সিলেট বিভাগ: সংশোধিত সংস্করণের মধ্যে পার্থক্য

ভিকিটিয়া থেকে
সম্পাদনা সারাংশ নেই
সম্পাদনা সারাংশ নেই
৬ নং লাইন: ৬ নং লাইন:
===সিলেট নামের উৎপত্তি===
===সিলেট নামের উৎপত্তি===
সিলেট নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। [[গৌড় রাজ্য|গৌড়ের রাজা]] গুহক তার কন্যা শীলাদেবীর নামে ‘শীলাহাট’ স্থাপন করেন, যা থেকে ‘সিলট’ বা ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি হতে পারে। [[হিন্দু পুরাণ]] অনুযায়ী, সতীদেবীর দুটি হাড় সিলেটে পড়েছিল। তার অপর নাম ‘শ্রী’, তাই ‘শ্রী + হড্ড’ থেকে ‘শ্রীহট্ট’ নামটি এসেছে। ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে [[হিউয়েন সাং]] তার ভ্রমণ বিবরণীতে সিলেটকে ‘শি-লি-চা-ত-ল’ বলেন। [[আল্ বেরুনী|আল্ বেরুনীর]] ‘[[কিতাবুল হিন্দ]]’ গ্রন্থে এটি ‘সীলাহেত’ নামে উল্লেখিত। ইংরেজ শাসনে, কাছাড়ের সদর স্টেশন ‘Silchar’ থেকে পার্থক্য করতে ‘Sylhet’ নামটি চালু হয়। এভাবেই সিলেট নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়।<ref name=":0">https://www.sylhetdiv.gov.bd/bn/site/page/a8xo-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97</ref>
সিলেট নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। [[গৌড় রাজ্য|গৌড়ের রাজা]] গুহক তার কন্যা শীলাদেবীর নামে ‘শীলাহাট’ স্থাপন করেন, যা থেকে ‘সিলট’ বা ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি হতে পারে। [[হিন্দু পুরাণ]] অনুযায়ী, সতীদেবীর দুটি হাড় সিলেটে পড়েছিল। তার অপর নাম ‘শ্রী’, তাই ‘শ্রী + হড্ড’ থেকে ‘শ্রীহট্ট’ নামটি এসেছে। ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে [[হিউয়েন সাং]] তার ভ্রমণ বিবরণীতে সিলেটকে ‘শি-লি-চা-ত-ল’ বলেন। [[আল্ বেরুনী|আল্ বেরুনীর]] ‘[[কিতাবুল হিন্দ]]’ গ্রন্থে এটি ‘সীলাহেত’ নামে উল্লেখিত। ইংরেজ শাসনে, কাছাড়ের সদর স্টেশন ‘Silchar’ থেকে পার্থক্য করতে ‘Sylhet’ নামটি চালু হয়। এভাবেই সিলেট নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়।<ref name=":0">https://www.sylhetdiv.gov.bd/bn/site/page/a8xo-%E0%A6%8F%E0%A6%95-%E0%A6%A8%E0%A6%9C%E0%A6%B0%E0%A7%87-%E0%A6%B8%E0%A6%BF%E0%A6%B2%E0%A7%87%E0%A6%9F-%E0%A6%AC%E0%A6%BF%E0%A6%AD%E0%A6%BE%E0%A6%97</ref>
==ভৌগোলিক অবস্থান==   
==ভৌগোলিক বিবরণ== 
সিলেট বিভাগের উত্তরে [[মেঘালয়]] (ভারত), দক্ষিণে [[ঢাকা বিভাগ]], পূর্বে [[ত্রিপুরা]] (ভারত), এবং পশ্চিমে [[ময়মনসিংহ বিভাগ]] [[ঢাকা বিভাগ]] অবস্থিত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>  
 
==আয়তন==   
===অবস্থান===   
সিলেট বিভাগের মোট আয়তন প্রায় ১২,৬৩৫ বর্গকিলোমিটার। এটি দেশের অন্যান্য বিভাগের তুলনায় তুলনামূলক ছোট হলেও প্রাকৃতিক সম্পদ বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/division/sylhet</ref>  
সিলেট বিভাগ ২৩°৫৮´উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৫°১২´উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৬´পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৩০´পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর সীমানা: 
==শিক্ষা==   
*উত্তরে: ভারতের মেঘালয় রাজ্য।
সিলেট বিভাগ শিক্ষার ক্ষেত্রে অগ্রগামী। এখানে উল্লেখযোগ্য কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে:
*দক্ষিণে: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
*[[শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়]] (শাবিপ্রবি): দেশের অন্যতম প্রধান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।<ref>https://www.sust.edu</ref>
*পূর্বে: ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য।
*[[সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়]]: কৃষি গবেষণা ও শিক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে।<ref>https://www.sau.ac.bd</ref>
*পশ্চিমে: নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা।
*[[মদন মোহন কলেজ]]: ঐতিহ্যবাহী কলেজ, যা ১৮৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়।
 
এছাড়াও সিলেটে অনেক প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয় রয়েছে, যা শিক্ষার বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। 
===আয়তন=== 
==উল্লেখযোগ্য শহর ও স্থান==   
সিলেট বিভাগের মোট আয়তন ১২,৫৫৮ বর্গ কিলোমিটার। জেলার ভিত্তিতে আয়তন: 
*[[সিলেট শহর]]: বিভাগীয় সদর এবং [[হজরত শাহজালাল]] [[হজরত শাহ পরান]] (রহ.) এর মাজারের জন্য বিখ্যাত।<ref>https://www.shahjalaluniversity.ac.bd</ref>
*[[সিলেট জেলা]]: ৩,৪৫২ বর্গ কিলোমিটার।
*[[মৌলভীবাজার]]: চা বাগান এবং [[লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান]] এর জন্য পরিচিত।
*[[সুনামগঞ্জ জেলা]]: ৩,৬৭০ বর্গ কিলোমিটার।
*[[জাফলং]]: [[পিয়াইন নদী]] এবং পাথর উত্তোলনের জন্য বিখ্যাত।<ref>https://www.tourismboard.gov.bd/tourist-spot/jaflong</ref>
*[[মৌলভীবাজার জেলা]]: ২,৭৯৯ বর্গ কিলোমিটার।
*[[সুনামগঞ্জ]]: [[টাঙ্গুয়ার হাওর]] এবং [[হাছন রাজা]] এর স্মৃতির জন্য পরিচিত।
*[[হবিগঞ্জ জেলা]]: ২,৬৩৭ বর্গ কিলোমিটার।
*[[রাতারগুল]]: বাংলাদেশের একমাত্র [[স্বাভাবিক মিঠাপানির জলাবন]]।
আয়তনের দিক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সর্ববৃহৎ এবং হবিগঞ্জ জেলা সর্বক্ষুদ্র।  
 
===ভূপ্রকৃতি===   
সিলেট বিভাগের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে উঁচু পর্বতশ্রেণীর পাহাড়ি অঞ্চল বিদ্যমান। মেঘালয়, খাসিয়া, জৈন্তিয়া, ও ত্রিপুরা পাহাড় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে। অভ্যন্তরীণ এলাকা মূলত সমতল, যেখানে রয়েছে ছোট ছোট টিলা জঙ্গল।  
 
===প্রশাসনিক বিবরণ===   
*[[সিলেট বিভাগের সংসদীয় আসন|সংসদীয় আসন]]: ১৯টি।
*[[সিলেট বিভাগের উপজেলা|উপজেলা]]: ৪১টি।
*[[সিলেট বিভাগের থানা|থানা]]: ৪৪টি।
*[[সিলেট বিভাগের সীমান্তবর্তী উপজেলা|সীমান্তবর্তী উপজেলা]]: ১৯টি।
 
===[[সিলেট বিভাগের স্থানীয় সরকার|স্থানীয় সরকার]]===   
*সিটি কর্পোরেশন: ১টি ([[সিলেট সিটি কর্পোরেশন]])।
*পৌরসভা: ২০টি।
*ইউনিয়ন: ৩৩৮টি।
 
===[[সিলেট বিভাগের জনসংখ্যা|জনসংখ্যা]]=== 
*মোট জনসংখ্যা: ১,১০,৩৪,৮৬৩ জন।
*গ্রামীণ জনসংখ্যা: ৮৯,৬৩,৬৩৯ জন (৮১.২৩%)।
*শহুরে জনসংখ্যা: ২০,৬৫,১২৩ জন (১৮.৭৭%)।
*জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৭৩ জন।
 
===[[সিলেট বিভাগের শিক্ষা|শিক্ষা]]=== 
*শিক্ষার হার: ৭১.৯২%।
*শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৬,২৪২টি।
 
===উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র=== 
*সিলেট জেলা: হযরত শাহজালাল (রঃ) ও শাহপরাণ (রঃ) এর মাজার, জাফলং, রাতারগুল।
*সুনামগঞ্জ জেলা: টাঙ্গুয়ার হাওর, হাছন রাজার বাড়ি।
*মৌলভীবাজার জেলা: মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া উদ্যান।
*হবিগঞ্জ জেলা: সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান।
 
===মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি=== 
*সিলেট জেলা: জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর।
*সুনামগঞ্জ জেলা: ডলুরা স্মৃতিস্তম্ভ।
*মৌলভীবাজার জেলা: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মেমোরিয়াল টাওয়ার।
*হবিগঞ্জ জেলা: তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।
 
===উল্লেখযোগ্য নদী=== 
*সিলেট অঞ্চল: সুরমা, কুশিয়ারা, সারি।
*<nowiki>**সুনামগঞ্জ অঞ্চল: কালনী, যাদুকাটা।</nowiki>
*মৌলভীবাজার অঞ্চল: মনু, ধলাই।
*হবিগঞ্জ অঞ্চল: খোয়াই, সুতাং।
 
===হাওর=== 
*হাকালুকি, টাঙ্গুয়ার হাওর, দেখার হাওর।
==জনসংখ্যা ও অর্থনীতি==   
==জনসংখ্যা ও অর্থনীতি==   
সিলেট বিভাগ একটি জনবহুল এবং বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ [[প্রবাসী]] রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল। [[চা শিল্প]] এবং [[হাওর এলাকা|হাওর অঞ্চলের]] কৃষি এই বিভাগের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   
সিলেট বিভাগ একটি জনবহুল এবং বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ [[প্রবাসী]] রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল। [[চা শিল্প]] এবং [[হাওর এলাকা|হাওর অঞ্চলের]] কৃষি এই বিভাগের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।   

০৯:৫১, ১৯ জানুয়ারি ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ

সিলেট বিভাগ বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি প্রশাসনিক বিভাগ। এটি দেশের অন্যতম প্রাচীন এবং ঐতিহ্যবাহী বিভাগ, যা প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা বাগান, পাহাড়ি এলাকা এবং শাহজালাল ও শাহ পরান (রহ.) এর মাজারের জন্য পরিচিত। সিলেট বিভাগে ৪টি জেলা রয়েছে।[১]

ইতিহাস

সিলেট বিভাগ গঠনের ইতিহাস দীর্ঘ এবং ঐতিহাসিক ঘটনাবলীর সঙ্গে জড়িত। ১৭৭২ সালের ১৭ মার্চ সিলেট জেলা প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৮৭৪ সাল পর্যন্ত এটি ঢাকা বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিল। একই বছর সিলেটকে নবগঠিত আসাম প্রদেশের অংশ করা হয়। ১৯৪৭ সালে দেশভাগের সময় গণভোটের মাধ্যমে সিলেট জেলা তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে অন্তর্ভুক্ত হয়। এই সময় সিলেট চট্টগ্রাম বিভাগের আওতাধীন ছিল। ১৯৮৩-৮৪ সালে বৃহত্তর সিলেট জেলা ভেঙে ৪টি নতুন জেলা (সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ) গঠিত হয়। ১৯৯৫ সালে বৃহত্তর সিলেটের এই চারটি জেলা নিয়ে সিলেট বিভাগ গঠিত হয়। এটি দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের একটি স্বতন্ত্র প্রশাসনিক বিভাগ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। সিলেট বিভাগের প্রথম বিভাগীয় কমিশনার ছিলেন মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান। সিলেট বিভাগের ইতিহাসে এ অঞ্চল তার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, চা-বাগান, হাওর অঞ্চল এবং সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের জন্য বিখ্যাত।[২]

সিলেট নামের উৎপত্তি

সিলেট নামের উৎপত্তি নিয়ে বিভিন্ন মতবাদ রয়েছে। গৌড়ের রাজা গুহক তার কন্যা শীলাদেবীর নামে ‘শীলাহাট’ স্থাপন করেন, যা থেকে ‘সিলট’ বা ‘সিলেট’ নামের উৎপত্তি হতে পারে। হিন্দু পুরাণ অনুযায়ী, সতীদেবীর দুটি হাড় সিলেটে পড়েছিল। তার অপর নাম ‘শ্রী’, তাই ‘শ্রী + হড্ড’ থেকে ‘শ্রীহট্ট’ নামটি এসেছে। ৬৪০ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং তার ভ্রমণ বিবরণীতে সিলেটকে ‘শি-লি-চা-ত-ল’ বলেন। আল্ বেরুনীরকিতাবুল হিন্দ’ গ্রন্থে এটি ‘সীলাহেত’ নামে উল্লেখিত। ইংরেজ শাসনে, কাছাড়ের সদর স্টেশন ‘Silchar’ থেকে পার্থক্য করতে ‘Sylhet’ নামটি চালু হয়। এভাবেই সিলেট নামটি প্রতিষ্ঠিত হয়।[২]

ভৌগোলিক বিবরণ

অবস্থান

সিলেট বিভাগ ২৩°৫৮´উত্তর অক্ষাংশ থেকে ২৫°১২´উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯০°৫৬´পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯২°৩০´পূর্ব দ্রাঘিমাংশের মধ্যে অবস্থিত। এর সীমানা:

  • উত্তরে: ভারতের মেঘালয় রাজ্য।
  • দক্ষিণে: ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য ও বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা।
  • পূর্বে: ভারতের আসাম ও ত্রিপুরা রাজ্য।
  • পশ্চিমে: নেত্রকোনা ও কিশোরগঞ্জ জেলা।

আয়তন

সিলেট বিভাগের মোট আয়তন ১২,৫৫৮ বর্গ কিলোমিটার। জেলার ভিত্তিতে আয়তন:

আয়তনের দিক থেকে সুনামগঞ্জ জেলা সর্ববৃহৎ এবং হবিগঞ্জ জেলা সর্বক্ষুদ্র।

ভূপ্রকৃতি

সিলেট বিভাগের উত্তর, পূর্ব ও দক্ষিণ দিকে উঁচু পর্বতশ্রেণীর পাহাড়ি অঞ্চল বিদ্যমান। মেঘালয়, খাসিয়া, জৈন্তিয়া, ও ত্রিপুরা পাহাড় এই অঞ্চলের প্রাকৃতিক সীমানা তৈরি করেছে। অভ্যন্তরীণ এলাকা মূলত সমতল, যেখানে রয়েছে ছোট ছোট টিলা ও জঙ্গল।

প্রশাসনিক বিবরণ

স্থানীয় সরকার

জনসংখ্যা

  • মোট জনসংখ্যা: ১,১০,৩৪,৮৬৩ জন।
  • গ্রামীণ জনসংখ্যা: ৮৯,৬৩,৬৩৯ জন (৮১.২৩%)।
  • শহুরে জনসংখ্যা: ২০,৬৫,১২৩ জন (১৮.৭৭%)।
  • জনসংখ্যার ঘনত্ব: প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৮৭৩ জন।

শিক্ষা

  • শিক্ষার হার: ৭১.৯২%।
  • শিক্ষা প্রতিষ্ঠান: সরকারি ও বেসরকারি মিলিয়ে ৬,২৪২টি।

উল্লেখযোগ্য পর্যটন কেন্দ্র

  • সিলেট জেলা: হযরত শাহজালাল (রঃ) ও শাহপরাণ (রঃ) এর মাজার, জাফলং, রাতারগুল।
  • সুনামগঞ্জ জেলা: টাঙ্গুয়ার হাওর, হাছন রাজার বাড়ি।
  • মৌলভীবাজার জেলা: মাধবকুন্ড জলপ্রপাত, লাউয়াছড়া উদ্যান।
  • হবিগঞ্জ জেলা: সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান।

মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি

  • সিলেট জেলা: জেনারেল এম এ জি ওসমানীর কবর।
  • সুনামগঞ্জ জেলা: ডলুরা স্মৃতিস্তম্ভ।
  • মৌলভীবাজার জেলা: বীরশ্রেষ্ঠ হামিদুর রহমান মেমোরিয়াল টাওয়ার।
  • হবিগঞ্জ জেলা: তেলিয়াপাড়া স্মৃতিসৌধ।

উল্লেখযোগ্য নদী

  • সিলেট অঞ্চল: সুরমা, কুশিয়ারা, সারি।
  • **সুনামগঞ্জ অঞ্চল: কালনী, যাদুকাটা।
  • মৌলভীবাজার অঞ্চল: মনু, ধলাই।
  • হবিগঞ্জ অঞ্চল: খোয়াই, সুতাং।

হাওর

  • হাকালুকি, টাঙ্গুয়ার হাওর, দেখার হাওর।

জনসংখ্যা ও অর্থনীতি

সিলেট বিভাগ একটি জনবহুল এবং বৈদেশিক আয়ের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল। এখানকার অধিকাংশ মানুষ প্রবাসী রেমিট্যান্সের উপর নির্ভরশীল। চা শিল্প এবং হাওর অঞ্চলের কৃষি এই বিভাগের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।

সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য

সিলেটের সংস্কৃতি তার বৈচিত্র্যময় ঐতিহ্য এবং বাউল গানলোকসংগীতের জন্য পরিচিত। এখানে সুফি ধারার প্রভাব এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সহাবস্থান লক্ষ্য করা যায়।

পরিবহন

সিলেট বিভাগে রেল, সড়ক, এবং বিমানপথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সাথে সহজ যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিমানবন্দর।[৩]

আরও পড়ুন

তথ‍্যসূত্র