ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট
টেমপ্লেট:Infobox political party

ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট হচ্ছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন-২০২৫ উপলক্ষে গঠিত একটি নির্বাচনী জোট যা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের নেতৃত্বে গঠিত হয়েছে।[১][২] জোটের নেতৃবৃন্দ জুলাইয়ের আকাঙ্খাকে ধারণ করে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়ে‘র কথা বলে থাকেন।[৩][৪] এই প্যানেলেটি ২০২৫ সালের ১৮ আগস্ট যথাক্রমে ইনকিলাব মঞ্চের একজন নেত্রী, আপ বাংলাদেশের একজন নেতা, ছাত্রী সংস্থার দুইজন নেত্রী, ২৪ জুলাইয়ে আহত এক নেতা, একজন প্রতিবন্ধী এবং একজন চাকমা জনগোষ্ঠীসহ কয়েকজন একটিভিস্ট নিয়ে গঠিত হয়েছে।[৫][৬][৭][৮][৯]
আত্মপ্রকাশ
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট ডাকসু নির্বাচনের একটি ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্যে গঠিত হয়েছে বলে দাবি করেন জোটের নেতৃবৃন্দ। তারা আরও বলেন, এই জোটটি জুলাই বিপ্লব ও শিক্ষার্থীদের আকাঙ্খাকে ধারণ করে একটি নিরাপদ ক্যাম্পাস তৈরিতে যথাযথ ভূমিকা পালন করবে। এই জোটের নেতৃত্বে আছেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির যাদের সাথে যুক্ত আছে ইনকিলাব মঞ্চ, আপ বাংলাদেশ, ছাত্রী সংস্থা, চাকমা জনগোষ্ঠীর একজন প্রতিনিধিসহ কয়েকজন একটিভিস্ট।[১০]
জোটটি আরও দাবি করে; “রাজনৈতিক বা ব্যক্তি-নির্ভর নয় বরং শিক্ষার্থীদের কল্যাণে ও গণতান্ত্রিক পরিবেশ সৃষ্টির জন্য মিলেমিশে কাজ করবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কেন্দ্রীয় সংসদে জয়ী হয়ে অনেকেই বড় নেতা হয়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের ভাগ্য বদলায়নি।”[১১][১২] প্যানেলটি গঠিত হয়েছে একজন শারীরিক প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থী, চাকমা জনগোষ্ঠীর একজন শিক্ষার্থী, একজন ক্রিড়া বিশেষজ্ঞ এবং চারজন ছাত্রী প্রতিনিধি নিয়ে। যা শিক্ষার্থীদের দাবি পূরণে ভারসাম্য বজায় রেখে বৈষম্য দূর করবে বলে অনেকেই মনে করছে।[১৩]
এই জোট দাবি করছে, তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই নির্বাচনী ময়দানে নেমেছে। তাদের অঙ্গীকার—শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়, গণতান্ত্রিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং সাংস্কৃতিক ও একাডেমিক বৈষম্য দূর করা।[১৪]
নেতৃত্ব ও প্রার্থী তালিকা
২০২৫ ডাকসু নির্বাচনে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির সমর্থিত প্যানেল ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট যে সকল পদে তাদের প্রার্থী দিয়েছেন। [১৫]
| ক্রমিক | প্রার্থীর নাম | পদ | ছাত্র সংগঠন | ফলাফল |
|---|---|---|---|---|
| ১ | সাদিক কায়েম | ভিপি (সহ-সভাপতি) | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ২ | এস এম ফরহাদ | জিএস (সাধারণ সম্পাদক) | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ৩ | মহিউদ্দিন খান | এজিএস(সহ-সাধারণ সম্পাদক) | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ৪ | ফাতেমা তাসনিম জুমা | স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক সম্পাদক | ইনকিলাব মঞ্চ | |
| ৫ | ইকবাল হায়দার | বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ৬ | উম্মে সালমা | কমনরুম, রিডিংরুম ও ক্যাফেটেরিয়া সম্পাদক | ||
| ৭ | খান জসিম | আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক | ||
| ৮ | নুরুল ইসলাম সাব্বির | সাহিত্য ও সংস্কৃতি সম্পাদক | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ৯ | সাখাওয়াত জাকারিয়া | মানবাধিকার ও আইন সম্পাদক | স্বতন্ত্র | |
| ১০ | আরমান হোসাইন | ক্রীড়া সম্পাদক | স্বতন্ত্র | |
| ১১ | আসিফ আবদুল্লাহ | ছাত্র পরিবহন সম্পাদক | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ১২ | শরিফুল ইসলাম মুয়াজ | সমাজসেবা সম্পাদক | স্বতন্ত্র | |
| ১৩ | এম এম আল মিনহাজ | স্বাস্থ্য ও পরিবেশ সম্পাদক | আপ বাংলাদেশ | |
| ১৪ | সাজ্জাদ হোসাইন খান | গবেষণা ও প্রকাশনা সম্পাদক | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ১৫ | মাজহারুল ইসলাম | ক্যারিয়ার উন্নয়ন সম্পাদক | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ১৬ | সর্ব মিত্র চাকমা | সদস্য | স্বতন্ত্র | |
| ১৭ | ইমরান হোসাইন | সদস্য | ||
| ১৮ | বেলাল হোসেন অপু | সদস্য | ||
| ১৯ | তাজিনুর রহমান | সদস্য | ||
| ২০ | মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ | সদস্য | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির | |
| ২১ | মাজহারুল ইসলাম মুজাহিদ | সদস্য | ||
| ২২ | রাইসুল ইসলাম | সদস্য | ||
| ২৩ | সাবিকুন নাহার তামান্না | সদস্য | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা | |
| ২৪ | শাহিনুর রহমান | সদস্য | ||
| ২৫ | আফসানা আক্তার | সদস্য | বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রী সংস্থা | |
| ২৬ | আবদুল্লাহ আল মাহমুদ | সদস্য | ||
| ২৭ | রায়হান উদ্দিন | সদস্য | ||
| ২৮ | আনাস বিন মনির | সদস্য |
পরিবর্তন
- গত ২৩ (শনিবার) আগষ্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার ক্রীড়া সম্পাদক ও কার্যনির্বাহী সদস্য পদপ্রার্থী মিফতাহুল হোসাইন আল মারুফ গণমাধ্যমকে বলেন, “প্যানেল থেকে তন্ময়কে সরিয়ে দেওয়ার হয়েছে। আমরা এখনো কাউকে বাছাই করিনি। ২৫ অগাস্ট জানিয়ে দেব তার জায়গায় কে হবেন নতুন প্রার্থী”[১৬]
লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ঘোষিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হলো ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের স্বার্থ রক্ষা এবং ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিত করা। জোটের নেতা আবু সাদিক কায়েম গণমাধ্যমেকে জানিয়েন যে, তারা গত বছরের ঘটে যাওয়া জুলাই অভ্যূত্থানের আকাঙ্খার আলোকে একটি শিক্ষার্থীবান্ধব নিরাপদ ও বৈষম্যমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার প্রত্যয়ে কাজ করবে।[১৭][১৮]
ইশতেহার
ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট গত ১লা সেপ্টেম্বর সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জুলাইকে স্মরণে রেখে ১২ মাসে ৩৬টি সংস্কার করবে বলে জানায়।[১৯] এই ৩৬টি সংস্কারই তাদের মূল ইশতেহার।[২০][২১][২২]
ইশতেহারসমূহ
- ডাকসু নির্বাচনকে একাডেমিক ক্যালেন্ডারের অন্তর্ভুক্ত করে প্রতিবছর নির্ধারিত সময়ে বাস্তবায়ন করা।
- ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে ফ্যাসিবাদের দোসরমুক্ত করা। ফ্যাসিবাদের চিহ্ন ও ফ্যাসিবাদী কাঠামো, ব্যবস্থা, সংস্কৃতি ও চর্চার পুনরুৎপাদন রোধ করা। গেস্টরুম, গণরুম কালচার ফিরে আসার সব পথ রুদ্ধ করা। ১৫ জুলাই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ কর্তৃক নৃশংস হামলায় জড়িত সন্ত্রাসীদের একাডেমিক, প্রশাসনিক ও আইনি শাস্তি নিশ্চিত করা। একই সঙ্গে সাম্য, মোফাজ্জল ও আবু বকর হত্যাসহ ফ্যাসিবাদী আমলে সংঘটিত সকল নিপীড়নের সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করা।
- প্রথম বর্ষ থেকে প্রত্যেক শিক্ষার্থীর বৈধ সিট নিশ্চিত করা। আবাসন সংকটের অস্থায়ী সমাধান হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় ও প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানের সমন্বয়ে অস্থায়ী হোস্টেল বা মাসিক আবাসন ভাতার ব্যবস্থা করা এবং স্থায়ী সমাধান হিসেবে হল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া।
- নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর খাদ্য নিশ্চিতকরণে হল ও অন্যান্য ক্যান্টিন-ক্যাফেটেরিয়াতে পুষ্টিবিদের মাধ্যমে স্বল্পমূল্যে পুষ্টিকর খাবারের মেন্যু প্রণয়ন এবং তিন মাস অন্তর খাবার মান পরীক্ষা করা। প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে মানসম্মত ক্যাফেটেরিয়া ও ক্যান্টিনের ব্যবস্থা করা। আর্থিক সংকটে থাকা শিক্ষার্থীদের জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ ‘মিল ডাউচার’ চালু করা।
- নারী শিক্ষার্থীদের জন্য নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করা। ছাত্রী হলে পুরুষ কর্মচারী যথাসম্ভব কমিয়ে আনা এবং প্রক্টরিয়াল টিমে প্রয়োজনীয় সংখ্যক নারী সদস্য নিয়োগ দেওয়া।
- ছাত্রীদের জন্য ছাত্রী হলে প্রবেশের বিধি-নিষেধ শিথিল করা। বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিচয়পত্র প্রদর্শন-সাপেক্ষে অনাবাসিক শিক্ষার্থীদের হলে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া। ছাত্রী হলে অভিভাবকদের জন্য ‘গার্ডিয়ান লাউঞ্জ’ স্থাপন করা।
- ছাত্রীদের জন্য মাতৃত্বকালীন ছুটির বিধান কার্যকর করা। মাতৃত্বকালীন সময়ে পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য ক্লাসে উপস্থিতির বাধ্যবাধকতা শিথিল করা।
- কমনরুমে নারী কর্মচারী নিয়োগ দেওয়া। মা শিক্ষার্থীদের জন্য ব্রেস্ট ফিডিং রুম এবং চাইল্ড কেয়ার কনার স্থাপন করা।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সেবাকেন্দ্রিক লাল ফিতার দৌরাত্ম্য নিরসন করে ‘পেপারলেস রেজিস্ট্রার বিল্ডিং’ গড়ে তোলা। উচ্চশিক্ষায় বিদেশে গমনেচ্ছু শিক্ষার্থীদের জন্য ওয়ান উপ সার্ভিস চালু করা।
- ডাকসু ওয়েবসাইট উন্নতকরণ এবং অ্যাপের মাধ্যমে রিসোর্সে সহজ প্রবেশাধিকার নিশ্চিত করা ও স্বচ্ছতা বাড়ানো।
- শিক্ষক মূল্যায়ন পদ্ধতিকে আরও কার্যকর করা এবং প্রতিটি বিভাগে উন্নত বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর আদলে ‘মেন্টরশিপ প্রোগ্রাম’ চালু করা। প্রত্যেক ফ্যাকাল্টিতে ই-লাইব্রেরি ও কম্পিউটার সেন্টার স্থাপন করা।
- শিক্ষার্থীদের নিয়ে রিসার্চ-বিষয়ক কর্মশালা করা। আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা ফেস্ট আয়োজন করা। স্মল রিসার্চ গ্র্যান্ট ও রিসার্চ ট্রাভেল গ্র্যান্ট চালু করা। গবেষণার পরিবেশ নিশ্চিত করা ও গবেষণা সহজলভ্য করা। নিয়মিত সেমিনার ও কনফারেন্স আয়োজন করা এবং উচ্চমানের প্রকাশনা নিশ্চিত করা।
- কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, বিজ্ঞান লাইব্রেরি, হল লাইব্রেরি ও পাঠকক্ষ এবং ডিপার্টমেন্টের সেমিনার কক্ষ সম্প্রসারণ করা। এগুলোর আধুনিকায়ন নিশ্চিত করে রিসোর্সগুলো শিক্ষার্থীদের জন্য আরো সহজলভ্য করা। লাইব্রেরিসমূহ ডিজিটালাইজেশনের আওতায় নিয়ে আসা।
- সফট স্কিল ডেভেলপমেন্টের ওপর ওয়ার্কশপ আয়োজন করা। উচ্চশিক্ষা ও ক্যারিয়ার-বিষয়ক সেমিনার, কর্মশালার পাশাপাশি ক্যাম্পাসে জব ফেয়ার আয়োজন করা। তরুণ উদ্যোক্তাদের নিয়ে স্টার্ট-আপ সামিট আয়োজন করা।
- অ্যালামনাই নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা।
- কেন্দ্রীয় মসজিদ, হল মসজিদ, মন্দির ও অন্যান্য উপাসনালয়গুলোর অবকাঠামোগত সংস্কার ও উন্নয়ন করা। ছাত্রীদের ইবাদতের জন্য একাডেমিক এরিয়া বিশেষ করে কার্জন হল এলাকায় উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিতকরণ।
- মানসিক স্বাস্থ্যসেবা ও কাউন্সেলিং সেবার পরিসর বাড়ানো।
- বিশ্ববিদ্যালয় মেডিকেল সেন্টার ও সেবা আধুনিকীকরণের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার মান বৃদ্ধি করা এবং ডিইউএমসি অ্যাপ চালুর মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বেশি সহজলভ্য করা। মেডিকেল সেন্টারে চুক্তিভিত্তিক বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিয়োগ দেওয়া। বিশেষ করে স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ নারী চিকিৎসকের ব্যবস্থা করা।
- সারাদেশে বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালের সঙ্গে এমওইউ করার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ও তার অভিভাবকদের চিকিৎসা ব্যয়ের ওপর বিশেষ ছাড়ের ব্যবস্থা করা। স্বাস্থ্য বিমা কেন্দ্রিক ভোগান্তি নিরসনে প্রশাসন ও বিমা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করা। হলভিত্তিক প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা চালু করা। ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে প্রয়োজনসাপেক্ষে ফার্মেসি স্থাপন করা।
- শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য ‘অদম্য মেধাবী শিক্ষাবৃত্তি’ চালু করা।
- আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটকে বৈশ্বিক মানদণ্ডে উন্নীত করা। প্রত্যেক ভাষায় অন্তত একজন বিদেশি শিক্ষক চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া। ল্যাংগুয়েজ রিসার্চ সেন্টার প্রতিষ্ঠা করা।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষণা খাতে বরাদ্দ বাড়িয়ে ল্যাবগুলোতে উন্নত ও আধুনিক যন্ত্রপাতি নিশ্চিত করা। সায়েন্স ওয়ার্কশপ, কারস এবং ঢাবির সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড রিসার্চ ইন আর্টস অ্যান্ড সোশ্যাল সায়েন্সেস আধুনিকায়ন নিশ্চিত করা। গবেষণা সহায়ক সফটওয়্যার ও টুলসগুলো সহজলভ্যতা নিশ্চিত করা। বিশেষত, ইনস্টিটিউট অব লেদার ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড টেকনোলজির (আইএলইটি) ল্যাবে আধুনিক মেশিনারিজ ক্রয় করা মাধ্যমে ল্যাবের কার্যকারিতা বৃদ্ধি ও ইন্ডাস্ট্রির সঙ্গে সমন্বয় করার মাধ্যমে চামড়া শিল্পে অবদান রাখার সুযোগ ক্ষেত্র বৃদ্ধি করা।
- ক্যাম্পাসের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখার লক্ষে্য বহিরাগত যান-নিয়ন্ত্রণ, ভাসমান হকার ভবঘুরেদের উচ্ছেদ করা। ক্যাম্পাস এরিয় রেজিস্ট্রার্ড রিকশা প্রবর্তন ও ভাড়া তালিকা প্রণয় করা।
- হয়রানি ও সাইবার-বুলিং প্রতিরোধে জিরো অভিযোগ মেল শক্তিশালীকরণ ও আইনি সহায়তা
- ক্যাম্পাসের একাডেমিক ভবনায়লাকে ফ্রি অসট্রুয়াল চাইজিন প্রোডাক্ট’ সাজলতা করা।
- হলভিত্তিক সমস্যা সমাধানে গ্রিডেন্স রেসপন্স টিম গঠন করা এবং ক্যাম্পাস প্রতিনিধি নিয়োগ করা। নির্যাতনের অভিযোগ দায়ের করা এ ভিক্টিমদের সাপোর্টের জন্য ভিক্টিম সমপাট সেল গঠন।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের মেইলের সহজলভ্যতা বাড়ানো। ই-মেইলের মাধ্যমে বিডির জানাল, সাময়িকী ও ওয়েবসাইটে এক্সেস রাখা এবং বিডির অ্যাকাডেমিক অ্যাপের প্রিমিয়াম অ্যাক্সোস নিশ্চিত করা। অ্যালামনাইদের জন্য অফিসিয়াল ই-মেইলের ব্যবস্থা করা।
- জরাজীর্ণ বাসগুলো বাদ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনায় নতুন বাস ক্রয় করা। মোবাইল অ্যাপে রিয়েলটাইম ট্র্যাকিংয়ের ব্যবস্থা করা। বাসের সংখ্যা ও ট্রিপ বৃদ্ধির পাশাপাশি নতুন রুট বৃদ্ধি করা। অভ্যন্তরীণ পরিবহন ব্যবস্থা উন্নয়নের জন্য শাটল চালু করা।
- বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে সারাদেশের সব প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও আইনজীবীদের অন্তর্ভুক্ত করে "লিগ্যাল হেল্প ডেস্ক" স্থাপন করা।
- শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্রের অবকাঠামোগত আধুনিকায়ন, এক্সপার্ট কিউরেটরের মাধ্যমে মাঠ পরিচর্যা এবং বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিক্ষার্থীদের জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা আয়োজন করা। হল পর্যায়ে শারীরিক শিক্ষা কার্যক্রমের আধুনিকায়ন ও ইনডোর গেমসের আওতা বাড়ানো।
- টিএসসির অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করা। চিএসসির নিকটবর্তী ছাত্রী হল ও কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের অবস্থান বিবেচনায় সাইন্ড বক্স ব্যবহারের ক্ষেত্রে নীতিমালা প্রণয়ন।
- শারীরিক প্রতিবন্ধকতা সম্পন্ন শিক্ষার্থীদের উপযোগী ক্লাসরুম ও একাডেমিক কার্যক্রম নিশ্চিত করা। তাদের জন্য ওয়াশরুমে বিশেষ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।
- নারী শিক্ষার্থীদের জন্য ‘সেলফ ডিফেন্স প্রশিক্ষণ’-এর আয়োজন করা।
- হলগুলোতে কর্মচারীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা এবং কর্মচারী মূল্যায়ন পদ্ধতি চালু করা।
- পরিবেশ ও প্রতিবেশের সংরক্ষণ, শব্দ দূষণ রোধ, সুষ্ঠু ট্র্যাফিক ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে পরিচ্ছন্ন গ্রিন ক্যাম্পাস গঠন করা। ক্যাম্পাসের পরিচ্ছন্নতা রক্ষার্থে প্রতি মাসের শেষ সপ্তাহে পরিচ্ছন্নতা অভিযান পরিচালনা করা।
- সাংস্কৃতিক ও বুদ্ধিবৃত্তিক আধিপত্যবাদ মোকাবিলায় এই অঞ্চলের মানুষের নিজস্ব সংস্কৃতির বিকাশে কাজ করা।
হ্যাঁ এবং না অঙ্গীকার
ইশতেহারের পাশাপাশি স্বপ্নের ক্যাম্পাস গড়ার পথযাত্রী, আমরা থামব না স্লোগানকে ধারণ করে ৬টি হ্যাঁ এবং ৬টি না ধারণায় অঙ্গীকার দিয়েছে তারা।[২৩][২৪][২৫]
| নাম্বার | হ্যাঁ অঙ্গীকারটেমপ্লেট:Y | না অঙ্গীকারটেমপ্লেট:N |
|---|---|---|
| ১ | নিরাপদ ক্যাম্পাস | কর্তৃত্ববাদী রাজনীতি এবং নির্যাতন ও সহিংসতা |
| ২ | আবাসন সংকট সমাধান | গণরুম-গেস্টরুম কালচার |
| ৩ | নারী শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা | বৈষম্যমূলক নীতি ও আচরণ |
| ৪ | চিকিৎসা সুবিধা ও স্বাস্থ্যসম্মত খাবার | মাদক, ছিনতাই এবং চাঁদাবাজি |
| ৫ | উন্নত পরিবহন | “লাঞ্চের পর আসেন” কালচার |
| ৬ | ক্যারিয়ার গঠনে পর্যাপ্ত তথ্য ও সেবা | ইসলামোফোবিয়া ও সাইবার বুলিং |
ঘটনা প্রবাহ
- গত ২১(বৃহস্পতিবার) আগষ্ট এই প্যানেল যুক্ত হওয়া ইনকিলাব মঞ্চের নেত্রীকে সোশ্যাল মিডিয়ায় অব্যাহত ভাবে গালাগাল ও কটুক্তি করায় জোটের নেতা আবু সাদিক কায়েম তার ভেরিফাইড ফেসবুকে এর প্রতিবাদ করে।[২৬] এবং তিনি বলেন; টেমপ্লেট:উক্তি[২৭][২৮][২৯]
- গত ২৩ (শনিবার) আগষ্ট একটি গণমাধ্যম সাক্ষাৎকারে সাদিক কায়েম বলেন; “সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রধান ও পূর্বশর্ত হচ্ছে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা। এ ক্ষেত্রে আমরা কিছুটা শঙ্কিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল প্রশাসন একটি নির্দিষ্ট দলকে বেশি প্রতিনিধিত্ব করছে এবং তারা একটি বিশেষ আদর্শ লালন করছে।”[৩০]
- গত ৩১(রবিবার) আগষ্ট ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের মনোনীত জিএস প্রার্থী এস এম ফরহাদের প্রার্থিতার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে বিচারপতি হাবিবুল গণির নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চে রিট দায়ের করে বামজোট মনোনীত প্যানেলের মুক্তিযুদ্ধ ও গণতান্ত্রিক আন্দোলন বিষয়ক সম্পাদক প্রার্থী বিএম ফাহমিদা আলম। ২রা সেপ্টেম্বর রিটের পক্ষে শুনানি করবেন ব্যারিস্টার জ্যোর্তিময় বড়ুয়া আর এস এম ফরহাদের পক্ষে শুনানি করবেন অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ শিশির মনির।[৩১][৩২][৩৩][৩৪][৩৫][৩৬]
গণসংযোগ
প্রচার প্রচারণা
২৬ আগস্ট ডাকসু নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যানার ভাঙচুর করে চারুকলা অনুষদের কয়েকজন। এ বিষয়ে ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের জিএস পদপ্রার্থী এসএম ফরহাদ বলেন, প্রচারণার প্রথম দিনই আমাদের ফেস্টুন ফেলে দেওয়া হয়েছে। এটি অত্যন্ত দুঃখজনক। নির্বাচন কমিশনের উচিৎ দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের শাস্তির ব্যবস্থা করা।[৩৭][৩৮]
ডাকসু নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ফেস্টুন ফেলে দেওয়া ও ছবি বিকৃতির ঘটনায় মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) বিবৃতি দিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ ও ক্ষোভ জানিয়েছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এবং ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটও।[৩৯][৪০]
অভিযোগ
- গত ৩১ আগস্ট (রবিবার) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডাকসু ভবনের নিচে জরুরি সংবাদ সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করে সাদিক কায়েম বলেন, আমাদের জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে চরিত্র হনন করা হচ্ছে। ঐক্যবদ্ধ জোট প্যানেলের প্রার্থীদের সাইবার বুলিং করা হচ্ছে।[৪১][৪২][৪৩][৪৪]
আরও দেখুন
তথ্যসূত্র
- ↑ ডাকসুতে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মনোনয়নপত্র দাখিল
- ↑ ডাকসুতে ছাত্র শিবিরের প্যানেল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
- ↑ ‘ইনক্লুসিভ’ প্যানেল শিবিরের, নেতৃত্বে সাদিক-ফরহাদ
- ↑ প্যানেল ঘোষণার পর যা বললেন শিবিরের ভিপি প্রার্থী
- ↑ ডাকসুতে শিবিরের প্যানেলে ৪ নারী শিক্ষার্থী, কে কোন পদে
- ↑ ডাকসুতে শিবিরের প্যানেলেন নাম ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
- ↑ সাদিক-ফরহাদের নেতৃত্বে ডাকসুতে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের মনোনয়নপত্র দাখিল
- ↑ ছাত্রদল ও বাগছাসের প্যানেল ঘোষণা হতে পারে আজ, শিবিরের প্রার্থী সাদিক
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ৫ প্যানেলে
- ↑ ডাকসুতে শিবিরের প্যানেলে ৪ নারী শিক্ষার্থী, কে কোন পদে?
- ↑ ‘বড় নেতা হয়েছেন, শিক্ষার্থীর ভাগ্য বদলায়নি’: সাদিক কায়েমের অভিযোগ - Sabah News
- ↑ ডাকসুকে ব্যবহার করে বড় নেতা হয়েছেন, শিক্ষার্থীদের উন্নয়ন হয়নি: সাদিক কায়েম | শিক্ষা
- ↑ ডাকসুতে শিবিরের প্যানেলে ৪ নারী শিক্ষার্থী, কে কোন পদে?
- ↑ ডাকসু: শিবিরের জোটের প্রার্থী হওয়া নিয়ে যা বললেন সর্ব মিত্র চাকমা | শিক্ষা
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রশিবিরের পূর্ণাঙ্গ প্যানেল ঘোষণা
- ↑ ডাকসু নির্বাচন: সেই তন্ময়কে প্যানেল থেকে বাদ দিল ছাত্রশিবির
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে শিবিরের প্যানেলে নারীসহ সব ধর্মের শিক্ষার্থী থাকবে:শিবির সভাপতি
- ↑ প্যানেল ঘোষণার পর যা বললেন সাদিক কায়েম
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে ৩৬ দফার ইশতেহার দিল শিবির প্যানেল, যা আছে
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’ প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে শিবির প্যানেলের ইশতেহার ঘোষণা
- ↑ ডাকসু নির্বাচন : ইশতেহার ঘোষণা করল ‘ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোট’
- ↑ ডাকসু নির্বাচন: ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ইশতেহার ঘোষণা
- ↑ ডাকসু নির্বাচন: ছাত্রশিবিরের ইশতেহার ঘোষণা
- ↑ ডাকসু নির্বাচন: শিবিরের নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা
- ↑ নারীরা নির্ভয়ে চলবে এমন একটি ক্যাম্পাস চাই: সাদিক কায়েম
- ↑ নারীদের জন্য নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রতিজ্ঞা সাদিক কায়েমের
- ↑ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আমরা কিছুটা শঙ্কিত
- ↑ নারীদের জন্য নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয় গড়ার প্রতিজ্ঞা সাদিক কায়েমের
- ↑ লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিয়ে আমরা কিছুটা শঙ্কিত
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে এস এম ফরহাদের জিএস প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
- ↑ এস এম ফরহাদের জিএস প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
- ↑ শিবিরের ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
- ↑ নিজের বিরুদ্ধে রিট দায়েরকারীকে শুভেচ্ছা জানালেন ফরহাদ
- ↑ ডাকসুর জিএস প্রার্থী ফরহাদের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
- ↑ ডাকসু নির্বাচনে এস এম ফরহাদের জিএস প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে রিট
- ↑ ডাকসু নির্বাচন: প্রচারণার প্রথম দিনেই ছাত্রশিবির সমর্থিত ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের ব্যানার ভাঙচুর
- ↑ প্রচারণার প্রথম দিনই শিবিরের ব্যানার ভাঙচুর
- ↑ প্রচারণার প্রথম দিনেই শিবিরের ফেস্টুন ভাঙচুর, ছবি বিকৃতি করলো দুর্বৃত্তরা
- ↑ ডাকসু নির্বাচনের ফেস্টুনে হামলায় ঐক্যবদ্ধ শিক্ষার্থী জোটের উদ্বেগ
- ↑ জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে চরিত্র হনন করা হচ্ছে
- ↑ ঈর্ষান্বিত হয়ে চরিত্রহননের চেষ্টা চলছে: সাদিক কায়েম
- ↑ জনপ্রিয়তায় ঈর্ষান্বিত হয়ে চরিত্র হনন করা হচ্ছে: সাদিক কায়েম
- ↑ যারা দিল্লির বয়ান শোনাচ্ছে, শিক্ষার্থীরা তাদের লালকার্ড দেখাবে: সাদিক কায়েম