জাদুঘর

ভিকিটিয়া থেকে

জাদুঘর বা সংগ্রহালয় হলো একটি প্রতিষ্ঠান বা ভবন, যেখানে পুরাতাত্ত্বিক নিদর্শন সংগ্রহ ও সংরক্ষণ থাকে।[১] বৈজ্ঞানিক, শৈল্পিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বসম্পন্ন বস্তুসমূহ সংগ্রহ, সংরক্ষণ এবং প্রদর্শন করা হয়। এসব বস্তু প্রদর্শনীর জন্য প্রদর্শ আধার (ডিসপ্লে কেস) ব্যবহার করে স্থায়ী অথবা অস্থায়ীভাবে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়। বিশ্বের অধিকাংশ বৃহৎ জাদুঘর প্রধান শহরগুলোতে অবস্থিত। তবে ছোট শহর, মফস্বল কিংবা গ্রামাঞ্চলেও স্থানীয় উদ্যোগে জাদুঘর গড়ে উঠতে দেখা যায়। অতীতে জাদুঘরের সূচনা হয় ধনী ব্যক্তিদের ব্যক্তিগত বা পারিবারিক সংগ্রহ এবং প্রাতিষ্ঠানিক উদ্যোগের মাধ্যমে। এসব প্রাথমিক জাদুঘরে শিল্পকর্ম, দুষ্প্রাপ্য প্রাকৃতিক বস্তু ও পুরাবস্তু সংরক্ষিত থাকত। সারা বিশ্বেই জাদুঘরের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায়। উল্লেখযোগ্যভাবে, প্রাচীন আলেকজান্দ্রিয়ার জাদুঘরকে আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক রূপ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

ব্যুৎপত্তি

বিশিষ্ট অভিধানকার জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশের মতে, বাংলায় "জাদুঘর" কথাটি আরবি "আজায়ব্ [ঘর/খানা]" শব্দটির সঙ্গে তুলনীয়। বাংলায় "জাদুঘর" কথাটির অর্থ হল, "যে গৃহে অদ্ভুত অদ্ভুত পদার্থসমূহের সংগ্রহ আছে এবং যা দেখিয়া মন্ত্রমুগ্ধবৎ হ’তে হয়।"[২] আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান মতে, "জাদুঘর" শব্দের অর্থ, "যে-ঘরে নানা অত্যাশ্চর্য জিনিস বা প্রাচীন জিনিস সংরক্ষিত থাকে।"[৩]

ইংরেজি "museum" ("মিউজিয়াম") শব্দটি এসেছে লাতিন শব্দ থেকে। ইংরেজি বহুবচনে এই শব্দের রূপটি হল "museums" (বা অপ্রচলিত শব্দ, "musea")। শব্দটির মূল উৎস গ্রিক শব্দ Μουσεῖον (Mouseion); যার অর্থ গ্রিক পুরাণের শিল্পকলার পৃষ্ঠপোষক মিউজদের মন্দির। প্রাচীন গ্রিসে এই জাতীয় মন্দিরগুলিকে কেন্দ্র করে পাঠাগার ও শিল্প পুরাকীর্তির সংগ্রহশালাও গড়ে উঠতে দেখা যেত।[৪] ২৮০ খ্রিষ্টপূর্বাব্দে আলেকজান্দ্রিয়ায় টলেমি প্রথম সোটার প্রতিষ্ঠিত দর্শন মিউজিয়াম (প্রতিষ্ঠান) ছিল এই জাতীয় একটি জাদুঘর।[৫] অ্যাথেন্সে প্লেটো প্রথম একটি মিউজিয়াম গ্রন্থাগার গড়ে তুলেছিলেন।[৬] যদিও পসেনিয়াসের রচনায় অন্য একটি স্থানকে "মিউজিয়াম" বলে অভিহিত করা হয়েছে। এটি হল ধ্রুপদি অ্যাথেন্সে অ্যাক্রোপোলিশের বিপরীত দিকে অবস্থিত একটি ছোটো পাহাড়। কথিত আছে, মউসিয়াস নামে এক ব্যক্তি এই পাহাড়ে বসে গান গাইতেন। বৃদ্ধ বয়সে তিনি সেখানেই মারা যান এবং সেই পাহাড়েই তাকে সমাধিস্থ করা হয়। তার নামানুসারে পাহাড়টির নামকরণ হয়েছিল "মউসিয়ন" ("Mouseion")।[৭]

ভারতীয় জাদুঘর,কলকাতা

আরও দেখুন

পাদটীকা

  1. Edward Porter Alexander, Mary Alexander; Museums in motion: an introduction to the history and functions of museums Rowman & Littlefield, 2008 টেমপ্লেট:আইএসবিএন.
  2. জ্ঞানেন্দ্রমোহন দাশ, বাঙ্গালা ভাষার অভিধান, প্রথম ভাগ, সাহিত্য সংসদ, কলকাতা, ১৯৮৬ সংস্করণ, পৃ. ৮৫০
  3. আকাদেমি বিদ্যার্থী বাংলা অভিধান, পশ্চিমবঙ্গ বাংলা আকাদেমি, কলকাতা, ২০০৯, পৃ. ৩২৭
  4. লুয়া ত্রুটি package.lua এর 80 নং লাইনে: module 'মডিউল:উদ্ধৃতি/পরামর্শ' not found।
  5. Ptolemy I Soter, The First King of Ancient Egypt's Ptolemaic Dynasty
  6. Mouseion, def. 3, Henry George Liddell, Robert Scott, A Greek-English Lexicon, at Perseus
  7. Peter Levi, Pausanias Guide to Greece 1: Central Greece, p. 72-73 (Paus. 1.25.2)

অতিরিক্ত পঠন

'.




বহিঃসংযোগ