কাজী অনিরুদ্ধ

ভিকিটিয়া থেকে
কাজী অনিরুদ্ধ
চিত্র:ছবিতে কাজী অনিরুদ্ধ.jpg
ছবিতে কাজী অনিরুদ্ধ
জন্ম তারিখ (১৯৩১-১২-২৪)২৪ ডিসেম্বর ১৯৩১
জন্মস্থান কলকাতা বেঙ্গল প্রেসিডেন্সি (বর্তমানে পশ্চিমবঙ্গ)
মৃত্যু তারিখ ২২ ফেব্রুয়ারি ১৯৭৪(1974-02-22) (বয়স ৪২)
মৃত্যুর স্থান কলকাতা, পশ্চিমবঙ্গ, ভারত
পেশা গিটারবাদক
কর্মজীবন ১৯৫৪ - ১৯৭৪
পিতা-মাতা কাজী নজরুল ইসলাম (পিতা)
প্রমীলা দেবী (মাতা)
দাম্পত্য সঙ্গী কল্যাণী কাজী (বি.১৯৫৫, মৃ .২০২৩)[১]
সন্তান কাজী অনির্বাণ(পুত্র);
কাজী অরিন্দম (পুত্র);
অনিন্দিতা কাজী (কন্যা)

কাজী অনিরুদ্ধ ছিলেন একজন খ্যাতনামা বাঙালি গিটারবাদক। বাংলা সাহিত্য ও সঙ্গীত জগতের অন্যতম বিস্ময়কর বিদ্রোহী কবি কাজী নজরুল ইসলামের কনিষ্ঠ পুত্র এবং আবৃত্তিকার কাজী সব্যসাচী অনুজ ছিলেন তিনি।[২] বাংলার সুরের আকাশে গিটারযন্ত্রের শিল্পসাধনায় অনিরুদ্ধ আপন প্রতিভায় ছিলেন ভাস্বর।

সংক্ষিপ্ত জীবনী

মাতা প্রমীলা দেবী তাকে 'নিনি' নামে সম্বোধন করতেন।

অতি শৈশব থেকেই পিতার কাছে অনিরুদ্ধের সঙ্গীত শিক্ষা। কলেজে পড়ার সময় তিনি প্রখ্যাত গিটারবাদক সুজিত নাথের কাছে গিটার শিক্ষা গ্রহণ করেন। কিন্তু পিতামাতার অসুস্থতার কারণে ও আর্থিক অনটনে তাঁর সঙ্গীত শিক্ষায় ব্যাঘাত ঘটে। এরই মাঝে ১৯৫২ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে রাঁচিতে অপ্রত্যাশিতভাবেই কল্যাণীর সঙ্গে তার প্রথম আলাপে প্রেম ও পরে ১৯৫৫ খ্রিস্টাব্দের ২৪ ডিসেম্বর শুরু হয় তাদের বিবাহিত জীবন।[২] 'নজরুল নিরাময় সমিতি'র সংগৃহীত অর্থে অসুস্থ পিতা ও মাতার বিদেশে চিকিৎসার ব্যবস্থা হলে তিনি তাদের সঙ্গী হয়ে ১৯৫৩ খ্রিস্টাব্দের ১০ মে সমুদ্রপথে প্রথমে লন্ডন ও পরে ভিয়েনা যান।[৩]প্রায় বছর দেড়েক বিদেশে থাকাকালীন তিনি পাশ্চাত্য সঙ্গীত সন্বন্ধে জ্ঞান অর্জন করেন। দেশে ফিরে তিনি গিটার, পিয়ানো, অ্যকডিয়ন ও পারকাসনের একটি অর্কেস্ট্রা পার্টির সদস্য হন। অনিরুদ্ধ নিজের প্রতিভা বলে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষার মাধ্যমে বিদেশী বাদ্যযন্ত্র গীটারকে দেশে জনপ্রিয়তার শীর্ষে নিয়ে গিয়েছিলেন। তিনি কিছু বাংলা ছায়াছবির সঙ্গীত পরিচালনার কাজ করেন। আকাশবাণী কলকাতা কেন্দ্রের তিনি জনপ্রিয় গিটারিস্ট ছিলেন। বেতার অনুষ্ঠানে 'ফিলার'-এ তার গিটারের সুর বাজত। এরপর এইচএমভি থেকে বহু গিটার বাদ্যের রেকর্ড করেন।

জীবনাবসান

কাজী নজরুল ইসলামের জীবদ্দশায়, ১৯৭৪ খ্রিস্টাব্দের ২২ ফেব্রুয়ারি মাত্র ৪৩ বৎসর বয়সে বাংলা সঙ্গীত জগতের খ্যাতনামা গিটারিস্ট তার দুই পুত্র- (কাজী অনির্বাণ, কাজী অরিন্দম কন্যা অনিন্দিতা কাজী ও সহধর্মিণী বিশিষ্ট নজরুলগীতি শিল্পী কল্যাণী কাজীকে রেখে কলকাতায় অকালে প্রয়াত হন।[১] কাজী নজরুল পরিবারের সদস্যদের কাছে থেকে দেখে কল্যাণী তার নিজের অভিজ্ঞতা নিয়ে লেখেন- অন্তরঙ্গ অনিরুদ্ধ শীর্ষক গ্রন্থ।[২]

তথ্যসূত্র