আজমিরীগঞ্জ উপজেলা

কবুতর (আলোচনা | অবদান) কর্তৃক ১৬:৩৮, ৬ মার্চ ২০২৫ তারিখে সংশোধিত সংস্করণ ("{{তথ্যছক বাংলাদেশের প্রশাসনিক অঞ্চল |নাম = আজমিরীগঞ্জ |চিত্র = |চিত্রের_আকার = |চিত্রের_বিবরণ = |চিত্র_মানচিত্র = Ajmiriganj in Sylhet division (Bangladesh).svg |চিত্র_মানচিত্রের_বিবরণ = মানচিত্রে আজমিরীগঞ..." দিয়ে পাতা তৈরি)
(পরিবর্তন) ← পূর্বের সংস্করণ | সর্বশেষ সংস্করণ (পরিবর্তন) | পরবর্তী সংস্করণ → (পরিবর্তন)

আজমিরীগঞ্জ উপজেলা বাংলাদেশের সিলেট বিভাগের হবিগঞ্জ জেলার একটি প্রশাসনিক এলাকা। এই উপজেলা হবিগঞ্জ জেলার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত।

অবস্থান ও আয়তন

“ভাটি অঞ্চলের রাজধানী” হিসেবে খ্যাত আজমিরীগঞ্জ উপজেলা[২] বাংলাদেশের উত্তর-পূর্ব অঞ্চলে অবস্থিত। এই উপজেলাকে ঘিরে রয়েছে কিশোরগঞ্জ, সুনামগঞ্জ জেলার অন্যান্য উপজেলা। এর উত্তরে সুনামগঞ্জ জেলার শাল্লা উপজেলা, পূর্বে বানিয়াচং উপজেলা, দক্ষিণে বানিয়াচং উপজেলাকিশোরগঞ্জ জেলার মিঠামইন উপজেলা এবং পশ্চিমে কিশোরগঞ্জ জেলার ইটনা উপজেলা

 
আজমিরিগঞ্জ-হবিগঞ্জ হাইওয়ে

ইতিহাস

১৯০৭ সালে আসাম সরকার এর অধীনে আজমিরীগঞ্জ থানায় পরিণত হয়। ১৯৮৩ সালে আজমিরীগঞ্জ থানাকে উপজেলায় রূপান্তর করা হয়। শহরটিতে বেশ কয়েকটি কাঠামোগত সুন্দর বাড়ি রয়েছে, যা ১৮০০ সালের আগে থেকেই ছিল, ত্রিপুরার মহারাজা দ্বারা এইগুলির অর্থায়ন করা হয়েছিল। এই উপজেলার জলসুখাতে রয়েছে অনেক জমিদার বাড়ি। যার ধ্বংসাবশেষ এখনো রয়েছে। গোপীনাথ আখড়াকে কেন্দ্র করে এই উপজেলা থেকেই ঘাটুগানের উৎপত্তি হয়েছিল বলে সিলেটের ইতিবৃত্ত গ্রন্থ থেকে জানা যায়।

নামকরণ

আযদাম> আজমার্দীন> আয়েজমাদাম> আবদাবাদ> আজমিরীগঞ্জ

উপমহাদেশের বিশ্ববিখ্যাত সুফী সাধক সুলতানুল হিন্দ খাজা গরীবে নেওয়াজ হযরত খাজা মঈন উদ্দিন চিশতী আজমিরী (রহ:) এর সুযোগ্য প্রতিনিধি কুতুবে রব্বানী হযরত শাহ সুফী আলহাজ্ব হাফিজ খাজা সৈয়দ মোহাম্মদ ইসহাক চিশতী (রহ:) প্রায় দেড় শতাব্দী পূর্বে আজমির শরীফের প্রতিনিধি হিসাবে এ প্রাচীন জনপদে পবিত্র ইসলাম ধর্মের প্রচার প্রসারের লক্ষে সুদূর ভারত হতে হিজরত করে তশরীফ এনেছিলেন। তার পবিত্র প্রচারনায় এবং অসাম্প্রদায়িক পবিত্র বাণীর প্রভাবে ধীরে ধীরে জনসাধারণ দ্বীন ইসলামের সুশীতল ছায়ায় আশ্রয় লাভ করে এবং সর্বসাধারণ তাকে আজমিরী বাবা বলে অভিহিত করেন। পরবর্তী সময়ে আজমিরী বাবা কুতুবে রব্বানী আউলিয়ায়ে কামিল হযরত শাহ সুফী আলহাজ্ব খাজা হাফিজ সৈয়দ মোহাম্মদ ইসহাক চিশতী (র:) এর পবিত্র স্মৃতির স্মরণে সরকারি গেজেট নোটিফিকেশনের মাধ্যমে এ উপজেলার নাম আজমিরীগঞ্জ নামকরণ করা হয়।

মুক্তিযুদ্ধে আজমিরীগঞ্জ

আজমিরীগঞ্জের বদলপুর অপারেশন ছিল মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসে একটি একটি বিশাল সাফল্য। বদলপুরে শত্রুসেনারা দাস পার্টির প্রতিরোধের মুখে পাকসেনারা শক্তি বৃদ্ধি করতে বাধ্য হয়। গুলি ছোড়ার জন্য হেলিকপ্টারও ব্যবহার করা হয়। ১৬ নভেম্বর মুক্তিযোদ্ধাপাকবাহিনীদের মধ্যে দীর্ঘ আঠারো ঘণ্টার সম্মুখযুদ্ধ সংঘটিত হয়। এই যুদ্ধে দাস পার্টির কমান্ডার জগৎজ্যোতি দাস বীর বিক্রম শহীদ হয়। এছাড়া, পাকবাহিনী নির্দোষ ১১ জন নিরীহ গ্রামবাসীকে হত্যা করে।

প্রশাসনিক এলাকা

 
আজমিরীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ

আজমিরীগঞ্জ উপজেলায় বর্তমানে ১টি পৌরসভা ও ৫টি ইউনিয়ন রয়েছে। সম্পূর্ণ উপজেলার প্রশাসনিক কার্যক্রম আজমিরীগঞ্জ থানার আওতাধীন।[৩]

পৌরসভা:
ইউনিয়নসমূহ:

ভূপ্রকৃতি

 
কুশিয়ারা নদী

হাওর বেষ্টিত ভাটি বাংলার একটি জনপদ এই আজমিরীগঞ্জ। যার পশ্চিম পাশ ঘেষে বয়ে গেছে সুরমা-কুশিয়ারার মিলিত স্রোত কালনি-কুশিয়ারা- ভেড়ামোহনা। বছরের অর্ধেক সময় জলমগ্র থাকে অধিকাংশ এলাকা। দোআশ ও এটেল মাটি

সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য

ভাষা

এখানে ভাষার মূল বৈশিষ্ট্য বাংলাদেশের অন্যান্য উপজেলার মতই, তবুও কিছুটা বৈচিত্র্য খুঁজে পাওয়া যায়। এখানে সিলেটি ভাষার সাথে সাথে বিভিন্ন আদিবাসীদের প্রচলিত ভাষাও প্রচলিত রয়েছে।

উৎসব

প্রতি বৎসর ওরশ, বৈশাখী, মেলা,নৌকা বাইছ অনুষ্ঠিত হয়।

খেলাধুলা

অতিতে হাডুডু, দারাগুড়ি,ননদাই,কানামাছি,খেলার রেওয়াজ ছিল। বর্তমানে ক্রিকেট ও ফুলবল খেলার প্রচলন আছে।

জনসংখ্যার উপাত্ত

২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী,আজমিরীগঞ্জের জনসংখ্যা ১২৬,৩২৪ জন (প্রায়)।জনসংখ্যার পুরুষ ৬৪,৫৬৪ জন (প্রায়) (৫১.১১%) এবং নারী ৬১,৭৬০ জন (প্রায়) (৪৮.৮৯%)।

জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৪৪৩ জন।

শিক্ষা

আজমিরীগঞ্জের শিক্ষার হার ৩৬%।এখানে ৫৪টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,৮ টি উচ্চ বিদ্যালয়,১ টি দাখিল মাদ্রাসা,২ টি কলেজ রয়েছে। ১৯৭৫ সালে মিয়াধন মিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়,আজমিরীগঞ্জ ও ১৮৭৬ সালে জলসুখা কৃষ্ণ গোবিন্দ পাবলিক হাইস্কুল ও ৯৩০ সালে আজমিরীগঞ্জ এমালগামেটেড বীরচরণ(এ.বি.সি.) সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এবং ১৯২০ সালে শিবপাশা উচ্চ বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।

অর্থনীতি

আজমিরীগঞ্জ এর প্রধান প্রাকৃতিক সম্পদ হলো মাছ ও ধান। এ উপজেলায় রয়েছে বৃহৎ ফিশ ইন্ড্রাসট্রিস। এ উপজেলার মানুষ মূলত ধান ও মাছের উপর নির্ভরশীল।

উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব

আরও দেখুন

তথ্যসূত্র

  1. গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার এক নজরে আজমিরীগঞ্জ মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ, এটুআই, বিসিসি ও বেসিস.[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
  2. আজমিরীগঞ্জ পৌরসভা গঠনের দশ বছরেও নির্বাচন হয়নি
  3. ইউনিয়নসমূহ - আজমিরীগঞ্জ উপজেলা জাতীয় তথ্য বাতায়ন.

বহিঃসংযোগ

টেমপ্লেট:সিলেট-ভূ-অসম্পূর্ণ টেমপ্লেট:সিলেট বিভাগের উপজেলা