একাদশ জাতীয় সংসদ
একাদশ জাতীয় সংসদ ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের নিয়ে গঠিত হয়। ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারি নির্বাচিত সংসদ সদস্যগণ শপথ গ্রহণ করেন। ৭ জানুয়ারি মন্ত্রিসভার সদস্যগণ শপথগ্রহণ করেন। ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন অনুষ্ঠিত শুরু হয়।[১] জাতীয় সংসদের ৩৫০টি আসনের মধ্যে জণগনের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত আসন ৩০০টি এবং ৫০টি মহিলা আসন হিসেবে সংরক্ষিত। ৩০০টি আসনের মধ্যে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ২৫৮টি আসনে জয়লাভ করে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে শেখ হাসিনাকে প্রধান করে সরকার গঠন করে এবং জাতীয় পার্টি ২২টি আসনে জয়লাভ করে বিরোধীদলের মর্যাদা পায়।
উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিবর্গ
অধিবেশন
প্রথম অধিবেশন
২০১৯ সালের ৩০ জানুয়ারি একাদশ সংসদের প্রথম অধিবেশ শুরু হয়ে ২৬ কার্যদিবস চলার পর ১১ মার্চ অধিবেশনটি শেষ হয়। অধিবেশনের শুরুতে রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ ভাষণ দেন। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ১৯৪ জন সংসদ সদস্য ৫৪ ঘণ্টা ৫৭ মিনিট আলোচনা করেন এবং শেষে ধন্যবাদ প্রস্তাব গৃহীত হয়।[২] এ অধিবেশনে মোট পাঁচটি বিল গৃহীত হয় এবং ১০ কার্যদিবসের মধ্যে ৫০টি সংসদীয় কমিটি গঠন করা হয়। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রাণালী বিধি-৭১ অনুযায়ী এ অধিবেশনে ৩২১টি নোটিশ জমা পড়ে যার মধ্যে ৩০টি গ্রহণ করে ১৮টির উপর আলোচনা করা হয়। ৭১(ক) বিধি অনুযায়ী আরো ১৫৫টি নোটিশের উপর আলোচনা হয়।[২] সংসদ নেতার জন্য জমা পড়া ১১৪টি প্রশ্নের মধ্যে ৪৬টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া দুই হাজার ৩২৫টি প্রশ্নের মধ্যে এক হাজার ৭৩০টির উত্তর দেওয়া হয়। অধিবেশন চলাকালে ৭ মার্চ শপথ গ্রহণ করেন গণফোরামের সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমেদ। ২০ ফেব্রুয়ারি সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্যগণ শপথ গ্রহণ করেন।[২]
দ্বিতীয় অধিবেশন
২০১৯ সালের ২৪ এপ্রিল সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশন শুরু হয়ে ৫ কার্যদিবস পর শেষ হয়। দ্বিতীয় এ অধিবেশন চলাকালীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল থেকে নির্বাচিত পাঁচজন সদস্য শপথ গ্রহণ করেন।[৩] বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের কার্যপ্রাণালী বিধি-৭১ অনুযায়ী এ অধিবেশনে ১৬৬টি নোটিশ জমা পড়ে যার মধ্যে ৯টি গ্রহণ করে ১টির উপর আলোচনা করা হয়। এছাড়া ৭১(ক) বিধিতে ৪৪টি নোটিশ নিয়ে আলোচনা হয়। সংসদ নেতার জন্য জমা পড়া ৪৪টি প্রশ্নের মধ্যে ১১টি প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়। মন্ত্রীদের জন্য জমা পড়া ১ হাজার ৪০টি প্রশ্নের মধ্যে ৩৭৫টির উত্তর দেওয়া হয়।[৩]