হাসান মেহেদী
| হাসান মেহেদী | |
|---|---|
| জন্ম তারিখ | টেমপ্লেট:Birth date |
| জন্মস্থান | পটুয়াখালী, বাংলাদেশ |
| মৃত্যু তারিখ | টেমপ্লেট:Death date and age |
| মৃত্যুর স্থান | যাত্রাবাড়ি,ঢাকা |
| জাতীয়তা | বাংলাদেশী |
| পেশা | সাংবাদিকতা |
| মাতৃশিক্ষায়তন | সরকারি শহীদ সোহরাওয়ার্দী কলেজ, ঢাকা |
| দাম্পত্য সঙ্গী | ফারহানা ইসলাম পপি |
| সন্তান | মায়মুনা বিনতে নিশা, মেহেরাশ |
হাসান মেহেদী ছিলেন অনলাইন গণমাধ্যম ঢাকা টাইমস ২৪-এর সংবাদকর্মী। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকেলে পেশাগত দায়িত্ব পালন করার সময় কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের মধ্যে সংঘর্ষ চলাকালে পুলিশের ছোড়া ছররা গুলির আঘাতে মৃত্যুবরণ করেন তিনি। তার মৃত্যুর ঘটনাটি ছড়িয়ে গেলে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের জন্ম দেয় এবং এই হত্যাকাণ্ডের প্রতি গণমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের পক্ষ থেকে নিন্দা জানানো হয়।[১][২][৩]
ব্যক্তিগত জীবন
হাসান মেহেদী পটুয়াখালী জেলার বাউফল উপজেলার হোসনাবাদ গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মোশাররফ হোসেন এবং মাতা মাহমুদা বেগম। বাবা-মা’র তিন সন্তানের মধ্যে মেহেদী ছিলেন সবার বড়। তাঁর ছোট দুই ভাই শিক্ষার্থী। হাসানের সহধর্মিনী ফারহানা ইসলাম পপি, এবং তিনি দুই কন্যার জনক ছিলেন। তার তিন বছর বয়সী বড় মেয়ের নাম মায়মুনা বিনতে নিশা এবং দশ মাস বয়সী ছোট মেয়ের নাম মেহেরাশ। গণমাধ্যমে কাজ করার সুবাদে মেহেদী তাঁর পরিবার নিয়ে ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করতেন।[৪][৫]
২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার ভূমিকা ও মৃত্যু
২০২৪ সালের ১৮ জুলাই, সাংবাদিক হাসান মেহেদী কোটা সংস্কার আন্দোলনের সমর্থনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ এবং পেশাগত দায়িত্ব পালনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ী এলাকায় গুলিবিদ্ধ হয়ে মৃত্যুবরণ করেন। সেদিন বিকেলে মেয়র হানিফ ফ্লাইওভারের কাছে পুলিশ সাঁজোয়া যান নিয়ে অবস্থান নিলে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের সঙ্গে পুলিশের ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়। সংঘর্ষ চলাকালীন গুলিবিদ্ধ হন মেহেদী। ঘটনাস্থলে উপস্থিত একজন শিক্ষার্থী মেহেদীকে উদ্ধার করে তাঁর পরিবারকে খবর দেন। মেহেদীকে প্রথমে স্থানীয় কয়েকটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেগুলো বন্ধ থাকায় তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর পর দেখা যায়, তাঁর বুক ও হাতে ছররা গুলির গুরুতর আঘাত লেগেছে, এবং সন্ধ্যায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন। তার এই মৃত্যুতে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং দেশজুড়ে জনগণের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার হয়।[৬][৭]
কিংবদন্তি
হাসান মেহেদী ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের ডিগ্রি কোর্সের ছাত্র ছিলেন। তার স্মৃতিকে শ্রদ্ধা জানাতে এবং তাঁর আত্মত্যাগকে স্মরণীয় করে রাখতে সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজের অডিটরিয়ামের নাম পরিবর্তন করে “শহীদ সাংবাদিক হাসান মেহেদী অডিটরিয়াম” রাখা হয়েছে।[৮] শিক্ষার্থীদের গণস্বাক্ষর করা আবেদনপত্র কলেজের উপাধ্যক্ষের কাছে জমা দেওয়ার পর এই নাম পরিবর্তন অনুমোদিত হয়। এছাড়া, তাঁর কর্মস্থল ঢাকা টাইমস ২০২৪ ডটকম তাঁকে সম্মান জানাতে "হাসান মেহেদী" নামে একটি বিশেষ ক্যাটাগরি তৈরি করেছে, যেখানে তাঁকে নিয়ে বেশ কিছু নিউজ ও ফিচার প্রকাশিত হয়েছে।
তথ্যসূত্র
- ↑ সংবাদকর্মী হাসান মেহেদীর মৃত্যু বার্তা২৪.
- ↑ ঢাকায় সংঘর্ষে সাংবাদিকের মৃত্যু সময় সংবাদ.
- ↑ সাংবাদিক হাসান মেহেদীর মর্মান্তিক মৃত্যু এনটিভি.
- ↑ সংসারের প্রধান উপার্জনকারী মেহেদীর বুকটা ঝাঁঝরা হয়েছিল গুলিতে প্রথম আলো.
- ↑ সাংবাদিক মেহেদী হাসানের সব স্বপ্ন ছিল বাবা-মাকে ঘিরে ঢাকা পোস্ট.
- ↑ কোটা সংস্কার আন্দোলনে হাসান মেহেদীর মৃত্যু ঢাকা টাইমস.
- ↑ মেহেদীর মৃত্যুর প্রতিক্রিয়া ঢাকা টাইমস.
- ↑ সোহরাওয়ার্দী কলেজের অডিটরিয়ামের নামকরণ ডেইলি মেসেঞ্জার.