মাইক্রোসফট উইন্ডোজ

মাইক্রোসফট উইন্ডোজ একটি কম্পিউটারের অপারেটিং সিস্টেমের ট্রেডমার্ক, যা মাইক্রোসফট কোম্পানি তৈরি করেছে। এই সিস্টেমটি কম্পিউটারে কাজ করার জন্য একটি ভিত্তি প্রদান করে।

উইন্ডোজ লোগো

বর্তমানে এই অপারেটিং সিস্টেমের সর্বশেষ সংস্করণগুলোর মধ্যে রয়েছে মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১০ এবং উইন্ডোজ সার্ভার ২০১৬।

উইন্ডোজ সংস্করণের ইতিহাস

 
মাইক্রোসফট উইন্ডোজ ১১ একটি সারফেস প্রো ট্যাবলেট-এ চালু অবস্থায়

বর্তমান উইন্ডোজ সংস্করণগুলোর ভিত্তি দুটি ভিন্নধর্মী সফটওয়্যারের উপর গঠিত, যেগুলো সাধারণভাবে "উইন্ডোজ" নামে পরিচিত। প্রথমটি ছিল "ডস-ভিত্তিক", যেটি গ্রাফিকাল ইন্টারফেসের (উইন্ডো, টাস্কবার, স্টার্ট বাটন ইত্যাদি) বেশিরভাগ দিক নিয়ে আসে। দ্বিতীয়টি ছিল "এনটি-ভিত্তিক", যা স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তার দিক থেকে উন্নত ছিল। একটি তৃতীয় ধরণের উইন্ডোজ সফটওয়্যার তৈরি করা হয়েছিল মোবাইল ও এমবেডেড ডিভাইসের জন্য, তবে পরবর্তীতে উইন্ডোজ ফোনের সর্বশেষ সংস্করণগুলোও এনটি-ভিত্তিক হয়ে যায়।

ডস-ভিত্তিক উইন্ডোজ

আগে অধিকাংশ IBM-সামঞ্জস্যপূর্ণ পার্সোনাল কম্পিউটারে ডস (ডিস্ক অপারেটিং সিস্টেম) ব্যবহার করা হতো। IBM এটি PC-DOS নামে সরবরাহ করত। মাইক্রোসফট এই ডসের ওপর একটি গ্রাফিকাল ইউজার ইন্টারফেস তৈরি করে, যার নাম দেয় উইন্ডোজ। উইন্ডোজ ১.০ প্রথম প্রকাশিত হয় ১৯৮৫ সালে। উইন্ডোজ ৩.০ (১৯৯০) ছিল প্রথম জনপ্রিয় সংস্করণ, যার ৭ মিলিয়ন কপি বিক্রি হয় প্রথম বছরেই। উইন্ডোজ ৩.১ (১৯৯২) এবং উইন্ডোজ ফর ওয়ার্কগ্রুপ ৩.১১ (১৯৯৩) পর্যন্ত ব্যবহারকারীদের আলাদাভাবে ডস ও উইন্ডোজ ইনস্টল করতে হতো।

উইন্ডোজ ৯৫-এর মাধ্যমে এই দুটি অংশ একত্রিত হয়ে একটি পণ্য হিসেবে প্রকাশ পায়। পরবর্তী সংস্করণগুলোর মধ্যে রয়েছে উইন্ডোজ ৯৮ (১৯৯৮) এবং উইন্ডোজ এমই (মিলেনিয়াম এডিশন, ২০০০)।

উইন্ডোজ এনটি

হার্ডওয়্যার উন্নয়নের সাথে সাথে, IBM ও মাইক্রোসফট ১৯৮৫ সালে একসাথে নতুন একটি অপারেটিং সিস্টেম তৈরির কাজ শুরু করে যার নাম ছিল OS/2। এটি ডসের পরিবর্তে একটি আধুনিক বিকল্প হতো। কিছু সংস্করণ প্রকাশিত হলেও, উইন্ডোজ ৩.০-র জনপ্রিয়তার কারণে মাইক্রোসফট এই সিস্টেমকে উইন্ডোজ-সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে চায়, কিন্তু IBM তা মেনে না নেওয়ায় তারা আলাদা হয়ে যায়।

মাইক্রোসফট তখন উইন্ডোজ এনটি নামে একটি নতুন অপারেটিং সিস্টেম তৈরি করে, যার প্রথম সংস্করণ ১৯৯৩ সালে "৩.১" নাম্বার নিয়ে প্রকাশিত হয়। এটি মূলত পেশাদার ব্যবহারকারীদের জন্য তৈরি হয়, যাতে ওয়ার্কস্টেশনসার্ভারের আলাদা সংস্করণ থাকে। এনটি ৩.৫১ (১৯৯৫) এবং এনটি ৪.০ (১৯৯৬) জনপ্রিয় হয়। এরপর আসে উইন্ডোজ ২০০০ (এনটি ৫.০)।

মোবাইল ডিভাইসে উইন্ডোজ

উইন্ডোজ সিই (CE) ছিল মাইক্রোসফটের তৈরি এক ভিন্নধর্মী অপারেটিং সিস্টেম, যা খুব অল্প স্টোরেজে চলে এবং ডস বা এনটি-ভিত্তিক নয়। এটি বিভিন্ন ইলেকট্রনিক ডিভাইসে ব্যবহার করা হতো। মাইক্রোসফট এটি ব্যবহার করে মোবাইল ডিভাইসের জন্য তৈরি করে পকেট পিসি (২০০০), উইন্ডোজ মোবাইল (২০০৩–২০০৯) এবং উইন্ডোজ ফোন ৭ (২০১০)।

একত্রীকরণ

উইন্ডোজ এক্সপি (সংস্করণ ৫.১) প্রকাশিত হয় ২০০১ সালে। এটি ছিল প্রথম এনটি-ভিত্তিক উইন্ডোজ, যা সাধারণ ব্যবহারকারী এবং পেশাদারদের উভয়ের জন্য তৈরি। এর ফলে নিরাপত্তা, স্থায়িত্ব এবং গতি অনেক বেড়ে যায়। এর ৬৪-বিট সংস্করণ (v.5.2) আসে ২০০৩ সালে।

পরবর্তী সংস্করণগুলো হলো: উইন্ডোজ ভিস্তা (২০০৬–২০০৭, v.6.0), উইন্ডোজ ৭ (২০০৯, v.6.1), উইন্ডোজ ৮ (২০১২, v.6.2), উইন্ডোজ ৮.১, উইন্ডোজ ১০ (২০১৫, v.10.0/6.4) এবং উইন্ডোজ ১১ (২১এইচ২, ২২এইচ২, ২৩এইচ২, ২৪এইচ২)।

এই এনটি-ভিত্তিক সংস্করণগুলোর সার্ভার সংস্করণও থাকে, তবে সেগুলোর নাম ভিন্ন হয়। যেমন: উইন্ডোজ সার্ভার ২০০৩ (v.5.2), সার্ভার ২০০৮ (v.6.0), সার্ভার ২০০৮ R2 (v.6.1), সার্ভার ২০১২ (v.6.2), সার্ভার ২০১২ R2 (v.6.3), এবং সার্ভার ২০১৬।

উল্লেখযোগ্যভাবে, উইন্ডোজ ফোন ৮ (অক্টোবর ২০১২) ছিল প্রথম মোবাইল উইন্ডোজ সংস্করণ যা এনটি-ভিত্তিক ছিল।