আমজনতার দল
আমজনতার দল[৩] পূর্বে গণঅধিকার পরিষদ (একাংশ), বাংলাদেশের একটি রাজনৈতিক দল।[৪][৫]। দলটির মূলনীতি তিনটি। এগুলো হচ্ছে- সার্বভৌমত্ব, স্বনির্ভরতা ও সুশাসন। দলটির স্লোগান ‘স্বনির্ভর অর্থনীতি ও সুশাসনে সমৃদ্ধি’। কোটাবিরোধী আন্দোলনে দলটির নেতাকর্মীরা কাজ করেছেন। আহ্বায়কের বক্তব্য অনুযায়ী আগ্রাসনবিরোধী লড়াইয়ের সাংগঠনিক রূপান্তরের প্রতীক এবং জনগণের সঙ্গে আরও সরাসরি সংযোগ স্থাপনের একটি নতুন প্রয়াস হিসেবে দলটি পরিবর্তিত নাম নেয়।[৬]
আত্মপ্রকাশ
২৮ জানুয়ারি, ২০২৫ রোজ মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে নতুন রাজনৈতিক দল ‘আমজনতার দল’-এর নাম ঘোষণা করেন দলটির সচিব তারেক রহমান। [৬][৭]
ইতিহাস
২০২৩ সালের জুনে গণঅধিকার পরিষদ দলটির আহ্বায়ক রেজা কিবরিয়া ও সদস্যসচিব নুরুল হক নুর একে অপরকে পাল্টাপাল্টি অব্যাহতি দেন। জাতীয় কাউন্সিলে নুরুল হকের সমর্থকেরা ১০ জুলাই দলের জাতীয় কাউন্সিল করেন। তাতে নুরুল হক নুর সভাপতি ও রাশেদ খাঁন সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন।[৮]
তবে আরেক পক্ষ রেজা কিবরিয়াকে আহ্বায়ক ও ফারুক হাসানকে ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব করে আহ্বায়ক কমিটি দিয়ে কার্যক্রম চালায়। ২০২৩ সালের ২৬ সেপ্টেম্বর রেজা কিবরিয়া তার নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদকে (একাংশ) রাজনৈতিক দল হিসেবে নিবন্ধন দিতে নির্বাচন কমিশনে আবেদন করেন, তবে নির্বাচন কমিশন তা নামঞ্জুর করে।[৯]
২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর রেজা কিবরিয়া গণঅধিকার পরিষদ ছেড়ে যান।[১০] আট মাস পর আবারও গণঅধিকার পরিষদ (রেজা) অংশে ফিরেন দলটির প্রতিষ্ঠাকালীন আহ্বায়ক ড. রেজা কিবরিয়া। তাঁকে গণঅধিকার পরিষদের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা করেছেন দলটির বর্তমান আহ্বায়ক কর্নেল (অব.) মিয়া মশিউজ্জামান।
২০২৪ সালের জুনে দলটির বিভক্ত দুইপক্ষ একত্র হওয়ার প্রচেষ্টা নেয়।[১১] ৩১ আগস্ট দলটির বিভক্ত দুই পক্ষের তৃণমূল পর্যায়ের কর্মীরা বিভক্ত দুই পক্ষকে একত্র হওয়ার আল্টিমেটাম দেয়।[১২]
বিভেদ ভুলে নুরুল হক নুরের নেতৃত্বাধীন গণ-অধিকার পরিষদে ফিরেছেন রেজা অংশের সদস্য সচিব ফারুক হাসান। মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর বিজয়নগরে পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক রাশেদ হাসান এ ঘোষণা দেন। ২১ ডিসেম্বর ২০২৪ সালে নির্বাচন কমিশনের দলটি নিবন্ধন দেন।[১৩]
বিতর্ক
নাম পরিবর্তনের পর আরেকটি রাজনৈতিক দল আ-আমজনতা পার্টির নামের সাথে মিল দেখা দেয়। ‘আ-আম জনতা পার্টি’র আত্মপ্রকাশের পর তারা ইসিতে গিয়ে নাম নিয়ে আপত্তি জানিয়ে আসে। পরবর্তীতে ‘বাংলাদেশ আ-আমজনতা পার্টি’র নাম পরিবর্তন করে ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’ করা হয়।[১৪]
তথ্যসূত্র
- ↑ গণঅধিকার পরিষদের নতুন আহ্বায়ক কর্নেল মশিউজ্জামান
- ↑ রেজা কিবরিয়াকে এবার গণঅধিকারের প্রধান উপদেষ্টা ঘোষণা
- ↑ মশিউজ্জামান-ফারুকের গণঅধিকার পরিষদ এখন ‘আমজনতার দল’ Accessed: ২৮ জানুয়ারি ২০২৫.
- ↑ যেসব প্রস্তাব দিল ড. রেজা কিবরিয়ার গণঅধিকার পরিষদ
- ↑ রেজা কিবরিয়ার গণঅধিকার পরিষদকে নিবন্ধন দিতে রুল
- ↑ ৬.০ ৬.১ নতুন রাজনৈতিক দলের নাম ঘোষণা করলেন তারেক রহমান
- ↑ মশিউজ্জামানের নেতৃত্বাধীন গণঅধিকার পরিষদ এখন ‘আমজনতার দল’
- ↑ সভাপতি নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক রাশেদ খান
- ↑ রেজা কিবরিয়ার গণ অধিকার পরিষদকে নিবন্ধন কেন নয়
- ↑ গণ অধিকার পরিষদ ছাড়লেন রেজা কিবরিয়া
- ↑ গণ অধিকার পরিষদ: বিভক্ত দুই পক্ষের আবার এক মঞ্চে আসার চেষ্টা
- ↑ গণ অধিকার পরিষদের দুই পক্ষকে আলটিমেটাম | কালবেলা
- ↑ ইসির নিবন্ধন সনদ পেলো আমজনতার দল
- ↑ ‘আ-আমজনতা পার্টি’ হয়ে গেল ‘বাংলাদেশ আমজনগণ পার্টি’