বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান

ভিকিটিয়া থেকে
উলুরু (অস্ট্রেলিয়া)

বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হলো পৃথিবীর এমন কিছু স্থান, যেগুলো সাংস্কৃতিক অথবা প্রাকৃতিক দৃষ্টিকোণ থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই স্থানগুলো নির্বাচন করে জাতিসংঘের একটি শাখা ইউনেসকো

"বিশ্ব সাংস্কৃতিক ও প্রাকৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণ সংক্রান্ত কনভেনশন" (Convention Concerning the Protection of World Cultural and Natural Heritage)[১] জাতিসংঘের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি। এই চুক্তি অনুযায়ী, ঐতিহ্যবাহী স্থানসমূহ নির্বাচন ও সংরক্ষণের নীতিমালা নির্ধারিত হয়। এই চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশসমূহের মধ্যে থেকে ২১টি দেশকে ইউনেসকোর বিশ্ব ঐতিহ্য কমিটির সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।[২] এই কমিটি স্থানসমূহের তালিকা নির্ধারণ করে।[৩]

এই স্থানসমূহ হতে পারে কোনো জঙ্গল, পর্বত, হ্রদ, মরুভূমি, স্মৃতিস্তম্ভ, ভবন, স্থাপত্য-সমষ্টি অথবা শহর। ২০১২ সালের হিসাব অনুযায়ী, ১৫৭টি দেশের মোট ৯৮১টি স্থান তালিকাভুক্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৭৫৯টি সাংস্কৃতিক স্থান, ১৯৩টি প্রাকৃতিক স্থান এবং ২৯টি মিশ্র ধরণের স্থান রয়েছে।[৪][৫] ইতালির তালিকাভুক্ত স্থানসংখ্যা ৪৭টি, যা বিশ্বের মধ্যে সর্বাধিক।

প্রত্যেকটি বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান সেই দেশের আইনগত সীমার মধ্যেই অবস্থিত, যেখানে এটি অবস্থিত। ইউনেসকো চায়, বিশ্বের প্রতিটি মানুষ এই স্থানগুলোর সংরক্ষণে ভূমিকা রাখুক। অনেক সময় ইউনেসকো সেই স্থানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণে আর্থিক সহায়তাও প্রদান করে।

তথ্যসূত্র

  1. Convention Concerning the Protection of World Cultural and Natural Heritage
  2. The World Heritage Committee UNESCO World Heritage Site. ২০১১ সালের কমিটির সদস্য দেশগুলো হলো: অস্ট্রেলিয়া, বাহরাইন, বারবাডোস, ব্রাজিল, কম্বোডিয়া, চীন, মিশর, এস্তোনিয়া, ইথিওপিয়া, ফ্রান্স, ইরাক, জর্ডান, মালি, মেক্সিকো, নাইজেরিয়া, রাশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত।
  3. ইউনেসকোর ওয়েবসাইট অনুযায়ী, সদস্য রাষ্ট্রসমূহ হলো সেই দেশগুলো যারা বিশ্ব ঐতিহ্য চুক্তিতে স্বাক্ষর ও অনুমোদন করেছে। নভেম্বর ২০০৭ পর্যন্ত মোট ১৮৬টি সদস্য রাষ্ট্র ছিল।
  4. World Heritage List, UNESCO World Heritage Sites official sites.
  5. Twenty-seven new sites inscribed, UNESCO World Heritage Sites official sites.