চকরিয়া উপজেলা

Duyel (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১২:৫৯, ১০ ফেব্রুয়ারি ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ (→‎বহিঃসংযোগ)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

চকরিয়া বাংলাদেশের কক্সবাজার জেলার অন্তর্গত একটি উপজেলা

অবস্থান ও আয়তন

চকরিয়া উপজেলার আয়তন ৫০৩.৭৮ বর্গ কিলোমিটার।[২] এটি আয়তনের দিক থেকে কক্সবাজার জেলার সবচেয়ে বড় উপজেলা।[৩]কক্সবাজার জেলার সর্ব-উত্তরে ২১°৩৪´ থেকে ২১°৫৫´ উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯১°৫৭´ থেকে ৯২°১৩´ পূর্ব দ্রাঘিমাংশ জুড়ে এ উপজেলার অবস্থান। কক্সবাজার জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৪৮ কিলোমিটার। এ উপজেলার উত্তরে চট্টগ্রাম জেলার বাঁশখালী উপজেলা, লোহাগাড়া উপজেলাবান্দরবান জেলার লামা উপজেলা, দক্ষিণে রামু উপজেলাকক্সবাজার সদর উপজেলা, পূর্বে বান্দরবান জেলার লামা উপজেলানাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলা, পশ্চিমে মহেশখালী উপজেলাপেকুয়া উপজেলা

নামকরণ

চকরিয়া উপজেলার নামকরণ নিয়ে একাধিক জনশ্রুতি রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল মাতামুহুরী নদীর চারটি বাক থেকে বাকচতুষ্টয় বা চক্রবাক, কারো মতে আকাশে প্রচুর চকুরী পাখির আনাগোনা থেকে চকরিয়া নামকরণ হয়েছে। ঐতিহাসিক ত্রিপুরা রাজাদের রাজমালা গ্রন্থে চাকরোয়া নামের একটি গ্রামের উল্লেখ আছে। এই চাকরোয়া থেকেই চকরিয়া নামের উৎপত্তির প্রমাণ বেশি মিলে। যেমন, সুলতানদের রাজত্বকালে শাসনকর্তা খোদাবক্স চাকরোয়া গ্রামে (বর্তমান কাকারা) প্রথম পদার্পণ করেন। খ্রিষ্টপূর্ব ২০০০ অব্দে এ নামের উৎপত্তি হয়েছে। ধারণা করা হয় যে, বর্তমান কাকারা ইউনিয়নে এক কালে চাক নামের একটি আদিবাসীর বসবাস ছিল যাদের সামান্য অস্তিত্ব একমাত্র বান্দারবান জেলার নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলায় বিদ্যমান। উপজাতিরা গ্রামকে রোয়া বলে। সেই অনুসারে চাক জনগোষ্টির বসবাসকৃত গ্রামটির নাম চাকরোয়া। কাজেই যেহেতু চাক উপজাতিরা বর্তমান চকরিয়াস্থ কাকারা ইউনিয়নে বসবাস করতো সেহেতু কাকারাকে চাকরোয়া হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এই চাকরোয়া থেকেই চকরিয়া নামকরণ করা হয়। এ বিষয়ে ইতিহাস ভিত্তিক ব্যাপক প্রমাণ পাওয়া যায়।[৪]

প্রশাসনিক এলাকা

১৭৯৩ সালে চকরিয়া থানা প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৮৩ সালে এটি উপজেলায় রূপান্তরিত হয়। এ উপজেলার ১টি পৌরসভা ও ১৮টি ইউনিয়ন পরিষদের অধীনে রয়েছে ৫৪টি মৌজা ও ২২১টি গ্রাম নিয়ে এ উপজেলা গঠিত। সম্পূর্ণ চকরিয়া উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম চকরিয়া থানার আওতাধীন।

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০২২ সালের পরিসংখ্যান অনুযায়ী চকরিয়া উপজেলার জনসংখ্যা ৪,৭৮,৪৬৫ জন, এর মধ্যে পুরুষ ২,৩৯,১৯৮ জন এবং মহিলা ২,৩৫,২৬৭ জন।[২] মোট জনসংখ্যার ৯৪.০০% মুসলিম, ৫.০৩% হিন্দু, ০.৭২% বৌদ্ধ ও ০.২৫ অন্যান্য। এছাড়া এ উপজেলায় মগ, রাখাইন, মারমা, মুরং, চাকমা প্রভৃতি উপজাতি বসবাস করে, এদের সবাই বৌদ্ধ ধর্মানুসারী। টেমপ্লেট:Bar box

শিক্ষা

চকরিয়া উপজেলার সাক্ষরতার হার ৬৭%। এ উপজেলায় ১টি সরকারি কলেজ ও ১টি ডিগ্রী কলেজ, ৫টি ফাজিল মাদ্রাসা, ৬টি উচ্চ মাধ্যমিক কলেজ, ১টি আলিম মাদ্রাসা, ১টি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট, ৩৯টি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, ২৭টি দাখিল মাদ্রাসা, ১০টি নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ২১১টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে।

যোগাযোগ ব্যবস্থা

চকরিয়া উপজেলায় যোগাযোগের প্রধান সড়ক ঢাকা-চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কস। যে কোন ধরনের যানবাহনে যোগাযোগ করা যায়। রেল যোগাযোগের জন্য এ উপজেলায় রয়েছে চকরিয়া রেলওয়ে স্টেশন, ডুলাহাজারা রেলওয়ে স্টেশনহারবাং রেলওয়ে স্টেশন

ধর্মীয় উপাসনালয়

চকরিয়া উপজেলায় ৪৫৫টি মসজিদ, ১৬০টি ঈদগাহ, ৫২টি মন্দির, ১৬টি বিহার ও ৩টি গীর্জা রয়েছে।[২]

স্বাস্থ্য

চকরিয়া উপজেলায় ১টি সরকারি হাসপাতাল, ৭টি বেসরকারি হাসপাতাল (তার মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য "জমজম হাসপাতাল লিমিটেড") , ২টি দাতব্য চিকিৎসালয়, ৪৩টি স্বাস্থ্য উপকেন্দ্র ও ১৫টি পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্র রয়েছে।[২]

অর্থনীতি

চকরিয়া উপজেলার জনগোষ্ঠীর আয়ের প্রধান উৎস কৃষি। এছাড়া ব্যবসা বাণিজ্য, সেবা, পরিবহন, প্রবাসী, চাকুরিজীবী সহ বিভিন্ন পেশার লোক রয়েছে।

প্রধান রপ্তানীজাত পণ্য

চিংড়ি মাছ, লবণ, তামাক, বাদাম, সরিষা, ময়দা, তরমুজ, কাঠ, উপকূলীয় মৎস্য[৬]

নদ-নদী

চকরিয়া উপজেলার প্রধান প্রধান নদীগুলো হল মাতামুহুরী নদী, বুড়া মাতামুহুরী নদী এবং মহেশখালী চ্যানেল[৬]

পত্র-পত্রিকা ও সাময়িকী

  • দৈনিক: চকোরী
  • পাক্ষিক: মেহেদী

দর্শনীয় স্থান

মুক্তিযুদ্ধের ঘটনা

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় চকরিয়া উপজেলার বিভিন্ন স্থানে পাকবাহিনী গুলি করে ১৩ জন গ্রামবাসীকে হত্যা করে এবং শতাধিক ঘরবাড়ি ও দোকান পুড়িয়ে দেয়।[৬]

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন
  • শহীদ আবদুল হামিদ স্মৃতিস্তম্ভ[৬]

প্রাকৃতিক দুর্যোগ

চকরিয়া উপজেলা প্রায় সময় বন্যা, সাইক্লোন প্রভৃতি প্রাকৃতিক দুর্যোগে আক্রান্ত হয়। ১৯৯১ সালের ২৯ এপ্রিলের ধ্বংসাত্মক সাইক্লোনজলোচ্ছ্বাসের কারণে এই  উপজেলার মারাত্মক ক্ষতি সাধিত হয় এবং মোট ১৬,৭০৫ জন মানুষ প্রাণ হারায়।[৬]

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

  • ছিদ্দিক আহমদ - বাংলাদেশি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত ও রাজনীতিবিদ।
  • মোহাম্মদ জিয়াউদ্দিন - বীর উত্তম খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা।
  • মরহুম আলহাজ্ব হাফেজ আহমদ - উপনিবেশিক ব্রিটিশ সরকারের ও পুর্ব পাকিস্তান প্রথম নির্বাচিত বাঙ্গালী জনপ্রতিনিধি
  • শহীদ আমানুল হক চৌধুরী - লক্ষ্যারচরের সফল চেয়ারম্যান, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক ও শিক্ষাবিদ, ন্যায়বিচারক।
  • মোহাম্মদ জহুরুল মওলা - শিক্ষক, সার্ভেয়ার, রাজনীতিবিদ, সমাজসেবক, ন্যায়বিচারক।

জনপ্রতিনিধি

সংসদীয় আসন
সংসদীয় আসন জাতীয় নির্বাচনী এলাকা[৭] সংসদ সদস্য[৮][৯][১০][১১][১২] রাজনৈতিক দল
২৯৪ কক্সবাজার-১ চকরিয়া ও পেকুয়া সৈয়দ মুহাম্মদ ইবরাহিম বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টি
উপজেলা পরিষদ ও প্রশাসন
ক্রম নং পদবী নাম
০১ উপজেলা চেয়ারম্যান ফজলুল করিম সাঈদী
০২ ভাইস চেয়ারম্যান বেলাল উদ্দিন
০৩ মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান জাহানারা পারভীন
০৪ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো: ফখরুল ইসলাম

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

বহিঃসংযোগ