বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা হলো জাতিসংঘের একটি বিশেষ সংস্থা, যা আন্তর্জাতিক জনস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করে থাকে।[১] এটি জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন দলের একটি অংশ। সংস্থাটি একটি সংবিধানের ভিত্তিতে পরিচালিত হয়, যেখানে এর কাঠামো ও নীতিমালা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর প্রধান লক্ষ্য হলো “সব মানুষের জন্য সর্বোচ্চ মানের স্বাস্থ্য নিশ্চিত করা।”[২]
এই সংস্থার সদর দপ্তর সুইজারল্যান্ডের জেনেভাতে অবস্থিত। এর বিশ্বব্যাপী ছয়টি আধা-স্বায়ত্তশাসিত আঞ্চলিক দপ্তর এবং ১৬০টি দেশীয় দপ্তর রয়েছে।
ইতিহাস
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ১৯৪৮ সালের ৭ এপ্রিল প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং এই দিনটি প্রতি বছর বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়।[৩] সংস্থাটির প্রথম প্রশাসনিক সভা অনুষ্ঠিত হয় ১৯৪৮ সালের ২৪ জুলাই।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মূলত সম্মিলিত জাতিপুঞ্জ এবং পূর্ববর্তী জনস্বাস্থ্য সংস্থা থেকে দায়িত্ব ও সম্পদ নিয়ে কাজ শুরু করে। ১৯৫১ সালে এটি জাতিসংঘের আর্থিক সহায়তায় আরও সুসংগঠিত হয়।[৪]
এর কাজের মধ্যে রয়েছে
- সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা নিয়ে পরামর্শ প্রদান
- জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকি নিরীক্ষণ
- স্বাস্থ্যসংক্রান্ত জরুরি অবস্থায় প্রতিক্রিয়া সমন্বয়
- স্বাস্থ্য সচেতনতা ও প্রচারণা
- দেশগুলোকে প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান
- আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য মান ও নির্দেশিকা নির্ধারণ
- বিশ্ব স্বাস্থ্য প্রতিবেদন প্রকাশ, যেখানে বিশ্বের স্বাস্থ্য বিষয়ক তথ্য ও বিশ্লেষণ উপস্থাপন করা হয়[৫]
- স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্মেলন ও আলোচনার আয়োজন করা[১]
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর বড় সাফল্যের মধ্যে রয়েছে:
বর্তমানে সংস্থাটি এইচআইভি/এইডস, ইবোলা, ম্যালেরিয়া, যক্ষ্মা, হৃদরোগ, ক্যান্সার, পুষ্টি, খাদ্য নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্য এবং মাদকদ্রব্যের অপব্যবহার এসব বিষয় নিয়ে কাজ করছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী সংস্থা হলো ১৯৪ সদস্য রাষ্ট্রের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত বিশ্ব স্বাস্থ্য পরিষদ। এই পরিষদ ৩৪ জন স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ নিয়ে একটি নির্বাহী বোর্ড নির্বাচন করে, যারা কার্যক্রম পরিচালনা ও পরামর্শ দেয়। WHO-এর বাজেট, লক্ষ্য ও কাজের অগ্রাধিকার এই পরিষদেই নির্ধারিত হয়।
বর্তমানে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর মহাপরিচালক হলেন টেড্রস আধানোম, যিনি ইথিওপিয়ার সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী।[৬]

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এর অর্থায়ন আসে সদস্য রাষ্ট্র ও বিভিন্ন বেসরকারি দাতাদের কাছ থেকে। এর বাজেটের বড় অংশ সদস্য দেশগুলোর স্বেচ্ছা অনুদান মাধ্যমে আসে। ২০১৮ সালের বাজেট ছিল প্রায় ৪.২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।[১]
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার কর্মকাণ্ড
পরিবেশগত স্বাস্থ্য সুরক্ষা
২০১২ সালে, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার জরিপ মতে পৃথিবীতে প্রায় ১ কোটি ২৬ লক্ষ মানুষ অস্বাস্থ্যকর কাজ করার কারণে মারা যান। অর্থাৎ, প্রতি ৪ জনে ১ জনের মৃত্য ঘটে এই কারণে। এর জন্য দায়ী অস্বাস্থ্যকর বায়ু, পানি, রাসায়নিক দ্রব্য ইত্যাদি। এসকল বস্তু মানুষের শরীরে প্রায় ১০০ প্রকারের রোগ সৃষ্টিতে সক্ষম। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এই ব্যাপারগুলো কমিয়ে আনার ব্যাপারে বদ্ধ পরিকর।শিশুদের ৬ টি ঘাতক রোগ (হাম,ডিপথেরিয়া,টিটেনাস,যক্ষ্মা,পোলিও ও হুপিং কাশি ) প্রতিরোধ করে। এছাড়াও ম্যালেরিয়া দূরীকরণ,বিশুদ্ধ পানির ব্যবস্থা,পয়ঃনিষ্কাশনের ব্যবস্থার উন্নতি করে।কলেরা ও ডায়রিয়া নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।
তথ্যসূত্র
- ↑ ১.০ ১.১ ১.২ The U.S. Government and the World Health Organization
- ↑ WHO Constitution, BASIC DOCUMENTS, Forty-ninth edition
- ↑ History
- ↑ World Health Organization | History, Organization, & Definition of Health
- ↑ WHO | World health report 2013: Research for universal health coverage
- ↑ Dr Tedros takes office as WHO Director-General World Health Organization.