সিলেট বিভাগ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ভিকিটিয়া থেকে
৮ নং লাইন: ৮ নং লাইন:
==ভৌগোলিক অবস্থান==   
==ভৌগোলিক অবস্থান==   
সিলেট বিভাগের উত্তরে [[মেঘালয়]] (ভারত), দক্ষিণে [[ঢাকা বিভাগ]], পূর্বে [[ত্রিপুরা]] (ভারত), এবং পশ্চিমে [[ময়মনসিংহ বিভাগ]] ও [[ঢাকা বিভাগ]] অবস্থিত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>   
সিলেট বিভাগের উত্তরে [[মেঘালয়]] (ভারত), দক্ষিণে [[ঢাকা বিভাগ]], পূর্বে [[ত্রিপুরা]] (ভারত), এবং পশ্চিমে [[ময়মনসিংহ বিভাগ]] ও [[ঢাকা বিভাগ]] অবস্থিত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>   
==জেলার তালিকা== 
সিলেট বিভাগের অন্তর্ভুক্ত জেলাগুলো নিম্নরূপ: 
#[[সিলেট জেলা]]
#[[মৌলভীবাজার জেলা]]
#[[হবিগঞ্জ জেলা]]
#[[সুনামগঞ্জ জেলা]]
==আয়তন==   
==আয়তন==   
সিলেট বিভাগের মোট আয়তন প্রায় ১২,৬৩৫ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>   
সিলেট বিভাগের মোট আয়তন প্রায় ১২,৬৩৫ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>   

০৯:৩৬, ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

সিলেট বিভাগ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক বিভাগ। এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বিভাগ, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা বাগান, পাহাড়ি এলাকা এবং শাহজালাল ও শাহ পরান (রহ.) এর মাজারের জন্য পরিচিত। সিলেট বিভাগে মোট ৪টি জেলা রয়েছে।[১]

ইতিহাস

সিলেট বিভাগ গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সঙ্গে জড়িত। ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ সিলেট জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই বছর সিলেটকে নবগঠিত আসাম প্রদেশের অংশ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় গণভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সময় সিলেট চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ছিল। ১৯৮৩-৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলা ভেঙে ৪টি নতুন জেলা (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ) গঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের এই চারটি জেলা নিয়ে সিলেট বিভাগ গঠিত হয়। এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সিলেট বিভাগের প্রথম বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সিলেট বিভাগের ইতিহাসে এ অঞ্চল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, হাওর অঞ্চল এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।[২]

সিলেট নামের উৎপত্তি

সিলেট নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। গৌড়ের রাজা গুহক তার কন্যা শীলাদেবীর নামে ‘শীলাহাট’ স্থাপন করেন, যা থেকে ‘সিলট’ বা ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি হতে পারে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সতীদেবীর দুটি হাড় সিলেটে পড়েছিল। তার অপর নাম ‘শ্রী’, তাই ‘শ্রী + হড্ড’ থেকে ‘শ্রীহট্ট’ নামটি এসেছে। ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং তার ভ্রমণ বিবরণীতে সিলেটকে ‘শি-লি-চা-ত-ল’ বলেন। আল্ বেরুনীরকিতাবুল হিন্দ’ গ্রন্থে এটি ‘সীলাহেত’ নামে উল্লেখিত। ইংরেজ শাসনে, কাছাড়ের সদর স্টেশন ‘Silchar’ থেকে পার্থক্য করতে ‘Sylhet’ নামটি চালু হয়। এভাবেই সিলেট নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়।[২]

ভৌগোলিক অবস্থান

সিলেট বিভাগের উত্তরে মেঘালয় (ভারত), দক্ষিণে ঢাকা বিভাগ, পূর্বে ত্রিপুরা (ভারত), এবং পশ্চিমে ময়মনসিংহ বিভাগঢাকা বিভাগ অবস্থিত।[৩]

আয়তন

সিলেট বিভাগের মোট আয়তন প্রায় ১২,৬৩৫ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ ও বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।[৪]

শিক্ষা

সিলেট বিভাগ শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে:

এছাড়াও সিলেটে অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

উল্লেখযোগ্য শহর ও স্থান

জনসংখ্যা ও অর্থনীতি

সিলেট বিভাগ একটি জনবহুল এবং বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ প্রবাসী রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল। চা শিল্প এবং হাওর অঞ্চলের কৃষি এই বিভাগের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

সিলেটের সংস্কৃতি তার বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য এবং বাউল গানলোকসংগীতের জন্য পরিচিত। এখানে সুফি ধারার প্রভাব এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়।

পরিবহন

সিলেট বিভাগে রেল, সড়ক, এবং বিমানপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর।[৯]

আরও পড়ুন

তথ‍্যসূত্র