, 2007</ref>
 
==সাহিত্য জীবন==
 
তেরো বছর বয়স থেকে তসলিমা কবিতা লেখা শুরু করেন। কলেজে পড়ার সময় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ''সেঁজুতি'' নামক একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তসলিমার কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে ''শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা'' নামক তার প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে ''নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে'' ও ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে ''আমার কিছু যায় আসে না'' কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়। এই সময় তসলিমা [[ঢাকা]] হতে প্রকাশিত [[নঈমুল ইসলাম খান]] দ্বারা সম্পাদিত ''খবরের কাগজ'' নামক রাজনৈতিক সাপ্তাহিকীতে নারী অধিকার বিষয়ে লেখা শুরু করেন।<ref name="controversy">{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Taslima Nasreen: Controversy's child | প্রকাশক = BBC News | তারিখ = 23 November 2007 | ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7108880.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009}}</ref> তার কাব্যগ্রন্থ ও সংবাদপত্রের কলামে নারীদের প্রতি ইসলামপন্থীদের শোষণের অভিযোগ করায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের একদল ইসলামপন্থী এই পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে। এই সময় [[নির্বাচিত কলাম]] নামক তার বিখ্যাত প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়, যার জন্য ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা [[আনন্দ পুরস্কার]] লাভ করেন। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে ''অতলে অন্তরীণ'', ''বালিকার গোল্লাছুট'' ও ''বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা'' নামক আরো তিনটি কাব্যগ্রন্থ; ''যাবো না কেন? যাব'' ও ''নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প'' নামক আরো দুইটি প্রবন্ধসংকলন এবং ''অপরপক্ষ'', ''শোধ'', ''নিমন্ত্রণ'' ও ''ফেরা'' নামক চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়।
 
১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে ''[[লজ্জা (উপন্যাস)|লজ্জা]]'' নামক তার পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়।<ref name="radicals">{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Radicals in Bangladesh Want Writer Put to Death | কর্ম = [[The State (newspaper)|The State]] | পাতা = 4A | তারিখ = 25 September 1993 | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Ahmed | প্রথমাংশ = Anis | শিরোনাম = Bangladesh Author Has Bounty on Her Head | কর্ম = [[Chicago Tribune]] | পাতা = 11 | তারিখ = 31 October 1993 | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর [[অমর একুশে গ্রন্থমেলা|অমর একুশে গ্রন্থমেলায়]] একদল  ইসলামপন্থী তসলিমার ওপর শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে ও তার এই উপন্যাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানায়। [[অমর একুশে গ্রন্থমেলা|গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ]] তাকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এই বছর অক্টোবর মাসে ''কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স'' নামক এক ইসলামপন্থী সংগঠন তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে।<ref name="fume">{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Targett | প্রথমাংশ = Simon | শিরোনাম = She who makes holy men fume | কর্ম = [[Times Higher Education]] | তারিখ = 24 February 1995 | ইউআরএল = http://www.timeshighereducation.co.uk/story.asp?storyCode=96825&sectioncode=26 | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Bangladesh: A group called the Sahaba Soldiers; the goals and activities of the group; treatment of those who hold progressive religious and social views by the Sahaba Soldier members (1990–2003) | প্রকাশক = [[UNHCR]] | তারিখ = 29 July 2003 | ইউআরএল = http://www.unhcr.org/refworld/country,,,QUERYRESPONSE,BGD,,3f7d4d5e7,0.html | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-তারিখ = ১৪ অক্টোবর ২০১২ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20121014060725/http://www.unhcr.org/refworld/country,,,QUERYRESPONSE,BGD,,3f7d4d5e7,0.html | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref>
 
তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ [[বাংলাদেশ]] ও [[ভারত]] সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। ''আমার মেয়েবেলা''  নামক তার প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে [[ইসলাম]] ও [[মুহাম্মাদ|মুহাম্মাদের]] প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে [[বাংলাদেশ]] সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলেও<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Ahmed | প্রথমাংশ = Kamal | শিরোনাম = Bangladesh bans new Taslima book | প্রকাশক = BBC News | তারিখ = 13 August 1999 | ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/419428.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এই বইয়ের জন্য তসলিমা দ্বিতীয়বার [[আনন্দ পুরস্কার]] জয় করেন। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় আত্মজীবনী ''উতাল হাওয়া'' [[বাংলাদেশ]] সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Bangladesh bans third Taslima book | প্রকাশক = BBC News | তারিখ = 27 August 2002 | ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/2218972.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে ''ক'' নামক তার তৃতীয় আত্মজীবনী বাংলাদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই বইটি ''দ্বিখণ্ডিত'' নামে প্রকাশিত হলেও ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের চাপে নত হয়ে [[পশ্চিমবঙ্গ|পশ্চিমবঙ্গে]] বইটি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলে<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Bengal bans Taslima's book | কর্ম = [[The Hindu]] | তারিখ = 28 November 2003 | ইউআরএল = http://www.hindu.com/2003/11/29/stories/2003112905441100.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | অবস্থান = Chennai, India | আর্কাইভের-তারিখ = ৪ ডিসেম্বর ২০০৩ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20031204104119/http://www.hindu.com/2003/11/29/stories/2003112905441100.htm | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> সরকারের এই সিদ্ধান্ত লেখক মহলে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Joshua | প্রথমাংশ = Anita | শিরোনাম = West Bengal Government assailed for banning Taslima's book | কর্ম = [[The Hindu]] | তারিখ = 18 February 2004 | ইউআরএল = http://www.hindu.com/2004/02/19/stories/2004021911291100.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | অবস্থান = Chennai, India | আর্কাইভের-তারিখ = ২৩ মার্চ ২০০৪ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20040323054659/http://www.hindu.com/2004/02/19/stories/2004021911291100.htm | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> এই নিষেধাজ্ঞা ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Dhar | প্রথমাংশ = Sujoy | শিরোনাম = Arts Weekly/Books: Split By Leftists and Fanatics | প্রকাশক = [[Inter Press Service]] | বছর = 2005 | ইউআরএল = http://www.ipsnews.net/news.asp?idnews=30522 | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20080525103304/http://www.ipsnews.net/news.asp?idnews=30522 | আর্কাইভের-তারিখ = ২৫ মে ২০০৮ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Court lifts ban on Nasreen's book in Bengal | প্রকাশক = [[Rediff.com]] | তারিখ = 23 September 2005 | ইউআরএল = http://www.rediff.com/news/2005/sep/23taslima.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ''সেই সব অন্ধকার'' নামক তার চতুর্থ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ [[বাংলাদেশ]] সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Exiled Taslima Nasrin to return to Bangladesh | প্রকাশক = Indian Muslims | তারিখ = 16 July 2007 | ইউআরএল = http://www.indianmuslims.info/news/2007/jul/15/exiled_taslima_nasrin_return_bangladesh.html | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20120504034442/http://www.indianmuslims.info/news/2007/jul/15/exiled_taslima_nasrin_return_bangladesh.html | আর্কাইভের-তারিখ = ৪ মে ২০১২ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = New book banned at behest of Islamic bigots: Taslima | প্রকাশক = [[Press Trust of India]] | তারিখ = 20 February 2004 | ইউআরএল = http://news.indiainfo.com/2004/02/20/2002taslima.html | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20081203004519/http://news.indiainfo.com/2004/02/20/2002taslima.html | আর্কাইভের-তারিখ = ৩ ডিসেম্বর ২০০৮ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref>
 
==দেশত্যাগ==
১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের [[মে]] মাসে [[দ্য স্টেটসম্যান]] পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন [[শরিয়া]] অবলুপ্তির মাধ্যমে [[কুরআন]] সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।<ref name="britannica">{{বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Nasrin Sahak, Taslima: Bangladeshi author | বিশ্বকোষ = Encyclopædia Britannica | ইউআরএল = http://www.britannica.com/EBchecked/topic/404019/Taslima-Nasrin | সংগ্রহের-তারিখ = 28 May 2009}}</ref> এর ফলে ইসলামপন্থীরা তার ফাঁসির দাবি জানাতে শুরু করে। তিন লাখ ইসলামপন্থীদের একটি জমায়েতে তাকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরূপে অভিহিত করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Walsh | প্রথমাংশ = James | coauthors = Farid Hossain, [[Anita Pratap]], Jefferson Penberthy | শিরোনাম = Death To the Author | কর্ম = [[Time (magazine)|Time]] | তারিখ = 15 August 1994 | ইউআরএল = http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,981247,00.html | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-তারিখ = ১৮ অক্টোবর ২০০৮ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20081018211500/http://www.time.com/time/magazine/article/0,9171,981247,00.html | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। [[হাবিবুর রহমান (পণ্ডিত)|হাবিবুর রহমান]] সিলেটে একটি সমাবেশে তার মাথার দাম ৫০ লাখ টাকা ঘোষণা করে। [[বাংলাদেশ সরকার|বাংলাদেশ সরকারের]] পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93|শিরোনাম=আমাকে ঘাড় ধরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে : তসলিমা নাসরিন (ভিডিও)|সংবাদপত্র=প্রিয়.কম|সংগ্রহের-তারিখ=2017-10-03|আর্কাইভের-তারিখ=২০২০-০৫-০২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20200502135057/https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%BE%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%98%E0%A6%BE%E0%A6%A1%E0%A6%BC-%E0%A6%A7%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%B6-%E0%A6%A5%E0%A7%87%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AC%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%A6%E0%A7%87%E0%A6%93%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A6%BE-%E0%A6%B9%E0%A6%AF%E0%A6%BC%E0%A7%87%E0%A6%9B%E0%A7%87-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8-%E0%A6%AD%E0%A6%BF%E0%A6%A1%E0%A6%BF%E0%A6%93|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref> সেসময় আলোকচিত্রী [[শহিদুল আলম]] সহ<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=শহিদুল আলম আমাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন: তসলিমা নাসরিন |ইউআরএল=https://www.jugantor.com/social-media/78784/শহিদুল-আলম-আমাকে-লুকিয়ে-রেখে-প্রাণে-বাঁচিয়েছিলেন-তসলিমা-নাসরিন |সংগ্রহের-তারিখ=১৪ নভেম্বর ২০১৮ |কর্ম=Jugantor}}</ref> বিভিন্ন জনের আশ্রয়ে তিনি দুই মাস লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা [[বাংলাদেশ]] ত্যাগ করতে বাধ্য হন।<ref name="Chazan">{{সংবাদ উদ্ধৃতি  | শেষাংশ = Chazan  | প্রথমাংশ = David  | coauthors =  | শিরোনাম = World: South Asia: Taslima goes back into exile  | কর্ম =  | স্থান = | পাতাসমূহ =  | ভাষা =  | প্রকাশক = [[BBC]]  | তারিখ = 1999-01-26  | ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/1/hi/world/south_asia/263014.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 2009-05-28}}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Bangladeshi author and doctor Taslima Nasreen threatened by Islamic fundamentalists | প্রকাশক = Fileroom | ইউআরএল = http://www.thefileroom.org/documents/dyn/DisplayCase.cfm/id/1058 | সংগ্রহের-তারিখ = 28 May 2009}}</ref>
 
==নির্বাসিত জীবন==
বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে [[সুইডেন|সুইডেনে]] ও ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত [[জার্মানি|জার্মানিতে]] বসবাস করেন।<ref name="richards">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://news.google.com/newspapers?id=-KwuAAAAIBAJ&sjid=czADAAAAIBAJ&pg=6488,3824580&dq=taslima+nasrin+passport+bangladesh&hl=en|শিরোনাম=Home is where they hate you|শেষাংশ=Richards|প্রথমাংশ=David|তারিখ=25 July 1998|প্রকাশক=[[The Nation]]|সংগ্রহের-তারিখ=8 March 2010}}</ref> ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি [[সুইডেন]] ফিরে গেলে রাজনৈতিক নির্বাসিত হিসেবে [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] ভ্রমণ নথি লাভ করেন। এই সময় তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব লাভ করেন ও সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে]] বসবাস করেন। এই সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি [[বাংলাদেশ]] সরকারের নিকট দেশে ফেরার অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হলে তিনি [[জাতিসংঘ|জাতিসংঘের]] ভ্রমণ নথি ত্যাগ করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত পান ও বিনা অনুমতিতে [[বাংলাদেশ]] প্রবেশ করেন। [[বাংলাদেশ|বাংলাদেশে]] তার বিরুদ্ধে পুনরায় জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রুজু হলে তিনি পুনরায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি [[ফ্রান্স|ফ্রান্সে]] বসবাস করেন।
 
দীর্ঘ ছয় বছর অপেক্ষার পর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি [[ভারত|ভারতে]] প্রবেশ করার [[ভিসা]] সংগ্রহ করতে সমর্থ হলে তিনি [[কলকাতা]] যাত্রা করেন। এই বছর মার্চ মাসে তিনি ''শোধ'' নামক তার একটি উপন্যাসের [[মারাঠি ভাষা|মারাঠি ভাষায়]] অনুবাদকর্মের প্রচারে [[মুম্বই]] শহরে পৌঁছানোর সময় ইসলামপন্থীরা তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন।<ref>{{সাময়িকী উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Bavadam | প্রথমাংশ = Lyla | শিরোনাম = From Bangladesh, with courage | সাময়িকী = Frontline | খণ্ড = 17 | সংখ্যা নং = 6 | তারিখ = 18–31 March 2000 | ইউআরএল = http://www.hinduonnet.com/fline/fl1706/17060430.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009 | আর্কাইভের-তারিখ = ৬ জুন ২০১১ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20110606121654/http://www.hinduonnet.com/fline/fl1706/17060430.htm | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমার পিতা মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলে তসলিমার বাংলাদেশ প্রবেশে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলে তসলিমা [[কলকাতা]] শহরে বসবাস শুরু করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Dam | প্রথমাংশ = Marcus | শিরোনাম = Kolkata is my home | কর্ম = [[The Hindu]] | তারিখ = 26 November 2007 | ইউআরএল = http://www.hindu.com/2007/11/26/stories/2007112650020100.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 30 May 2009 | অবস্থান = Chennai, India | আর্কাইভের-তারিখ = ১ ডিসেম্বর ২০০৭ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20071201105515/http://www.hindu.com/2007/11/26/stories/2007112650020100.htm | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে [[টিপু সুলতান মসজিদ|টিপু সুলতান মসজিদের]] [[ইমাম]] সৈয়দ নূরুর রহমান বরকতি নাসরিনের মুখে কালিলেপন করলে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Bhaumik | প্রথমাংশ = Subir | শিরোনাম = Cleric quizzed over author threat | প্রকাশক = BBC News | তারিখ = 27 June 2006 | ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/1/hi/world/south_asia/5121548.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড নামক একটি সংগঠন তার মুন্ডচ্ছেদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Indian Muslim Body Offers Reward for Killing a Female Journalist | প্রকাশক = Assyrian International News Agency | তারিখ = 17 March 2007 | ইউআরএল = http://www.aina.org/news/20070317150229.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 1 June 2009}}</ref> এই বছর ৯ই আগস্ট তিনি ''শোধ'' উপন্যাসের [[তেলুগু ভাষা|তেলুগু ভাষায়]] অনুবাদকর্মের প্রচারে [[হায়দ্রাবাদ]] শহরে গেলে [[অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন]] নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Taslima roughed up in Hyderabad | কর্ম = [[The Hindu]] | তারিখ = 10 August 2007 | ইউআরএল = http://www.hindu.com/2007/08/10/stories/2007081058910100.htm | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | অবস্থান = Chennai, India | আর্কাইভের-তারিখ = ৪ নভেম্বর ২০০৭ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20071104020957/http://www.hindu.com/2007/08/10/stories/2007081058910100.htm | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Target Taslima: No room for critics in Islam? | প্রকাশক = [[CNN-IBN]] | তারিখ = 10 August 2007 | ইউআরএল = http://ibnlive.in.com/news/target-taslima-no-room-for-critics-in-islam/46563-3-single.html | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | আর্কাইভের-তারিখ = ৬ অক্টোবর ২০১২ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20121006220954/http://ibnlive.in.com/news/target-taslima-no-room-for-critics-in-islam/46563-3-single.html | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref> ১৭ই আগস্ট [[কলকাতা]] শহরের মুসলিম নেতারা তসলিমাকে হত্যা করার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Hossainৎ | প্রথমাংশ = Rakeeb | শিরোনাম = Fatwa offers unlimited money to kill Taslima | কর্ম = [[Hindustan Times]] | তারিখ = 18 August 2007 | ইউআরএল = http://www.hindustantimes.com/StoryPage/StoryPage.aspx?id=5d562b17-64dc-4a90-8396-7cfcaea2d568&ParentID=ea13ac8f-a3d8-45a2-9eba-b56c9b73e87b&&Headline=Kolkata%27s+clerics+threaten+Taslima | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 }}{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref> ২১শে নভেম্বর ''অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম'' নামক একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী [[কলকাতা]] শহরে তাণ্ডব শুরু করলে সেনাবাহিনীকে আইন ও শান্তিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Army deployed after Calcutta riot | কর্ম = | প্রকাশক = BBC News| ইউআরএল = http://news.bbc.co.uk/2/hi/south_asia/7105277.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | তারিখ=21 November 2007}}</ref> এই দাঙ্গার পর নাসরিনকে [[কলকাতা]] থেকে [[জয়পুর]] হয়ে [[নতুন দিল্লি]] সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Ramesh | প্রথমাংশ = Randeep | শিরোনাম = Bangladeshi writer goes into hiding | কর্ম = [[The Guardian]] | তারিখ = 27 November 2007 | ইউআরএল = http://books.guardian.co.uk/news/articles/0,,2217704,00.html | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009| অবস্থান=London}}</ref><ref name="earthtimes">{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Shunned writer Taslima Nasreen arrives in Indian capital | প্রকাশক = DPA | তারিখ = 23 November 2007 | ইউআরএল = http://www.earthtimes.org/articles/show/146811.html | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | আর্কাইভের-তারিখ = ১০ সেপ্টেম্বর ২০১২ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20120910154439/http://www.earthtimes.org/articles/show/146811.html | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Bhaumik | প্রথমাংশ = Subir | শিরোনাম = Calcutta calm after day of riots | প্রকাশক = BBC News | তারিখ = 22 November 2007 | ইউআরএল = http://newsvote.bbc.co.uk/1/hi/world/south_asia/7106897.stm | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009}}</ref> [[ভারত সরকার]] তাকে পরবর্তী সাত মাস একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখে<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Vij-Aurora | প্রথমাংশ = Bhavna | শিরোনাম = Bad hair days, short of colour: Taslima misses beauty regime and machher jhol in 'house arrest' | কর্ম = [[The Telegraph (Kolkata)|The Telegraph]] | তারিখ = 8 December 2007 | ইউআরএল = http://www.telegraphindia.com/1071209/asp/frontpage/story_8647669.asp | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | অবস্থান=Calcutta, India}}</ref> ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে [[সিমোন দ্য বোভোয়ার]] পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলেও<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Top French honour for Taslima Nasreen | কর্ম = [[Hindustan Times]] | তারিখ = 14 January 2008 | ইউআরএল = http://www.hindustantimes.com/StoryPage/StoryPage.aspx?id=33e08b94-5b71-4894-9072-2e1a1a8a927b | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 }}{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref> তিনি ভারতে প্রবেশে অনুমতি না পাওয়ার আশঙ্কায় [[ফ্রান্স]] যাত্রা করে পুরস্কার নিতে অসম্মত হন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Taslima says 'no' to Sarkozy’s invitation for French honour | কর্ম = [[The Statesman]] | তারিখ = 25 January 2008 | ইউআরএল = http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=2&id=214371&usrsess=1 | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20051130203428/http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=2 | আর্কাইভের-তারিখ = ৩০ নভেম্বর ২০০৫ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref><ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Taslima wants freedom in India | প্রকাশক = Reuters/New Age Front Page | তারিখ = 19 February 2008 | ইউআরএল = http://www.newagebd.com/2008/feb/19/front.html#11 | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20091113103944/http://www.newagebd.com/2008/feb/19/front.html#11 | আর্কাইভের-তারিখ = ১৩ নভেম্বর ২০০৯ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = 'Freedom' in hospital, for three nights | কর্ম = [[The Telegraph (Kolkata)|The Telegraph]] | তারিখ = 31 January 2008 | ইউআরএল = http://www.telegraphindia.com/1080131/jsp/frontpage/story_8846277.jsp | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | অবস্থান=Calcutta, India}}</ref> এই সময় তিনি ''নেই কিছু নেই'' নামক তার আত্মজীবনীর ষষ্ঠ ভাগ প্রকাশ বাতিল করেন ও কলকাতার দাঙ্গার জন্য দায়ী ''দ্বিখণ্ডিত'' নামক তার বিতর্কিত বইটির কিছু অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Bhattacharya | প্রথমাংশ = Kajari | শিরোনাম = I’ve lost all creative freedom: Taslima | কর্ম = [[The Statesman]] | তারিখ = 21 January 2008 | ইউআরএল = http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=1&id=213761&usrsess=1 | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 }}{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref> ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব [[মুচকন্দ দুবে]] মানবাধিকার সংগঠন [[অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল|অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে]] একটি পত্রে ভারত সরকারকে চাপ দিয়ে তসলিমার গৃহবন্দী অবস্থার মুক্তির জন্য অনুরোধ করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি | শিরোনাম = Amnesty help on Taslima sought | কর্ম = [[The Statesman]] | তারিখ = 1 February 2008 | ইউআরএল = http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=2&id=215033&usrsess=1 | সংগ্রহের-তারিখ = 31 May 2009 | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20051130203428/http://www.thestatesman.net/page.arcview.php?clid=2 | আর্কাইভের-তারিখ = ৩০ নভেম্বর ২০০৫ | অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ }}</ref> ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ তসলিমা ভারত ছাড়তে বাধ্য হন।
 
২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে [[আল-কায়েদা|আল-কায়েদার]] সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীরা তার প্রাণনাশের হুমকি দিলে [[সেন্টার ফর ইনক্যুয়ারি]] তাকে ঐ বছর ২৭শে মে [[মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র|মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে]] যেতে সহায়তা করে<ref name="centerforinquiry1">{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.centerforinquiry.net/newsroom/amid_death_threats_from_islamists_cfi_brings_secular_activist_taslima_nasri/ |শিরোনাম=Amid Death Threats from Islamists, CFI Brings Secular Activist Taslima Nasrin to Safety in U.S. |প্রকাশক=Center for Inquiry |তারিখ= |সংগ্রহের-তারিখ=2015-06-01}}</ref> এবং তার খাদ্য, বাসস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম = Taslima Nasrin Moved to US Following Death Threats in India|ইউআরএল = http://www.voanews.com/content/taslima-nasrin-moved-to-us-following-death-threats-in-india/2806843.html|সংগ্রহের-তারিখ = 2015-06-05|আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20150811020357/http://www.voanews.com/content/taslima-nasrin-moved-to-us-following-death-threats-in-india/2806843.html|আর্কাইভের-তারিখ = ২০১৫-০৮-১১|অকার্যকর-ইউআরএল = হ্যাঁ}}</ref> নির্বাসিত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ভারতে থাকাকালীন সময়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে জনপ্রিয় টেলিভিশন শো [[বিগ বস ৮]] -এ আমন্ত্রণ পান। কিন্তু তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|ইউআরএল=https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%97-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8|শিরোনাম=বিগ বসের আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করলেন তসলিমা নাসরিন?|সংবাদপত্র=প্রিয়.কম|সংগ্রহের-তারিখ=2017-10-03|আর্কাইভের-তারিখ=২০২০-০৫-০২|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20200502132538/https://www.priyo.com/articles/%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%97-%E0%A6%AC%E0%A6%B8%E0%A7%87%E0%A6%B0-%E0%A6%86%E0%A6%AE%E0%A6%A8%E0%A7%8D%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A3%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%AA%E0%A7%8D%E0%A6%B0%E0%A6%A4%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%96%E0%A7%8D%E0%A6%AF%E0%A6%BE%E0%A6%A8-%E0%A6%95%E0%A6%B0%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%A8-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8|ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর}}</ref>
 
==বৈবাহিক জীবন==
১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা কবি [[রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ|রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র]] প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|শিরোনাম=Taslima Nasreen's new book causes a furore in the literary circles of Dhaka and Kolkata|ইউআরএল=http://taslimanasrin.com/frontline_article.htm|কর্ম=Frontline magazine|প্রকাশক=Official website|সংগ্রহের-তারিখ=12 April 2014|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20150227055140/http://taslimanasrin.com/frontline_article.htm|আর্কাইভের-তারিখ=২৭ ফেব্রুয়ারি ২০১৫|অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ}}</ref> ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক [[নাঈমুল ইসলাম খান|নাঈমুল ইসলাম খানের]] সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়।<ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ= Deen|প্রথমাংশ= Hanifa|শিরোনাম= The Crescent and the Pen: The Strange Journey of Taslima Nasreen|বছর= 2006|প্রকাশক= [[Greenwood Publishing Group]]|আইএসবিএন= 9780275991678|পাতা= 79|ইউআরএল= http://books.google.co.in/books?id=1iEgZCcjCR8C&pg=PA79&lpg=PA79&dq=taslima+nasreen+marriages&source=bl&ots=C8nrvun4Y9&sig=BLRAERF7eOV0F1b2J8Q51XjyRrw&hl=en&sa=X&ei=SgNJU_i9FYyYrAetxIDoBA&ved=0CEAQ6AEwAzgK#v=onepage&q=taslima%20nasreen%20marriages&f=false}}</ref> তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক [[মিনার মাহমুদ|মিনার মাহমুদকে]] বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শেষাংশ=editor|প্রথমাংশ=News|শিরোনাম=Minar Mahmud dies|ইউআরএল=http://bdnews24.com/bangladesh/2012/03/29/minar-mahmud-dies|সংগ্রহের-তারিখ=12 April 2014|সংবাদপত্র=[[Bdnews24.com]]|তারিখ=2012-03-29}}</ref> তসলিমার কোন সন্তানাদি নেই।
 
==সমালোচনা==
বিভিন্ন সময়ে তসলিমা নাসরিন সমালোচিত হয়েছেন।
২০১৯ সালে [[শ্রীলঙ্কা]] যখন [[বোরকা]] নিষিদ্ধ করে, তখন নাসরিন এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে তার মতামত টুইটার ও ফেইসবুকে প্রকাশ করেন। তিনি বোরকা পরিহিতা নারীকে "চলমান কারাগার" এবং "আত্মঘাতী বোমা" হিসেবে অভিহিত করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্তৃক প্রচারিত হয়।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=গোটা বিশ্বে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তসলিমা নাসরিনের |ইউআরএল=https://www.jagonews24.com/amp/497138 |সংগ্রহের-তারিখ=২০ ডিসেম্বর ২০২৪ |এজেন্সি=[[জাগো নিউজ]] |তারিখ=৩০ এপ্রিল ২০১৯}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=শ্রীলঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ বিষয়ে যা বললেন তসলিমা |ইউআরএল=https://www.kalerkantho.com/online/miscellaneous/2019/04/29/764092 |সংগ্রহের-তারিখ=২০ ডিসেম্বর ২০২৪ |এজেন্সি=[[দৈনিক কালের কণ্ঠ]] |তারিখ=২৯ এপ্রিল ২০১৯}}</ref><ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=শ্রীলঙ্কার পথে হেঁটে গোটা বিশ্বে বোরখা নিষিদ্ধ করার দাবি তসলিমা নাসরিনের |ইউআরএল=https://www.sangbadpratidin.in/world/taslima-nasrin-hails-burqa-in-sri-lanka-after-easter-attacks/ |সংগ্রহের-তারিখ=২০ ডিসেম্বর ২০২৪ |এজেন্সি=[[সংবাদ প্রতিদিন]] |তারিখ=৩০ এপ্রিল ২০১৯}}</ref>
 
২০২১ সালের এপ্রিলে ইংরেজ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মঈন আলীকে নিয়ে টুইট করেন। তিনি বলেন, ‘[[মঈন আলী]] ক্রিকেট না খেললে সিরিয়াতে গিয়ে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ দিত।’ তার এই টুইটের ফলে আরো অনেক ক্রিকেটার এর বিরোধিতা করেন। ইংরেজ জাতীয় দলের পেসার আর্চার রি-টুইট করে লিখেছেন, "আপনি কি সুস্থ? আমার মনে হয় না।" তবে, তোপের মুখে এবং বিরোধিতার মুখে তসলিমা নাসরিন তার এই টুইট সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন।<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=মঈন আলীকে ‘জঙ্গি’ বলে আলোচনায় তসলিমা নাসরিন |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/sports/cricket/%E0%A6%AE%E0%A6%88%E0%A6%A8-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%80%E0%A6%95%E0%A7%87-%E0%A6%9C%E0%A6%99%E0%A7%8D%E0%A6%97%E0%A6%BF-%E0%A6%AC%E0%A6%B2%E0%A7%87-%E0%A6%86%E0%A6%B2%E0%A7%8B%E0%A6%9A%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A7%9F-%E0%A6%A4%E0%A6%B8%E0%A6%B2%E0%A6%BF%E0%A6%AE%E0%A6%BE-%E0%A6%A8%E0%A6%BE%E0%A6%B8%E0%A6%B0%E0%A6%BF%E0%A6%A8 |সংগ্রহের-তারিখ=৭ এপ্রিল ২০২১ |প্রকাশক=প্রথম আলো |তারিখ=৬ এপ্রিল ২০২১}}</ref> এছাড়াও আরো কিছু ইংরেজ ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস ও বেন ডাকেট টুইটারে তসলিমা নাসরিনের আইডিটিকে রিপোর্ট করার জন্য আহবান জানান। তসলিমা নাসরিন পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি মূলত মঈন আলীকে নির্দেশ করে টুইটটি করেন নি। তিনি "কট্টর ইসলাম"কে নির্দেশ করে টুইটটি করেছেন। এবং এই টুইটের কারণে তার মাঝে কোন অনুশোচনা নেই। তাকে নিয়ে ইংরেজ ক্রিকেটারদের বিরোধিতা নিয়ে তিনি বলেন, "তারা তাদের সতীর্থকে সমর্থন করছে ভালো কথা। তারা বলেছে বলে আমি টুইটটি মুছে দিয়েছি, কিন্তু তারা আমার সম্পর্কে কতদূর জানে?"<ref>{{সংবাদ উদ্ধৃতি |শিরোনাম=তসলিমার ‘মইন আলী -আইসিস’ টুইটে খেপেছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা |ইউআরএল=https://www.bbc.com/bengali/news-56668724 |সংগ্রহের-তারিখ=৮ এপ্রিল ২০২১ |তারিখ=৭ এপ্রিল ২০২১}}</ref>
 
==গ্রন্থ তালিকা==
 
{{কলামের তালিকা|colwidth=22em|
; কবিতা
* ''শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা'', ১৯৮১
* ''নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে'', ১৯৮৯
* ''আমার কিছু যায় আসে না'' , ১৯৯০
* ''অতলে অন্তরীণ'', ১৯৯১
* ''বালিকার গোল্লাছুট'', ১৯৯২
* ''বেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা'', ১৯৯৩
* ''আয় কষ্ট ঝেঁপে, জীবন দেবো মেপে'', ১৯৯৪
* ''নির্বাসিত নারীর কবিতা'', ১৯৯৬
* ''জলপদ্য'', ২০০০
* ''খালি খালি লাগে'', ২০০৪
* ''কিছুক্ষণ থাকো'', ২০০৫
* ''ভালোবাসো? ছাই বাসো!'', ২০০৭
* ''বন্দিনী'', ২০০৮
 
; প্রবন্ধ সংকলন
* ''[[নির্বাচিত কলাম]]'', ১৯৯০
* ''যাবো না কেন? যাব'', ১৯৯১
* ''নষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প'', ১৯৯২
* ''ছোট ছোট দুঃখ কথা'', ১৯৯৪
* ''নারীর কোন দেশ নেই'', ২০০৭
* ''নিষিদ্ধ'', ২০১৪
* ''তসলিমা নাসরিনের গদ্য পদ্য'', ২০১৫
 
; উপন্যাস
* ''অপরপক্ষ'' ১৯৯২
* ''শোধ'', ১৯৯২
* ''নিমন্ত্রণ'', ১৯৯৩
* ''ফেরা'' , ১৯৯৩
* ''[[লজ্জা (উপন্যাস)|লজ্জা]]'', ১৯৯৩
* ''ভ্রমর কইও গিয়া'', ১৯৯৪
* ''ফরাসি প্রেমিক'' ,২০০২
* ''শরম'',২০০৯
 
; ছোট গল্প
* ''দু:খবতী মেয়ে'', ১৯৯৪
* ''মিনু'', ২০০৭
 
; আত্মজীবনী
* ''আমার মেয়েবেলা'', ১৯৯৯ <ref>{{বই উদ্ধৃতি|শেষাংশ১= নাসরিন|প্রথমাংশ১=তসলিমা|শিরোনাম=আমার মেয়েবেলা|তারিখ=1999|প্রকাশক=Peoples Book Society|অবস্থান=Calcutta|আইএসবিএন=81-8538-331-6}}</ref>
* ''উতাল হাওয়া'', ২০০২
* ''ক'', ২০০৩; (পশ্চিমবঙ্গে ''দ্বিখণ্ডিত'' নামে প্রকাশিত, ২০০৩)
* ''সেই সব অন্ধকার'', ২০০৪
* ''আমি ভালো নেই, তুমি ভালো থেকো প্রিয় দেশ'', ২০০৬
* ''নেই, কিছু নেই'', ২০১০
* ''নির্বাসন'', ২০১২
}}
 
===চলচ্চিত্র===
তসলিমা নাসরিনের জীবনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র [[নির্বাসিত]] ২০১৪ সালে মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তি পায়।<ref name="A slice of Taslima’s life captured on screen">{{সংবাদ উদ্ধৃতি|শিরোনাম=A slice of Taslima’s life captured on screen|ইউআরএল=http://timesofindia.indiatimes.com/city/kolkata/A-slice-of-Taslimas-life-captured-on-screen/articleshow/44892109.cms
|সংগ্রহের-তারিখ=13 August 2015|সংবাদপত্র=The Times of India|তারিখ=21 October 2014}}</ref> ২০১৫ সালে এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে ৬২তম [[জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার (ভারত)|জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার]] অর্জন করেছে।<ref>[http://movies.ndtv.com/bollywood/62nd-national-film-awards-list-of-winners-749198। ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃবিজয়ীদের তালিকা, NDTV Movies]</ref>
 
==পুরস্কার ও সম্মাননা==
তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে একগুচ্ছ [[পুরস্কার]] ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। সেগুলো হলো -
*[[আনন্দ পুরস্কার|আনন্দ সাহিত্য পুরস্কার]], ১৯৯২ এবং ২০০০।
*[[নাট্যসভা পুরস্কার]], বাংলাদেশ, ১৯৯২
*[[ইউরোপিয়ান পার্লামেন্ট]] কর্তৃক [[শাখারভ পুরস্কার]], ১৯৯৪
*[[ফ্রান্স সরকার]] প্রদত্ত মানবাধিকার পুরস্কার, ১৯৯৪<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://www.cncdh.fr/article.php3?id_article=120&var_recherche=taslima |শিরোনাম=1994 - Commission nationale consultative des droits de l’homme |প্রকাশক=Cncdh.fr |তারিখ= |সংগ্রহের-তারিখ=2010-12-14 |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110720212900/http://www.cncdh.fr/article.php3?id_article=120&var_recherche=taslima |আর্কাইভের-তারিখ=২০১১-০৭-২০ |অকার্যকর-ইউআরএল=হ্যাঁ }}</ref>
*ফ্রান্সের [[এডিক্ট অব নান্তেস]] পুরস্কার, ১৯৯৪
*সুইডিশ ইন্টারন্যাশনাল পেন কর্তৃক [[কার্ট টুকোলস্কি]] পুরস্কার, ১৯৯৪<ref name="fume" />
*যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক [[হিউম্যান রাইটস্‌ ওয়াচ]] কর্তৃক হেলম্যান-হ্যামেট গ্রান্ট সম্মাননা, ১৯৯৪
*নরওয়েভিত্তিক [[হিউম্যান-এটিস্ক ফরবান্ড]] কর্তৃক মানবতাবাদী পুরস্কার, ১৯৯৪
 
==তথ্যসূত্র==
{{সূত্র তালিকা|2}}
 
==আরও পড়ুন==
*{{সাময়িকী উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Garzilli | প্রথমাংশ = Enrica | শিরোনাম = A Non-Conventional Woman: Two Evenings with Taslima Nasrin. A Report | সাময়িকী = Journal of South Asia Women Studies | খণ্ড = 3 | সংখ্যা নং = 1 | প্রকাশক = Asiatica Association | অবস্থান = Milan | বছর = 1997 | ইউআরএল = http://asiatica.org/jsaws/vol3_no1/non-conventional-woman-two-evenings-taslima-nasrin-report/ | issn = 1085-7478 | সংগ্রহের-তারিখ = ৪ জুন ২০১৫ | আর্কাইভের-তারিখ = ২৫ জুলাই ২০১১ | আর্কাইভের-ইউআরএল = https://web.archive.org/web/20110725021205/http://asiatica.org/jsaws/vol3_no1/non-conventional-woman-two-evenings-taslima-nasrin-report/ | ইউআরএল-অবস্থা = অকার্যকর }}
*{{সাময়িকী উদ্ধৃতি | শেষাংশ = Zafar | প্রথমাংশ = Manmay | শিরোনাম = Under the gaze of the state: policing literature and the case of Taslima Nasrin | সাময়িকী = [[Inter-Asia Cultural Studies]] | খণ্ড = 6 | সংখ্যা নং = 3 | পাতাসমূহ = 410–21 | বছর = 2005 | issn = 1469-8447 | ডিওআই = 10.1080/14649370500170035 }}
*{{সাময়িকী উদ্ধৃতি |শেষাংশ১=Hasan |প্রথমাংশ১=Md. Mahmudul |শিরোনাম=Free speech, ban and “fatwa”: A study of the Taslima Nasrin affair |সাময়িকী=Journal of Postcolonial Writing |তারিখ=December 2010 |খণ্ড=46 |সংখ্যা নং=5 |পাতাসমূহ=540–552 |ডিওআই=10.1080/17449855.2010.517061}}
 
==বহিঃসংযোগ==
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী}}
{{wikiquote|Taslima Nasrin|তসলিমা নাসরিন}}
*[http://secularislam.org/skeptics/taslima.htm ISIS interview with Taslima Nasrin] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20190415025827/http://secularislam.org/skeptics/taslima.htm |তারিখ=১৫ এপ্রিল ২০১৯ }}
*[http://www.mukto-mona.com/Articles/taslima/Vanishing11308.htm The Vanishing] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20161121042936/https://mukto-mona.com/Articles/taslima/Vanishing11308.htm |তারিখ=২১ নভেম্বর ২০১৬ }}
*[http://www.counterpunch.org/versey08102007.html Taslima and her Technicolor Boat - On the Heels of Sir Salman] {{ওয়েব আর্কাইভ|ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20110730131234/http://www.counterpunch.org/versey08102007.html |তারিখ=৩০ জুলাই ২০১১ }}
*[http://mondediplo.com/blogs/women-s-untold-stories Women’s untold stories: Michael Deibert interviews with Taslima Nasrin]
*[http://www.unesco.org/webworld/points_of_views/nasreen_121199.shtml ''For freedom of expression''] by Taslima Nasrin
*[https://web.archive.org/web/20070310212344/http://www.ifex.org/en/content/view/full/62437/ Bangladeshi Writer Wins UNESCO Madanjeet Singh Prize] – [[International Freedom of Expression Exchange|IFEX]]
 
{{পূর্বনির্ধারিতবাছাই:নাসরিন, তসলিমা}}
[[বিষয়শ্রেণী:১৯৬২-এ জন্ম]]
[[বিষয়শ্রেণী:জীবিত ব্যক্তি]]

১৫:১৪, ১২ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

তসলিমা নাসরিন
জন্ম তারিখ (1962-08-25) ২৫ আগস্ট ১৯৬২ (বয়স ৬৪)
জন্মস্থান ময়মনসিংহ, পূর্ব পাকিস্তান (বর্তমানে বাংলাদেশ)

তসলিমা নাসরিন বাংলাদেশী-সুইডিশ লেখক, চিকিৎসক, নারীবাদী, ধর্মনিরপেক্ষ মানবতাবাদী এবং কর্মী। তিনি নারী নিপীড়ন এবং ইসলাম ধর্মের সমালোচনা নিয়ে লেখার জন্য পরিচিত; তার কিছু বই বাংলাদেশে নিষিদ্ধ ।[১][২][৩] তিনি বাংলাদেশ এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য উভয় থেকেই বঙ্গীয় অঞ্চল থেকে কালো তালিকাভুক্ত এবং নির্বাসিত হয়েছেন ।[৪][৫]

তিনি বিংশ শতাব্দীর আশির দশকে একজন উদীয়মান কবি হিসেবে সাহিত্যজগতে প্রবেশ করেন এবং তার রচনা ও ভাষণের মাধ্যমে লিঙ্গসমতা, মুক্তচিন্তা, নাস্তিক্যবাদ এবং ধর্মবিরোধী মতবাদ প্রচার করায় ইসলামপন্থীদের রোষানলে পড়েন ও তাদের নিকট হতে হত্যার হুমকি পেতে থাকায় ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ ত্যাগ করে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বসবাস করতে বাধ্য হন।[৬][৭] তিনি ইউরোপ এবং যুক্তরাষ্ট্রে এক দশকেরও বেশি সময় বসবাস করার পর, তিনি ২০০৪ সালে ভারতে চলে আসেন,[৮] কিন্তু ২০০৮ সালে তাকে দেশ থেকে নির্বাসিত করা হয়।[৯] এরপর তিনি ভারত সরকার কর্তৃক ভারতে অজ্ঞাতবাসে অবস্থানের সুযোগ পান।[১০] বর্তমানে তিনি দিল্লিতে বসবাস করছেন।[১১]

প্রথম জীবন

তসলিমা নাসরিন ১৯৬২ খ্রিষ্টাব্দের ২৫শে আগস্ট তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান প্রদেশের ময়মনসিংহ শহরে একজন বাঙালি মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। দুই ভাই দুই বোনের মধ্যে তিনি তৃতীয়। তার মাতা ঈদুল ওয়ারা গৃহিণী এবং পিতা রজব আলী পেশায় চিকিৎসক ছিলেন। ১৯৭৬ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ময়মনসিংহ রেসিডেন্সিয়াল স্কুল থেকে মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট (এসএসসি) পাস করেন। ১৯৭৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি আনন্দ মোহন কলেজ থেকে উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পাস করেন। এরপর তিনি ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজে ভর্তি হন এবং সেখান থেকে ১৯৮৪ খ্রিষ্টাব্দে এমবিবিএস পাস করেন।[১২] ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সরকারী গ্রামীণ হাসপাতালে এবং ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ থেকে ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত মিটফোর্ড হাসপাতালে স্ত্রীরোগ বিভাগে ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (ঢামেকহা) তে অ্যানেসথেসিওলজি বিভাগে চিকিৎসক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।[১৩]

সাহিত্য জীবন

তেরো বছর বয়স থেকে তসলিমা কবিতা লেখা শুরু করেন। কলেজে পড়ার সময় ১৯৭৮ থেকে ১৯৮৩ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি সেঁজুতি নামক একটি সাহিত্য পত্রিকা সম্পাদনা ও প্রকাশ করেন। ১৯৭৫ খ্রিষ্টাব্দে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তসলিমার কবিতা প্রকাশিত হয়। ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে শিকড়ে বিপুল ক্ষুধা নামক তার প্রথম কবিতা সংকলন প্রকাশিত হয়। ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দে নির্বাসিত বাহিরে অন্তরে ও ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে আমার কিছু যায় আসে না কাব্যগ্রন্থগুলি প্রকাশিত হয়। এই সময় তসলিমা ঢাকা হতে প্রকাশিত নঈমুল ইসলাম খান দ্বারা সম্পাদিত খবরের কাগজ নামক রাজনৈতিক সাপ্তাহিকীতে নারী অধিকার বিষয়ে লেখা শুরু করেন।[১৪] তার কাব্যগ্রন্থ ও সংবাদপত্রের কলামে নারীদের প্রতি ইসলামপন্থীদের শোষণের অভিযোগ করায় ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের একদল ইসলামপন্থী এই পত্রিকার অফিস ভাঙচুর করে। এই সময় নির্বাচিত কলাম নামক তার বিখ্যাত প্রবন্ধসংকলন প্রকাশিত হয়, যার জন্য ১৯৯২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা আনন্দ পুরস্কার লাভ করেন। ১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যে অতলে অন্তরীণ, বালিকার গোল্লাছুটবেহুলা একা ভাসিয়েছিল ভেলা নামক আরো তিনটি কাব্যগ্রন্থ; যাবো না কেন? যাবনষ্ট মেয়ের নষ্ট গল্প নামক আরো দুইটি প্রবন্ধসংকলন এবং অপরপক্ষ, শোধ, নিমন্ত্রণফেরা নামক চারটি উপন্যাস প্রকাশিত হয়।

১৯৯৩ খ্রিষ্টাব্দে লজ্জা নামক তার পঞ্চম উপন্যাস প্রকাশিত হয়। এই উপন্যাসে বাংলাদেশের মুসলিমদের দ্বারা একটি সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারের ওপর অত্যাচারের বর্ণনা করা হয়।[১৫][১৬] এই উপন্যাসটি প্রকাশের পর অমর একুশে গ্রন্থমেলায় একদল ইসলামপন্থী তসলিমার ওপর শারীরিকভাবে নিগ্রহ করে ও তার এই উপন্যাস নিষিদ্ধ ঘোষণা করার দাবি জানায়। গ্রন্থমেলা কর্তৃপক্ষ তাকে মেলায় প্রবেশ করতে নিষেধ করেন। এই বছর অক্টোবর মাসে কাউন্সিল অব ইসলামিক সোলজার্স নামক এক ইসলামপন্থী সংগঠন তার বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে।[১৭][১৮]

তসলিমা নাসরিনের সাতটি আত্মজীবনী গ্রন্থের অধিকাংশ বাংলাদেশভারত সরকার দ্বারা নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়। আমার মেয়েবেলা নামক তার প্রথম আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থে ইসলামমুহাম্মাদের প্রতি বিতর্কিত মন্তব্যের কারণে ১৯৯৯ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলেও[১৯] ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে এই বইয়ের জন্য তসলিমা দ্বিতীয়বার আনন্দ পুরস্কার জয় করেন। ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তার দ্বিতীয় আত্মজীবনী উতাল হাওয়া বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হয়।[২০] ২০০৩ খ্রিষ্টাব্দে নামক তার তৃতীয় আত্মজীবনী বাংলাদেশ উচ্চ আদালত কর্তৃক নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষণা করা হয়। পশ্চিমবঙ্গে এই বইটি দ্বিখণ্ডিত নামে প্রকাশিত হলেও ভারতীয় মুসলিমদের একাংশের চাপে নত হয়ে পশ্চিমবঙ্গে বইটি নিষিদ্ধ হিসেবে ঘোষিত হলে[২১] সরকারের এই সিদ্ধান্ত লেখক মহলে তীব্রভাবে সমালোচিত হয়।[২২] এই নিষেধাজ্ঞা ২০০৫ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত বলবৎ ছিল।[২৩][২৪] ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে সেই সব অন্ধকার নামক তার চতুর্থ আত্মজীবনীমূলক গ্রন্থ বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।[২৫][২৬]

দেশত্যাগ

১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দের মে মাসে দ্য স্টেটসম্যান পত্রিকার এক সাক্ষাৎকারে তিনি ইসলামি ধর্মীয় আইন শরিয়া অবলুপ্তির মাধ্যমে কুরআন সংশোধনের ইচ্ছা প্রকাশ করেন।[২৭] এর ফলে ইসলামপন্থীরা তার ফাঁসির দাবি জানাতে শুরু করে। তিন লাখ ইসলামপন্থীদের একটি জমায়েতে তাকে ইসলামের অবমাননাকারী সাম্রাজ্যবাদী শক্তির দালালরূপে অভিহিত করে।[২৮] দেশ জুড়ে তার শাস্তির দাবিতে সাধারণ ধর্মঘট ডাকা হয়। হাবিবুর রহমান সিলেটে একটি সমাবেশে তার মাথার দাম ৫০ লাখ টাকা ঘোষণা করে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে তার বিরুদ্ধে জনগণের ধর্মীয় ভাবনাকে আঘাত করার অভিযোগে মামলা রুজু করা হয় এবং জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়।[২৯] সেসময় আলোকচিত্রী শহিদুল আলম সহ[৩০] বিভিন্ন জনের আশ্রয়ে তিনি দুই মাস লুকিয়ে থাকার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে তার জামিন মঞ্জুর করা হয় এবং তসলিমা বাংলাদেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হন।[৭][৩১]

নির্বাসিত জীবন

বাংলাদেশ থেকে নির্বাসিত হওয়ার পর তিনি ১৯৯৪ খ্রিষ্টাব্দে সুইডেনে ও ১৯৯৫ থেকে ১৯৯৬ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত জার্মানিতে বসবাস করেন।[৩২] ১৯৯৭ খ্রিষ্টাব্দে তিনি সুইডেন ফিরে গেলে রাজনৈতিক নির্বাসিত হিসেবে জাতিসংঘের ভ্রমণ নথি লাভ করেন। এই সময় তিনি সুইডেনের নাগরিকত্ব লাভ করেন ও সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট জমা দেন। ১৯৯৮ খ্রিষ্টাব্দে তিনি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাস করেন। এই সময় তার মা অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি বাংলাদেশ সরকারের নিকট দেশে ফেরার অনুমতি চেয়ে ব্যর্থ হলে তিনি জাতিসংঘের ভ্রমণ নথি ত্যাগ করে সুইডিশ কর্তৃপক্ষের নিকট হতে তার বাংলাদেশের পাসপোর্ট ফেরত পান ও বিনা অনুমতিতে বাংলাদেশ প্রবেশ করেন। বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে পুনরায় জামিন-অযোগ্য গ্রেপ্তারী পরোয়ানা রুজু হলে তিনি পুনরায় দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। ১৯৯৯ থেকে ২০০০ খ্রিষ্টাব্দ পর্যন্ত তিনি ফ্রান্সে বসবাস করেন।

দীর্ঘ ছয় বছর অপেক্ষার পর ২০০০ খ্রিষ্টাব্দে তিনি ভারতে প্রবেশ করার ভিসা সংগ্রহ করতে সমর্থ হলে তিনি কলকাতা যাত্রা করেন। এই বছর মার্চ মাসে তিনি শোধ নামক তার একটি উপন্যাসের মারাঠি ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে মুম্বই শহরে পৌঁছানোর সময় ইসলামপন্থীরা তাকে জীবন্ত পুড়িয়ে মারার হুমকি দেন।[৩৩] ২০০২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমার পিতা মৃত্যুশয্যায় শায়িত হলে তসলিমার বাংলাদেশ প্রবেশে অনুরোধ করে ব্যর্থ হন। ২০০৪ খ্রিষ্টাব্দে ভারত সরকারের পক্ষ থেকে তাকে অস্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতি দেওয়া হলে তসলিমা কলকাতা শহরে বসবাস শুরু করেন।[৩৪] ২০০৬ খ্রিষ্টাব্দে টিপু সুলতান মসজিদের ইমাম সৈয়দ নূরুর রহমান বরকতি নাসরিনের মুখে কালিলেপন করলে পুরস্কৃত করার কথা ঘোষণা করেন।[৩৫] ২০০৭ খ্রিষ্টাব্দের মার্চ মাসে অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল বোর্ড নামক একটি সংগঠন তার মুন্ডচ্ছেদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা ঘোষণা করেন।[৩৬] এই বছর ৯ই আগস্ট তিনি শোধ উপন্যাসের তেলুগু ভাষায় অনুবাদকর্মের প্রচারে হায়দ্রাবাদ শহরে গেলে অল ইন্ডিয়া মজলিস-এ-ইত্তেহাদুল মুসলিমীন নামক একটি রাজনৈতিক দলের প্ররোচনায় উত্তেজিত জনতা তাকে আক্রমণ করে।[৩৭][৩৮] ১৭ই আগস্ট কলকাতা শহরের মুসলিম নেতারা তসলিমাকে হত্যা করার জন্য বিপুল অর্থ পুরস্কার দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন।[৩৯] ২১শে নভেম্বর অল ইন্ডিয়া মাইনোরিটি ফোরাম নামক একটি ইসলামী জঙ্গিগোষ্ঠী কলকাতা শহরে তাণ্ডব শুরু করলে সেনাবাহিনীকে আইন ও শান্তিরক্ষার জন্য মোতায়েন করা হয়।[৪০] এই দাঙ্গার পর নাসরিনকে কলকাতা থেকে জয়পুর হয়ে নতুন দিল্লি সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়।[৪১][৪২][৪৩] ভারত সরকার তাকে পরবর্তী সাত মাস একটি অজ্ঞাত স্থানে গৃহবন্দি করে রাখে[৪৪] ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দে তাকে সিমোন দ্য বোভোয়ার পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত করা হলেও[৪৫] তিনি ভারতে প্রবেশে অনুমতি না পাওয়ার আশঙ্কায় ফ্রান্স যাত্রা করে পুরস্কার নিতে অসম্মত হন।[৪৬][৪৭][৪৮] এই সময় তিনি নেই কিছু নেই নামক তার আত্মজীবনীর ষষ্ঠ ভাগ প্রকাশ বাতিল করেন ও কলকাতার দাঙ্গার জন্য দায়ী দ্বিখণ্ডিত নামক তার বিতর্কিত বইটির কিছু অংশ অপসারণ করতে বাধ্য হন।[৪৯] ভারতের প্রাক্তন বিদেশসচিব মুচকন্দ দুবে মানবাধিকার সংগঠন অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালকে একটি পত্রে ভারত সরকারকে চাপ দিয়ে তসলিমার গৃহবন্দী অবস্থার মুক্তির জন্য অনুরোধ করেন।[৫০] ২০০৮ খ্রিষ্টাব্দের ১৯শে মার্চ তসলিমা ভারত ছাড়তে বাধ্য হন।

২০১৫ খ্রিষ্টাব্দে আল-কায়েদার সঙ্গে যুক্ত ইসলামপন্থীরা তার প্রাণনাশের হুমকি দিলে সেন্টার ফর ইনক্যুয়ারি তাকে ঐ বছর ২৭শে মে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যেতে সহায়তা করে[৫১] এবং তার খাদ্য, বাসস্থান নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।”[৫২] নির্বাসিত হওয়ার পর তসলিমা নাসরিন ভারতে থাকাকালীন সময়ে প্রথম বাংলাদেশী হিসাবে জনপ্রিয় টেলিভিশন শো বিগ বস ৮ -এ আমন্ত্রণ পান। কিন্তু তিনি এই আমন্ত্রণ প্রত্যাখান করেন।[৫৩]

বৈবাহিক জীবন

১৯৮২ খ্রিষ্টাব্দে তসলিমা কবি রুদ্র মুহম্মদ শহীদুল্লাহ’র প্রেমে পড়েন এবং গোপনে বিয়ে করেন।[৫৪] ১৯৮৬ খ্রিষ্টাব্দে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ ঘটে। ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক ও সম্পাদক নাঈমুল ইসলাম খানের সাথে তার বিয়ে এবং ১৯৯১ সালে বিচ্ছেদ হয়।[৫৫] তিনি ১৯৯১ সালে সাপ্তাহিক বিচিন্তার সম্পাদক মিনার মাহমুদকে বিয়ে করেন এবং ১৯৯২ সালে তাদের বিবাহ-বিচ্ছেদ হয়।[৫৬] তসলিমার কোন সন্তানাদি নেই।

সমালোচনা

বিভিন্ন সময়ে তসলিমা নাসরিন সমালোচিত হয়েছেন। ২০১৯ সালে শ্রীলঙ্কা যখন বোরকা নিষিদ্ধ করে, তখন নাসরিন এই সিদ্ধান্তের সমর্থনে তার মতামত টুইটার ও ফেইসবুকে প্রকাশ করেন। তিনি বোরকা পরিহিতা নারীকে "চলমান কারাগার" এবং "আত্মঘাতী বোমা" হিসেবে অভিহিত করেন, যা বিভিন্ন গণমাধ্যম কর্তৃক প্রচারিত হয়।[৫৭][৫৮][৫৯]

২০২১ সালের এপ্রিলে ইংরেজ জাতীয় দলের ক্রিকেটার মঈন আলীকে নিয়ে টুইট করেন। তিনি বলেন, ‘মঈন আলী ক্রিকেট না খেললে সিরিয়াতে গিয়ে আইএসআইয়ের সঙ্গে যোগ দিত।’ তার এই টুইটের ফলে আরো অনেক ক্রিকেটার এর বিরোধিতা করেন। ইংরেজ জাতীয় দলের পেসার আর্চার রি-টুইট করে লিখেছেন, "আপনি কি সুস্থ? আমার মনে হয় না।" তবে, তোপের মুখে এবং বিরোধিতার মুখে তসলিমা নাসরিন তার এই টুইট সরিয়ে ফেলতে বাধ্য হন।[৬০] এছাড়াও আরো কিছু ইংরেজ ক্রিকেটার স্যাম বিলিংস ও বেন ডাকেট টুইটারে তসলিমা নাসরিনের আইডিটিকে রিপোর্ট করার জন্য আহবান জানান। তসলিমা নাসরিন পরবর্তীতে এক সাক্ষাৎকারে জানান, তিনি মূলত মঈন আলীকে নির্দেশ করে টুইটটি করেন নি। তিনি "কট্টর ইসলাম"কে নির্দেশ করে টুইটটি করেছেন। এবং এই টুইটের কারণে তার মাঝে কোন অনুশোচনা নেই। তাকে নিয়ে ইংরেজ ক্রিকেটারদের বিরোধিতা নিয়ে তিনি বলেন, "তারা তাদের সতীর্থকে সমর্থন করছে ভালো কথা। তারা বলেছে বলে আমি টুইটটি মুছে দিয়েছি, কিন্তু তারা আমার সম্পর্কে কতদূর জানে?"[৬১]

গ্রন্থ তালিকা

টেমপ্লেট:কলামের তালিকা

চলচ্চিত্র

তসলিমা নাসরিনের জীবনভিত্তিক প্রথম চলচ্চিত্র নির্বাসিত ২০১৪ সালে মুম্বাই চলচ্চিত্র উৎসবে মুক্তি পায়।[৬২] ২০১৫ সালে এই চলচ্চিত্রটি শ্রেষ্ঠ বাংলা চলচ্চিত্র বিভাগে ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছে।[৬৩]

পুরস্কার ও সম্মাননা

তসলিমা তার উদার ও মুক্তচিন্তার মতবাদ প্রকাশ করায় দেশ-বিদেশ থেকে একগুচ্ছ পুরস্কার ও সম্মাননা গ্রহণ করেছেন। সেগুলো হলো -

তথ্যসূত্র

  1. BBC News | South Asia | Bangladesh bans new Taslima book
  2. Bangladesh bans third Taslima book
  3. Split printer on strikeback path - Signature drive to protest Taslima book ban, high court suit in mind
  4. Mahasweta Devi Slams Bengal Govt for Banishing Taslima
  5. Facing bans, Taslima Nasreen says no hope of returning to Kolkata
  6. Why Taslima Nasreen wants to return to Bangladesh
  7. ৭.০ ৭.১ World: South Asia: Taslima goes back into exile BBC.
  8. “I am a Bengali writer, I need to live in Bengal”
  9. কেন আমেরিকায় এলাম : তসলিমা নাসরিন
  10. ভারতে থাকার অনুমতি পেলেন তসলিমা নাসরীন
  11. তসলিমা নাসরিনের লজ্জা-র পরের অংশ আসছে
  12. Taslima Nasrin English.emory.edu.
  13. Condemned to life as an outsider The Guardian, November 30, 2007
  14. Taslima Nasreen: Controversy's child BBC News.
  15. ১৭.০ ১৭.১ She who makes holy men fume
  16. Bangladesh: A group called the Sahaba Soldiers; the goals and activities of the group; treatment of those who hold progressive religious and social views by the Sahaba Soldier members (1990–2003) UNHCR.
  17. Bangladesh bans new Taslima book BBC News.
  18. Bangladesh bans third Taslima book BBC News.
  19. Bengal bans Taslima's book
  20. West Bengal Government assailed for banning Taslima's book
  21. Arts Weekly/Books: Split By Leftists and Fanatics Inter Press Service.
  22. Court lifts ban on Nasreen's book in Bengal Rediff.com.
  23. Exiled Taslima Nasrin to return to Bangladesh Indian Muslims.
  24. New book banned at behest of Islamic bigots: Taslima Press Trust of India.
  25. টেমপ্লেট:বিশ্বকোষ উদ্ধৃতি
  26. Death To the Author
  27. আমাকে ঘাড় ধরে দেশ থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে : তসলিমা নাসরিন (ভিডিও)
  28. শহিদুল আলম আমাকে লুকিয়ে রেখে প্রাণে বাঁচিয়েছিলেন: তসলিমা নাসরিন
  29. Bangladeshi author and doctor Taslima Nasreen threatened by Islamic fundamentalists Fileroom.
  30. Home is where they hate you The Nation.
  31. Bavadam, Lyla (১৮–৩১ মার্চ ২০০০)। "From Bangladesh, with courage"Frontline17 (6)। ৬ জুন ২০১১ তারিখে মূল থেকে আর্কাইভ করা। সংগ্রহের তারিখ ১ জুন ২০০৯ 
  32. Kolkata is my home
  33. Cleric quizzed over author threat BBC News.
  34. Indian Muslim Body Offers Reward for Killing a Female Journalist Assyrian International News Agency.
  35. Taslima roughed up in Hyderabad
  36. Target Taslima: No room for critics in Islam? CNN-IBN.
  37. Fatwa offers unlimited money to kill Taslima[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  38. Army deployed after Calcutta riot BBC News.
  39. Bangladeshi writer goes into hiding
  40. Shunned writer Taslima Nasreen arrives in Indian capital DPA.
  41. Calcutta calm after day of riots BBC News.
  42. Bad hair days, short of colour: Taslima misses beauty regime and machher jhol in 'house arrest'
  43. Top French honour for Taslima Nasreen[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  44. Taslima says 'no' to Sarkozy’s invitation for French honour
  45. Taslima wants freedom in India Reuters/New Age Front Page.
  46. 'Freedom' in hospital, for three nights
  47. I’ve lost all creative freedom: Taslima[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  48. Amnesty help on Taslima sought
  49. Amid Death Threats from Islamists, CFI Brings Secular Activist Taslima Nasrin to Safety in U.S. Center for Inquiry.
  50. Taslima Nasrin Moved to US Following Death Threats in India
  51. বিগ বসের আমন্ত্রণকে প্রত্যাখ্যান করলেন তসলিমা নাসরিন?
  52. Taslima Nasreen's new book causes a furore in the literary circles of Dhaka and Kolkata Official website.
  53. '.
  54. Minar Mahmud dies
  55. গোটা বিশ্বে বোরকা নিষিদ্ধের দাবি তসলিমা নাসরিনের
  56. শ্রীলঙ্কায় বোরকা নিষিদ্ধ বিষয়ে যা বললেন তসলিমা
  57. শ্রীলঙ্কার পথে হেঁটে গোটা বিশ্বে বোরখা নিষিদ্ধ করার দাবি তসলিমা নাসরিনের
  58. মঈন আলীকে ‘জঙ্গি’ বলে আলোচনায় তসলিমা নাসরিন প্রথম আলো.
  59. তসলিমার ‘মইন আলী -আইসিস’ টুইটে খেপেছেন ইংলিশ ক্রিকেটাররা
  60. A slice of Taslima’s life captured on screen
  61. ৬২তম জাতীয় চলচ্চিত্র পুরষ্কারঃবিজয়ীদের তালিকা, NDTV Movies
  62. 1994 - Commission nationale consultative des droits de l’homme Cncdh.fr.

আরও পড়ুন

  • লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
  • লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
  • লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।

বহিঃসংযোগ

টেমপ্লেট:কমন্স বিষয়শ্রেণী টেমপ্লেট:Wikiquote