বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড

ভিকিটিয়া থেকে
কবুতর (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১১:৫৯, ৮ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{multiple issues| {{ছোট নিবন্ধ|date=অক্টোবর ২০১৮}} {{পরিষ্করণ-পুনঃসংগঠন|date=অক্টোবর ২০১৮}} }} {{Infobox organization | name = বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড | image = চিত্র:বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের লোগো.p..." দিয়ে পাতা তৈরি)

টেমপ্লেট:Multiple issues টেমপ্লেট:Infobox organization

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)[১] বাংলাদেশের একটি বিশেষায়িত সংস্থা। এটি একটি সরকারি সংস্থা যা বাংলাদেশের ভূ-পৃষ্ঠের পানি এবং ভূগর্ভস্থ পানি সুষ্ঠ পরিচালনার জন্য নিয়োজিত। এর সদর দপ্তর ঢাকায় অবস্থিত। [২][৩] জনাব মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা বোর্ডের মহাপরিচালক।[৪]

ইতিহাস

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃক মহানন্দা নদীতে লাগানো একটি সাইনবোর্ড

১৯৫৪ এবং ১৯৫৫ সালের উপর্যপরি ভয়াবহ বন্যার পর বন্যার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে খাদ্য উৎপাদন বাড়ানের লক্ষ্যে ১৯৫৭ সনে জাতিসংঘের অধীনে গঠিত। ক্রুগ মিশন এর সুপারিশক্রমে এতদঞ্চলের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও উন্নয়নের লক্ষে ১৯৫৯ সনে পূর্ব পাকিস্তান পানি ও বিদ্যুৎ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (ইপিওয়াপদা) গঠন করা হয়। বর্তমান বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) ইপিওয়াপদা এর পানি উইং হিসেবে দেশের বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্প বাস্তবায়ন করে কৃষি ও মৎস্য সম্পদের উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে দেশের পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় প্রধান সংস্থা হিসেবে কার্যক্রম আরম্ভ করে।

স্বাধীনতার পর ১৯৭২ সনের মহামান্য রাষ্ট্রপতির আদেশ নং: ৫৯ মোতাবেক ইপিওয়াপদা এর পানি অংশ একই ম্যান্ডেন্ট নিয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) সম্পূর্ণ স্বায়ত্বশাসিত সংস্থা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। অত:পর সংস্কার ও পুনর্গঠনের ধারাবাহিকতায় জাতীয় পানি নীতি-১৯৯৯ ও জাতীয় পানি ব্যবস্থাপনা পরিকল্পনা ২০০৪ এর সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাপাউবো আইন, ২০০০ প্রণয়ন করা হয়। এ আইনের আওতায় মাননীয় মন্ত্রী, পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্বে ১৩ সদস্য বিশিষ্ট পানি পরিষদের মাধ্যমে বোর্ডের শীর্ষ নীতি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা পরিচালিত হচ্ছে।

ভিশন ও মিশন

অংশগ্রহণমূলক পানি ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বাংলাদেশের পানি সম্পদের সমন্বিত টেকসই উন্নয়ন, পানি সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে জনগণের জানমাল রক্ষা করে এবং সেচ ব্যবস্থা উন্নয়নের মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করে জনগনের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন।

কৌশলগত পরিকল্পনার আওতায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নদী ভাঙ্গনরোধ, ভূমি পুনরুদ্ধার, লবণাক্ততার নিরসন এবং সমন্বিত উপকূলীয় অঞ্চল ব্যবস্থাপনার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলা করে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরনে,দারিদ্রতা নিরসনে ও পানি সংক্রান্ত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় অবদান রাখা; সমন্বিত পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনায় সক্রিয় অংশীদারিত্বের মাধ্যমে জনগণের সম্পৃক্ততা বৃদ্ধিকরণ।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের কার্যাবলী

(১) সরকার কর্তৃক গৃহীত জাতীয় পানি নীতি ও জাতীয় পানি মহাপরিকল্পনার আলোকে এবং এই ধারার অন্যান্য বিধানাবলী সাপেক্ষে, বোর্ড নিম্নবর্ণিত কার্যাবলী সম্পাদন এবং তদুদ্দেশ্যে প্রয়োজনীয় প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন, পরিচালনা, রক্ষণাবেক্ষণ ও মূল্যায়ন সংক্রান্ত যাবতীয় কার্যক্রম গ্রহণ করিতে পারিবে, যথাঃ-

কাঠামোগত কার্যাবলীঃ-

(ক) নদী ও নদী অববাহিকা নিয়ন্ত্রণ ও উন্নয়ন এবং বন্যা নিয়ন্ত্রন, পানি নিস্কাশন, সেচ ও খরা প্রতিরোধের লক্ষ্যে জলাধার, ব্যারেজ, বাঁধ, রেগুলেটর বা অন্য কোন অবকাঠামো নির্মাণ;

(খ) সেচ, মৎস্য চাষ, নৌ-পরিবহণ, বনায়ন, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ ও পরিবেশের সার্বিক উন্নয়নে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে পানি প্রবাহের উন্নয়ন কিংবা পানি প্রবাহের গতিপথ পরিবর্তনের জন্য জলপথ, খালবিল ইত্যাদি পুনঃ খনন;

(গ) ভূমি সংরক্ষণ, ভূমি পরিবৃদ্ধি ও পুনরূদ্ধার এবং নদীর মোহনা নিয়ন্ত্রণ;

(ঘ) নদীর তীর সংরক্ষণ এবং নদী ভাঙ্গন হইতে সম্ভাব্য ক্ষেত্রে শহর, বাজার, হাট এবং ঐতিহাসিক ও জাতীয় জনগুরুত্বপূর্ণ স্থানসমূহ সংরক্ষণ;

(ঙ) উপকূলীয় বাঁধ নির্মাণ ও সংরক্ষণ;

(চ) লবণাক্ততার অনুপ্রবেশ রোধ এবং মরুকরণ প্রশমন;

(ছ) সেচ, পরিবেশ সংরক্ষণ ও পানীয় জল আহরণের লক্ষ্যে বৃষ্টির পানি ধারণ।

অ-কাঠামোগত ও সহায়ক কার্যাবলীঃ

(জ) বন্যা ও খরা পূর্বাভাষ ও সতর্কীকরণ;

(ঝ) পানি বিজ্ঞান সম্পর্কিত অনুসন্ধান কার্য পরিচালনা এবং এতদসম্পর্কিত তথ্য ও উপাত্ত গ্রহণ, সংরক্ষণ ও বিতরণ;

(ঞ) পরিবেশ সংরক্ষণ ‍ও উন্নয়নের লক্ষ্যে সরকারের সংশ্লিষ্ট সংস্থার সহযোগিতায় এবং সম্ভাব্য ক্ষেত্রে বোর্ডের সৃষ্ট অবকাঠামোভুক্ত নিজস্ব জমিতে বনায়ন, মৎস্য চাষ কর্মসূচী বাস্তবায়ন এবং বাঁধের উপর রাস্তা নির্মাণ;

(ট) বোর্ডের কার্যাবলীর উপর মৌলিক ও প্রায়োগিক গবেষণা;

(ঠ) বোর্ড কর্তৃক বাস্তাবায়িত প্রকল্পের সুফল সংশ্লিষ্ট সুবিধাভোগীদের মধ্যে অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে সুবিধাভোগীদের সংগঠিতকরণ,প্রকল্পে তাহাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিতকরণ, প্রকল্প রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালন এবং প্রকল্প ব্যয় পুনরুদ্ধার সংক্রান্ত বিভিন্ন কলাকৌশল ও প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো উদ্ভাবন, বাস্তবায়ন ও পরিচালন।

(২) বোর্ড উপ-ধারা (১)-এ বর্ণিত কার্যাবলী নিম্নবর্ণিত শর্তাদি পালন সাপেক্ষে সম্পাদন করিবে, যথাঃ-

(ক) প্রকল্প গ্রহণের জন্য সরকার কর্তৃক নির্দেশিত মানদন্ড অনুসরণপূর্বক প্রকল্প প্রস্তাবনা পেশকরণ;

(খ) কারিগরী সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে নতুন উপাত্ত সংগ্রহ কিংবা ভৌত ও গানিতিক মডেল সমীক্ষার প্রয়োজন থাকিলে উহা সম্পাদন;

(গ) প্রকল্পের পূর্ণ সফলতার জন্য যে সকল মন্ত্রণালয় ও সংস্থার অংশগ্রহণ প্রয়োজন, প্রকল্প প্রক্রিয়াকরণের শুরু হইতেই উহাদের সম্পৃক্তকরণ এবং প্রকল্পে উহাদের জন্য সুনির্দিষ্ট কার্যক্রম সন্নিবেশকরণ;

(ঘ) প্রকল্প প্রণয়ন, বাস্তবায়ন ও রক্ষণাবেক্ষণে প্রকল্প এলাকার জনগণের অংশগ্রহণ সম্পর্কিত প্রতিবেদন প্রণয়ন এবং প্রকল্প দলিলে উহার প্রাতিষ্ঠানিক বিন্যাস লিপিবদ্ধকরণ;

(ঙ) ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষেত্রে ক্ষতিপূরন ও পুনর্বাসন সংক্রান্ত স্বয়ংসম্পূর্ণ প্রস্তাব পেশকরণ;

(চ) প্রকল্প বাস্তবায়নের ফলে কৃষিকাজ, পরিবেশ, নৌ-চলাচল, পানি প্রবাহ, মৎস্য সম্পদ, জনজীবন ও পারিপার্শ্বিক এলাকায় উহার প্রভাব ও বিরুপ প্রতিক্রিয়া (যদি থাকে) এবং উহার সম্ভাব্য প্রতিকার সম্পর্কে প্রতিবেদন প্রণয়ন।

বহিঃসংযোগ

পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওয়েবসাইট ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ৬ আগস্ট ২০২০ তারিখে

তথ্যসূত্র

  1. ১৩৫ জনের মুক্তিযোদ্ধা সনদের তথ্যে গরমিল
  2. Bangladesh water crisis UDaily.
  3. টেমপ্লেট:বাংলাপিডিয়া উদ্ধৃতি
  4. {{ওয়েব উদ্ধৃতি|ভাষা=en|শিরোনাম=মুহাম্মদ আমিরুল হক ভূঞা বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নতুন মহাপরিচালক|ইউআরএল=https://bwdb.portal.gov.bd/}[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]