শেখ ফাহমিন জাফর ছিলেন গাজীপুরের টঙ্গী সরকারি কলেজের বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় ঢাকার উত্তরার আজমপুরে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে তার মৃত্যু ঘটে। এই ঘটনাটি দেশজুড়ে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করে।[১]

শেখ ফাহমিন জাফর
জন্ম তারিখ টেমপ্লেট:Birth date
জন্মস্থান নওগাঁ, বাংলাদেশ
মৃত্যু তারিখ টেমপ্লেট:Death date and age
মৃত্যুর স্থান আজমপুর,উত্তরা,ঢাকা
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পেশা শিক্ষার্থী
মাতৃশিক্ষায়তন টঙ্গী সরকারি কলেজ

ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা

শেখ ফাহমিন জাফরের জন্ম নওগাঁ জেলার আত্রাই থানার তারাটিয়া গ্রামে। তার বাবা শেখ আবু জাফর সোনালী লাইফ ইন্সুরেন্স কোম্পানিতে চাকরি করেন এবং মা কাজী মাখমিন শিল্পী গৃহিণী। বাবা-মা’র তিন ছেলের মধ্যে ফাহমিন ছিলেন কনিষ্ঠ। তিনি ২০২৩ সালে রাজশাহী কলেজিয়েট স্কুল থেকে জিপিএ-৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন। ছোটবেলা থেকেই প্রকৌশলী হওয়ার স্বপ্ন দেখতেন এবং সে লক্ষ্যে তিনি টঙ্গী সরকারি কলেজে ভর্তি হন। ফাহমিন ঢাকার দক্ষিণখানে গাওয়াইর মাদ্রাসা রোডে মা, বড় ভাই এবং মামা-মামীর সাথে বসবাস করতেন।[২][৩]

২০২৪ এর কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকাও মৃত্যু

শেখ ফাহমিন কোটা সংস্কার আন্দোলনে প্রথম থেকেই সক্রিয় ছিলেন। ১৮ জুলাই ২০২৪ আন্দোলনে যোগদানের আগে তিনি তার মাকে বলেছিলেন, “আমি শহীদ হলে আমার লাশটা যেন গণভবনে নিয়ে যাওয়া হয়। দাবি আদায় হওয়ার পর দেশ শান্ত হলে আমার লাশ রাজপথ থেকে এনে দাফন করো।” পরবর্তীতে উত্তরার আজমপুরের এ বি সুপার মার্কেট এলাকায় ছাত্রদের সাথে আন্দোলনে অংশ নেন। সেখানে সংঘর্ষের সময় রাবার বুলেটের আঘাতে তার মৃত্যু ঘটে। মৃত্যুর সময় তার পরনে ছিল কলেজের পোশাক এবং পরে ঢাকার ক্রিসেন্ট হাসপাতালে তার নিথর দেহ উদ্ধার করে পরিবার।[৪]

মৃত্যু ও প্রতিক্রিয়া

ফাহমিন জাফরের মৃত্যুর পর তার মাকে বলেছিলেন, “আমি মানুষ হতে চাই মা। তুমিও আন্দোলনে ভূমিকা রাখো।” তার মৃত্যুর পরে তার শার্টের পকেটে দুটি রক্তাক্ত কবিতা পাওয়া যায়, যেগুলোর মধ্যে একটি "সিঁড়ি" নামে পরিচিত। তার লেখা কবিতাগুলো সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রতি তীব্র প্রতিক্রিয়া তুলে ধরেছে। তার মৃত্যু সাধারণ জনগণের মাঝে প্রচুর নিন্দা ও ক্ষোভের জন্ম দেয় এবং আন্দোলনে নতুন করে উদ্দীপনা সৃষ্টি করে।[৫]

কিংবদন্তী

শেখ ফাহমিনের স্মরণে তার বন্ধু ও এলাকাবাসীরা নওগাঁর আত্রাই উপজেলায় ‘শহীদ ফাহমিন গোলচত্বর’ নির্মাণ করেছেন। এই গোলচত্বরটি আত্রাই নদীর ওপর নবনির্মিত সেতুর দক্ষিণ বাইপাসে অবস্থিত এবং এখানে স্থানীয়রা রংতুলির সাহায্যে স্মৃতিস্তম্ভ গড়ে তুলেছেন।[৬]

তথ্যসূত্র