নারী

নারী বা মহিলা বলতে একজন প্রাপ্তবয়স্কা স্ত্রী-মানুষকে বোঝায়, আর প্রাপ্তবয়স্কা হওয়ার পূর্বে স্ত্রী-মানুষ "বালিকা" নামে পরিচিতা।[১][২]
সাধারণত নারীদেহে দুটি এক্স ক্রোমোজোম থাকে এবং তারা বয়ঃসন্ধি থেকে রজোনিবৃত্তি পর্যন্ত গর্ভধারণ করতে ও প্রসব দিতে সক্ষমা। মানব স্ত্রী প্রজননতন্ত্রের মাধ্যমে পুরুষ ও নারীদেহের মধ্যে পৃথক করা হয়। নারীদের প্রজননতন্ত্রের মধ্যে রয়েছে ডিম্বাশয়, ফ্যালোপিয়ান নালি, জরায়ু, যোনি এবং ভালভা। প্রাপ্তবয়স্কাদের শ্রোণিচক্র ও নিতম্ব চওড়া এবং স্তন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষদের তুলনায় বড় হয়ে থাকে। নারীদের মুখের এবং অন্যান্য শরীরের লোম উল্লেখযোগ্যভাবে কম হয়, শরীরে চর্বি বেশি থাকে, পুরুষদের তুলনায় গড় উচ্চতা কম হয় এবং শরীররে পেশি কম থাকে।
মানব ইতিহাস জুড়ে লিঙ্গ দৃঢ়বদ্ধতা প্রায়ই নারীদের কার্যকলাপ ও সুযোগকে সীমিত করেছে; অনেক ধর্মবাদ নারীদের উপর নির্দিষ্ট কিছু বিধিনিষেধ আরোপ করে। বিংশ শতাব্দীতে অনেক সমাজে এরকম বিধিনিষেধ শিথিল হতে থাকে এবং এর ফলে নারীরা প্রথাগত গৃহকর্মের বাইরের জীবিকায় প্রবেশ করতে শুরু করে আর উচ্চ শিক্ষা অর্জনের অধিকার পায়। নারীর প্রতি সহিংসতার একটি দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে এবং এটি প্রাথমিকভাবে পুরুষেরাই করে থাকে, তা সে পরিবারেই হোক বা সম্প্রদায়ের মধ্যেই হোক। কিছু নারী তো প্রজনন অধিকার থেকেও বঞ্চিত হয়। নারীবাদী আন্দোলন এবং মতাদর্শের মধ্যে লৈঙ্গিক সমতা অর্জনের একটি যৌথ লক্ষ্য রয়েছে।
রূপান্তরকামী নারীরা এমন একপ্রকার লিঙ্গ পরিচয় প্রকাশ করে যা জন্মগতভাবে প্রাপ্ত পুংলিঙ্গ পরিচয়ের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অন্যদিকে, আন্তঃলিঙ্গ নারীদের এমন যৌন বৈশিষ্ট্য থাকতে পারে যা সাধারন নারীদের শারীরিক বৈশিষ্ট্যের সাথে খাপ খায় না।
ব্যুৎপত্তি
"নারী"[৩][৪] ও "মহিলা"[৫][৬] উভয়ই তৎসম শব্দ, অর্থাৎ সংস্কৃত ভাষা থেকে সরাসরি গৃহীত। "নারী" (नारी) শব্দকে সাধারণত "নর" (नर, অর্থ "মানুষ" বা "পুরুষ মানুষ") শব্দের স্ত্রীলিঙ্গ হিসাবে চিহ্নিত করা হয়,[৩][৪] তবে বিজয় চন্দ্র মজুমদারের মতে, "বেদের ভাষার মধ্যে যাহা প্রাচীনতম সেই ভাষার স্ত্রীজাতির সাধারন নাম ছিল 'নারী'; এই নারী শব্দ 'নর' শব্দের স্ত্রীলিঙ্গের রূপ নহে। নর শব্দটি সুপ্রাচীন বেদ-সংহিতায় প্রচলিত নাই। যে যুগে নর শব্দ ছিল না, কিন্তু নৃ শব্দ ছিল, সেই যুগেই স্ত্রীজাতি বুঝাইবার জন্য নারী শব্দের যথেষ্ট প্রচলন ছিল..."।[৭]
ভারতবিদ মনিয়ার মনিয়ার-উইলিয়ামসের মতে "মহিলা" (महिला) শব্দটি √মহ্ (√मह्) ধাতু থেকে আগত, যার অর্থ "মহৎ", "মহান"।[৮]
পরিভাষা
বাংলায় "নারী" ও "মহিলা" বলতে যেকোনো স্ত্রী-মানুষকেই বোঝাতে পারে, তবে প্রাপ্তবয়স্কা-অপ্রাপ্তবয়স্কাদের মধ্যে পার্থক্যের সময় "নারী" ও "মহিলা" বলতে প্রাপ্তবয়স্কা এবং "বালিকা" বলতে অপ্রাপ্তবয়স্কাদের বোঝায়।
বিংশ শতাব্দীর শুরু থেকে নারীরা আরও অধিকার অর্জন করেছে এবং কর্মক্ষেত্রে তাদের প্রতিনিধিত্ব বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে সামাজিক বিজ্ঞানের ভাবনায় নারী হওয়ার অর্থ গুরুত্বপূর্ণভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ১৯৭০-এর দশকের পণ্ডিতমহল ক্রমশই জৈবিক লিঙ্গ-সামাজিক লিঙ্গ পার্থক্য ও লিঙ্গের সোশ্যাল কনস্ট্রাকশনিজমের উপর গুরুত্ব আরোপ করেছিল।[৯][১০]
জীববিদ্যা

পুরুষ ও নারীদেহের মধ্যে কিছু পার্থক্য রয়েছে। বহিস্থ যৌনাঙ্গের মধ্যে পার্থক্য দৃশ্যমান থাকে, কিন্তু অভ্যন্তরীণ শারীরিক ও বংশাণু বৈশিষ্ট্য দৃশ্যমান নয়।
বংশাণু বৈশিষ্ট্য

সাধারণত নারীদেহের কোষে দুটি X ক্রোমোজোম এবং পুরুষদেহের কোষে একটি X ও একটি Y ক্রোমোজোম থাকে।[১১] ভ্রূণের প্রাথমিক বিকাশকালে ষষ্ঠ বা সপ্তম সপ্তাহ অবধি সমস্ত ভ্রূণের মধ্যে ফিনোটিপিকালি স্ত্রীজাতীয় যৌনাঙ্গ থাকে। তার পর Y ক্রোমোজোমের এসআরওয়াই জিনের কার্যকলাপের ফলে একটি পুরুষ ভ্রূণের যৌনগ্রন্থি শুক্রাশয়ে রূপান্তরিত হয়।[১২] নারীদের মধ্যে যৌন পৃথকীকরণ যৌনগ্রন্থির হরমোনের ক্রিয়া থেকে স্বতন্ত্র।[১২] যেহেতু মানবসন্তান কেবল মাতার ডিম্বাণু থেকে মাইটোকন্ড্রিয়াল ডিএনএ লাভ করে, তাই কুলজি গবেষকরা অতি প্রাচীন মাতৃবংশ সন্ধান করতে পারে।
হরমোনের বৈশিষ্ট্য, রজঃস্রাব ও রজোনিবৃত্তি
টেমপ্লেট:Main বয়ঃসন্ধিকালীন পরিবর্তনের ফলে গর্ভধারণের মাধ্যমে নারীদেহকে যৌন প্রজনন সক্ষম করে। পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে রাসায়নিক সংকেতের প্রতিক্রিয়ায় ডিম্বাশয় হরমোন নিঃসরণ করে যা শরীরের পরিপক্বতাকে উদ্দীপ্ত করে, যার ফলে উচ্চতা ও ওজন বাড়ে, শরীরের চুল ও লোমের বৃদ্ধি ঘটে, স্তনের বিকাশ হয় এবং প্রথম রজঃচক্র সম্পন্ন হয়।[১৩]

১২-১৩ বয়সে বেশিরভাগ বালিকাদের প্রথম রজঃচক্র সম্পন্ন হয়,[১৪][১৫] আর তখন তারা গর্ভবতী হতে ও সন্তান প্রসব করতে সক্ষমা হয়ে ওঠে। গর্ভধারণের ক্ষেত্রে সাধারণত শুক্রাণু ও ডিম্বাণুর মধ্যে বীর্যসেচন জরুরি, আর তার জন্য যৌনসঙ্গম বা কৃত্রিম বীর্যসেচনের প্রয়োজন, যদিও ইন ভিট্রো ফার্টিলাইজেশনের মাধ্যমে মানবদেহের বাইরে গর্ভধারণ সম্ভব।[১৬] অন্যান্য বৃহৎ স্তন্যপায়ীদের মতো মানুষেরা সাধারণত প্রতি গর্ভধারণে একটি সন্তানের জন্ম দেয়। কিন্তু মানবসন্তানরা অপরিপক্ব অবস্থায় জন্মগ্রহণ করে আর পরিপক্বতার জন্য অভিভাবকদের প্রয়োজন, যেখানে বেশিরভাগ বৃহৎ স্তন্যপায়ীদের ক্ষেত্রে জন্মের সময় থেকেই সন্তানরা তুলনায় পরিপক্ব ও সচল হয়।[১৭] কখনো কখনো মানুষেরা একাধিক সন্তান প্রসব করতে পারে, আর সেক্ষেত্রে সন্তানরা সাধারণত যমজ হয়।[১৮]
সাধারণত ৪৯ থেকে ৫২ বছর বয়সের মধ্যে একজন নারী রজোনিবৃত্তি অবস্থায় পৌঁছয়। তখন রজঃচক্র পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যায় আর তারা কোনো সন্তান প্রসব করতে পারবে না।[১৯][২০][২১] কিন্তু অন্যান্য স্তন্যপায়ীদের তুলনায় নারীদের জীবনকাল সাধারণত রজোনিবৃত্তির পর বহু বছর বর্ধিত হয়।[২২] অনেক নারীই ক্রমে ঠাকুরমা (পিতামহী বা মাতামহী) হয়ে যায় এবং পৌত্র-পৌত্রী ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের দায়িত্বে ভূমিকা পালন করে।[২৩] অনেক জীববিজ্ঞানীদের বিশ্বাস যে আত্মীয় নির্বাচনের মাধ্যমে মানব জীবনকাল বর্ধিত হয়েছে, যদিও এবিষয়ে অন্যান্য তত্ত্ব প্রস্তাবিত হয়েছে।[২৪][২৫][২৬][২৭]
রূপগত ও শারীরবৃত্তীয় বৈশিষ্ট্য

জীববিজ্ঞানের পরিপ্রেক্ষিতে নারীদের যৌনাঙ্গ প্রজনন ব্যবস্থার সাথে জড়িত, আর গৌণ যৌন বৈশিষ্ট্যগুলি শিশুদের স্তন্যদান এবং একজন সঙ্গীকে আকর্ষণ করার সাথে জড়িত।[২৮] মানুষ হচ্ছে অমরাবিশিষ্ট স্তন্যপায়ী প্রাণী, অর্থাৎ মাতা জরায়ুর মধ্যে ফিটাসকে নিয়ে যায় এবং অমরা মাতা ও ফিটাসের মধ্যে পুষ্টি ও বর্জ্য সরবরাহে সুবিধা প্রদান করে।[২৯][৩০]

নারীদেহের অভ্যন্তরের যৌনাঙ্গসমূহের মধ্যে রয়েছে স্ত্রীজননকোষ ডিম্বাণু উৎপাদনকারী যৌনগ্রন্থি ডিম্বাশয়, ডিম্বাণু সরবরাহকারী ফ্যালোপিয়ান নালি, বিকাশরত ফিটাসকে সুরক্ষিত ও প্রতিপালিত করার জন্য জরায়ু, ফিটাস বহির্গমনের জন্য জরায়ুমুখ, যৌনসঙ্গমের সময় পিচ্ছিলকরণের জন্য বার্থোলিনের ও স্কিনের গ্রন্থি এবং যৌনসঙ্গম ও প্রসবের জন্য যোনি।
বহিঃস্থ স্ত্রীযৌনাঙ্গ ভালভা[৩১] ভগাঙ্কুর, লেবিয়া মেজরা, লেবিয়া মাইনরা ও যোনিগাত্রদেশ নিয়ে গঠিত। যোনিগাত্রদেশে যোনি ও মূত্রনালীর মুখ রয়েছে।
প্রাথমিক স্ত্রী যৌন হরমোন ইস্ট্রোজেন নারীদেহ গঠনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। পুরুষ ও নারী উভয়ের দেহে ইস্ট্রোজেন নিঃসৃত হয়, কিন্তু নারীদের ক্ষেত্রে ইস্ট্রোজেন মাত্রা বিশেষ করে প্রজনন বয়সে যথেষ্ট বেশি থাকে। অন্যান্য কার্যকলাপ ছাড়া ইস্ট্রোজেন গৌণ স্ত্রী যৌন বৈশিষ্ট্যের বিকাশকে উদ্দীপ্ত করে, যেমন স্তন ও কটি।[৩২][৩৩][৩৪] ইস্ট্রোজেনের জন্য বয়ঃসন্ধিকালে বালিকার দেহে স্তনের বিকাশ ঘটে ও কটি প্রশস্ত হয়। বয়ঃসন্ধি বালিকার মধ্যে ইস্ট্রোজেনের বিরুদ্ধে কার্যকারী টেস্টোস্টেরনের উপস্থিতি স্তনের বিকাশকে বাধাপ্রাপ্ত করে এবং পেশী ও মুখমণ্ডলের চুলের বিকাশকে উদ্দীপ্ত করে।[৩৫]
লিঙ্গ বন্টন এবং আয়ু

যদিও পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের জন্ম গ্রহণের হার কম (অনুপাত প্রায় 1:1.05), কিন্তু নবজাতক ছেলেদের তুলনায় নবজাতক মেয়েরা নিজেদের প্রথম জন্মদিনে পৌঁছতে পারে। এবং অন্যদিকে নারীদের আয়ু পুরুষদের তুলনায় 6 থেকে 8 বছর বেশি হয়ে থাকে কিন্তু কিছু কিছু অঞ্চলে নারীদের প্রতি লিঙ্গ বৈষম্যের কারণে তাদের এই অতিরিক্ত আয়ু পুরুষদের প্রায় সমান কিংবা তাদের থেকে কম হয়ে গেছে। 2015 সালে মোট জনসংখ্যার মধ্যে, প্রতি 100 জন মহিলার বিপরীতে 101.8 জন পুরুষ ছিল। আয়ুষ্কালের পার্থক্য আংশিকভাবে অন্তর্নিহিত শারীরিক সুবিধার কারণেই হয়, তবে তারা পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে আচরণগত পার্থক্যও প্রতিফলিত করে। কিছু উন্নত দেশে অতিরিক্ত বয়সের এই ব্যবধানটা কমে আসছে, খুব সম্ভবত মহিলাদের মধ্যে ধূমপান বৃদ্ধি এবং পুরুষদের মধ্যে কার্ডিওভাসকুলার রোগটির হার হ্রাসই এর কারণ। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) লিখেছে যে এটি "উল্লেখ্য যে মহিলাদের জীবনের অতিরিক্ত এই সময়টুকু সুস্বাস্থ্যের মধ্য দিয়ে যায় না।" [৩৬][৩৭][৩৮]
স্বাস্থ্য
বিশেষ করে নারী বনাম পুরুষের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব বিস্তারকারী বিষয়গুলি প্রজনন সম্পর্কিত বিষয়গুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি স্পষ্ট, কিন্তু আণবিক থেকে আচরণগত স্কেল পর্যন্ত লিঙ্গের পার্থক্য চিহ্নিত করা যায় এই পার্থক্যগুলির মধ্যে কিছু আছে যা সূক্ষ্ম এবং ব্যাখ্যা করা কঠিন, আংশিকভাবে এই কারণে যে সহজাত জৈবিক কারণগুলো স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব ফেলে তা পার্শ্ববর্তী পরিবেশ স্বাস্থ্যের উপর যে প্রভাব ফেলে তা থেকে আলাদা করা কঠিন । যৌন ক্রোমোজোম এবং হরমোন, সেইসাথে লিঙ্গ-নির্দিষ্ট জীবনধারা, বিপাক, ইমিউন সিস্টেমের কার্যকারিতা এবং পরিবেশগত কারণগুলির প্রতি সংবেদনশীলতা শারীরবিদ্যা, উপলব্ধি এবং জ্ঞানের স্তরে স্বাস্থ্যের লিঙ্গের পার্থক্যে অবদান রাখে বলে মনে করা হয়। মহিলাদের ওষুধ এবং ডায়গনিস্টিক পরামিতিগুলির জন্য থ্রেশহোল্ডগুলির জন্য স্বতন্ত্র প্রতিক্রিয়া থাকতে পারে। [৩৯]
কিছু রোগ আছে যেগুলো প্রাথমিকভাবে মহিলাদের কে প্রভাবিত করে এবং একচেটিয়াভাবে মহিলাদের মধ্যেই পাওয়া যায়, যেমন লুপাস, স্তন ক্যান্সার, সার্ভিকাল ক্যান্সার বা ডিম্বাশয়ের ক্যান্সার । [৪০] মহিলা প্রজনন এবং প্রজনন অঙ্গগুলির সাথে সম্পর্কিত চিকিৎসা বিদ্যাকে স্ত্রীরোগবিদ্যা ("নারীদের বিজ্ঞান") বলা হয়। [৪১][৪২]
মাতৃমৃত্যু

মাতৃমৃত্যুকে WHO এই ভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে- "গর্ভাবস্থায় বা গর্ভাবস্থা শেষ হবার 42 দিনের মধ্যে একজন মহিলার মৃত্যু, গর্ভাবস্থার সময়কাল এবং স্থান নির্বিশেষে, গর্ভাবস্থা বা এর ব্যবস্থাপনার সাথে সম্পর্কিত বা গর্ভাবস্থার কারণে ত্বরান্বিত কোনো কারণ থেকে। কিন্তু এই মৃত্যু আকস্মিক বা আনুষঙ্গিক অন্য কোন কারন থেকে সংগঠিত নয়।" [৪৩] 2008 সালে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা মা ও নবজাতককে শক্তিশালী করার জন্য মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণের আহ্বান জানায়। উল্লেখ্য যে প্রতি বছর 100,000 এরও বেশি মহিলা গর্ভাবস্থা এবং প্রসবজনিত জটিলতার কারণে মারা যায় এবং কমপক্ষে 7 মিলিয়ন গুরুতর স্বাস্থ্য সমস্যার সম্মুখীন হয় এবং 50 মিলিয়নের বেশি প্রসবের পরে স্বাস্থ্যের ক্ষতিকর পরিণতি হয়। মিডওয়াইফারি দক্ষতার মানোন্নয়নে সহায়তা করার জন্য ডব্লিউএইচও একটি মিডওয়াইফ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি, অ্যাকশন ফর সেফ মাদারহুড প্রতিষ্ঠা করেছে। [৪৪]
মাতৃমৃত্যুর প্রায় 99%-ই উন্নয়নশীল দেশগুলিতে হয়ে থাকে। এর অর্ধেকের বেশি সংগঠিত হয় সাব-সাহারান আফ্রিকায় এবং প্রায় এক তৃতীয়াংশ দক্ষিণ এশিয়ায় ঘটে। মাতৃমৃত্যুর প্রধান কারণগুলির মধ্যে রয়েছে প্রি-এক্লাম্পসিয়া এবং একলাম্পসিয়া, অনিরাপদ গর্ভপাত, ম্যালেরিয়া এবং এইচআইভি/এইডস। গর্ভাবস্থার জটিলতা এবং প্রসবের পরে গুরুতর রক্তপাত এবং সংক্রমণের কারণে। [৪৫] বেশিরভাগ ইউরোপীয় দেশ, অস্ট্রেলিয়া, জাপান এবং সিঙ্গাপুর শিশু জন্মের ক্ষেত্রে খুবই নিরাপদ। [৪৬]
1990 সালে 14টি উন্নত দেশের মধ্যে বিশ্লেষণ করে জানা যায় US 12 তম স্থান পেয়েছে এবং সেই সময় থেকে প্রতিটি দেশের মৃত্যুর হার ক্রমাগতভাবে উন্নত হয়েছে অর্থাৎ কমেছে। কিন্তু US এর ক্ষেত্রে এই হার নাটকীয়ভাবে বেড়েছে। 1990 সালে বিশ্লেষণ করা অন্যান্য দেশ গুলি 2017 সালে প্রতি 100,000 শিশু জন্মে 10 টিরও কম মৃত্যুর হার দেখায় অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের এক্ষেত্রে হার বেড়ে 26.4-এ দাঁড়িয়েছে।একইসাথে, গর্ভাবস্থা বা প্রসবের সময় প্রতি বছর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে মারা যাওয়া 700 থেকে 900 জন মহিলার মধ্যে 70 জন উল্লেখযোগ্য জটিলতার সম্মুখীন হন, যা মোট শিশু জন্মের এক শতাংশেরও বেশি। [৪৭][৪৮]
প্রজনন অধিকার এবং স্বাধীনতা

প্রজনন অধিকার বলতে বুঝায় প্রজনন এবং প্রজনন স্বাস্থ্য সম্পর্কিত আইনি অধিকার এবং স্বাধীনতা। ইন্টারন্যাশনাল ফেডারেশন অফ গাইনোকোলজি অ্যান্ড অবস্টেট্রিক্স বলেছে যে:[৪৯]
- ... নারীর মানবাধিকারের মধ্যে রয়েছে কোন বলপ্রয়োগ, বৈষম্য এবং সহিংসতামুক্ত ছাড়া তাদের যৌনতা সম্পর্কিত বিষয়ে স্বাধীনভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সাথে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার এবং তাদের এগুলো নিয়ন্ত্রণের অধিকার যার মধ্যে রয়েছে যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্য, । ব্যক্তির অখণ্ডতার প্রতি পূর্ণ সম্মান সহ যৌন সম্পর্ক এবং প্রজননের ক্ষেত্রে নারী ও পুরুষের মধ্যে সমান সম্পর্কের জন্য পারস্পরিক সম্মান, সম্মতি এবং যৌন আচরণ এবং এর পরিণতির জন্য দায়িত্ব ভাগ করা প্রয়োজন।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা 2010 থেকে 2014 সালের তথ্যের উপর ভিত্তি করে রিপোর্ট করে এবং বলে যে, প্রতি বছর বিশ্বব্যাপী 56 মিলিয়ন ইচ্ছাকৃত গর্ভপাত ঘটেছিল (যা ঐ সময়ের সমস্ত গর্ভধারণের 25%)। এর মধ্যে প্রায় 25 মিলিয়ন গর্ভপাত অনিরাপদ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল। WHO রিপোর্ট করেছে যে উন্নত অঞ্চলগুলতে প্রতি 100,000 অনিরাপদ গর্ভপাতের জন্য প্রায় 30 জন মহিলার মৃত্যু হয় এবং উন্নয়নশীল অঞ্চলের ক্ষেত্রে 100,000 অনিরাপদ গর্ভপাতের জন্য 220 জন নারীর মৃত্যু হয় এবং সাব-সাহারান আফ্রিকায় প্রতি 100,000 অনিরাপদ গর্ভপাতের জন্য 520 জন নারী মারা যায়। ডাব্লুএইচও এই মৃত্যুকে দায়ী করে:
- আইনের সীমাবদ্ধতা
- পরিষেবার দুষ্প্রাপ্যতা
- উচ্চ মূল্য
- কলঙ্ক
- স্বাস্থ্যসেবা প্রদানকারীদের বিবেকপূর্ণ আপত্তি যার ফলে গর্ভপাতে সমস্যা হয়
- অপ্রয়োজনীয় বাধ্যবাধকতা, যেমন বাধ্যতামূলক ভাবে "কিছু সময় অপেক্ষা করতে হবে"-এরকম সময়কাল, বাধ্যতামূলক কাউন্সেলিং, বিভ্রান্তিকর তথ্যের বিধান, তৃতীয় পক্ষের অনুমোদন, এবং চিকিৎসাগতভাবে অপ্রয়োজনীয় পরীক্ষা যা যত্নে বিলম্ব করে। [৫০]
সংস্কৃতি এবং লিঙ্গ ভূমিকা
সম্প্রতিক সময়কালে সমাজের লিঙ্গভিত্তিক অবদানে ব্যাপক পরিবর্তন ঘটেছে। ইতিহাসে পূর্বেকার সময় কম বয়সী বাচ্চাদের মধ্যে তাদের পেশাগত আকাঙ্ক্ষা তাদের লিঙ্গের ওপর নির্ভর করত। [৫১] ঐতিহ্যগত ভাবেই মধ্যবিত্ত শ্রেণীর মহিলারা তাদের শিশুদের প্রতি যত্নশীল হবার প্রতি জোর দিয়ে ঘরোয়া কাজে জড়িত থাকত। দরিদ্র মহিলাদের জন্য, বিশেষ করে শ্রমিক শ্রেণীর মহিলাদের জন্য, অর্থনৈতিককারণে এটি তাদের জন্য অত্যাবশ্যকীয় ছিল যে তারা বাড়ির বাইরে গিয়ে কাজ খুজবে। তারা পেশা হিসেবে যে কাজগুলো খুঁজে পেত সেগুলোতে তাদেরকে পুরুষদের তুলনায় কম বেতন পেত।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন
শ্রমবাজারে মহিলাদের জন্য যে পরিবর্তন এসেছিল তা নারীদের কর্মসংস্থানে যে পরিবর্তন এনেছিল তা হল পূর্বে তারা "নোংরা" কারখানাতে দীর্ঘ সময় চাকরি করত আর পরিবর্তনের পর তারা "পরিচ্ছন্ন" কারখানাতে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিল (অধিক সম্মানজনক অফিসের চাকরিতে এই পরিবর্তিত হয়েছিল যেখানে আরও শিক্ষার দাবি ছিল)। মার্কিন শ্রমশক্তিতে নারীদের অংশগ্রহণ 1900 সালে 6% থেকে 1923 সালে 23% এ উন্নীত হয়। শ্রমশক্তির এই পরিবর্তনগুলি কর্মক্ষেত্রে মহিলাদের মনোভাবের পরিবর্তনে ভুমিকা রাখে এবং বিপ্লবের দিকে ধাবিত করে যার ফলে নারীরা কর্ম(প্রাতিষ্ঠানিক) ও শিক্ষামুখী হয়ে ওঠে।[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন
1970-এর দশকে, মহিলা বিজ্ঞানী সহ অনেক মহিলা শিক্ষাবিদ সন্তান ধারণকে এড়িয়ে যেতেন। 1980-এর দশক জুড়ে, প্রতিষ্ঠানগুলি কর্মক্ষেত্রে পুরুষ এবং নারীদের জন্য তাদের নিয়মগুলোকে সমান করার চেষ্টা করেছি। তা সত্ত্বেও, সাংসারিক বৈষম্যতা মহিলাদের সুযোগকে বাধাগ্রস্ত করছিল: পেশাদার মহিলাদের ক্ষেত্রেও তাদেরকে গৃহশ্রম এবং শিশু যত্নের জন্য দায়ী বলে মনে করা হত, এর ফলে তাদের সময় এবং শক্তি কমে যেত যা তারা তাদের কর্মজীবনে ব্যাবহার করতে পারত। 20 শতকের শুরুর দিকের আগপর্যন্ত, মার্কিন মহিলা কলেজগুলি তাদের মহিলা ফ্যাকাল্টি সদস্যদের অবিবাহিত থাকতে বাধ্য করেছিল কারন হিসেবে তারা বলেছিল যে একজন মহিলা একবারে দুটি পূর্ণ-সময়ের পেশা চালিয়ে যেতে পারে না। Schiebinger এর মতে, "এই সমাজে একজন বিজ্ঞানী একইসাথে একজন স্ত্রী এবং একইসাথে একজন মা হওয়া একটি বোঝা আর এই সমাজ পুরুষদের তুলনায় নারীদের ক্ষেত্রেই বেশী আশা করে যে তারা নিজেদের ক্যারিয়ারের থেকে নিজের পরিবারকে বেশি এগিয়ে রাখবে।" (পৃ.93)। [৫২]
আন্দোলনগুলো লিঙ্গ নির্বিশেষে উভয় লিঙ্গের জন্য সমান সমতা ও অধিকারের পক্ষে। অর্থনৈতিক পরিবর্তন এবং নারীবাদী আন্দোলনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে, সাম্প্রতিক দশকগুলিতে অনেক সমাজের মহিলারা ঐতিহ্যগত ভাবে তারা যে ঘরের কাজ করত তার বাইরে এসে নিজেদের ক্যারিয়ারে প্রবেশের অধিকার পেয়েছে। এই অগ্রগতি সত্ত্বেও, পশ্চিমা সমাজের বর্তমান সময়ের নারীরা এখনও কর্মক্ষেত্রে সমস্যার মুখোমুখি হয়। এর পাশাপাশি তারা শিক্ষা, সহিংসতা, স্বাস্থ্যসেবা, রাজনীতি ও মাতৃত্ব এবং অন্যান্য বিষয়গুলির ক্ষেত্রেও চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়ে থাকে। যৌনতা প্রায় সব ক্ষেত্রে নারীদের জন্য একটি প্রধান উদ্বেগ এবং বাধা হতে পারে, যদিও এর রূপ, উপলব্ধি এবং পরিমাণ সমাজ এবং সামাজিক শ্রেণীর মধ্যে একেক রকমের হয়ে থাকে। নারী ও পুরুষ উভয়ের দ্বারাই পারিবারিক ক্ষেত্রে সমান লিঙ্গ ভূমিকার কথা অনুমোদন পাচ্ছে এবং এর পরিমাণও বৃদ্ধি পাচ্ছে। [৫৩]টেমপ্লেট:যাচাইকরণ ব্যর্থ হয়েছে
যদিও প্রচুর সংখ্যক মহিলা উচ্চশিক্ষা নিচ্ছেন, তবুও প্রায়ই দেখা যায় তাদের বেতন পুরুষদের তুলনায় কম। CBS নিউজ 2005 সালে বলেছিল, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 30 থেকে 44 বছর বয়সী নারীরা যারা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিগ্রিধারী তারা তাদের মতো অনুরূপ যোগ্য পুরুষদের তুলনায় মাত্র 62% আয় করে থাকে। যে 19টি দেশের ক্ষেত্রে গণনা করা হয়েছিল তাদের মধ্যে তিনটি বাদে সবকটির তুলনায় এই হার সবথেকে কম। জার্মানি, নিউজিল্যান্ড এবং সুইজারল্যান্ড হল পশ্চিমা কিছু দেশ যাদের ক্ষেত্রে এই বৈষম্য আরও বেশি। [৫৪]
নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা

নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা নির্মূলের বাপারে জাতিসংঘের ঘোষণায় "নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা"-কে যেভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে তা হল:[৫৫] লিঙ্গ ভিত্তিক সহিংসতার যে কোনো কাজ যা নারীর শারীরিক, যৌন বা মানসিক ক্ষতি বা ক্ষতির কারণ হতে পারে, যার মধ্যে রয়েছে এই ধরনের কাজের করার হুমকি, জবরদস্তি বা স্বাধীনতার স্বেচ্ছাচারী বঞ্চনা, তা সে জনসাধারণের সামনে হোক কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে এবং এই ধরনের সহিংসতার তিনটি রূপ চিহ্নিত করে যা হল - যে সহিংসতা গুলো পরিবারে সংগঠিত হয়, যা সাধারণ সম্প্রদায়ের মধ্যে ঘটে এবং যা রাষ্ট্র দ্বারা সংঘটিত হয় বা যে সহিংসতা রাষ্ট্র দ্বারা ক্ষমা করা হয়। এছাড়া আরও উল্লেখ করে বলে যে "নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতা হল পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে ঐতিহাসিকভাবে অসম ক্ষমতা সম্পর্কিত একটি প্রকাশ"। [৫৬]
নারীর প্রতি সহিংসতা একটি বিস্তৃত সমস্যা হিসেবে বিদ্যমান আছে, বিশেষ করে পশ্চিমা বিশ্বের বাইরে- পিতৃতান্ত্রিক সামাজিক মূল্যবোধের কারণে, পর্যাপ্ত আইনের অভাবে এবং বিদ্যমান আইনের প্রয়োগের অভাবের কারণে। বিশ্বের বহু অংশে বিদ্যমান সামাজিক নিয়ম নারীকে সহিংসতা থেকে রক্ষার অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউনিসেফের সমীক্ষা থেকে জানা যায়,আফগানিস্তান এবং জর্ডানে 90%, মালিতে 87%, 86% গিনি এবং তিমুর-লেস্টে %, লাওসে 81% এবং মধ্য আফ্রিকান প্রজাতন্ত্রে 80%, 15-49 বছর বয়সী নারীরা মনে করে যে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে একজন স্বামী তার স্ত্রীকে আঘাত করা বা মারধর করা ন্যায়সঙ্গত। [৫৭] পিউ রিসার্চ সেন্টার দ্বারা পরিচালিত 2010 সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে মিশর এবং পাকিস্তানের 82% উত্তরদাতারা, জর্ডানে 70%, নাইজেরিয়ায় 56% এবং ইন্দোনেশিয়ায় 42% ব্যভিচারের শাস্তি হিসাবে পাথর ছুড়ে মারাকে সমর্থন করেছিলেন। [৫৮]
সহিংসতার কিছু নির্দিষ্ট ধরন যা নারীদের প্রভাবিত করে তার মধ্যে রয়েছে নারীদের যৌনাঙ্গচ্ছেদ(মহিলাদের সুন্নত), যৌন পাচার, জোরপূর্বক পতিতাবৃত্তি, জোরপূর্বক বিবাহ, ধর্ষণ, যৌন হয়রানি, অনার কিলিং, এসিড নিক্ষেপ এবং যৌতুক সংক্রান্ত সহিংসতা । সরকারগুলো মহিলাদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় জড়িত হতে পারে, যেমন পাথর ছুঁড়ে মারাকে একটি আইনি শাস্তি হিসাবে ব্যবহার করা হয়, বেশিরভাগই ব্যভিচারের অভিযোগে অভিযুক্ত মহিলাদের জন্য। [৫৯]
এছাড়াও নারীর প্রতি সহিংসতার অনেক রুপ রয়েছে যা সময়ের সাথে প্রচলিত হয়ে এসেছিল, বিশেষ করে ডাইনিদের পোড়ানো, বিধবাদের বলিদান (যেমন সতীদাহ ) এবং পা বাঁধা । জাদুবিদ্যার দায়ে অভিযুক্ত নারীদের বিচারের আওতায় আনার একটি দীর্ঘ ঐতিহ্য রয়েছে; উদাহরণস্বরূপ, আধুনিক যুগের প্রথম দিকে (অর্থাৎ 15 এবং 18 শতকের মধ্যে), ডাইনিদের বিচারকাজ ইউরোপে এবং উত্তর আমেরিকার ইউরোপীয় উপনিবেশগুলিতে সাধারণ একটি ব্যাপার ছিল। এখনও, বিশ্বের এমন কিছু অঞ্চল রয়েছে (যেমন সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশ, উত্তর ভারত, এবং পাপুয়া নিউগিনি) যেখানে অনেক লোক জাদুবিদ্যায় বিশ্বাস করে এবং ডাইনি হিসেবে অভিযুক্ত নারীরা গুরুতর ভাবে সহিংসতার শিকার হয়। [৬০][৬১][৬২] এছাড়াও, এমন কিছু দেশ রয়েছে যেখানে জাদুবিদ্যার চর্চার বিরুদ্ধে ফৌজদারি আইন রয়েছে। সৌদি আরবে, জাদুবিদ্যা মৃত্যুদন্ডযোগ্য অপরাধ হিসেবে রয়ে গেছে এবং ২০১১ সালে দেশটি 'জাদুবিদ্যা ও মায়াবিদ্যা'র জন্য একজন মহিলার শিরশ্ছেদ করেছিল। [৬৩][৬৪]
এমনকি এটাও বাস্তব যে নারীর প্রতি সহিংসতার কিছু ধরন শুধুমাত্র সাম্প্রতিক দশকগুলোতেই ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে স্বীকৃত হয়েছে, এবং সর্বজনীনভাবে নিষিদ্ধ করা হয়নি, যে কারণে অনেক দেশই এই সহিংসতাকে অনুমোদন দিয়ে থাকে। এটা বিশেষ করে হয়ে থাকে বৈবাহিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে। [৬৫][৬৬] পশ্চিমা বিশ্বে, বিবাহের ক্ষেত্রে লিঙ্গ সমতা নিশ্চিত করার এবং গার্হস্থ্য সহিংসতার বিচারের একটি প্রবণতা রয়েছে, কিন্তু বিশ্বের অনেক অংশে নারীরা এখনও বিবাহে প্রবেশ করার সময় উল্লেখযোগ্য আইনি অধিকার হারান। [৬৭]
যুদ্ধ এবং সশস্ত্র সংঘর্ষের সময়, সামরিক দখলদারিত্বের সময়, বা জাতিগত সংঘাতের সময় নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায়; প্রায়শই এটি হয়ে থাকে যুদ্ধের ধর্ষণ এবং যৌন দাসত্বের আকারে। যুদ্ধের সময় যৌন সহিংসতার সমসাময়িক উদাহরণগুলির মধ্যে রয়েছে আর্মেনিয়ান গণহত্যার সময় ধর্ষণ, বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় ধর্ষণ, বসনিয়ান যুদ্ধে ধর্ষণ, রুয়ান্ডার গণহত্যার সময় ধর্ষণ এবং দ্বিতীয় কঙ্গো যুদ্ধের সময় ধর্ষণ । কলম্বিয়াতে, সশস্ত্র সংঘাতের কারণেও নারীদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতা বেড়েছে। [৬৮] সাম্প্রতিক কালের যে ঘটনা ঘটেছে তা হল আইএসআইএল দ্বারা করা যৌন জিহাদ যেখানে ইয়াজিদি এবং খ্রিস্টান নারীদের গণহত্যা এবং ধর্ষণের সময় 5000-7000 ইয়াজিদি এবং খ্রিস্টান মেয়ে ও শিশুকে যৌন দাসই হিসেবে বিক্রি করা হয়েছিল, একটি প্রত্যক্ষ সাক্ষীর মাধ্যমে জানা যায়, সেই মেয়ে ও নারীদের মধ্যে কিছু সংখ্যক সিনজার পর্বত থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ে আত্মহত্যা করেছিল।[৬৯]
নারীর প্রতি সহিংসতা সংক্রান্ত আইন ও নীতি বিচারব্যবস্থা অনুসারে পরিবর্তিত হয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নে, যৌন হয়রানি এবং মানব পাচার নির্দেশাবলীর অধীন।
ইতিহাস
আদিকালে যে সকল নারীর কথা জানা যায়:
- নিথহোটেপ (সি. ৩২০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ), নারমারের স্ত্রী এবং প্রাচীন মিশরের প্রথম রানী। [৭০][৭১]
- মারনিথ (সি. 3000 খ্রিস্টপূর্ব), প্রথম রাজবংশের সময় প্রাচীন মিশরের সঙ্গী এবং শাসক। তিনি তার নিজের অধিকারে মিশরের শাসক হতে পারেন। [৭২][৭৩]
- Merit-Ptah (c. 2700 BCE), এছাড়াও মিশরে বাস করতেন এবং তিনিই প্রথম পরিচিত মহিলা চিকিৎসক ও বিজ্ঞানী । [৭৪]
- পেসেশেট (আনুমানিক 2600 খ্রিস্টপূর্বাব্দ), প্রাচীন মিশরের একজন চিকিৎসক । [৭৫][৭৬]
- পুয়াবি (আনুমানিক 2600 BCE), বা শুবাদ - উরের রানী যার সমাধি অনেক দামী নিদর্শন সহ আবিষ্কৃত হয়েছিল। উরের অন্যান্য পরিচিত প্রাক-সার্গনিক রাণী (রাজকীয় স্ত্রীদের) মধ্যে রয়েছে আশুসিকিলদিগির, নিনবান্দা এবং গানসামান্নু। [৭৭]
- কুগবাউ ( আনুমানিক 2,500 খ্রিস্টপূর্বাব্দ), সুমেরের আধিপত্যবাদী শাসক হওয়ার জন্য নিপপুর যাজকদের দ্বারা বেছে নেওয়া কিশের একটি টেভারেস, এবং পরবর্তী যুগে "কুবাবা" হিসাবে দেবতা।
- তাশলুল্টুম (আনুমানিক 2400 খ্রিস্টপূর্বাব্দ), আক্কাদের রানী, আক্কাদের সারগনের স্ত্রী এবং এনহেডুয়ানার মা। [৭৮][৭৯]
- বারানমতরা (সি. 2384 খ্রিস্টপূর্ব), লাগাশের লুগাল্যান্ডের বিশিষ্ট এবং প্রভাবশালী রানী। প্রথম লাগাশ রাজবংশের অন্যান্য পরিচিত প্রাক-সার্গনিক রানীদের মধ্যে রয়েছে মেনবারা-আবজু, আশুমে'য়েরেন, নিনখিলিসুগ, দিমতুর এবং শাগশাগ এবং বেশ কয়েকটি রাজকুমারীর নামও জানা যায়।
- এনহেডুয়ানা (আনুমানিক 2285 খ্রিস্টপূর্বাব্দ),[৮০][৮১] সুমেরীয় শহর-রাজ্য উর -এ চাঁদ ঈশ্বরের মন্দিরের মহাযাজক এবং সম্ভবত প্রথম পরিচিত কবি এবং যে কোনো লিঙ্গের প্রথম নামধারী লেখক। [৮২]
- শিবতু (আনুমানিক 1775 খ্রিস্টপূর্বাব্দ), রাজা জিমরিলিমের সহধর্মিণী এবং সিরিয়ার শহর-রাজ্য মারির রাণী। তার স্বামীর অনুপস্থিতিতে, তিনি মারির রিজেন্ট হিসাবে শাসন করেছিলেন এবং রানী হিসাবে ব্যাপক প্রশাসনিক ক্ষমতা উপভোগ করেছিলেন। [৮৩]
পোশাক, ফ্যাশন এবং পরিধান রীতি - নীতি
বিশ্বের বিভিন্ন অংশের মহিলারা বিভিন্ন ধরনের পোশাক পরিধান করে থাকে, তাদের পোশাকের পছন্দ যে বিভিন্ন দিক গুলো দ্বারা প্রভাবিত হয়ে থাকে তার মধ্যে রয়েছে সংস্কৃতি, ধর্মীয় নীতি, ঐতিহ্য, সামাজিক নিয়ম এবং ফ্যাশন প্রবণতা ইত্যাদি। শালীনতা সম্পর্কে একেক সমাজে একেক রকমের ধারণা রয়েছে। যাইহোক, অনেক বিচারব্যবস্থায়, পোশাকের ক্ষেত্রে মহিলাদের পছন্দগুলি সবসময় স্বাধীন হয় না, আইনদ্বারা সীমিত করে দেয়া হয় যে তারা কী পরতে পারবে বা কি পরতে পারেবে না৷ এটা বিশেষ করে হয়ে থাকে ইসলামিক পোশাকের ক্ষেত্রে। যদিও এক্ষেত্রে একদিকে কিছু বিচারব্যবস্থা আইনত ভাবে এই ধরনের পোশাক (হেডস্কার্ফ পরা) বাধ্যতামূলক করে, অন্যদিকে অন্যান্য দেশ পাবলিক প্লেসে নির্দিষ্ট পোষাক (যেমন বোরকা /মুখ ঢেকে রাখা) পরা নিষিদ্ধ বা সীমাবদ্ধ করে (এমন একটি দেশ হল ফ্রান্স – মুখ ঢাকে রাখার ব্যাপারে ফ্রেঞ্চ আইন দেখুন)। এই আইন - যারা বাধ্যতামূলকভাবে কোন নির্দিষ্ট পোশাক পড়াকে বাধ্য করে বা নিরদিস্দিষ্ট পশাক পরতে বারণ করে উভয়ই - অত্যন্ত বিতর্কিত। [৮৪]
উর্বরতা এবং পারিবারিক জীবন



মোট উর্বরতার হার (TFR) - একজন মহিলার তার জীবদ্দশায় জন্ম দেওয়া সন্তানের গড় সংখ্যা- বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যে উল্লেখযোগ্যভাবে এর পার্থক্য রয়েছে। 2016 সালে, সর্বোচ্চ আনুমানিক টিএফআর ছিল নাইজারে (প্রতি মহিলার জন্ম 6.62 শিশু) এবং সিঙ্গাপুরে ছিল সবচেয়ে কম (0.82 শিশু/মহিলা)। [৮৬] যদিও বেশিরভাগ সাব-সাহারান আফ্রিকান দেশগুলিতে উচ্চ টিএফআর রয়েছে, যা তাদের জন্য সমস্যা তৈরি করে যেহেতু তাদের সম্পদের অভাব আছে এবং অতিরিক্ত জনসংখ্যা সৃষ্টিতেও এই উচ্চ টিএফআর অবদান রাখে। বেশিরভাগ পশ্চিমা দেশগুলি বর্তমানে একটি উপ-প্রতিস্থাপন উর্বরতার হার অনুভব করে যা জনসংখ্যার বার্ধক্য এবং জনসংখ্যা হ্রাসের দিকে পরিচালিত করতে পারে।
বিশ্বের অনেক দেশেই গত কয়েক দশক ধরে পারিবারিক কাঠামোতে পরিবর্তন এসেছে। উদাহরণ স্বরূপ, পশ্চিমে, বর্ধিত পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থা থেকে দূরে সরে যাওয়ার প্রবণতা দেখা দিয়েছে এবং নিউক্লিয়ার ফ্যামিলি বা ছোট পরিবারের বসবাসের ব্যবস্থার দিকে ঝুকে পরার প্রবনতা দেখা যাচ্ছে।। বৈবাহিক উর্বরতা থেকে অ-বৈবাহিক উর্বরতার দিকে যাওয়ার প্রবণতাও রয়েছে। বিবাহের বাইরে জন্ম নেওয়া শিশুরা বিবাহ ছাড়া একত্রে বসবাস কারী দম্পতি বা অবিবাহিত নারীর ক্ষেত্রে জন্ম নিতে পারে। যদিও বিবাহের বাইরে সন্তানের জন্ম বিশ্বের কিছু অংশে সাধারণ এবং সম্পূর্ণরূপে গৃহীত, অন্যান্য ক্ষেত্রে তারা অত্যন্ত কলঙ্কজনক, অবিবাহিত মায়েরা পরিবারের সদস্যদের সহিংসতা সহ বঞ্চনার শিকার হয় এবং চরম ক্ষেত্রে অনার কিলিং বা সম্মানের জন্য হত্যা- এর মতো ঘটনাও ঘটে । [৮৭][৮৮] এও বলে রাখা দরকার , বিবাহের বাইরে যৌন সম্পর্ক অনেক দেশেই অবৈধ (যেমন- সৌদি আরব, পাকিস্তান,[৮৯] আফগানিস্তান,[৯০][৯১] ইরান,[৯১] কুয়েত,[৯২] মালদ্বীপ,[৯৩] মরক্কো,[৯৪] ওমান,[৯৫] মৌরিতানিয়া,[৯৬] সংযুক্ত আরব আমিরাত,[৯৭][৯৮] সুদান,[৯৯] এবং ইয়েমেন [১০০] )।
মায়ের সামাজিক অবদান বা দায়িত্ব সংস্কৃতি থেকে সংস্কৃতিতে ভিন্ন ভিন্ন হয়। বিশ্বের অনেক জায়গায়, অসহায় শিশু সম্পন্ন মহিলাদের ক্ষেত্রে এটা আশা করা হয় যে তারা বাড়িতে থাকবেন এবং সন্তান লালন-পালনের জন্য তাদের সমস্ত শক্তি উৎসর্গ করবেন। অন্যদিকে অন্যান্য স্থানের ক্ষেত্রে প্রায়শই নারীরা তাদের কর্মক্ষেত্রে ফিরে আসেন ( কর্মজীবী মা এবং বাড়িতে থাকা মা দেখুন)।
ধর্ম
বিশেষ ধর্মীয় মতবাদগুলিতে নির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে যা নারিকে এবং সমাজে তার অবস্থানকেও প্রভাবিত করে যেমন ভিন্ন লিঙ্গের মধ্যে সামাজিক এবং ব্যক্তিগত মিথস্ক্রিয়া, মহিলাদের জন্য নির্দিষ্ট পোশাক পরিধান এবং মহিলাদের ব্যাপারে অন্যান্য বিষয় । অনেক দেশে সেই দেশের বিচারব্যবস্থায় এই ধর্মীয় শিক্ষাগুলি ফৌজদারি আইন বা পারিবারিক আইনকে প্রভাবিত করে (উদাহরণস্বরূপ শরিয়া আইন দেখুন)। ধর্ম, আইন এবং লিঙ্গ সমতার মধ্যকার সম্পর্ক আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলি আলোচনা করেছে
শিক্ষা

একক-লিঙ্গ শিক্ষা ঐতিহ্যগতভাবে প্রভাবশালী এবং অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। সার্বজনীন শিক্ষা, যার অর্থ নরনারী নির্বিশেষে রাষ্ট্র-প্রদত্ত প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা , এটি এখনও একটি বৈশ্বিক আদর্শ নয়, অধিকাংশ উন্নত দেশে সর্বজনীন শিক্ষা কে বৈশ্বিক ভাবে সাধারণ বলে ধরে নেয়া হয় । কিছু পশ্চিমা দেশে, নারীরা শিক্ষার অনেক স্তরে পুরুষদের ছাড়িয়ে গেছে। উদাহরণস্বরূপ, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে 2005/2006 সালে, মহিলারা 62% সহযোগী ডিগ্রী, 58% ব্যাচেলর ডিগ্রী, 60% স্নাতকোত্তর ডিগ্রি এবং 50% ডক্টরেট অর্জন করেছেন। [১০১][১০২]
অর্গানাইজেশন ফর ইকোনমিক কো-অপারেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (ওইসিডি)ভুক্ত দেশে শিক্ষাক্ষেত্রে লিঙ্গ ব্যবধান গত 30 বছরে হ্রাস পেয়েছে। 30টি OECD দেশের মধ্যে 19টিতে, এখন অল্পবয়সী নারীদের তৃতীয় যোগ্যতা সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি:যে পরিমাণ 55 থেকে 64 বছর বয়সী নারী তৃতীয় শিক্ষা সম্পন্ন করেছে তার দ্বিগুণেরও বেশি 25 থেকে 34 বছর বয়সী নারী তৃতীয় শিক্ষা সম্পন্ন করেছে। তুলনামূলক তথ্যের মাধ্যমে দেখা যায় 27টি OECD দেশের মধ্যে 21টিতে, বিশ্ববিদ্যালয়-স্তরের প্রোগ্রামগুলি থেকে স্নাতক হয়েছে এমন মহিলাদের সংখ্যা পুরুষদের সমান বা তার বেশি। 15 বছর বয়সী মেয়েরা একই বয়সের ছেলেদের তুলনায় তাদের ক্যারিয়ারের প্রতি অনেক বেশি আশাবাদী হয়। [১০৩] যদিও বেশ কয়েকটি OECD ভুক্ত দেশে বিশ্ববিদ্যালয় হতে হওয়া স্নাতকদের অর্ধেকেরও বেশি নারীরা, তারা বিজ্ঞান এবং প্রকৌশল ক্ষেত্রে প্রদত্ত তৃতীয় ডিগ্রির মাত্র 30% পান, এবং বেশিরভাগ OECD দেশের গবেষকদের মধ্যে মহিলারা মাত্র 25% থেকে 35%। [১০৪]
গবেষণা দেখায় নারীরা যদিও নামীদামী বিশ্ববিদ্যালয়গুলিতে পুরুষদের সমান হারে অধ্যয়ন করছেন তবুও সংশ্লিষ্ট অনুষদে যোগদানের ক্ষেত্রে তাদের একই রকম সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। সমাজবিজ্ঞানী হ্যারিয়েট জুকারম্যান পর্যবেক্ষণ করেছেন যে, একটি ইনস্টিটিউট যত বেশি মর্যাদাপূর্ণ হয়, সেখানে নারীদের জন্য ফ্যাকাল্টি পদ অর্জন করা তত বেশি কঠিন এবং সময়সাপেক্ষ হয়ে উঠে। 1989 সালে, হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় রসায়নে প্রথম মহিলা, সিনথিয়া ফ্রেন্ড, এবং 1992 সালে পদার্থবিদ্যায় প্রথম মহিলা মেলিসা ফ্র্যাঙ্কলিনকে নিয়োগ দেয়। তিনি আরও লক্ষ্য করেছেন যে, মহিলাদের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম পেশাগত পদে প্রশিক্ষক এবং লেকচারার হিসাবে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বেশি থাকে অন্যদিকে পুরুষদের ক্ষেত্রে তাদের প্রথম কাজ করার সম্ভাবনা বেশি থাকে অধিকারী বা স্থায়ী পদগুলোতে। স্মিথ এবং ট্যাং-এর মতে, 1989 সালে, পুরুষদের 65% এবং মহিলাদের মাত্র 40% স্থায়ী পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং চার বছরে কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে সহকারী অধ্যাপক হিসাবে নিযুক্ত সমস্ত বিজ্ঞানী এবং প্রকৌশলীর মাত্র 29% ছিলেন মহিলা । [১০৫]
১৯৯২ সালে, মহিলারা প্রকৌশলে পুরস্কৃত পিএইচডিগুলোর 9% অর্জন করেছিলেন কিন্তু তার মাত্র এক শতাংশ অধ্যাপক হয়েছিলেন। 1995 সালে, বিজ্ঞান এবং প্রকৌশলের নারী অধ্যাপক ছিলেন 11% । সংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে, ইঞ্জিনিয়ারিং স্কুলের মাত্র 311 জন ডিন ছিলেন মহিলা, যা মোট ডিনের 1% এরও কম। এমনকি মনোবিজ্ঞানের ক্ষেত্রেও একই অবস্থা, এখানে বেশিরভাগ পিএইচডি নারীরা অর্জন করে থাকেন, তারা অনেক কম পরিমাণে কম মেয়াদী পদে অধিষ্ঠিত হন যা 1994 সালে ছিল প্রায় 19%। [১০৬]
টেমপ্লেট:মূল নিবন্ধ বিশ্বে পুরুষদের তুলনায় মহিলাদের মধ্যে সাক্ষরতা কম। সিআইএ ওয়ার্ল্ড ফ্যাক্টবুক ২০১০ সাল থেকে একটি তুলনামূলক ধারণা উপস্থাপন করে যা দেখায় যে ৮০% মহিলা শিক্ষিত, পক্ষান্তরে পুরুষদের মধ্যে তা ৮৮.৬% (১৫ বছর বা তার বেশি বয়সী)। দক্ষিণ ও পশ্চিম এশিয়ায় এবং সাব-সাহারান আফ্রিকার কিছু অংশে সাক্ষরতার হার সবচেয়ে কম।[১০৭]
রাজনীতিতে নারী

বেশিরভাগ দেশের সরকারে নারীদের কম প্রতিনিধিত্ব প্রদান করা হয়। জানুয়ারী 2019-এ, জাতীয় পরিষদে মহিলাদের বিশ্বব্যাপী গড় অংশগ্রহণ ছিল ২৪.৩%। [১০৮] ভোটাধিকার হল ভোট দেওয়ার নাগরিক অধিকার, এবং নারীদের ভোটাধিকার আন্দোলনের আছে একটি দীর্ঘ ঐতিহাসিক কালযাত্রা । উদাহরণস্বরূপ বলা যায়, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীদের ভোটাধিকারের কথা যা ধীরে ধীরে অর্জিত হয়েছিল, প্রথমে 19 শতকের শেষের দিকে এবং 20 শতকের প্রথম দিকে রাজ্য এবং স্থানীয় পর্যায়ে নারীরা ভোটাধিকার পেয়েছিল, তারপর 1920 সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ঊনবিংশ সংশোধনী পাস হওয়ার সাথে সাথে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে নারীরা সর্বজনীন ভোটাধিকার লাভ করে। কিছু পশ্চিমা দেশ মহিলাদের ভোটাধিকার প্রদানের ব্যাপারে অনেকটাই ধীরগতিসম্পন্ন ছিল, বিশেষ করে সুইজারল্যান্ড, এক্ষেত্রে মহিলারা ১৯৭১ সালে ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার অর্জন করেছিলেন অন্যদিকে যখন ক্যান্টনকে সুইজারল্যান্ডের ফেডারেল সুপ্রিম কোর্ট বাধ্য করেছিল তখন অ্যাপেনজেল ইনারহোডেনের ক্যান্টনে মহিলাদের প্রথমবার ১৯৯১ সালে স্থানীয় ইস্যুতে ভোট দেওয়ার অধিকার দেওয়া হয়েছিল,[১০৯][১১০]। লিচেনস্টাইন, 1984 সালে, মহিলাদের ভোটাধিকার গণভোটের মাধ্যমে ।
বিজ্ঞান, সাহিত্য ও শিল্প
লেখালেখিকে সাধারণত উচ্চ শ্রেণীর মহিলাদের জন্য গ্রহণযোগ্য বলে মনে করা হত। যদিও পুরুষ-শাসিত বিশ্বে একজন মহিলা লেখক হিসাবে সাফল্য অর্জন করা খুব কঠিন একটি ব্যাপার; ফলে বেশ কিছু নারী লেখক পুরুষের ছদ্মনাম গ্রহণ করেছিলেন[তথ্যসূত্র প্রয়োজন] ভিকিটিয়া:তথ্যসূত্র প্রয়োজন

শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে (ক্লাসিকাল গান) যন্ত্রসঙ্গীত হিসেবে শিল্পীদের একটি উল্লেখযোগ্য অনুপাত হল নারীরা এবং অর্কেস্ট্রাতে মহিলাদের অংশগ্রহণ শতাংশের হিসেবে বেড়েই চলছে। প্রধান কানাডিয়ান অর্কেস্ট্রাগুলিতে কনসার্টো শিল্পী নিয়ে 2015 সালের একটি নিবন্ধ ইঙ্গিত করে যে অর্কেস্টার সিম্ফোনিক ডি মন্ট্রিয়েলের 84% একক শিল্পী ছিলেন পুরুষ। 2012 সালে, এখনও শীর্ষস্থানীয় ভিয়েনা ফিলহারমনিক অর্কেস্ট্রার মাত্র 6% হল মহিলা। রক এবং হেভি মেটালের মতো জনপ্রিয় মিউজিক জেনারে বাদ্যযন্ত্রের বাদক হিসেবে নারীদের কম দেখা যায়, যদিও বেশ কিছু উল্লেখযোগ্য মহিলা যন্ত্রশিল্পী এবং সর্ব-মহিলা ব্যান্ড (যেখানে ব্যান্ডের সব সদস্যই নারী) রয়েছে। চরম ধাতু(এক্সট্রিম মেটাল) ধারার সঙ্গিতে নারীদের বিশেষভাবে উপস্থাপিত করা হয়। এছাড়াও যেসকল ক্ষেত্রে নারীদের কম মূল্যায়ন করা হয় তার মধ্যে রয়েছে- [১১২] অর্কেস্ট্রাল পরিচালনা, সঙ্গীত সমালোচনা/সংগীত সাংবাদিকতা, সঙ্গীত উৎপাদন এবং সাউন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং । ১৯ শতকে যখন নারীদেরকে সংগীত রচনা করতে নিরুৎসাহিত করা হতো তখনও কিছু সংখ্যক নারী সঙ্গীত রচনাকারী করেছিলেন, মহিলারা পরবর্তীতে সঙ্গীত শিক্ষায় জড়িত হয়েছিলেন "... এমন মাত্রায় যে উনিশ শতকের শেষদিকে নারীরা এই ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করেছিলেন এবং ২০ শতকেও ভালোভাবই এই আধিপত্য বিস্তারকে বজায় রেখেছিলেন ।" [১১৩]
লন্ডনের দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট -এর একজন সঙ্গীত লেখক জেসিকা ডুচেনের মতে, শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে নারী সঙ্গীতশিল্পীদেরকে "... প্রায়শই তাদের প্রতিভার চেয়ে তাদের চেহারার জন্য বেশি বিচার করা হয়" এবং তাদের চাপের সম্মুখীন হতে হয় ...মঞ্চে এবং ছবিতে যেন তাদের সেক্সি দেখায় " [১১৪] ডুচেন বলেছেন যে "[ওখানে বা]এখানে এমন মহিলা সঙ্গীতশিল্পীরা আছেন যারা তাদের চেহারা এবং আচা পরিবর্রতন করতে অস্বীকার করেন, ... যারা এ ধরনের পরিবর্তন করেন তারা বস্তুগতভাবে বেশি সফল হন।"[১১৪]
জেন্ডার প্রতীক
গ্রহ এবং রোমান দেবী শুক্রের জন্য গ্লিফ (♀) বা গ্রীক ভাষায় আফ্রোদিতি, নারী জেন্ডারের জন্য জীববিজ্ঞানে ব্যবহৃত প্রতীক।[১১৫][১১৬][১১৭] প্রাচীন অ্যালকেমিতে, শুক্র প্রতীকটি তামা অর্থে ব্যবহৃত হতো এবং নারীত্বের সাথে যুক্ত ছিল।[১১৭]
নারীত্ব
টেমপ্লেট:মূল নারীত্ব (যাকে নারীত্ব বা বালিকাসুলভ হিসেবেও অভিহিত করা হয়) হলো একগুচ্ছ বৈশিষ্ট্য, আচরণ এবং ভূমিকা যা সাধারণত নারী এবং মেয়েদের সাথে সম্পর্কিত। যদিও নারীত্ব সামাজিকভাবে নির্মিত হয়,[১১৮] কিছু নারীসুলভ আচরণ জৈবিকভাবে প্রভাবিত হয়।[১১৮][১১৯][১২০][১২১] নারীত্ব জৈবিক বা সামাজিকভাবে কতটা প্রভাবিত হয় তা বিতর্কের বিষয়।[১১৯][১২০][১২১] এটি জৈবিকভাবে প্রদত্ত নারী লিঙ্গের সংজ্ঞা থেকে ভিন্ন,[১২২][১২৩] কারণ পুরুষ এবং নারী উভয়ই নারীসুলভ বৈশিষ্ট্য প্রদর্শন করতে পারে।
তথ্যসূত্র
- ↑ Search Result For বালিকা | Bengali to Bengali
- ↑ Bangala Bhashara abhidana
- ↑ ৩.০ ৩.১ Search Result For নারী | Bengali to Bengali
- ↑ ৪.০ ৪.১ Samsada Bangala abhidhana. 7th ed.
- ↑ Search Result For মহিলা | Bengali to Bengali
- ↑ Samsada Bangala abhidhana. 7th ed.
- ↑ Bangala Bhashara abhidana
- ↑ MW Cologne Scan
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ Genetic Mechanisms of Sex Determination Nature Education.
- ↑ ১২.০ ১২.১ Exploring the Biological Contributions to Human Health. National Academies Press (US), ISBN 978-0-309-07281-6.
- ↑ Hamilton-Fairley, Diana Lecture notes. Obstetrics and gynaecology. Wiley-Blackwell, ISBN 978-1-4051-7801-3. Full text
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ What is Assisted Reproductive Technology? | Reproductive Health CDC.
- ↑ Overview of Multiple Pregnancy
- ↑ Twins, Triplets, Multiple Births Accessed: 2022-07-25.
- ↑ Menopause: Overview Eunice Kennedy Shriver National Institute of Child Health and Human Development. Accessed: 8 March 2015.
- ↑ Menopause: Overview PubMedHealth. Accessed: 8 March 2015.
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ Increasingly Indispensable Grandparents | YaleGlobal Online Accessed: 2022-07-28.
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ The International Encyclopedia of Anthropology. ISBN 978-0-470-65722-5. Full text
- ↑ Evolutionary Psychology. ISBN 978-0-429-06141-7.
- ↑ placental mammal | Characteristics & Facts | Britannica Accessed: 2022-07-25.
- ↑ Placental Mammals Accessed: 2022-07-25.
- ↑ Women's Sexual Development. ISBN 978-1-4684-3658-7.
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ টেমপ্লেট:Cite journal
- ↑ Science Blog – Estrogen Linked To Sperm Count, Male Fertility Science Blog. Accessed: 4 March 2008.
- ↑ Normal Testosterone and Estrogen Levels in Women WebMD. Accessed: 28 October 2015.
- ↑ টেমপ্লেট:ম্যাগাজিন উদ্ধৃতি
- ↑ United Nations Statistics Division — Demographic and Social Statistics
- ↑ Female Life Expectancy
- ↑ '.
- ↑ Advancing the case for gender-based medicine — Horizon 2020 – European Commission
- ↑ gynaecology — definition of gynaecology in English | Oxford Dictionaries
- ↑ R .Porter (1991), reviews Ornella Moscucci, The science of women: gynaecology and gender in England, 1800-1929, Cambridge History of Medicine, Cambridge University Press, 1990, 8vo, pp. x, 278 retrieved 2021-March-07
- ↑ WHO | Maternal mortality ratio (per 100 000 live births) Who.int.
- ↑ '.
- ↑ WHO | Maternal mortality Who.int.
- ↑ The World Factbook Cia.gov.
- ↑ Healthy Women, Healthy Babies: How health reform can improve the health of women and babies in America Trust for America's Health.
- ↑ Severe Complications for Women During Childbirth Are Skyrocketing—and Could Often Be Prevented
- ↑ Resolution on Reproductive and Sexual Health | International Federation of Gynecology and Obstetrics Figo.org.
- ↑ Preventing unsafe abortion
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Gere, J., & Helwig, C.C. (2012). Young adults' attitudes and reasoning about gender roles in the family context. "Psychology of Women Quarterly, 36", 301–313. doi: 10.1177/0361684312444272 ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ১৭ মার্চ ২০১৩ তারিখে
- ↑ U.S. Education Slips In Rankings
- ↑ A/RES/48/104. Declaration on the Elimination of Violence against Women Un.org.
- ↑ A/RES/48/104 – Declaration on the Elimination of Violence against Women — UN Documents: Gathering a body of global agreements UN Documents.
- ↑ Statistics by Area — Attitudes towards wife-beating — Statistical table Childinfo.org.
- ↑ Muslim Publics Divided on Hamas and Hezbollah Pewglobal.org.
- ↑ Special report: The punishment was death by stoning. The crime? Having a mobile phone
- ↑ Diwan, Mohammed A. (২০০৪)। "Conflict Between State Legal Norms and Norms Underlying Popular Beliefs: Witchcraft In Africa As A Case Study*": 351–387। সংগ্রহের তারিখ ১১ আগস্ট ২০২১।
- ↑ Archived copy
- ↑ Woman burned alive for 'sorcery' in Papua New Guinea
- ↑ Saudi Arabia: Beheading for 'sorcery' shocking | Amnesty International Amnesty.org.
- ↑ Saudi woman beheaded for 'witchcraft and sorcery'
- ↑ In 2006, the UN Secretary-General's In-depth study on all forms of violence against women found that (p. 113): "Marital rape may be prosecuted in at least 104 States. Of these, 32 have made marital rape a specific criminal offence, while the remaining 74 do not exempt marital rape from general rape provisions. Marital rape is not a prosecutable offence in at least 53 States. Four States criminalize marital rape only when the spouses are judicially separated. Four States are considering legislation that would allow marital rape to be prosecuted."
- ↑ In England and Wales, marital rape was made illegal in 1991. The views of Sir Matthew Hale, a 17th-century jurist, published in The History of the Pleas of the Crown (1736), stated that a husband cannot be guilty of the rape of his wife because the wife "hath given up herself in this kind to her husband, which she cannot retract"; in England and Wales this would remain law for more than 250 years, until it was abolished by the Appellate Committee of the House of Lords, in the case of R v R in 1991.
- ↑ For example, in Yemen, marriage regulations state that a wife must obey her husband and must not leave home without his permission. In Iraq husbands have a legal right to "punish" their wives. The criminal code states at Paragraph 41 that there is no crime if an act is committed while exercising a legal right; examples of legal rights include: "The punishment of a wife by her husband, the disciplining by parents and teachers of children under their authority within certain limits prescribed by law or by custom". The Penal Code – With Amendments Iraqi Ministry of Justice. In the Democratic Republic of Congo the Family Code states that the husband is the head of the household; the wife owes her obedience to her husband; a wife has to live with her husband wherever he chooses to live; and wives must have their husbands' authorization to bring a case in court or to initiate other legal proceedings.
- ↑ Colombian authorities fail to stop or punish sexual violence against women | Amnesty International Amnesty.org.
- ↑ The Yezidi Exodus, Girls Raped by ISIS Jump to their Death on Mount Shingal Rudaw Media Network.
- ↑ Aidan Dodson & Dyan Hilton (2004). The Complete Royal Families of Ancient Egypt. Thames & Hudson. টেমপ্লেট:আইএসবিএন.
- ↑ J. Tyldesley, Chronicle of the Queens of Egypt, 2006, Thames & Hudson.
- ↑ '.[স্থায়ীভাবে অকার্যকর সংযোগ]
- ↑ Aidan Dodson & Dyan Hilton (2004). The Complete Royal Families of Ancient Egypt. p. 140. Thames & Hudson. টেমপ্লেট:আইএসবিএন.
- ↑ Merit-Ptah at the University of Alabama.
- ↑ Plinio Prioreschi, A History of Medicine, Horatius Press 1996, p. 334.
- ↑ Lois N. Magner, A History of Medicine, Marcel Dekker 1992, p. 28.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Jewish Women Through The Ages — The Proto-Jewess En Hedu'Anna, Priestess, Poet, Scientist Hebrew History Federation.
- ↑ Windows to the Universe National Earth Science Teachers Association.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ Women's right to choose their dress, free of coercion Amnesty International.
- ↑ Changing Patterns of Nonmarital Childbearing in the United States
- ↑ The World Factbook — Central Intelligence Agency
- ↑ RRT Research Response Refugee Review Tribunal Australia.
- ↑ Turkey condemns 'honour killings'
- ↑ Human Rights Voices – Pakistan, August 21, 2008 Eyeontheun.org.
- ↑ Home AIDSPortal.
- ↑ ৯১.০ ৯১.১ Iran Travel.state.gov.
- ↑ United Nations Human Rights Website – Treaty Bodies Database – Document – Summary Record – Kuwait Unhchr.ch.
- ↑ Culture of Maldives – history, people, clothing, women, beliefs, food, customs, family, social Everyculture.com.
- ↑ BBC News – Morocco: Should pre-marital sex be legal?
- ↑ Legislation of Interpol member states on sexual offences against children – Oman Interpol.
- ↑ 2010 Human Rights Report: Mauritania State.gov.
- ↑ Education in Dubai Dubaifaqs.com.
- ↑ Briton faces jail for sex on Dubai beach – Middle East – World
- ↑ Sudan must rewrite rape laws to protect victims
- ↑ Refworld | Women's Rights in the Middle East and North Africa – Yemen UNHCR.
- ↑ Historical summary of faculty, students, degrees, and finances in degree-granting institutions: Selected years, 1869-70 through 2005-06 Nces.ed.gov.
- ↑ '.
- ↑ Education Levels Rising in OECD Countries but Low Attainment Still Hampers Some, Organisation for Economic Co-operation and Development, Publication Date: 14 September 2004. Retrieved December 2006.
- ↑ Women in Scientific Careers: Unleashing the Potential, Organisation for Economic Co-operation and Development ওয়েব্যাক মেশিনে আর্কাইভকৃত ২০০৭-০২-১০ তারিখে, টেমপ্লেট:আইএসবিএন, 2006. Retrieved December 2006.
- ↑ '.
- ↑ '.
- ↑ The World Factbook Cia.gov.
- ↑ Women in Parliaments: World and Regional Averages Ipu.org.
- ↑ The Long Way to Women's Right to Vote in Switzerland: a Chronology History-switzerland.geschichte-schweiz.ch.
- ↑ Experts In Women'S Anti-Discrimination Committee Raise Questions Concerning Reports Of Switzerland On Compliance With Convention Un.org.
- ↑ Marie Curie AWIS.
- ↑ Julian Schaap and Pauwke Berkers. "Grunting Alone? Online Gender Inequality in Extreme Metal Music" in IASPM Journal. Vol. 4, no. 1 (2014) p. 103
- ↑ Women Composers In American Popular Song Parlorsongs.com.
- ↑ ১১৪.০ ১১৪.১ CBC Music
- ↑ '.
- ↑ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ ১১৭.০ ১১৭.১ লুয়া ত্রুটি মডিউল:উদ্ধৃতি/শনাক্তক এর 47 নং লাইনে: attempt to index field 'wikibase' (a nil value)।
- ↑ ১১৮.০ ১১৮.১ '.
- ↑ ১১৯.০ ১১৯.১ '.
- ↑ ১২০.০ ১২০.১ '.
- ↑ ১২১.০ ১২১.১ '.
- ↑ Gender, Equity and Human Rights
- ↑ Ferrante, Joan (January 2010). Sociology: A Global Perspective (7th ed.). Belmont, CA: Thomson Wadsworth. pp. 269–272. ISBN 978-0-8400-3204-1.