মো. ওয়াসিম আকরাম

ভিকিটিয়া থেকে
মো. ওয়াসিম আকরাম
জন্ম তারিখ ৬ ডিসেম্বর ২০০১
জন্মস্থান পেকুয়া ইউনিয়ন, কক্সবাজার জেলা, বাংলাদেশ
মৃত্যু তারিখ ১৬ জুলাই ২০২৪
মৃত্যুর স্থান মুরাদপুর, চট্টগ্রাম, বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পেশা শিক্ষার্থী
মাতৃশিক্ষায়তন চট্টগ্রাম কলেজ

মো. ওয়াসিম আকরাম ছিলেন একজন বাংলাদেশি ছাত্র অধিকার কর্মী, এবং ছাত্রদল নেতা। তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র ছিলেন এবং কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার সক্রিয় অংশগ্রহণের জন্য পরিচিতি লাভ করেন। ১৬ জুলাই ২০২৪ চট্টগ্রামের মুরাদপুর এলাকায় কোটা সংস্কারের দাবীতে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতার সঙ্গে পুলিশছাত্রলীগের সংঘর্ষে মৃত্যুবরণ করেন।[১]

ব্যক্তিগত জীবন

মো. ওয়াসিম আকরাম ২০০১ সালের ৬ ডিসেম্বর কক্সবাজার জেলার পেকুয়া সদর ইউনিয়নে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পাঁচ ভাইবোনের মধ্যে দ্বিতীয়। তার বাবা শফিউল আলম কাতারে কর্মরত এবং মা জ্যোৎস্না আক্তার একজন গৃহিণী।[২]

শিক্ষা ও রাজনৈতিক জীবন

আকরাম ২০১৭ সালে মেহেরনামা উচ্চ বিদ্যালয় থেকে এসএসসি এবং ২০১৯ সালে বাকলিয়া সরকারি কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে তিনি চট্টগ্রাম কলেজের সমাজবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন এবং সেখানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।[৩]

কোটা সংস্কার আন্দোলনে ভূমিকা ও মৃত্যু

ওয়াসিম আকরাম ২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে শুরু থেকেই সক্রিয় ভূমিকা পালন করেন। আন্দোলনের বিভিন্ন কর্মসূচিতে তার উপস্থিতি নিয়মিত ছিল। ১৬ জুলাই দুপুর থেকে চট্টগ্রামের মুরাদপুর, ২ নম্বর গেট ও ষোলশহর এলাকায় পুলিশ ও ছাত্রলীগ-যুবলীগ কর্মীদের সাথে আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় পুলিশের গুলিতে ওয়াসিম আকরাম নিহত হন।[৪][৫]

প্রতিক্রিয়া ও কিংবদন্তি

ওয়াসিম আকরামের মৃত্যুর মাত্র ১৬ ঘণ্টা আগে ফেসবুকে আন্দোলনের প্রতি নিজের অঙ্গীকারের কথা জানিয়ে একটি পোস্ট করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর পোস্টটি ভাইরাল হয়। তার মৃত্যু বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থানে ব্যাপক আলোচনা ও প্রতিবাদের সঞ্চার করে এবং তাকে চট্টগ্রামে কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্রথম শহীদ হিসেবে সম্মানিত করা হয়।[৬][৭]

চট্টগ্রামে ওয়াসিম আকরামের স্মরণে একটি বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের নামকরণ করা হয়েছে। আনুষ্ঠানিকভাবে বিদ্যালয়টির নাম রাখা হয় ‘শহীদ ওয়াসিম আকরাম প্রাথমিক বিদ্যালয়’।[৮]

তথ্যসূত্র