নাস্তিক

ধর্ম বা ঈশ্বরের অস্বীকারকারী ব্যক্তি

নাস্তিক (ইংরেজি: Atheist) হলো সেই ব্যক্তি যিনি ধর্ম বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন। নাস্তিকতা একটি দার্শনিক ও সামাজিক অবস্থান, যেখানে ব্যক্তিরা বিশ্বাস করেন যে ঈশ্বরের কোনো অস্তিত্ব নেই অথবা ধর্মীয় বিশ্বাসগুলির ভিত্তিতে কোনো যুক্তি নেই।[১]


নাস্তিক
ক্ষেত্র দর্শন, ধর্ম, সামাজিক বিজ্ঞান
ব্যবহার ধর্মের অস্বীকৃতি ও বিশ্বাস
লক্ষ্য ঈশ্বর বা ধর্মের ধারণার অস্বীকৃতি
বিষয় নাস্তিকতা, দার্শনিক নাস্তিকতা, নাস্তিকতা ও সমাজ

নাস্তিকতার ইতিহাস

নাস্তিকতার ধারণা প্রাচীনকালে থেকেই বিদ্যমান। প্রাচীন গ্রিসের দার্শনিকরা, যেমন ডেমোক্রিটাসএপিকিউরাস, ঈশ্বরের অস্তিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। আধুনিক নাস্তিকতা ১৯শ শতাব্দীতে আরও ব্যাপকভাবে প্রসারিত হয়, বিশেষ করে বিজ্ঞানের অগ্রগতির সঙ্গে।[২]

নাস্তিকতার ধরণ

নাস্তিকতা বিভিন্ন ধরণের হতে পারে:

  • কনভেনশনাল নাস্তিকতা – যেখানে ব্যক্তি ধর্ম বা ঈশ্বরের অস্তিত্ব অস্বীকার করেন।
  • দার্শনিক নাস্তিকতা – যেখানে যুক্তি ও যুক্তিবিজ্ঞানের ভিত্তিতে ধর্মীয় বিশ্বাসের প্রতি skepticism প্রকাশ করা হয়।[৩]
  • নিবন্ধিত নাস্তিকতা – যেখানে ব্যক্তি ধর্মীয় আচার-আচরণকে অস্বীকার করে, তবে কিছু ধর্মীয় মূল্যবোধ মেনে নেয়।

নাস্তিকতার গুরুত্ব

নাস্তিকতা সামাজিক ও দার্শনিক বিতর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এটি ধর্মীয় গোঁড়ামির বিরুদ্ধে একটি প্রতিবাদ হিসেবে কাজ করে এবং মুক্ত চিন্তার উন্নয়নে সহায়ক হয়।[৪] নাস্তিকতা ধর্মনিরপেক্ষ সমাজ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে, যেখানে ধর্মীয় মতামতের চেয়ে যুক্তি ও বৈজ্ঞানিক ভিত্তি প্রাধান্য পায়।

সমাজে নাস্তিকতার প্রভাব

নাস্তিকতা বিভিন্ন সমাজে ভিন্ন ভিন্ন প্রভাব ফেলে। কিছু দেশে নাস্তিকদের বিরুদ্ধে বৈষম্য বা নিপীড়নের ঘটনা ঘটে, তবে অন্যান্য দেশে নাস্তিকতার প্রতি সহানুভূতি ও গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পাচ্ছে।[৫]

তথ্যসূত্র

  1. Russell, B., Why I Am Not a Christian.
  2. Nietzsche, F., Thus Spoke Zarathustra.
  3. Harris, S., The End of Faith.
  4. Camus, A., The Myth of Sisyphus.
  5. Flew, A., There Is a God.