শফিউর রহমান ফারাবী

ভিকিটিয়া থেকে

ফারাবি শফিউর রহমান বা শফিউর রহমান ফারাবি (জন্ম: ১৯৮৬) একজন বাংলাদেশি ইসলামপন্থী ব্লগার, কর্মী এবং লেখক।[১] তাকে হিজবুত তাহরীর বাংলাদেশের সদস্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়।[২] তিনি ইসলামবিরোধী ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের বিরুদ্ধে ব্লগ ও ফেসবুকে লেখালেখি করতেন।[৩]

প্রারম্ভিক জীবন

ফারাবি শফিউর রহমানের পিতা ছিলেন মৃত ফেরদৌসুর রহমান। তিনি ১৯৮৬ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার সদর থানার বারাভিলা কুমারশীল মোড় কলাইশ্রিপাড়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। ১৯৯৬ সালে তিনি কিশোরগঞ্জ জেলার রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে পঞ্চম শ্রেণি পাস করেন এবং কেন্দুয়া জয়হরি স্প্রাই সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০০১ সালে এসএসসি এবং ২০০৫ সালে নটর ডেম কলেজ থেকে এইচএসসি সম্পন্ন করেন। মানসিক সমস্যার কারণে দুই বছর পড়াশোনায় বিঘ্ন ঘটে।[৪] পরে ২০০৫-০৬ শিক্ষাবর্ষে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়র পদার্থবিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হন। ২০১৫ সালে গ্রেপ্তারের আগে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে চতুর্থ বর্ষে অধ্যয়নরত ছিলেন।[৪]

ব্লগিং ও বিতর্ক

২০১০ সালে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন সময় তিনি আন্দোলনের কারণে গ্রেপ্তার হন। পরে জামিনে মুক্তি পান।[৪] বিশ্ববিদ্যালয়ে অধ্যয়নরত অবস্থায় তিনি বিভিন্ন সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত হন এবং বিভিন্ন সময়ে গ্রেপ্তারও হন।[৪]

তিনি ধর্মনিরপেক্ষ ব্লগারদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন। তার লেখালেখি ও বক্তব্যগুলো অভিজিৎ রায়, আহমেদ রাজীব হায়দার, আসিফ মহিউদ্দিন, তসলিমা নাসরিনসহ বেশ কয়েকজন ব্লগারের সঙ্গে দ্বন্দ্ব তৈরি করে।[৪] ২০১৪ সালে তিনি ফেসবুকে লেখেন যে, অভিজিৎ রায়কে হত্যা করা হবে যখন তিনি দেশে ফিরবেন।[৫]

মামলা ও গ্রেপ্তার

২০১৫ সালে অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে গ্রেপ্তার করা হয়।[৬] তিনি স্বীকার করেন যে তিনি অভিজিৎ রায়কে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন এবং কট্টর ইসলামপন্থী মতাদর্শ প্রচার করতেন।[৪]

২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি, অভিজিৎ রায় হত্যাকাণ্ডের মামলায় তাকে সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।[৭]

সমর্থন ও বিতর্ক

২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশি ইসলামপন্থীরা তার মুক্তির দাবি জানান।[৮] ইসলামিক বক্তা শেখ আহমাদুল্লাহ মনে করেন, শুধুমাত্র হুমকি দেওয়ার কারণে তাকে কারাদণ্ড দেওয়া যৌক্তিক নয়, কারণ তার বিরুদ্ধে সরাসরি হত্যার সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ পাওয়া যায়নি।[৯]

তথ্যসূত্র