প্রাচীন গ্রিস
প্রাচীন গ্রিস হলো গ্রিস ইতিহাসের অন্তর্গত প্রাচীন সভ্যতা যা প্রাচীন যুগ খ্রিস্টপূর্ব ৮ম-৬ষ্ঠ শতাব্দীতে শুরু হয় এবং ধ্রুপদি সভ্যতা (আনুমানিক ৬০০ খ্রিষ্টাব্দ) পর্যন্ত বিরাজ করেছিল। এরপর পরই কালটি হচ্ছে প্রারম্ভিক মধ্যযুগ এবং বাইজেন্টাইন যুগ।[১] প্রাচীন গ্রিসের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত হল ধ্রুপদি গ্রিস যুগ, যা খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ থেকে ৫ম শতাব্দীতে সমৃদ্ধিলাভ করে। ধ্রুপদি গ্রিস শুরু হয় যখন একজন অ্যাথেনীয় নেতৃত্বে পারস্যদের উপদ্রব দমন করা হয়। মহামতি আলেকজান্ডারের বিজয়ের কারণে, হেলেনিস্টিক সভ্যতা মধ্য এশিয়া থেকে ভূমধ্যসাগরের শেষ পশ্চিম পর্যন্ত সমৃদ্ধিলাভ করে।
ধ্রুপদি গ্রিস সংস্কৃতি, বিশেষ করে দর্শন, রোমান সাম্রাজ্য উপর একটি শক্তিশালী প্রভাব বিস্তার করেছিল, যা ভূমধ্য অঞ্চল এবং ইউরোপে বিভিন্ন অংশে এর একটি সংস্করণের প্রভাব দেখা যায়। যার কারণে ধ্রুপদি গ্রিসেকে সাধারণত আধুনিক পাশ্চাত্য সংস্কৃতির ভিত্তি প্রদান যা দিগন্তকারী সংস্কৃতি বলে মনে করা হয়।[২][৩][৪][৫]
কালপঞ্জি
সাধারণত খ্রিস্টপূর্ব ৮ম শতাব্দীতে (হোমারের প্রথমদিকের নথিভুক্তকৃত কবিতা সময়) ভূমধ্য অঞ্চলে ধ্রুপদি যুগের শুরু হয়েছে ধরা হয় এবং এটি ৬ষ্ঠ শতাব্দীতে শেষ হয়।
- প্রাচীন সময়কাল
- জ্যোতির্বিদ্যার বছরের সংখ্যা
<timeline> ImageSize = width:1200 height:100 PlotArea = width:800 height:75 left:60 bottom:20 AlignBars = justify
Colors =
id:time value:rgb(0.7,0.7,1) # id:period value:rgb(1,0.7,0.5) # id:age value:rgb(0.95,0.85,0.5) # id:era value:rgb(1,0.85,0.5) # id:eon value:rgb(1,0.85,0.7) # id:filler value:gray(0.8) # background bar id:black value:black
Period = from:-1200 till:529 TimeAxis = orientation:horizontal ScaleMajor = unit:year increment:100 start:-1200 ScaleMinor = unit:year increment:50 start:-1200
PlotData =
align:center textcolor:black fontsize:10 mark:(line,black) width:10 shift:(0,-5)
bar:Period color:filler from: -1200 till: -800 text: গ্রিক অন্ধকার যুগ bar:Period color:age from: -800 till: -500 text: আর্কইক from: -500 till: -323 text: ধ্রুপদি from: -323 till: -146 text: হেলেনিস্টিক from: -146 till: 330 text: রোমান গ্রিস from: 330 till: 529 text: প্রাচীনকালের শেষ দিক
bar:Phase color:period from: -1200 till: -1100 shift:(0, 5) text: মাইসেনিয়ান from: -1200 till: -700 text: উপনিবেশন from: -800 till: -700 shift:(0, -15) text: Orientalization from: -700 till: -600 text: স্বৈরশাসক from: -600 till: -500 shift:(0, 5) text: পুনর্গঠন from: -500 till: -302 text: হেলেনিক from: -302 till: -279 shift:(0, 5) text: Diadochi from: -302 till: -279 shift:(-10, -15) text: Antipatrid from: -279 till: -168 text: Antigonid from: -168 till: -146 shift:(5, 5) text: আক্রমণ from: -146 till: 330 text: প্রদেশ from: 330 till: 529 text: বাইজেন্টাইন
bar: color:filler from: -1200 till: -200 text:প্রারম্ভিক from: -200 till: 300 text:মধ্য from: 300 till: 529 text:শেষে
</timeline>
- তারিখসমূহ আনুমানিক, বিস্তারিত জানার জন্য বিশেষ নিবন্ধের সাথে পরামর্শ করুন
ধ্রুপদি যুগের গ্রিসের ইতিহাসকে নিম্নলিখিত সময়সীমার উপবিভাজনে ভাগ করা যেতে পারে:[৬]
- আর্কইক যুগ (খ্রিস্টপূর্ব সি. ৮০০ - সি. ৫০০), এই সময় শিল্পীরা স্বপ্নের মত হিরাটিক ভঙ্গির সাথে "আর্কইক হাসির" বৃহত্তর মুক্ত স্থায়ী ভাস্কর্য তৈরি করে। আর্কইক যুগকে প্রায়ই অ্যাথেন্সের সর্বশেষ স্বৈরশাসকের উৎখাত এবং খ্রিস্টপূর্ব ৫০৮ শতাব্দীতে অ্যাথেনীয় গণতন্ত্রের শুরু হিসেবে নেওয়া হয়।
- ধ্রুপদি যুগ (খ্রিস্টপূর্ব সি. ৫০০ - সি. ৩২৩) একটি ধরন দ্বারা চিহ্নিত করা হয়েছে যা পরে পর্যবেক্ষক দ্বারা আদর্শ অর্থাৎ "ধ্রুপদি" হিসাবে পার্থেনন উদাহরণস্বরূপ গণ্য করা হয়েছে। রাজনৈতিকভাবে, ধ্রুপদি যুগ ৫ম শতাব্দীতে অ্যাথেন্স এবং ডিলিয়ান লীগের আধিপত্য ছিল, কিন্তু ম্যাসেডোনিয়ার নেতৃত্বাধীন থিবিস, বিওশিয়া এবং পরিশেষে ক্রনথ লীগে ক্ষমতা স্থানান্তরনের পূর্বে খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ শতাব্দীতে স্পার্টান নেতৃত্বে দ্বারা বাস্তুচ্যুত করা হয়।
- হেলেনিস্টিক যুগে (খ্রিস্টপূর্ব ৩২৩-১৪৬) গ্রিক সংস্কৃতি ও ক্ষমতা কাছাকাছি এবং মধ্যপ্রাচ্যর মধ্যে প্রসারিত হয়েছিল। এই যুগ শুরু আলেকজান্ডারের মৃত্যু দিয়ে এবং শেষ হয় রোমান বিজয় দ্বারা।
- রোমান গ্রিস, (খ্রিস্টপূর্ব ১৪৬- ৩৩০ খ্রিষ্টাব্দ), এই যুগ শুরু হয় খ্রিস্টপূর্ব ১৪৬-অব্দে করিন্থিয়ান্সে সংগঠিত করিন্থের যুদ্ধে রোমানদের বিজয়ের মাধ্যমে এবং শেষ হয় খ্রিষ্টাব্দ ৩৩০ সালে যখন কন্সট্যান্টাইন বাইজেন্টাউমে রোমান সাম্রাজ্যের রাজধানী প্রতিষ্ঠা করেন।
- প্রাচীনকালে চূড়ান্ত পর্যায় হল খ্রিস্টানকরণের যুগ যা শুরু হয় ৪র্থ শতাব্দীর শেষ দিক থেকে ৬ষ্ঠ শতাব্দীর প্রথম দিক পর্যন্ত। জাস্টিনিয়ান I ৫২৯ সালে কখনো কখনো অ্যাথেন্স একাডেমি বন্ধের সম্পূর্ণ করতে নিয়ে যাওয়া হতো।[৭]
ইতিহাস
রোমান গ্রিস
টেমপ্লেট:মূল নিবন্ধ গ্রিক উপদ্বীপ খ্রিস্টপূর্ব ১৪৬-তে করিন্থের যুদ্ধে গ্রিস বিজয়ের পর রোমান শাসনের অধীনে আসে। মেসিডোনিয়া রোমান প্রদেশ হয় যখন দক্ষিণ গ্রিস মেসিডোনিয়ার কর্তার নজরদারিতে পড়ে। যাইহোক, কিছু গ্রিক পোলাইস একটি আংশিক স্বাধীনতা বজায় রাখতে এবং কর বাতিল করতে পরিচালনা করে। এজিয়ান দ্বীপপুঞ্জ খ্রিস্টপূর্ব ১৩৩-তে এই অঞ্চলের সাথে যুক্ত করা হয়। অ্যাথেন্স এবং অন্যান্য গ্রিক শহরসমুহ খ্রিস্টপূর্ব ৮৮-তে বিদ্রোহ শুরু করে এবং রোমান জেনারেল সুল্লা উপদ্বীপের বিদ্রোহ দমন করেছিল। খ্রিস্টপূর্ব ২৭-তে আউগুস্তুস আকিয়ার প্রদেশ হিসেবে উপদ্বীপ সংগঠিত হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত রোমানদের গৃহযুদ্ধ ভূমিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
গ্রিস রোমান সাম্রাজ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ পূর্ব প্রদেশের ছিল, সেখানে রোমান সংস্কৃতি বস্তুত গ্রিকও-রোমান বহুদিন ধরে ছিল। গ্রিক ভাষা পূর্বে এবং ইতালিতে লিঙ্গুয়া ফ্রাঙ্কা হিসেবে কাজ করে, এবং অনেক গ্রিক বুদ্ধিজীবিদরা যেমন গেলন রোমে তাদের বেশিরভাগ কাজ প্রদর্শন করতেন।
ভূগোল
উপনিবেশ
আর্কাইক যুগে গ্রিসের জনসংখ্যা এর কৃষির যোগ্য ভূমির থেকেও বেড়ে গিয়েছিল।[৮] প্রায় ৭৫০ খ্রীষ্টপূর্ব থেকে গ্রিক ২৫০ বছর ধরে প্রসারণ হয়, যার ফলে উপনিবেশ স্থাপিত হয় সবদিকেই। পূর্বে এশিয়া মাইনর এর এজিয়ন উপকূল প্রথমে উপনিবেশ হয়েছিল, এবং সাইপ্রাস ও থ্রেস উপকূলে, মারমারার সাগর এবং কৃষ্ণ সাগর দক্ষিণ উপকূলে হয় এর পরপরই।
অবশেষে গ্রিক উপনিবেশ দূর উত্তরপূর্বে বর্তমানে যেটা ইউক্রেন এবং রাশিয়ার টেগানরগ পর্যন্ত পৌছে। পশ্চিমে ইলিরিয়া উপকূল, সিসিলি এবং দক্ষিণ ইতালি এবং তার ধারাবাহিকতায় দক্ষিণ ফ্রান্স, কর্সিকা এবং আরো উত্তরপূর্বের স্পেনে পৌছে। গ্রিক উপনিবেশ মিশর এবং লিবিয়ায় ও পাওয়া যায়।
এখনকার স্যরাকুস, নেপলস, মার্সেই, ইস্তানবুল এবং বাইজেনশনের শুরু হয়েছিল গ্রিক উপনিবেশে। এইসব কলোনির গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল গ্রিককে ইউরোপে ছড়িয়ে পড়ানোতে এবং সাহায্য করেছিল গ্রিক শহরগুলোতে দূরবর্তী বাণিজ্য করতে। এতে পুরাতন গ্রিসের অর্থনীতির ব্যাপক উন্নতি সাধন হয়েছিল।
সমাজ এবং রাজনীতি
অর্থনীতি
খ্রিস্টপূর্ব ৪র্থ থেকে ৫ম শতাব্দী পর্যন্ত গ্রিসের যে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি ছিল তা তখনকার সময়ের খুবই উন্নত ছিল। কিছু কিছু ইতিহাসবিদের মতে, এটি ছিল ইন্ডাসট্রিয়াল পূর্ব উন্নত অর্থনীতিগুলোর একটি। এটির ধারণা করা হয় একজন গ্রিক কর্মীর গড় মজুরি দ্বারা যেটি গমের মাপে ছিল ১২ কেজি। রোমান যুগে এটি ছিল ইজিপ্সিয়ানদের তুলনায় ৩ গুন বেশি (তারা পেত ৩.৭৫ কেজি)।[৯]
সংস্কৃতি
দর্শন
প্রাচীন গ্রিকের দর্শন গুরুত্ব দিত কারণ এবং অনুসন্ধান করার ভূমিকার উপর। অনেকভাবেই এটার বেশ গুরুত্ব আছে বর্তমান দর্শনে, এমনকি আধুনিক বিজ্ঞানেও। প্রাচীন গ্রিক এবং হেলেনিষ্টিক দর্শনবিদ থেকে মধ্যযুগের মুসলিম দর্শনবিদ এবং মুসলিম বিজ্ঞানিরা থেকে ইউরোপের রেনেসা এবং এনলাইটেনমেন্ট থেকে আজকের ঐহিক বিজ্ঞান পর্যন্ত এর পরিষ্কার প্রভাব দেখা যায়।
শিল্প এবং স্থাপত্য
অনেক দেশের শিল্প সংস্কৃতির উপর প্রাচীন গ্রিসের শিল্পের প্রভাব দেখা যায় সেই প্রাচীন সময় থেকে আজ পর্যন্ত, বিশেষত ভাস্কর্য এবং স্থাপত্য শিল্পে। পশ্চিমের রোমান সাম্রাজ্যের শিল্পের বেশির ভাগই গ্রিসের নমুনায় বা নমুনা থেকে নেয়া। পূর্বের মধ্য এশিয়া, গ্রিক এবং ভারতীয় সংস্কৃতি তৈরী করেছিল গ্রিকো-বুদ্ধিস্ট শিল্প যা জাপান পর্যন্ত যায়। এগুলোর সূচনা হয়েছিল মহান আলেক্সান্ডারের বিজয়ের অভিযানের মধ্য দিয়ে। ইউরোপে রেঁনেসার যুগে ইউরোপিয় শিল্পীরা অনুপ্রাণিত হয়েছিল গ্রিকদের শিল্প দ্বারা। ঊনবিংশ শতাব্দির মধ্যে সনাতনি ঐতিহ্য যেগুলো পশ্চিমা বিশ্বে তৈরি হয় সেগুলো গ্রিসদের থেকে প্রাপ্ত।
প্রাচীন গ্রীক শিল্প মানবদেহের প্রাকৃতিক কিন্তু আদর্শিক চিত্রের বিকাশের জন্য অন্যান্য সংস্কৃতির থেকে আলাদা, যেখানে মূলত নগ্ন পুরুষের চিত্রই ছিল উদ্ভাবনের কেন্দ্রবিন্দু । প্রায় ৭৫০ এবং ৩০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দের মধ্যে শৈলীগত বিকাশের হার প্রাচীন মান অনুসারে উল্লেখযোগ্য ছিল এবং টিকে থাকা কাজগুলিতে ভাস্কর্যের মধ্যে সবচেয়ে ভাল দেখা যায়। পেইন্টিংয়ে গুরুত্বপূর্ণ উদ্ভাবন ছিল, যেগুলোকে মূলত পুনর্গঠন করতে হয়। আঁকা মৃৎশিল্পে স্বতন্ত্র ক্ষেত্র টি অক্ষত পাওয়া যায়।
ধর্ম এবং পুরান
গ্রিক পুরাণ তাদের ঈশ্বর ও হিরোদের গল্প, পৃথিবীর প্রকৃতি এবং উৎপত্তি এবং ধর্ম পালনের গুরুত্ব ইত্যাদি নিয়ে গঠিত। প্রধান গ্রিক ঈশ্বর ছিল বারটি জিউস, হেরা, পোসাইডন, এরিস, হারমিস, হেফেসটাস, আফরোদিতি, এথেনা, এ্যাপোলো, আর্টেমিস, দেমেতের এবং হেডস। অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দেব-দেবী হল হেব, হিলিওস, ডিওনিসাস, পারসেফন এবং হারকিউলিস (একজন ডেমি-গড যিনি একই সঙ্গে মানুষ এবং দেবতা) জিউসের পিতা ছিল ক্রোনস এবং মাতা ছিলেন রেয়া (পৌরাণিক চরিত্র)। যারা হেডস, পোসাইডন, হেরা, ডিমিটার এবং হেস্টিয়ার ও পিতা-মাতা ছিলেন।
আরও পড়ুন
- Goodrich, S. G. (1849). A pictorial history of Greece: Ancient and modern. New York: Huntington & Savage
তথ্যসূত্র
- নোট
- ↑ '.
- ↑ Bruce Thornton, Greek Ways: How the Greeks Created Western Civilization, Encounter Books, 2002
- ↑ Richard Tarnas, The Passion of the Western Mind (New York: Ballantine Books, 1991).
- ↑ Colin Hynson, Ancient Greece (Milwaukee: World Almanac Library, 2006), 4.
- ↑ Carol G. Thomas, Paths from Ancient Greece (Leiden, Netherlands: E. J. Brill, 1988).
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Population of the Greek city-states
- ↑ W. Schieder, "Real slave prices and the relative cost of slave labor in the Greco-Roman world", Ancient Society, vol. 35, 2005.
- গ্রন্থপঞ্জি
'.
'.
- Thomas Wardle (1835). The history of ancient Greece, its colonies and conquests from the earliest accounts till division of the Macedonian Empire in the East.
বহিঃসংযোগ
- The Canadian Museum of Civilization—Greece Secrets of the Past
- Ancient Greece website from the British Museum
- Economic history of ancient Greece ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২ মে ২০০৬ তারিখে
- The Greek currency history
- Limenoscope, an ancient Greek ports database
- The Ancient Theatre Archive, Greek and Roman theatre architecture
- Illustrated Greek History, Dr. Janice Siegel, Department of Classics, Hampden-Sydney College, Virginia