মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ


মৌলভী সৈয়দ কুদরত উল্লাহ ছিলেন মৌলভীবাজার জেলার প্রথম মুসলমান মুন্সেফ তথা বিচারক ও জমিদার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশের মৌলভীবাজার জেলার প্রতিষ্ঠাতা হিসেবে সর্বাধিক পরিচিত।[১]

সৈয়দ কুদরত উল্লাহ
জন্ম তারিখ ১৭৫০
জন্মস্থান গবিন্দশ্রী, চৌয়াল্লিশ পরগনা, শ্রীীহট্ট, সুবাহ বাংলা, মুঘল সাম্রাজ্য
মৃত্যু তারিখ ১২ ফেব্রুয়ারি ১৮৩৯(1839-02-12) (বয়স ৮৮–৮৯)
মৃত্যুর স্থান বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি, ব্রিটিশ ভারত
পেশা বিচারক়, মৌলভি, উদ্দোক্তা

জন্ম ও প্রাথমিক জীবন

কুদরতউল্লাহ ১৭৫০ইং সালে তৎকালীন সুবাহ বাংলা এর অন্তর্গত শ্রীীহট্ট জেলার চৌয়াল্লিশ পরগনার গবিন্দশ্রী নামক গ্রামের এক সম্ভ্রান্ত মুসলমান পরিবারে জন্মগ্রহণ করেছিলেন। সে সময় সুবাহ বাংলা মুঘল সাম্রাজ্যের অধীনে ছিল এবং এর শাসলকর্তা ছিলেন আহমদ শাহ বাহাদুর। তবে সেসময় মুঘল সাম্রাজ্য দুর্বল হয়ে পড়ার কারণে সুবাহ বাংলার উপর প্রাদেশিক নবাব আলীবর্দী খানের নিয়ন্ত্রণ প্রকটতর হয়ে উঠে। কুদরতুল্লাহর পিতা সৈয়দ হুরমতউল্লাহ ছিলেন সৈয়দ শাহ ইয়াসিনের ছেলে। ইয়াসিন ছিলেন হযরত সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) এর ভাতিজা। সৈয়দ শাহ মোস্তফা (র:) হযরত শাহজালাল (র:) এর সফরসঙ্গী হয়ে সিলেট আগমন করেন ও মৌলভীবাজার জেলায় ইসলাম প্রচারে নিয়োজিত থাকেন।[২] শাহ মোস্তফা (র:) বংশের কতা বিবিকে ইয়াসিন বিয়ে করেছিলেন। কুদরতুল্লাহের ছিলেন তিন ভাই; তারা হলেন মুহিবুল্লাহ, দানা-উল্লাহ ও দায়েম-উল্লাহ। এর ফলে কুদরতুল্লাহ ঐতিহ্যবাহী ইসলামী পরিবারে লালিত হচ্ছিলেন।

পেশাগত জীবন

তিনি ১৭৭১ইং সালে তার জমিদারীর মধ্যে মনু নদীর তীরে একটি বাজার স্থাপন করেছিলেন, যেটি পরবর্তীতে মৌলভীর বাজার এবং কালক্রমে মৌলভীবাজার হয়।[৩] তিনি ভোজ্য পণ্য যেমন ফলমূল ও শাকসব্জি আমদানি শুরু করেছিলেন যাতে লোকেদের ক্রয়ের পাশাপাশি বিক্রির সুযোগ খুলে দেয়।.[৪] নদীর তীরে সুবিধাজনক অবস্থানের কারণে বাজারটি জমজমাট হয়ে পড়ে। যদিও অনেকে মনে করে থাকেন যে বাজারটি ১৮১০ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।[৫] ১৭৯৩ইং সালে তিনি ফেঞ্চুগঞ্জের একটি দেওয়ানী আদালতের মুন্সেফ নিযুক্ত হন।[৬] মৌলভী সৈয়দ কুদরতউল্লাহ ১৮ ফেব্রুয়ারি, ১৮৯৯ সালে ৮৯ বছর বয়সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।[৭]

তথ্যসূত্র