কর্ণফুলী নদী: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ভিকিটিয়া থেকে
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা
সম্পাদনা সারাংশ নেই
ট্যাগ: মোবাইল সম্পাদনা মোবাইল ওয়েব সম্পাদনা উচ্চতর মোবাইল সম্পাদনা দৃশ্যমান সম্পাদনা
১ নং লাইন: ১ নং লাইন:
'''কর্ণফুলি নদী''' ([[মিজো ভাষা|মিজো]] ভাষায় ''খাওৎলাং তুইপুই'' যার অর্থ "পশ্চিম নদী"{{sfn|তান|লো|তান|রাও|২০১৩|pp=৬৭৬}} এবং চাকমা ভাষায় বোরগাং, যার অর্থ "বড় নদী") [[চট্টগ্রাম|চট্টগ্রামের]] ও [[পার্বত্য চট্টগ্রাম|পার্বত্য চট্টগ্রামের]] বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নদী। এটি [[বাংলাদেশ]]-[[ভারত|ভারতের]] একটি সর্পিলাকার [[আন্তঃসীমান্ত নদী]]।{{r|বাংলাপিডিয়া}} এটি বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রবাহিত {{রূপান্তর|667|m|ft|adj=on}} প্রশস্ত একটি নদী। ভারতের [[মিজোরাম|মিজোরামের]] [[মমিত জেল|মমিত]] জেলার শৈতা গ্রাম থেকে উদ্ভূত {{রূপান্তর|270|km|mi}} নদীটি দক্ষিণ-পশ্চিমে চট্টগ্রাম পার্বত্য অঞ্চল এবং চট্টগ্রাম শহর হয়ে [[বঙ্গোপসাগর|বঙ্গোপসাগরে]] প্রবাহিত হয়েছে। [[পদ্মা নদী|পদ্মার]] পর এটি বাংলাদেশের সবচেয়ে দ্রুত প্রবাহিত নদী। এটি "মিজোরামের সমগ্র দক্ষিণ-পশ্চিম অংশের জল নিষ্কাশন ব্যবস্থার প্রতিনিধিত্ব করে"।{{sfn|পাচুয়াউ|২০০৯|pp=৪০}} ১৯৬০ সালে [[কাপ্তাই উপজেলা|কাপ্তাই উপজেলার]] কর্ণফুলীতে একটি [[কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র|পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্র]] নির্মিত হয়েছিল। এই নদীর মোহনায় বাংলাদেশের বৃহত্তম এবং ব্যস্ততম সমুদ্রবন্দর [[চট্টগ্রাম বন্দর]] অবস্থিত। এর প্রধান উপনদীগুলির মধ্যে রয়েছে কাওরপুই বা থেগা, তুইচাং, ফায়ারুয়াং, [[হালদা নদী|হালদা]] (বোয়ালখালী), [[কাসালং নদী|কাসালং]] এবং সাহনী। [[বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড]] কর্তৃক কর্ণফুলী নদীর প্রদত্ত পরিচিতি নম্বর হলো পূর্ব-পাহাড়ি অঞ্চলের নদী নং ০৩।{{sfn|রাজ্জাক|২০০৫|pp=২৮২-২৮৩}}
'''কর্ণফুলি নদী''' ([[মিজো ভাষা|মিজো]] ভাষায় ''খাওৎলাং তুইপুই'' যার অর্থ "পশ্চিম নদী" এবং চাকমা ভাষায় বোরগাং, যার অর্থ "বড় নদী") বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রবাহিত[[চট্টগ্রাম|চট্টগ্রামের]] ও [[পার্বত্য চট্টগ্রাম|পার্বত্য চট্টগ্রামের]] বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশস্ত একটি নদী।  


== ব্যুৎপত্তি ==
==ব্যুৎপত্তি==
[[চট্টগ্রামের ইতিহাস|চট্টগ্রামের ইতিহাসে]] আরব ব্যবসায়ী ও বণিকদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় আরবি বংশোদ্ভূত নাম রয়েছে। ''কর্ণফুল'' থেকে এই নদীর নাম এসেছে বলে মনে করা হয়। আরবিতে যার অর্থ ''[[লবঙ্গ]]'' এবং এটি এমন একটি ঘটনাকে নির্দেশ করে যেখানে লবঙ্গ ভরা একটি আরব জাহাজ এই নদীতে ডুবে যায়।{{sfn|চৌধুরী|১৯৮০|pp=২৪}}
[[চট্টগ্রামের ইতিহাস|চট্টগ্রামের ইতিহাসে]] আরব ব্যবসায়ী ও বণিকদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় আরবি বংশোদ্ভূত নাম রয়েছে। ''কর্ণফুল'' থেকে এই নদীর নাম এসেছে বলে মনে করা হয়। আরবিতে যার অর্থ ''[[লবঙ্গ]]'' এবং এটি এমন একটি ঘটনাকে নির্দেশ করে যেখানে লবঙ্গ ভরা একটি আরব জাহাজ এই নদীতে ডুবে যায়।{{sfn|চৌধুরী|১৯৮০|pp=২৪}}


=== নামের ইতিকথা ===
===নামের ইতিকথা===
কর্ণফুলি নদীর নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে যে, আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক পাহাড়ি রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে তারা দুইজন এই নদীতে নৌভ্রমণ উপভোগ করছিলেন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানে গোঁজা একটি ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা সেটা উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান, তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন, কিন্তু সফল হন নি। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এই করুণ কাহিনী থেকেই নদীটির নাম হয় ''কর্ণফুলী''। জাতীয় কবি [[কাজী নজরুল ইসলাম|কাজী নজরুল ইসলামে]]<nowiki/>র 'কর্ণফুলী' কাব্য হতে নামকরণের এ ঘটনা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট হওয়া যায়। যেথায় তিনি লিখেছেন,
কর্ণফুলি নদীর নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে যে, আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক পাহাড়ি রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে তারা দুইজন এই নদীতে নৌভ্রমণ উপভোগ করছিলেন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানে গোঁজা একটি ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা সেটা উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান, তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন, কিন্তু সফল হন নি। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এই করুণ কাহিনী থেকেই নদীটির নাম হয় ''কর্ণফুলী''। জাতীয় কবি [[কাজী নজরুল ইসলাম|কাজী নজরুল ইসলামে]]<nowiki/>র 'কর্ণফুলী' কাব্য হতে নামকরণের এ ঘটনা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট হওয়া যায়। যেথায় তিনি লিখেছেন,


১৮ নং লাইন: ১৮ নং লাইন:
মধ্যযুগীয় পুঁথিতে নদীটিকে '''কাঁইচা খাল''' লিখা হয়েছে, মার্মা উপজাতিদের কাছে নদীটির নাম '''কান্সা খিওং''' এবং মিজোরামে কর্ণফুলীর নাম '''[[:en:Khawthlangtuipui River|খাওৎলাং তুইপুই]]'''।
মধ্যযুগীয় পুঁথিতে নদীটিকে '''কাঁইচা খাল''' লিখা হয়েছে, মার্মা উপজাতিদের কাছে নদীটির নাম '''কান্সা খিওং''' এবং মিজোরামে কর্ণফুলীর নাম '''[[:en:Khawthlangtuipui River|খাওৎলাং তুইপুই]]'''।


== প্রবাহ ==
==প্রবাহ==
কর্ণফুলী নদী [[ভারত|ভারতের]] [[মিজোরাম|মিজোরাম প্রদেশের]] [[মমিত|মমিত জেলার]] শৈতা গ্রাম ([[লুসাই পাহাড়]]) হতে শুরু হয়ে [[পার্বত্য চট্টগ্রাম]] ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের [[পতেঙ্গা]]র কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর [[চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর]] অবস্থিত। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। [[রাঙ্গামাটি জেলা]]র [[বরকল উপজেলা]]র [[থেগা নদী]]র মোহনা বা ঠেগামুখ হতে বড় হরিণার মুখ পর্যন্ত এই ৬ কিলোমিটার কর্ণফুলী ভারত বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ছয় কিলোমিটার নদীর ডান পাশে [[ভারত]] এবং বাম পাশে [[বাংলাদেশ]]।
কর্ণফুলী নদী [[ভারত|ভারতের]] [[মিজোরাম|মিজোরাম প্রদেশের]] [[মমিত|মমিত জেলার]] শৈতা গ্রাম ([[লুসাই পাহাড়]]) হতে শুরু হয়ে [[পার্বত্য চট্টগ্রাম]] ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের [[পতেঙ্গা]]র কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর [[চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর]] অবস্থিত। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। [[রাঙ্গামাটি জেলা]]র [[বরকল উপজেলা]]র [[থেগা নদী]]র মোহনা বা ঠেগামুখ হতে বড় হরিণার মুখ পর্যন্ত এই ৬ কিলোমিটার কর্ণফুলী ভারত বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ছয় কিলোমিটার নদীর ডান পাশে [[ভারত]] এবং বাম পাশে [[বাংলাদেশ]]।


=== চট্টগ্রাম শহর ===
===চট্টগ্রাম শহর===
[[চিত্র:PORT CTG TAZMEEM.JPG|থাম্ব|নদীর তীরে [[চট্টগ্রাম বন্দর]]]]
[[চিত্র:PORT CTG TAZMEEM.JPG|থাম্ব|নদীর তীরে [[চট্টগ্রাম বন্দর]]]]
[[পার্বত্য চট্টগ্রাম]] ও [[বঙ্গোপসাগর|বঙ্গোপসাগরের]] মাঝখানে কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম অবস্থিত। শহরটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সমুদ্রতীরবর্তী বন্দর নগরী এবং [[বাংলাদেশের অর্থনীতি|অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু]]। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৮.৯ মিলিয়নেরও বেশি।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.chittagongchamber.com/elc.php|শিরোনাম=Economics Landscape of Chittagong|লেখক=E-Vision Software Limited|কর্ম=chittagongchamber.com|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ আগস্ট ২০২৪|আর্কাইভের-তারিখ=৭ জানুয়ারি ২০১৯|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20190107000014/http://www.chittagongchamber.com/elc.php%20|ইউআরএল-অবস্থা=কার্যকর}}</ref> বন্দরের পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর পানি ব্যবহারের জন্য [[চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ]] একটি পানি শোধনাগার স্থাপন করেছে।{{r|স্টার-চৌধুরী}} নদীটি চট্টগ্রাম শহরের [[পতেঙ্গা]]হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হয়েছে।
[[পার্বত্য চট্টগ্রাম]] ও [[বঙ্গোপসাগর|বঙ্গোপসাগরের]] মাঝখানে কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম অবস্থিত। শহরটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সমুদ্রতীরবর্তী বন্দর নগরী এবং [[বাংলাদেশের অর্থনীতি|অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু]]। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৮.৯ মিলিয়নেরও বেশি।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি|ইউআরএল=http://www.chittagongchamber.com/elc.php|শিরোনাম=Economics Landscape of Chittagong|লেখক=E-Vision Software Limited|কর্ম=chittagongchamber.com|সংগ্রহের-তারিখ=১৩ আগস্ট ২০২৪|আর্কাইভের-তারিখ=৭ জানুয়ারি ২০১৯|আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20190107000014/http://www.chittagongchamber.com/elc.php%20|ইউআরএল-অবস্থা=কার্যকর}}</ref> বন্দরের পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর পানি ব্যবহারের জন্য [[চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ]] একটি পানি শোধনাগার স্থাপন করেছে।{{r|স্টার-চৌধুরী}} নদীটি চট্টগ্রাম শহরের [[পতেঙ্গা]]হয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হয়েছে।


=== তলবুং ===
===তলবুং===
তলবুং [[মিজোরাম|মিজোরামের]] [[লুংলেই জেলা|লুংলেই]] জেলার কর্ণফুলির তীরে অবস্থিত। কর্ণফুলী মিজোরামকে বঙ্গোপসাগরের তীরে চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর সাথে যুক্ত করেছে। ঔপনিবেশিক আমলে মিজোরামে পৌঁছানোর জন্য ব্রিটিশ সৈন্য ও ধর্মপ্রচারকরা এই পথ ব্যবহার করত। মোটরবোটে চট্টগ্রাম থেকে তলবুং পর্যন্ত পৌঁছাতে ৫ দিন সময় লাগত, প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্ব তারপর তারা আরও ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লুংলেই পৌঁছাতেন।{{sfn|পাচুয়াউ|২০১৫|pp=১৫০}}
তলবুং [[মিজোরাম|মিজোরামের]] [[লুংলেই জেলা|লুংলেই]] জেলার কর্ণফুলির তীরে অবস্থিত। কর্ণফুলী মিজোরামকে বঙ্গোপসাগরের তীরে চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর সাথে যুক্ত করেছে। ঔপনিবেশিক আমলে মিজোরামে পৌঁছানোর জন্য ব্রিটিশ সৈন্য ও ধর্মপ্রচারকরা এই পথ ব্যবহার করত। মোটরবোটে চট্টগ্রাম থেকে তলবুং পর্যন্ত পৌঁছাতে ৫ দিন সময় লাগত, প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্ব তারপর তারা আরও ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লুংলেই পৌঁছাতেন।{{sfn|পাচুয়াউ|২০১৫|pp=১৫০}}


== কর্ণফুলি নদীর চর ==
==কর্ণফুলি নদীর চর==
[[চিত্র:শীতকালে কর্ণফুলি নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর.jpg|থাম্ব|শীতকালে নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর]]
[[চিত্র:শীতকালে কর্ণফুলি নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর.jpg|থাম্ব|শীতকালে নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর]]
১৮৮৩ সালে কর্ণফুলির মোহনায় সৃষ্টি হয় লুকিয়া চর। ১৮৭৭ সালে জুলদিয়া চ্যানেল। জুলদিয়া চ্যানেলটি আড়াই মাইল দীর্ঘ এবং দেড় মাইল প্রশস্ত। ১৯০১ সাল থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে পতেঙ্গা চ্যানেলটি জুলদিয়া চ্যানেল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট পশ্চিমে সরে যায়। হালদা নদীর সাথে কর্ণফুলীর সংযোগ স্থলে আছে বিশাল চর। যা হালদা চর হিসাবে পরিচিত। নদীর প্রবাহের কিছু অংশ নাজিরচর ঘেঁষে, কিছু অংশ বালু চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে এবং কিছু মুল স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৩০ সালে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু নির্মাণের আগে নদীর মূল প্রবাহ প্রধানত কুলাগাঁও অভিমুখে বাম তীর ঘেষেই প্রবাহিত হত। [[কালুরঘাট সেতু]] হওয়ার পর সেতুর ডান দিকে আরও একটি প্রবাহের মুখ তৈরি হয়। ফলে নদীর মাঝ পথে সৃষ্টি হয় বিশাল একটি [[চর]]- যা কুলাগাঁও চর নামে পরিচিত।<ref>[http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=47793, কর্ণফুলী নদী সংকুচিত হচ্ছে জেগে উঠছে অসংখ্য চর]{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref>
১৮৮৩ সালে কর্ণফুলির মোহনায় সৃষ্টি হয় লুকিয়া চর। ১৮৭৭ সালে জুলদিয়া চ্যানেল। জুলদিয়া চ্যানেলটি আড়াই মাইল দীর্ঘ এবং দেড় মাইল প্রশস্ত। ১৯০১ সাল থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে পতেঙ্গা চ্যানেলটি জুলদিয়া চ্যানেল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট পশ্চিমে সরে যায়। হালদা নদীর সাথে কর্ণফুলীর সংযোগ স্থলে আছে বিশাল চর। যা হালদা চর হিসাবে পরিচিত। নদীর প্রবাহের কিছু অংশ নাজিরচর ঘেঁষে, কিছু অংশ বালু চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে এবং কিছু মুল স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৩০ সালে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু নির্মাণের আগে নদীর মূল প্রবাহ প্রধানত কুলাগাঁও অভিমুখে বাম তীর ঘেষেই প্রবাহিত হত। [[কালুরঘাট সেতু]] হওয়ার পর সেতুর ডান দিকে আরও একটি প্রবাহের মুখ তৈরি হয়। ফলে নদীর মাঝ পথে সৃষ্টি হয় বিশাল একটি [[চর]]- যা কুলাগাঁও চর নামে পরিচিত।<ref>[http://www.dailysangram.com/news_details.php?news_id=47793, কর্ণফুলী নদী সংকুচিত হচ্ছে জেগে উঠছে অসংখ্য চর]{{অকার্যকর সংযোগ|তারিখ=ফেব্রুয়ারি ২০১৯ |bot=InternetArchiveBot |ঠিক করার প্রচেষ্টা=yes }}</ref>


== কাপ্তাই বাঁধ ==
==কাপ্তাই বাঁধ==
{{মূল নিবন্ধ|কাপ্তাই বাঁধ}}
{{মূল নিবন্ধ|কাপ্তাই বাঁধ}}
কর্ণফুলি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে [[রাঙামাটি জেলা]]র কাপ্তাই উপজেলায় [[কাপ্তাই বাঁধ]] তৈরি করা হয় ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে। এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে [[কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র|কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে]] বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।
কর্ণফুলি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে [[রাঙামাটি জেলা]]র কাপ্তাই উপজেলায় [[কাপ্তাই বাঁধ]] তৈরি করা হয় ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে। এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে [[কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্র|কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে]] বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।


== জলজ জীবন ==
==জলজ জীবন==
নদীটি বিপন্ন প্রজাতির [[গঙ্গা নদী শুশুক|গঙ্গা নদী শুশুকের]] আবাসস্থল।{{r|worldwildlife}} আগে নদীতে [[ইলিশ]] পাওয়া যেত, কিন্তু দূষণের কারণে নদী থেকে ইলিশ প্রায় হারিয়ে গেছে।{{r|TDS-Roy}}
নদীটি বিপন্ন প্রজাতির [[গঙ্গা নদী শুশুক|গঙ্গা নদী শুশুকের]] আবাসস্থল।{{r|worldwildlife}} আগে নদীতে [[ইলিশ]] পাওয়া যেত, কিন্তু দূষণের কারণে নদী থেকে ইলিশ প্রায় হারিয়ে গেছে।{{r|TDS-Roy}}


== পরিবহন ==
==পরিবহন==
[[চিত্র:Karnafully Bridge CHittagong.jpg|থাম্ব| [[শাহ আমানত সেতু]]]]
[[চিত্র:Karnafully Bridge CHittagong.jpg|থাম্ব| [[শাহ আমানত সেতু]]]]
১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে ৭/৮ মাইল উজানে কালুরঘাট নামক স্থানে [[কালুরঘাট সেতু|কালুরঘাট রেল সেতু]] নির্মিত হয়। এটি কর্ণফুলী নদীর দ্বারা দ্বিখন্ডিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলাকে উত্তর ও দক্ষিণাংশে সংযুক্ত করে।
১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে ৭/৮ মাইল উজানে কালুরঘাট নামক স্থানে [[কালুরঘাট সেতু|কালুরঘাট রেল সেতু]] নির্মিত হয়। এটি কর্ণফুলী নদীর দ্বারা দ্বিখন্ডিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলাকে উত্তর ও দক্ষিণাংশে সংযুক্ত করে।
৪৭ নং লাইন: ৪৭ নং লাইন:
২০২৩ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দুই লেনের [[কর্ণফুলী টানেল]] নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি বাংলাদেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেল।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/o23srmbnef |ওয়েবসাইট=প্রথম আলো |সংগ্রহের-তারিখ=২৮ অক্টোবর ২০২৩ |ভাষা=bn |তারিখ=২৮ অক্টোবর ২০২৩}}</ref> সুড়ঙ্গটি [[বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি]]র পাশ দিয়ে শুরু হয়ে নদীর দক্ষিণ পাড়ের [[আনোয়ারা উপজেলা|আনোয়ারা]] উপজেলার [[চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড]] এবং [[কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড]] কারখানার মাঝামাঝি স্থানে নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |তারিখ=৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ |ভাষা=bn |শিরোনাম=বঙ্গবন্ধু টানেলের ৯৬ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/ufq7w5a3ko |সংগ্রহের-তারিখ=১৩ জুলাই ২০২৩ |ওয়েবসাইট=প্রথম আলো}}</ref>
২০২৩ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দুই লেনের [[কর্ণফুলী টানেল]] নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি বাংলাদেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেল।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |শিরোনাম=বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/o23srmbnef |ওয়েবসাইট=প্রথম আলো |সংগ্রহের-তারিখ=২৮ অক্টোবর ২০২৩ |ভাষা=bn |তারিখ=২৮ অক্টোবর ২০২৩}}</ref> সুড়ঙ্গটি [[বাংলাদেশ নেভাল একাডেমি]]র পাশ দিয়ে শুরু হয়ে নদীর দক্ষিণ পাড়ের [[আনোয়ারা উপজেলা|আনোয়ারা]] উপজেলার [[চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড]] এবং [[কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড]] কারখানার মাঝামাঝি স্থানে নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হয়।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |তারিখ=৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৩ |ভাষা=bn |শিরোনাম=বঙ্গবন্ধু টানেলের ৯৬ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন |ইউআরএল=https://www.prothomalo.com/bangladesh/ufq7w5a3ko |সংগ্রহের-তারিখ=১৩ জুলাই ২০২৩ |ওয়েবসাইট=প্রথম আলো}}</ref>


== দূষণ ==
==দূষণ==
বাংলাদেশের অনেক নদীর মতো কর্ণফুলীও শিল্প ও কৃষি প্রবাহের কারণে ব্যাপকভাবে দূষিত। ফলে উপলব্ধ অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস এবং নদীর জলজ প্রাণীর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।{{r|স্টার-চৌধুরী}} ২০১৫ সালে, তেলবাহী একটি ট্রেন নদীর একটি উপনদীতে বিধ্বস্ত হলে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে [[পরিবেশের অবনতি]] ঘটায়।{{r|TDS-Spilled}}
বাংলাদেশের অনেক নদীর মতো কর্ণফুলীও শিল্প ও কৃষি প্রবাহের কারণে ব্যাপকভাবে দূষিত। ফলে উপলব্ধ অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস এবং নদীর জলজ প্রাণীর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।{{r|স্টার-চৌধুরী}} ২০১৫ সালে, তেলবাহী একটি ট্রেন নদীর একটি উপনদীতে বিধ্বস্ত হলে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে [[পরিবেশের অবনতি]] ঘটায়।{{r|TDS-Spilled}}


== জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রভাব ==
==জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রভাব==
কবি [[ওহীদুল আলম]] ১৯৪৬ সালে '''কর্ণফুলীর মাঝি''' নামে একটি কাহিনী-কাব্য রচনা করেন। ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি [[আলাউদ্দিন আল আজাদ]] ১৯৬২ সালে রচনা করেন তার উপন্যাস '''কর্ণফুলী'''। জাতীয় কবি [[কাজী নজরুল ইসলাম]] তার কবিতায় লিখেছেন,
কবি [[ওহীদুল আলম]] ১৯৪৬ সালে '''কর্ণফুলীর মাঝি''' নামে একটি কাহিনী-কাব্য রচনা করেন। ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি [[আলাউদ্দিন আল আজাদ]] ১৯৬২ সালে রচনা করেন তার উপন্যাস '''কর্ণফুলী'''। জাতীয় কবি [[কাজী নজরুল ইসলাম]] তার কবিতায় লিখেছেন,
{{cquote|ওগো ও কর্ণফুলী<br/>
{{cquote|ওগো ও কর্ণফুলী<br/>
৫৮ নং লাইন: ৫৮ নং লাইন:
আনমনে তার খুলে গেলো খোঁপা, কান- ফুল গেল খুলি।<br/>
আনমনে তার খুলে গেলো খোঁপা, কান- ফুল গেল খুলি।<br/>
সে ফুল যতনে পড়িয়া কর্ণে, হলে কি কর্ণফুলী?}}
সে ফুল যতনে পড়িয়া কর্ণে, হলে কি কর্ণফুলী?}}
এছাড়াও চট্টগ্রামী ভাষার গানে এবং লোক-সংস্কৃতিতে এই নদীর প্রভাব অনেক। চট্টগ্রামী ভাষার ক’টি জনপ্রিয় গান,<br/>
এছাড়াও চট্টগ্রামী ভাষার গানে এবং লোক-সংস্কৃতিতে এই নদীর প্রভাব অনেক। চট্টগ্রামী ভাষার ক’টি জনপ্রিয় গান,<br />
১. ছোড ছোড ঢেউ তুলি পানিত ছোড ছোড ঢেউ তুলি<br/>
১. ছোড ছোড ঢেউ তুলি পানিত ছোড ছোড ঢেউ তুলি<br />
লুসাই ফা-রত্তুন লামিয়ারে যারগই কর্ণফুলী’।<br/>
লুসাই ফা-রত্তুন লামিয়ারে যারগই কর্ণফুলী’।<br />
২. মৌসুমী এবং ফেরদৌস এর‘ওরে সাম্পানওয়ালা, ,তুই আমারে করলি দিওয়ানা যেটি তুমুল জনপ্রিয় একটি গান॥
২. মৌসুমী এবং ফেরদৌস এর‘ওরে সাম্পানওয়ালা, ,তুই আমারে করলি দিওয়ানা যেটি তুমুল জনপ্রিয় একটি গান॥
৩.কিংবদন্তী চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত কর্ণফুলী নদী নিয়ে আরো দুইটি গান সিনেমায় জনপ্রিয়॥ওরে কর্ণফুলী রে সাক্ষী রাখিলাম তোরে এবং কর্ণফুলী সম্পান ওয়ালা আমার মন কাড়িয়া নিলো।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://archive.prothom-alo.com/detail/news/146790 |শিরোনাম=দৈনিক প্রথম আলো |সংগ্রহের-তারিখ=১২ জানুয়ারি ২০১৪ |আর্কাইভের-তারিখ=২৪ জুলাই ২০২০ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20200724024459/http://archive.prothom-alo.com/detail/news/146790 |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref>
৩.কিংবদন্তী চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত কর্ণফুলী নদী নিয়ে আরো দুইটি গান সিনেমায় জনপ্রিয়॥ওরে কর্ণফুলী রে সাক্ষী রাখিলাম তোরে এবং কর্ণফুলী সম্পান ওয়ালা আমার মন কাড়িয়া নিলো।<ref>{{ওয়েব উদ্ধৃতি |ইউআরএল=http://archive.prothom-alo.com/detail/news/146790 |শিরোনাম=দৈনিক প্রথম আলো |সংগ্রহের-তারিখ=১২ জানুয়ারি ২০১৪ |আর্কাইভের-তারিখ=২৪ জুলাই ২০২০ |আর্কাইভের-ইউআরএল=https://web.archive.org/web/20200724024459/http://archive.prothom-alo.com/detail/news/146790 |ইউআরএল-অবস্থা=অকার্যকর }}</ref>


== আরও দেখুন ==
==আরও দেখুন==
* [[বাংলাদেশের নদীর তালিকা]]
*[[বাংলাদেশের নদীর তালিকা]]
* [[বাংলাদেশের বড় নদীসমূহ]]
*[[বাংলাদেশের বড় নদীসমূহ]]


== তথ্যসূত্র ==
==তথ্যসূত্র==
{{সূত্র তালিকা|2|refs=
{{সূত্র তালিকা|2|refs=
<ref name="বাংলাপিডিয়া">{{বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি |অধ্যায়= কর্ণফুলি_নদী |লেখক=মেসবাহ-উস-সালেহীন, সিফাতুল কাদের চৌধুরী}}</ref>  
<ref name="বাংলাপিডিয়া">{{বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি |অধ্যায়= কর্ণফুলি_নদী |লেখক=মেসবাহ-উস-সালেহীন, সিফাতুল কাদের চৌধুরী}}</ref>  
৮৯ নং লাইন: ৮৯ নং লাইন:
{{div col end}}
{{div col end}}


== বহিঃসংযোগ ==
==বহিঃসংযোগ==
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী}}
{{কমন্স বিষয়শ্রেণী}}
* {{বাংলাপিডিয়া}}
*{{বাংলাপিডিয়া}}


{{বাংলাদেশের নদ-নদী}}
{{বাংলাদেশের নদ-নদী}}

০২:৩৩, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

কর্ণফুলি নদী (মিজো ভাষায় খাওৎলাং তুইপুই যার অর্থ "পশ্চিম নদী" এবং চাকমা ভাষায় বোরগাং, যার অর্থ "বড় নদী") বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব অংশে প্রবাহিতচট্টগ্রামের ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বৃহত্তম এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশস্ত একটি নদী।

ব্যুৎপত্তি

চট্টগ্রামের ইতিহাসে আরব ব্যবসায়ী ও বণিকদের উপস্থিতির কারণে চট্টগ্রামের অনেক এলাকায় আরবি বংশোদ্ভূত নাম রয়েছে। কর্ণফুল থেকে এই নদীর নাম এসেছে বলে মনে করা হয়। আরবিতে যার অর্থ লবঙ্গ এবং এটি এমন একটি ঘটনাকে নির্দেশ করে যেখানে লবঙ্গ ভরা একটি আরব জাহাজ এই নদীতে ডুবে যায়।টেমপ্লেট:Sfn

নামের ইতিকথা

কর্ণফুলি নদীর নামের উৎস সম্পর্কে বিভিন্ন কাহিনী প্রচলিত আছে। কথিত আছে যে, আরাকানের এক রাজকন্যা চট্টগ্রামের এক পাহাড়ি রাজপুত্রের প্রেমে পড়েন। এক জ্যোৎস্নাস্নাত রাতে তারা দুইজন এই নদীতে নৌভ্রমণ উপভোগ করছিলেন। নদীর পানিতে চাঁদের প্রতিফলন দেখার সময় রাজকন্যার কানে গোঁজা একটি ফুল পানিতে পড়ে যায়। ফুলটি হারিয়ে কাতর রাজকন্যা সেটা উদ্ধারের জন্য পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন। কিন্তু প্রবল স্রোতে রাজকন্যা ভেসে যান, তার আর খোঁজ পাওয়া যায় নি। রাজপুত্র রাজকন্যাকে বাঁচাতে পানিতে লাফ দেন, কিন্তু সফল হন নি। রাজকন্যার শোকে রাজপুত্র পানিতে ডুবে আত্মাহুতি দেন। এই করুণ কাহিনী থেকেই নদীটির নাম হয় কর্ণফুলী। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের 'কর্ণফুলী' কাব্য হতে নামকরণের এ ঘটনা সম্পর্কে আরো স্পষ্ট হওয়া যায়। যেথায় তিনি লিখেছেন,

টেমপ্লেট:Cquote

এছাড়া মনে করা হয় আরবি শব্দ করণফোল থেকেও কর্ণফুলী নামটি এসেছে। চট্টগ্রামের বিজ্ঞমুসলমান পণ্ডিতগণের মতে, আরব বণিকেরা চট্টগ্রামের পার্বত্য অঞ্চল থেকে লবঙ্গ নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় রপ্তানি করতো। আরবিতে লবঙ্গকে বলা হয় করণফোল। একদিন এই করণফোল বোঝাই জাহাজ নদীতে ডুবে যায়। এই ঘটনা থেকেই এই নদী করণফোল নামে পরিচিত হল। কিন্তু চট্টগ্রামবাসীর মুখে এই নাম পরিবর্তিত হয়ে কর্ণফুলী নামে পরিচিত হয়।[১]

মধ্যযুগীয় পুঁথিতে নদীটিকে কাঁইচা খাল লিখা হয়েছে, মার্মা উপজাতিদের কাছে নদীটির নাম কান্সা খিওং এবং মিজোরামে কর্ণফুলীর নাম খাওৎলাং তুইপুই।

প্রবাহ

কর্ণফুলী নদী ভারতের মিজোরাম প্রদেশের মমিত জেলার শৈতা গ্রাম (লুসাই পাহাড়) হতে শুরু হয়ে পার্বত্য চট্টগ্রাম ও চট্টগ্রামের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চট্টগ্রামের পতেঙ্গার কাছে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে। এই নদীর মোহনাতে বাংলাদেশের প্রধান সমুদ্র বন্দর চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দর অবস্থিত। এই নদীর দৈর্ঘ্য ৩২০ কিলোমিটার। রাঙ্গামাটি জেলার বরকল উপজেলার থেগা নদীর মোহনা বা ঠেগামুখ হতে বড় হরিণার মুখ পর্যন্ত এই ৬ কিলোমিটার কর্ণফুলী ভারত বাংলাদেশের সীমানা নির্ধারণ করেছে। এই ছয় কিলোমিটার নদীর ডান পাশে ভারত এবং বাম পাশে বাংলাদেশ।

চট্টগ্রাম শহর

নদীর তীরে চট্টগ্রাম বন্দর

পার্বত্য চট্টগ্রাম ও বঙ্গোপসাগরের মাঝখানে কর্ণফুলী নদীর তীরে চট্টগ্রাম অবস্থিত। শহরটি দক্ষিণ-পূর্ব বাংলাদেশের একটি উল্লেখযোগ্য সমুদ্রতীরবর্তী বন্দর নগরী এবং অর্থনৈতিক কেন্দ্রবিন্দু। বাংলাদেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার জনসংখ্যা প্রায় ৮.৯ মিলিয়নেরও বেশি।[২] বন্দরের পানির চাহিদা পূরণের লক্ষ্যে কর্ণফুলী নদীর পানি ব্যবহারের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ একটি পানি শোধনাগার স্থাপন করেছে।টেমপ্লেট:R নদীটি চট্টগ্রাম শহরের পতেঙ্গাহয়ে বঙ্গোপসাগরে প্রবাহিত হয়েছে।

তলবুং

তলবুং মিজোরামের লুংলেই জেলার কর্ণফুলির তীরে অবস্থিত। কর্ণফুলী মিজোরামকে বঙ্গোপসাগরের তীরে চট্টগ্রামের বন্দর নগরীর সাথে যুক্ত করেছে। ঔপনিবেশিক আমলে মিজোরামে পৌঁছানোর জন্য ব্রিটিশ সৈন্য ও ধর্মপ্রচারকরা এই পথ ব্যবহার করত। মোটরবোটে চট্টগ্রাম থেকে তলবুং পর্যন্ত পৌঁছাতে ৫ দিন সময় লাগত, প্রায় ৯০ কিলোমিটার দূরত্ব তারপর তারা আরও ৩৫ কিলোমিটার পথ পাড়ি দিয়ে লুংলেই পৌঁছাতেন।টেমপ্লেট:Sfn

কর্ণফুলি নদীর চর

শীতকালে নদীতে ভাটার সময় জেগে উঠা চর

১৮৮৩ সালে কর্ণফুলির মোহনায় সৃষ্টি হয় লুকিয়া চর। ১৮৭৭ সালে জুলদিয়া চ্যানেল। জুলদিয়া চ্যানেলটি আড়াই মাইল দীর্ঘ এবং দেড় মাইল প্রশস্ত। ১৯০১ সাল থেকে ১৯১৭ সালের মধ্যে পতেঙ্গা চ্যানেলটি জুলদিয়া চ্যানেল থেকে প্রায় দেড় হাজার ফুট পশ্চিমে সরে যায়। হালদা নদীর সাথে কর্ণফুলীর সংযোগ স্থলে আছে বিশাল চর। যা হালদা চর হিসাবে পরিচিত। নদীর প্রবাহের কিছু অংশ নাজিরচর ঘেঁষে, কিছু অংশ বালু চ্যানেলের মধ্যে দিয়ে এবং কিছু মুল স্রোত হিসেবে প্রবাহিত হচ্ছে। ১৯৩০ সালে কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু নির্মাণের আগে নদীর মূল প্রবাহ প্রধানত কুলাগাঁও অভিমুখে বাম তীর ঘেষেই প্রবাহিত হত। কালুরঘাট সেতু হওয়ার পর সেতুর ডান দিকে আরও একটি প্রবাহের মুখ তৈরি হয়। ফলে নদীর মাঝ পথে সৃষ্টি হয় বিশাল একটি চর- যা কুলাগাঁও চর নামে পরিচিত।[৩]

কাপ্তাই বাঁধ

টেমপ্লেট:মূল নিবন্ধ কর্ণফুলি নদীর উপর বাঁধ দিয়ে রাঙামাটি জেলার কাপ্তাই উপজেলায় কাপ্তাই বাঁধ তৈরি করা হয় ১৯৬৪ খ্রিস্টাব্দে। এই বাঁধে সঞ্চিত পানি ব্যবহার করে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রে বিদ্যুৎ উৎপন্ন করা হয়।

জলজ জীবন

নদীটি বিপন্ন প্রজাতির গঙ্গা নদী শুশুকের আবাসস্থল।টেমপ্লেট:R আগে নদীতে ইলিশ পাওয়া যেত, কিন্তু দূষণের কারণে নদী থেকে ইলিশ প্রায় হারিয়ে গেছে।টেমপ্লেট:R

পরিবহন

শাহ আমানত সেতু

১৯৩০ সালে ব্রিটিশ শাসনামলে কর্ণফুলী নদীর মোহনা হতে ৭/৮ মাইল উজানে কালুরঘাট নামক স্থানে কালুরঘাট রেল সেতু নির্মিত হয়। এটি কর্ণফুলী নদীর দ্বারা দ্বিখন্ডিত বৃহত্তর চট্টগ্রাম জেলাকে উত্তর ও দক্ষিণাংশে সংযুক্ত করে।

২০১১ সালে কর্ণফুলী নদীর উপর শাহ আমানত সেতু নির্মআন করা হয়। সেতুটি কর্ণফুলীর দক্ষিণ পাড়ের শিল্প এলাকায় শিল্পের বিকাশে সহায়ক হওয়ার পাশাপাশি, বান্দরবান এবং কক্সবাজারকে চট্টগ্রাম শহরের সাথে যুক্ত করে।[৪]

২০২৩ সালের অক্টোবরে কর্ণফুলী নদীর তলদেশে দুই লেনের কর্ণফুলী টানেল নির্মাণ করা হয়েছে, যেটি বাংলাদেশের প্রথম আন্ডারওয়াটার টানেল।[৫] সুড়ঙ্গটি বাংলাদেশ নেভাল একাডেমির পাশ দিয়ে শুরু হয়ে নদীর দক্ষিণ পাড়ের আনোয়ারা উপজেলার চিটাগাং ইউরিয়া ফার্টিলাইজার লিমিটেড এবং কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেড কারখানার মাঝামাঝি স্থানে নদীর দুই তীরের অঞ্চলকে যুক্ত করেছে। এই সুড়ঙ্গের মধ্য দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়ক যুক্ত হয়।[৬]

দূষণ

বাংলাদেশের অনেক নদীর মতো কর্ণফুলীও শিল্প ও কৃষি প্রবাহের কারণে ব্যাপকভাবে দূষিত। ফলে উপলব্ধ অক্সিজেনের পরিমাণ হ্রাস এবং নদীর জলজ প্রাণীর ক্ষতি সাধিত হচ্ছে।টেমপ্লেট:R ২০১৫ সালে, তেলবাহী একটি ট্রেন নদীর একটি উপনদীতে বিধ্বস্ত হলে নদীতে তেল ছড়িয়ে পড়ে পরিবেশের অবনতি ঘটায়।টেমপ্লেট:R

জনপ্রিয় সংস্কৃতিতে প্রভাব

কবি ওহীদুল আলম ১৯৪৬ সালে কর্ণফুলীর মাঝি নামে একটি কাহিনী-কাব্য রচনা করেন। ঔপন্যাসিক, প্রাবন্ধিক, কবি আলাউদ্দিন আল আজাদ ১৯৬২ সালে রচনা করেন তার উপন্যাস কর্ণফুলী। জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম তার কবিতায় লিখেছেন, টেমপ্লেট:Cquote এছাড়াও চট্টগ্রামী ভাষার গানে এবং লোক-সংস্কৃতিতে এই নদীর প্রভাব অনেক। চট্টগ্রামী ভাষার ক’টি জনপ্রিয় গান,
১. ছোড ছোড ঢেউ তুলি পানিত ছোড ছোড ঢেউ তুলি
লুসাই ফা-রত্তুন লামিয়ারে যারগই কর্ণফুলী’।
২. মৌসুমী এবং ফেরদৌস এর‘ওরে সাম্পানওয়ালা, ,তুই আমারে করলি দিওয়ানা যেটি তুমুল জনপ্রিয় একটি গান॥ ৩.কিংবদন্তী চিত্রনায়িকা মৌসুমী অভিনীত কর্ণফুলী নদী নিয়ে আরো দুইটি গান সিনেমায় জনপ্রিয়॥ওরে কর্ণফুলী রে সাক্ষী রাখিলাম তোরে এবং কর্ণফুলী সম্পান ওয়ালা আমার মন কাড়িয়া নিলো।[৭]

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. ↑ '.
  2. ↑ E-Vision Software Limited Economics Landscape of Chittagong
  3. ↑ কর্ণফুলী নদী সংকুচিত হচ্ছে জেগে উঠছে অসংখ্য চর[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  4. ↑ প্রধানমন্ত্রী আজ তৃতীয় কর্ণফুলী সেতুসহ চার প্রকল্প উদ্বোধন করবেন এপিপি বাংলা.[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  5. ↑ বঙ্গবন্ধু টানেলের উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা
  6. ↑ বঙ্গবন্ধু টানেলের ৯৬ শতাংশ নির্মাণকাজ সম্পন্ন
  7. ↑ দৈনিক প্রথম আলো

উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "বাংলাপিডিয়া" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "স্টার-চৌধুরী" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "TDS-Roy" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।
উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "TDS-Spilled" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।

উদ্ধৃতি ত্রুটি: <references>-এ সংজ্ঞায়িত "worldwildlife" নামসহ <ref> ট্যাগ পূর্ববর্তী লেখায় ব্যবহৃত হয়নি।
উৎস

টেমপ্লেট:Div col

'.





'.





'.




'.





'.




টেমপ্লেট:Div col end

বহিঃসংযোগ

টেমপ্লেট:কমন্স বিষয়শ্রেণী

টেমপ্লেট:বাংলাদেশের নদ-নদী টেমপ্লেট:বাংলার নদী