মিজানুর রহমান শামীম

ভিকিটিয়া থেকে

টেমপ্লেট:Infobox military person মিজানুর রহমান শামীম (জন্ম ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৮) বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন লেফট্যানেন্ট জেনারেল যিনি সেনাবাহিনীর চিফ অফ জেনারেল স্টাফ হিসেবে নিযুক্ত আছেন।[১] এর আগে তিনি সশস্ত্র বাহিনী বিভাগের ১৬তম প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার (পিএসও) ছিলেন। পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীর প্রতীক খেতাব প্রদান করে।[২][৩]

জন্ম ও শিক্ষাজীবন

মিজানুর রহমান শামীম ১৮ জানুয়ারি ১৯৬৮ সালে মাদারীপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তিনি তিনি ঢাকা কলেজে লেখাপড়া করেন। তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএসসি ডিগ্রী ও জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমডিএস ডিগ্রী লাভ করেন। আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশ থেকে তিনি এমবিএ ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি বাংলাদেশ ইউনিভার্সিটি অব প্রফেশনালস্ থেকে মাস্টার্স অব ফিলোসফি ডিগ্রী অর্জন করেন। তিনি মিরপুরের ডিফেন্স সার্ভিস কমান্ড এন্ড স্টাফ কলেজ থেকে স্টাফ কোর্স এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা কলেজ থেকে এনডিসি কোর্স সম্পন্ন করেন।[২][৩]

কর্মজীবন

মিজানুর রহমান শামীম ১৭তম বিএমএ দীর্ঘমেয়াদী কোর্সে ১৪ জানুয়ারি ১৯৮৬ তারিখে বাংলাদেশ মিলিটারী একাডেমীতে যোগদান করেন। তিনি ২৫ ডিসেম্বর ১৯৮৭ সালে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে কমিশন লাভ করেন এবং পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবানে কাউন্টার ইন্সারজেন্সী অপারেশনে নিয়োজিত ১১ ইস্ট বেঙ্গলে যোগ দেন।[২][৩]

তিনি বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কমান্ড এবং স্টাফ দায়িত্ব পালন করেন। তিনি অপারেশন নাফ রক্ষায় সদর দপ্তর ৪৪ পদাতিক ব্রিগেডে জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-৩, পার্বত্য চট্টগ্রামে অপারেশন দাবানলে সদর দপ্তর ২৪ পদাতিক ডিভিশনে জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-৩, অপারেশন উত্তরণে সদর দপ্তর ৩০৫ পদাতিক ব্রিগেডে ডিএএএন্ডকিউএমজি এবং সেনাসদরে সামরিক গোয়েন্দা পরিদপ্তরে ২বার জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-২ ও জেনারেল স্টাফ অফিসার গ্রেড-১ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২][৩]

তিনি দুইটি পদাতিক ব্যাটালিয়ন যথাক্রমে ২৬ বীর এবং ৫৯ ই বেংগল এবং আর্মি সিকিউরিটি ইউনিট কমান্ড করেন। তিনি ব্রিগেড কমান্ডার হিসেবে ১১১ পদাতিক ব্রিগেড কমান্ড করেন এবং বগুড়া ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল ও কলেজের চেয়ারম্যান ও ৮টি স্কুল ও কলেজের প্রধান পৃষ্ঠপোষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২][৩]

তিনি জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা অধিদপ্তরের পরিচালক ছিলেন। তিনি ১৯ পদাতিক ডিভিশনে জেনারেল অফিসার কমান্ডিং ও ঘাটাইল এরিয়ায় এরিয়া কমান্ডার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।[২][৩]

৯ আগস্ট ২০২০ সাল থেকে ১৯শে জুলাই ২০২২ পর্যন্ত তিনি বাংলাদেশ আনসারগ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।[৪][৫]

জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন

শামীম যুদ্ধ বিধ্বস্ত হাইতিতে ১৯৯৪ সালে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে কন্টিনজেন্ট সদস্য এবং ২০০২ সালে ইরাকে অবজারভার এবং সেক্টর কমান্ডার হিসেবে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে দায়িত্ব পালন করেন। শান্তিরক্ষী হিসেবে তার অসামান্য অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তিনি হাইতিতে ‘‘ফোর্স কমান্ডারের প্রশংসাপত্র’’ এবং ইরাকে ‘‘মিশন প্রধানের প্রশংসাপত্র’’ লাভ করেন।[২]

সম্মাননা

মিজানুর রহমান শামীম পার্বত্য চট্টগ্রামে কর্মরত থাকাকালীন অসংখ্য অভিযানে নেতৃত্ব দেন। তিনি ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৯৯০ সালে একটি টহল দলের নেতৃত্ব দিয়ে অভিযান পরিচালনা করে অস্ত্র-গোলাবারুদসহ বিপুল পরিমানে সামগ্রী উদ্ধার করেন। স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে বীর প্রতীক ভূষিত করা হয়।[২][৩]

সেনাবাহিনীতে দায়িত্বপালনকালীন অপারেশন, প্রশিক্ষণ ও প্রশাসনিক ক্ষেত্রে অবদান রাখায় ২০১৯ সালে ‘‘অসামান্য সেবা পদকে’’ ভূষিত করা হয়।[২][৩]

ব্যক্তিগত জীবন

মিজানুর রহমান শামীমের স্ত্রী রেহানা পারভীন মুক্তি। এই দম্পতির এক পুত্র শাদমানুর রহমান অর্ণব সেনাবাহিনীতে কর্মরত ও এক কন্যা মাসতুরা তাসফিয়া অর্পা।[২]

তথ্যসূত্র

টেমপ্লেট:বাংলাদেশের সামরিক বাহিনী