অ্যান্টার্কটিকা
টেমপ্লেট:সম্পর্কে টেমপ্লেট:Infobox continent

অ্যান্টার্কটিকা (; ইংরেজি: Antarctica টেমপ্লেট:IPAc-enটেমপ্লেট:Efn পৃথিবীর দক্ষিণতম ও সবচেয়ে কম জনবহুল মহাদেশ। এটি কুমেরু বৃত্তের প্রায় সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণে অবস্থিত এবং চারিদিকে দক্ষিণ মহাসাগর দ্বারা বেষ্টিত, যা কুমেরু মহাসাগর নামেও পরিচিত। এই মহাদেশটির উপর ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরু অবস্থিত। অ্যান্টার্কটিকা বিশ্বের পঞ্চম বৃহত্তম মহাদেশ এবং ইউরোপ মহাদেশের তুলনায় ৪০% বড়। এর আয়তন । অ্যান্টার্কটিকার বেশিরভাগ ভূখণ্ড বরফাবৃত, যার গড় বেধ ।
সাধারণভাবে অ্যান্টার্কটিকা অন্যান্য মহাদেশের তুলনায় শীতল, শুষ্ক ও বায়ুপ্রবাহপূর্ণ এবং এর গড় উচ্চতা সর্বোচ্চ। এটি মূলত একটি মেরু মরুভূমি, যেখানে উপকূলীয় এলাকার বার্ষিক বৃষ্টিপাত -এর অধিক এবং অভ্যন্তরে বৃষ্টিপাত অনেক কম। বিশ্বের প্রায় ৭০% স্বাদু পানির ভাণ্ডার এখানে হিমায়িত অবস্থায় পাওয়া যায়, এবং একে গলালে বিশ্বের সমুদ্র সমতল প্রায়
বেড়ে যাবে। অ্যান্টার্কটিকায় পৃথিবীর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা টেমপ্লেট:Cvt রেকর্ড করা হয়েছে। গ্রীষ্মকালে উপকূলীয় এলাকার তাপমাত্রা টেমপ্লেট:Cvt পর্যন্ত বাড়তে পারে। স্থানীয় প্রাণী প্রজাতির মধ্যে মাইট, সুতাকৃমি, পেঙ্গুইন, সামুদ্রিক সীল ও টারডিগ্রেড অন্তর্গত। যেখানে গাছপালা পাওয়া যায়, সেখানে উদ্ভিদ প্রজাতির মধ্যে মূলত মস ও লাইকেন পাওয়া যায়।
সম্ভবত ১৮২০ সালে ফাবিয়ান গটলিব ফন বেলিংসহাউসেন ও মিখাইল লাজারেফের নেতৃত্বে একটি রুশ অভিযানের সময়ে অ্যান্টার্কটিকার বরফের স্তূপ প্রথম আবিষ্কৃত হয়েছিল। পরবর্তী দশকে ফরাসি, মার্কিন ও ব্রিটিশ অভিযানে মাধ্যমে অ্যান্টার্কটিকার আরও অনুসন্ধান সম্পন্ন হয়েছিল। ১৮৯৫ সালে এক নরওয়েজীয় দল প্রথম নিশ্চিতভাবে অবতরণ করেছিল। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে মহাদেশের অভ্যন্তরে কিছু অভিযান সম্পন্ন হয়েছিল। ১৯০৯ সালে ব্রিটিশ অভিযাত্রীরা প্রথম চৌম্বক দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছেছিল, এবং ১৯১১ সালে নরওয়েজীয় অভিযাত্রীরা প্রথম ভৌগোলিক দক্ষিণ মেরুতে পৌঁছেছিল।
অ্যান্টার্কটিকা প্রায় ৩০টি দেশ দ্বারা শাসিত, যার সবকটিই ১৯৫৯-এর অ্যান্টার্কটিক চুক্তি ব্যবস্থার অংশীদারি। চুক্তির শর্তাবলী অনুযায়ী, সামরিক কার্যকলাপ, খনি, পারমাণবিক বিস্ফোরণ ও পারমাণবিক বর্জ্য নিষ্পত্তি সবই অ্যান্টার্কটিকায় নিষিদ্ধ। পর্যটন, মাছধরা ও গবেষণা অ্যান্টার্কটিকার প্রধান মানব কার্যকলাপ। গ্রীষ্মের মরশুমে প্রায় ৫,০০০ জন লোক গবেষণা কেন্দ্রে বসবাস করে, যা শীতকালে প্রায় ১,০০০-এ নেমে আসে। মহাদেশটির দূর অবস্থানের সত্ত্বেও দূষণ, ওজোনস্তর ক্ষয় ও জলবায়ু পরিবর্তনের মাধ্যমে মানব কার্যকলাপ অ্যান্টার্কটিকায় গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব বিস্তার করেছে।
ব্যুৎপত্তি

অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশের নামটি মধ্য ফরাসি আন্তার্তিক্ (antartique বা antarctique) হতে উদ্ভূত, যা আবার লাতিন আন্তার্ক্তিকুস্ (antarcticus, "উত্তরের বিপরীত") থেকে প্রাপ্ত। আন্তার্ক্তিকুস্ শব্দটি গ্রিক আন্তি- (ἀντι-, "বিপরীত") ও আর্ক্তিকোস্ (ἀρκτικός, "সপ্তর্ষি, উত্তর") হতে উদ্ভূত।[১] গ্রিক দার্শনিক এরিস্টটল তাঁর টেমপ্লেট:আনু মেতেওরোলজিকা গ্রন্থে আন্তার্ক্তিকোস্ অঞ্চল সম্পর্কে আলোচনা করেছেন।টেমপ্লেট:Sfn গ্রিক ভূগোলবিদ মারিনোস তাঁর খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতাব্দীর বিশ্ব মানচিত্রে এই নাম ব্যবহার করেছিলেন বলে জানা যায়, কিন্তু সেই মানচিত্র কালের সঙ্গে হারিয়ে গেছে। রোমান লেখক হাইজিনাস ও এপুলিয়াস গ্রিক নামটির রোমানীকৃত রূপ পোলুস্ আন্তার্ক্তিকুস্ (polus antarcticus) ব্যবহার করেছিলেন,টেমপ্লেট:Sfn যেখান থেকে প্রাচীন ফরাসি পোল্ আন্তার্তিক্ (pole antartike; আধুনিক বানান pôle antarctique) আগত। প্রাচীন ফরাসি শব্দটি ১২৭০ সালে প্রথম পাওয়া যায় এবং সেখান থেকে মধ্য ইংরেজি পোল্ আন্টার্টিক্ (pol antartik) আগত, যা ইংরেজ লেখক জেফ্রি চসারের লেখা এক গ্রন্থে পাওয়া যায়।[১]
ধ্রুপদী সভ্যতার সময় থেকে ইউরোপীয় বুদ্ধিজীবীদের মধ্যে তেরা আউস্ত্রালিস্ (terra australis, টেমপ্লেট:Lit) নামক এক কাল্পনিক মহাদেশের ধারণা ছিল। তাদের ধারণা অনুযায়ী, তেরা আউস্ত্রালিস্ পৃথিবীর সুদূর দক্ষিণে এক বিশাল মহাদেশ যা ইউরোপ, এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার ভূখণ্ডের ভারসাম্য বজায় রাখে। এধরনের মহাদেশের বিশ্বাস ইউরোপীয়দের দ্বারা অস্ট্রেলিয়ার আবিষ্কার অবধি স্থায়ী ছিল।টেমপ্লেট:Sfn
১৯ শতকের গোড়ার দিকে অন্বেষণকারী ম্যাথিউ ফ্লিন্ডার্স অস্ট্রেলিয়ার দক্ষিণে একটি বিচ্ছিন্ন মহাদেশের অস্তিত্ব নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছিলেন, যাকে তখন নিউ হল্যান্ড বলা হয়েছিল, এবং এইভাবে অস্ট্রেলিয়ার পরিবর্তে "টেরা অস্ট্রালিস" নামটি ব্যবহার করার পক্ষে সমর্থন করেছিলেন। টেমপ্লেট:Sfn টেমপ্লেট:Sfn ১৮২৪ সালে সিডনির ঔপনিবেশিক কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে নিউ হল্যান্ড মহাদেশের নাম পরিবর্তন করে অস্ট্রেলিয়া রাখে, অ্যান্টার্কটিকার উল্লেখ হিসাবে "টেরা অস্ট্রালিস" শব্দটি অনুপলব্ধ রেখেছিল। পরবর্তী দশকগুলিতে, ভূগোলবিদদেরকে "অ্যান্টার্কটিক মহাদেশ" এর মতো আনাড়ি বাক্যাংশ দিয়ে কাজ করতে হয়েছিল। তারা আলটিমা এবং অ্যান্টিপোডিয়ার মতো বিভিন্ন নাম প্রস্তাব করে আরও কাব্যিক প্রতিস্থাপনের জন্য অনুসন্ধান করেছিল। টেমপ্লেট:Sfn ১৮৯০-এর দশকে প্রথম আনুষ্ঠানিকভাবে একটি মহাদেশের নাম হিসাবে "অ্যান্টার্কটিকা" শব্দটি ব্যবহৃত হয়। স্কটিশ মানচিত্রাঙ্কনবিদ জন জর্জ বার্থেলোমিউকে এই নামকরণের হোতা বলে মনে করা হয়।[২]
ভূগোল

ইতিহাস
অ্যান্টার্কটিক চুক্তি ব্যবস্থা
টীকা
তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ টেমপ্লেট:Cite OED
- ↑ John George Bartholomew and the naming of Antarctica, CAIRT Issue 13, National Library of Scotland, July 2008, ISSN 1477-4186, and also The Bartholomew Archive
বহিঃসংযোগ
- অ্যান্টার্কটিকা অঞ্চল
- অ্যান্টার্কটিকা ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২৫ ডিসেম্বর ২০১৮ তারিখে
- http://www.ats.aq/
- ব্রিটিশ অ্যান্টার্কটিকা সার্ভে
- যুক্তরাষ্ট্র অ্যান্টার্কটিকা প্রোগ্রাম
- অস্ট্রেলিয়া অ্যান্টার্কটিকা সার্ভে
- দক্ষিণ আফ্রিকার জাতীয় অ্যান্টার্কটিকা প্রোগ্রাম
টেমপ্লেট:Antarctica টেমপ্লেট:বিশ্বের মহাদেশসমূহ টেমপ্লেট:মরুভূমি