পাগলা মসজিদ

ভিকিটিয়া থেকে

টেমপ্লেট:Infobox religious building

পাগলা মসজিদ বা পাগলা মসজিদ ও ইসলামি কমপ্লেক্স বাংলাদেশের একটি প্রাচীন মসজিদ। এটি কিশোরগঞ্জ সদরের নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।[১] মসজিদটিতে তিন তলা বিশিষ্ট একটি সুউচ্চ মিনার রয়েছে। মসজিদ কমপ্লেক্সটি ৩ একর ৮৮ শতাংশ জায়গার উপর প্রতিষ্ঠিত।[২] ১৯৭৯ সালে ১০ মে থেকে ওয়াকফ্ স্টেট মসজিদটি পরিচালনা করছে।[৩]

ইতিহাস

পাগলা মসজিদটি কিশোরগঞ্জ সদর উপজেলার হারুয়া নামক স্থানে নরসুন্দা নদীর তীরে অবস্থিত।[৩][৪][৫] জনশ্রুতি অনুসারে, কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক হয়বতনগর জমিদার বাড়ির ঈসা খানের বংশধর দেওয়ান জিলকদর খান ওরফে জিল কদর পাগলা সাহেব নামক একজন আধ্যাতিক ব্যক্তি নরসুন্দা নদীর তীরে বসে নামাজ পড়তেন। পরবর্তীতে স্থানটিতে মসজিদটি নির্মত হয়। জিল কদর পাগলার নামানুসারে মসজিদটি ‘পাগলা মসজিদ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।।[৩] অপর জনশ্রুতি অনুসারে, তৎকালীন কিশোরগঞ্জের হয়বতনগর জমিদার পরিবারের ‘পাগলা বিবি’র নামানুসারে মসজিদটির নামকরণ করা হয়।।[৩]

সমাজ কল্যাণ

মসজিদের আয় থেকে বিভিন্ন সেবামূলক খাতসহ জটিল রোগীদের চিকিৎসায় এর অর্থ ব্যয় করা হয়। এবার মসজিদের আয় দিয়ে কোভিড রোগীদের চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম কিনে দেওয়া হয়। [৬] প্রাপ্ত দানের টাকা দিয়ে পাগলা মসজিদ এবং এর অন্তর্ভুক্ত মাদ্রাসা, এতিমখানা ও গোরস্থানের ব্যয় নির্বাহ করা হয়; জেলার বিভিন্ন মসজিদ, মাদ্রাসা, এতিমখানা, গরিব ছাত্র ও দুস্থদের আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।[৭] মসজিদটিতে আন্তর্জাতিক মানের দৃষ্টিনন্দন ইসলামিক কমপ্লেক্স নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নামকরণ হবে ‘পাগলা মসজিদ ইসলামিক কমপ্লেক্স’। প্রাথমিক ব্যয় ধরা হয়েছে ১১৫ কোটি টাকা। মসজিদে ৬০ হাজার মুসল্লি একসঙ্গে নামাজ আদায় করতে পারবেন।[৮]

প্রাপ্ত দানের পরিমান

  • ২০২৩ সালের ৯ ডিসেম্বর দানবাক্স খুলে রেকর্ড ৬ কোটি ৩২ লাখ ৫১ হাজার ৪২৩ টাকা পাওয়া যায়। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া যায়।
  • ৪ মাস ১০ দিন পর ২০ এপ্রিল ২০২৪ দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় রেকর্ড ৭ কোটি ৭৮ লাখ ৬৭ হাজার ৫৩৭ টাকা। সাথে বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কার পাওয়া গেছে।[৯]
  • ১৭ আগষ্ট ২০২৪ দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৭ কোটি ২২ লাখ ১৩ হাজার টাকা। এছাড়া বৈদেশিক মুদ্রা ও স্বর্ণালঙ্কারও পাওয়া গেছে।[১০]
  • ৩০ নভেম্বর ২০২৪ দানবাক্স খুলে পাওয়া যায় ৮ কোটি ২১ লাখ ৩৪ হাজার টাকা।[১১]
  • ১২ এপ্রিল ২০২৫, ১১টি দানসিন্দুক খুলে এবার রেকর্ড ৯ কোটি ১৭ লাখ ৮০ হাজার ৬৮৭ টাকা পাওয়া গেছে।

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. কিশোরগঞ্জের ঐতিহাসিক ‘পাগলা মসজিদ’
  2. বাংলাদেশের পাগলা মসজিদ!
  3. ৩.০ ৩.১ ৩.২ ৩.৩ পাগলা মসজিদের ইতিকথা
  4. ঐতিহাসিক পাগলা মসজিদ
  5. জীবন্ত কিংবদন্তি কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদ
  6. পাগলা মসজিদের সিন্দুকে পাওয়া গেল ২ কোটি ৩৪ লাখ টাকা
  7. কিশোরগঞ্জের পাগলা মসজিদে এবার মিলেছে ২৭ বস্তা টাকা, বিডিনিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম, ২০ এপ্রিল ২০২৪
  8. পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে রেকর্ড পৌনে ৮ কোটি টাকা, জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  9. পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলেছে রেকর্ড পৌনে ৮ কোটি টাকা, জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম, ২১ এপ্রিল ২০২৪
  10. এবার পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিললো ৭ কোটি ২২ লাখ টাকা, জাগো নিউজ টুয়েন্টি ফোর ডটকম, ১৭ আগষ্ট ২০২৪
  11. পাগলা মসজিদের দানবাক্সে মিলল ৮ কোটি ২১ লাখ টাকা || বাংলাদেশ প্রতিদিন