জাহিদুজ্জামান তানভীন

ভিকিটিয়া থেকে
জাহিদুজ্জামান তানভীন
জন্ম তারিখ টেমপ্লেট:Birth date
জন্মস্থান নবীনগর, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, বাংলাদেশ
মৃত্যু তারিখ টেমপ্লেট:Death date and age
মৃত্যুর স্থান আজমপুর, উত্তরা, ঢাকা,বাংলাদেশ
জাতীয়তা বাংলাদেশী
পেশা উদ্যোক্তা, উদ্ভাবক
মাতৃশিক্ষায়তন ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (IUT)
পিতা-মাতা মো. সামছুজ্জামান (পিতা), বিলকিস জামান (মাতা)

জাহিদুজ্জামান তানভীন (১৩ অক্টোবর ১৯৯৯ - ১৮ জুলাই ২০২৪)ছিলেন একজন বাংলাদেশি উদ্ভাবক এবং উদ্যোক্তা, যিনি প্রযুক্তিতে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক খ্যাতি অর্জন করেন। তিনি গাজীপুর ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই ঢাকার উত্তরার আজমপুর এলাকায় কোটা সংস্কারের আন্দোলনে পুলিশের সাথে সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। তার মৃত্যু সংবাদ দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়লে আন্দোলন আরও তীব্র হয়। [১] [২]

ব্যক্তিগত জীবন ও শিক্ষা

জাহিদুজ্জামান তানভীন ১৯৯৯ সালের ১৩ অক্টোবর গাজীপুর জেলার টঙ্গী থানায় তার নানাবাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার রতনপুর ইউনিয়নের ভিটি-বিশাড়া গ্রামে। তাঁর বাবা মো. শামসুজ্জামান ঢাকায় টোয়া করপোরেশন নামে একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। মা বিলকিস জামান গৃহিণী। বড়বোন জেসিকা জামান আয়েশা যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তর করছেন। জাহিদুজ্জামান মা-বাবার সঙ্গে উত্তরার আজমপুর এলাকায় থাকতেন। তিনি গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির যন্ত্র প্রকৌশল (মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং) বিভাগ থেকে ২০২২ সালে স্নাতক সম্পন্ন করেন। এরপর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে স্নাতকোত্তরে পড়তে যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন।[৩] [৪]

অর্জন ও সাফল্য

জাহিদুজ্জামান তানভীন ছিলেন একজন উদ্ভাবনী মেধাবী তরুণ। তিনি মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় জিপিএ-৫ অর্জন করেন এবং ২০২২ সালে গাজীপুরের ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির (IUT) মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। তানভীন তার তিন বন্ধুর সঙ্গে মিলে “অ্যান্টস” নামক ড্রোন প্রস্তুতি ও বিক্রয়ের প্রথম দেশীয় প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলেন, যেখানে তিনি চিফ টেকনিক্যাল অফিসার ছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি বাণিজ্যিক ড্রোন সেবায় সুনাম অর্জন করে। তিনি স্কুল জীবনেই নাসা আয়োজিত ইউরোপিয়ান রোভার চ্যালেঞ্জে বিশ্বে দশম ও এশিয়ায় প্রথম স্থান অর্জন করেন। পরবর্তীতে IUT-তে পড়ার সময় তিনি এবং তার দল বুয়েটের নেভাল ডিপার্টমেন্ট আয়োজিত প্রতিযোগিতাগুলোতে একাধিকবার শীর্ষ পুরস্কার অর্জন করেন। বিশ্ববিখ্যাত ইনস্টিটিউশন অব মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং আয়োজিত ইউএএস এয়ারক্রাফট সিস্টেম কম্পিটিশনে তানভীনের দল চ্যাম্পিয়ন হয় এবং ছয়টি পুরস্কারের মধ্যে তিনটি জিতে নেন। ২০২১ সালে বঙ্গবন্ধু ইনোভেশন গ্র্যান্ড প্রতিযোগিতা থেকে ১০ লাখ টাকার অনুদান পেয়ে তানভীন তার ড্রোন প্রস্তুতির প্রতিষ্ঠান “অ্যান্টস” প্রতিষ্ঠা করেন। প্রযুক্তি ছিল তানভীনের ধ্যান-জ্ঞান, এবং তিনি ব্যবসার মাধ্যমে দেশের জন্য অবদান রাখতে চেয়েছিলেন। তানভীনের স্বপ্ন ছিল দেশেই থেকে নতুন কিছু করা এবং সফল উদ্যোক্তা হওয়া। [৫] [৬]

২০২৪ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে তার ভূমিকা ও মৃত্যু

তানভীন কোটা সংস্কার আন্দোলনের শুরু থেকেই সক্রিয়ভাবে যুক্ত ছিলেন। তিনি তার বন্ধুদের সাথে আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই দুপুরে ব্যাংকের এটিএম বুথ থেকে টাকা তুলতে বাইরে যান এবং উত্তরার আজমপুরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে যুক্ত হন। এক পর্যায়ে পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের সংঘর্ষের মাঝে গুলিবিদ্ধ হন তানভীন। বুলেট তার গলার পাশ ছিদ্র করে বেরিয়ে যায় এবং অসংখ্য ছররা গুলি তার বুকে আঘাত করে। ঘটনাস্থলেই তিনি শহীদ হন। পরে উত্তরায় অবস্থিত বাংলাদেশ কুয়েত-মৈত্রী হাসপাতালে তার লাশ পাওয়া যায়। [৭] [৮]

কিংবদন্তি

শহিদ তানভীনকে স্মরণীয় করে রাখতে রাজশাহী জেলার গোদাগাড়ি উপজেলায় অবস্থিত গোল চত্বরের নাম পরিবর্তন করে ‘শহিদ তানভীন চত্বর’ রাখা হয়েছে। আগে এই চত্বরের নাম ছিল ফিরোজ গোল চত্বর। এছাড়া দুটি গাছও সেখানে লাগানো হয়েছে। [৯]

তথ্যসূত্র

টেমপ্লেট:বাংলাদেশে কোটা সংস্কার আন্দোলন টেমপ্লেট:ছাত্র–জনতার গণঅভ্যুত্থান ২০২৪